The first 200 lines.
সাবটাইটেল অনুবাদ ও সম্পাদনায় ফিহাদ আর-রহমান
ইরান-ইরাক যুদ্ধ (১৯৮০-১৯৮৮)কে বিংশ শতাব্দীর দীর্ঘতম যুদ্ধ হিসেবে ধরা হয়।
১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের সূত্র ধরে এই যুদ্ধকালীন সময়ে ইরানে দ্রুত অভ্যন্তরীণ, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটে।
যুদ্ধের শেষ দিকে ইরানের শহরগুলোতে মিসাইল নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরাক।
ইরানও একইভাবে তার বদলা নেয়।
জনজীবন নিমজ্জিত হয় ঘন আঁধারে যেখানে বাসা বাঁধে একরাস আতংক আর ভয়।
বাংলা সাবটাইটেল ফিহাদ আর-রহমান
আঁধারে আচ্ছন্ন
ট্যাগলাইন: ভয় আপনাকে খুঁজে নেবেই।
তো?
স্যার, আমি শুধু আমার পড়ালেখাটা শেষ করতে চাই।
আমার একমাত্র স্বপ্ন ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা।
একটামাত্র ভুলের জন্য আমার ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যাক তা চাই না আমি।
- স্বীকার করছো তাহলে? - কী?
তোমার অপরাধ।
সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছুই জানি না আমি।
রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলাম বলে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
কিন্তু স্যার, বিপ্লবের সেই সময়টাতে সবাই রাজনীতিতে ছিল।
আমার বয়স কম ছিল, সাদাসিধে মেয়ে ছিলাম।
কোনটা ডান, কোনটা বাম সেটা পর্যন্ত বুঝতাম না!
বাকি সবাইকে দেখে আমিও হুজুগে পা মিলিয়েছিলাম।
দেশ বদলের হাওয়া লেগেছিল আরকি।
বোঝার চেষ্টা করুন...
ভালো-মন্দ কিছু বুঝিনি বলেই তো বামপন্থী দলে জড়িয়ে পড়েছিলাম।
প্রত্যেক ভুলের মাশুল দিতে হয়।
তোমাকে ভেতরে ঢুকতে দিয়েছি যেন আমার নিজের মুখ শুনে...
...এখানে এসে আর সময় নষ্ট না করো। পরিস্কার করে বলে দিচ্ছি...
তুমি আর পড়ালেখা করতে পারবে না।
তোমার আগেকার কির্তিকলাপের বদৌলতে এই ভার্সিটিতে ফেরার আর এতটুকুও সুযোগ নেই।
এবার অন্য কোনো স্বপ্ন খুঁজে নাও।
- সালাম, ফাকুর-ভাবী। - সালাম।
একটু দেরি হয়ে গেল। দোরসা কোনো ঝামেলা করেনি তো?
একদমই না। আমরা খেলছিলাম বসে।
দোরসা! মা!
- কী হলো? - মা...
ওহ, সোনা!
কোনো ব্যাপার না।
কেঁদো না, এই সময়ের পরিস্থিতিটাই এরকম।
বদলে যেও না তুমিও।
আদরের মেয়ে আমার...
মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য অনেক অভিনন্দন।
তুমি আমার গর্ব। ইতি তোমার মা।
বাড়িতে কেউ আছে?
বাবা! বাবা এসে গেছে! বাবা!
হ্যালো সোনামণি...
মা কোথায়?
মা বেডরুমে।
মন ভালো নেই একদমই।
সালাম...
সালাম...
কী করছো তুমি?
এগুলো আমার মেডিকেলের বই।
কেউ চাইলে দিয়ে দাও অথবা ডাস্টবিনে ফেলে এসো।
ওইদিকে গিয়ে খেলো দোরসা।
কী হয়েছে?
যুদ্ধের পর সব ঠিক হয়ে যাবে।
নিশ্চয়তা কী?
এই যুদ্ধ হয়তো কখনও শেষই হবে না।
তুমি যথেষ্ট চেষ্টা করেছ।
আর কিছুই করার নেই এখন।
কে জানে? হয়তো ভালোর জন্যই হচ্ছে এমনটা।
দোরসা! জলদি!
কোথায় যাচ্ছ?
- সময় নেই, জলদি নিচে চলো। - কিমিয়াকেও নিয়ে যেতে হবে।
এসো জলদি।
- সালাম। - সালাম।
ধন্যবাদ, ডাক্তার।
- খুব কষ্ট হচ্ছে নাকি? - একদমই না।
মনে হয় তেহরানের প্রতিরক্ষা এবার বেশি জোরদার করেছে।
লোকে বলাবলি করছে ইরাক নাকি এখন মিসাইল ছাড়বে।
এইদিকে আয় তুই।
দোরসা, এদিকে এসো মা।
নতুন ছেলেটা কে?
ইব্রাহিমি-সাহেবের ভাতিজা। এবাদানে ওর মা-বাবা নাকি মারা গেছে।
বাবা?
বাবা?
বাবা?
কী হলো মা?
দুঃস্বপ্ন দেখেছ?
ভয়ের কিচ্ছু নেই।
না মা, ওসব জিনিস বাস্তবে হয় না।
পরেরবার ভয় পেলে ভাববে তুমি একা একা নেই।
তোমার সাথে থাকার জন্য আমি তো কিমিয়াকে এনে দিয়েছি।
সুপ্রভাত।
খাওয়ার টেবিলে খেলনা-টেলনা কিছু রাখবে না।
সুপ্রভাত।
জানালার টেপগুলো খুলে খুলে যাচ্ছে।
- ব্লাস্টের শব্দে ভেঙে যায় যদি? - আজকে টেপ লাগাব আবার নাহয়।
- কালকে কোনো দুঃস্বপ্ন দেখেছিলে তুমি? - ও নাকি বাড়িতে কার হাঁটার শব্দ শুনেছে।
তোমার মায়ের মতোই পাতলা ঘুম তোমার।
- কাল রাতে তোমার ঘুম ঠিকমতো হয়েছিল তো? - আমার?
আমি আবার ঘুমের মধ্যে হাঁটছি মনে করছো?
- তাহলে তুমি দেখতে পেতে নিশ্চই। - আমার ঘুম গাড় হয়েছিল কাল।
ছয়মাস আগে দুয়েকবার ঘুমের মধ্যে হেঁটেছিলাম বলে এই নয় আমার অসুখ আছে।
তাছাড়া দোরসা এর আগেও কল্পনায় উল্টাপাল্টা জিনিস দেখেছে অনেকবার।
আমি শুধু বলছি দুশ্চিন্তার মধ্যে তোমার ঘুম ভালো হয় না।
কাগজটা কীসের?
এটা আমার...
বার্ষিক প্রশিক্ষণের নোটিশ।
আগে কেন দেখাওনি?
তুমি অন্য ব্যাপার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলে এমনিতেই।
এবার কোথায় ফেলছে জানার জন্য আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাব।
আগেরবারের মতো ভালো কোথাও পড়তেও পারি...
যদি ভাগ্য ভালো হয়।
ডাক্তার!
- এক মিনিট দাঁড়ান... - সালাম।
- সালাম... বাড়ির সবাই কেমন আছে? - সবাই ভালো।
কতবার বলব বলুনতো গ্যারেজের দরজাটা ভালো করে লাগাতে?
- আপনার বিবিকে একটু মনে করিয়ে দিবেন। - মানে?
দেখুন...
দরজার খিলটা বেঁকে ফেলেছে।
- খিল লাগাতে একটু বেগ পেতে হয়। - এটা আমার স্ত্রীর কাজ বুঝলেন কীভাবে?
আপনার আর আমার কাজ তো নয়। ফাকুর-সাহেবও ভালো করে লাগায় জানি আমি।
আর আপনার বিবি ছাড়া বিল্ডিংয়ের অন্য কোনো মহিলা গাড়ি চালায় না।
আচ্ছা, এরপর থেকে খেয়াল রাখব।
ধন্যবাদ।
সালাম।
সালাম।
আমাকে ইলামে পাঠাচ্ছে এবার।
সেটা তো যুদ্ধের ঠিক মাঝখানে।
নিরাপদ কোথাও দিতে বলেছিলাম কিন্তু কথা কানে তোলেনি।
তুমি আর দোরসা বরং আমার মায়ের বাড়িতে যাও।
কেন?
ইরাকের মিসাইল ছাড়ার গুজবটা মনে হয় সত্যিই।
- অনেকে এরই মধ্যে শহর ছাড়তে শুরু করেছে। - আমরা এখানেই ঠিক আছি।
মিসাইল বলে কয়ে আসে না।
তোমার মা-বাবার কাছে গিয়ে খামোখা বোঝা হতে চাই না।
তুমি বোঝা নও।
আগেরবার যখন গিয়েছিলাম তোমার বোন বলেছিল...
"বোম মারছে তেহরানে আর ফাটছি আমরা!"
আপন বাড়িতেই ঠিক আছি আমরা।
দোরসার জন্য চিন্তা হচ্ছে আমার।
কেন? আমি আমার বাচ্চার খেয়াল রাখতে পারি না?
তা বলছি না আমি।
আমি শুধু বলছি আমি এখানে থাকব না...
আমার বাবার বাড়িতে অন্তত চারপাশে লোক পাবে।
আহা! এখানে থেকে খুব যেন কাজে লাগো তুমি!
এটা অন্যায়।
না, অন্যায় হলো তুমি আগ বাড়িয়ে মরতে যাচ্ছ আর ভোগাচ্ছো আমাদেরকে।
আমার কী করার আছে? শখ করে যাচ্ছি নাকি আমি?
জাহাজে চড়ে যুদ্ধে যাওয়া শখ ছাড়া আর কী!
মেডেল নেওয়ার জন্য যাচ্ছি না আমি। না গেলে ডাক্তারির পারমিশন বাতিল করে দিবে...
তোমার পারমিশন বাতিল হলে সর্বনাশ আর আমার বেলায় ভালোর জন্যই!
আমার ডাক্তারিতে তোমার কোনো সমস্যা আছে?
না, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই...
দোরসা, কতবার বলেছি খেলার পর সব খেলনা গুছিয়ে রাখবে?
তুমি পড়ালেখা শেষ করতে পারোনি আমার দোষে?
তুমিই তো ভার্সিটিতে পড়ালেখা ছেড়ে রাজনীতির পেছনে ছুটে সময় নষ্ট করেছ।
একদম ওদের মতোই কথা বলছো তুমি।
ভুল বলছি কি?
আমি পড়ালেখা ছেড়ে রাজনীতিতে পা বাড়াইনি বলে তুমি আমাকে কাপুরুষ বলে খেপাতে, ভুলে গেছ সেসব?
- তুমি যেন কখনই চেষ্টা করোনি আমার পড়ালেখা থামাতে! - সেটা কখন করলাম আমি?
বিপ্লব কেটে যাওয়ার পর যখন আবার ভার্সিটি খুলল...
তুমিই তো বলেছিলে পড়ালেখা পরেও করা যাবে, আগে বাচ্চাটাকে বড় করো।
তুমি চাও না বাচ্চাটা ঠিকভাবে বেড়ে উঠুক?
তুমি কি বলতে চাইছ আমি একজন অযোগ্য মা?
না, আমি বলতে চাইছি যে নিজের দোষ আমার কিংবা বাচ্চাটার উপর চাপিও না।
এতদিন পর হঠাৎ আবার ডাক্তার হওয়ার সাধ জাগল কেন?
আমি তো নিজের ইচ্ছায় কলেজ ছাড়িনি। বিপ্লবের কারণে...
বিপ্লব তো হয়েছিল চার-পাঁচ বছর আগে, তার এক বছর পরেই ভার্সিটি খুলেছিল আবার।
তো?
তুমি আবার ডাক্তার হতে চাইছ তোমার মা মরার কারণে।
ডাক্তার হওয়া আমার ছোট্টবেলার স্বপ্ন।
না, শিদেহ। এটা তোমার মায়ের স্বপ্ন।
মৃত মানুষ স্বপ্ন দেখে না।
তুমি না থাকলে খুব ভয় পাব আমি।
চিন্তা করো না মা, এক পলকেই ফিরে আসব আমি।
মা তোমাকে দাদাবাড়িতে নিয়ে যাবে।
এই যে এ মাসের ভাড়া আর আগের মাসের বকেয়াটাও।
ইব্রাহিমি জ্বালাতে শুরু করলে দিয়ে দিও।
মা!
মা!
মা!
হ্যাঁ?
আমার বিছানা ভিজে গেছে।
ওঠো।
এই বয়সেও বিছানা ভেজাও!
আগামী বছর থেকে স্কুলে যাবে না তুমি?
বাথরুমে গিয়ে জামা খুলে ফেলো।
বাথরুমে যেতে বললাম না?
একা একা যেতে ভয় করছে।
তোমার টোস্ট...
মা?
বাবা তো আর এখানে নেই, আমি রাতে তোমার কাছে ঘুমাব?
তুমি বড় হওনি এখন?
বড় মেয়েরা বিছানাও ভেজায় না।
ঠিকভাবে ঘুমাতে পারছ না কেন তুমি?
ইদানিং ভয় পাচ্ছ খুব!
হুম? বলো কীসে এত ভয় তোমার?
জ্বিন।
জ্বিন বাস্তবে নেই।
আছে, কিন্তু আমরা দেখতে পাই না।
- কে বলেছে এসব? - মেহদি।
মেহদি কে?
সোকান্দ আর আলির চাচাতো ভাই।
ও আমাকে বিড়ালের পশমের একটা জাদুয়ি বল দিয়েছিল জ্বিন থেকে বাঁচার জন্য।
কিন্তু আমি হারিয়ে ফেলেছি সেটা।
জ্বিন-ভূত সব বানোয়াট গল্প। ছোট বাচ্চাদের ভয় দেখানোর জন্য দুষ্টু লোকেরা বলে বেড়ায় এসব।
মেহদি বলেছে জ্বিন সত্যিই আছে। মানুষের ক্ষতি করতে চায় ওরা।
মেহদি সব আজগুবি কথা বলছে।
No comments yet. Be the first to leave one.