The first 200 lines.
আর্কে কথা হয়েছে?
জন যে মারা গেছে, তা ডিগসের মাকে বলে দিয়েছি।
রোমার বাবা-মার সাথে পরে কথা বলে নিব।
কাজটা করার জন্য ধন্যবাদ ভাই। ঋণী হয়ে হলাম তোমার কাছে।
সবার মা-বাবাকে বলব, ওদের সন্তানকে গ্রাউন্ডাররা ধরে ধরে মেরে ফেলছে...
...সাথে বলব, আমরা ন্যায়বিচারের ব্যবস্থাও করেছি।
আমরা ওকে মারব না।
মুখে আঁকা নকশাগুলোতে তোমাকে আরও ভয়ংকর দেখাচ্ছিল।
গ্রাউন্ডারদের ব্যাপারে কিছু বলো।
শীতকাল কীভাবে পার করব, সে ব্যাপারে কোনো ধারণা পাওয়া গেছে?
যা যা সম্ভব আমরা এখানে করছি।
জাম আর বাদাম যোগাড় করেছি, মাংসও আছে, খুঁজে মূলও বের করছি,
কিন্তু আসল কথা হলো, খিদেয় মরার আগে শীতে মারা যাব।
সেজন্য একটা ব্যবস্থা করে রাখা আছে।
যুদ্ধের আগে করা সিভিল ডিফেন্স প্ল্যান অনুসারে,
ল্যান্ডিং সাইটের আশেপাশেই একটা পুরাতন জরুরি-ভিত্তিক আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।
- এটা হলো এর অক্ষাংশ। - রসদ যোগান দেবার পাশাপাশি,
এটা শ'খানেক লোককে আশ্রয়ের পাশাপাশি...
আর্ক থেকে আসা লোকজনের ভরণপোষণও চালাতে পারবে।
এটা যে অক্ষত রয়েছে, তা বুঝলেন কীভাবে?
এটাকে তৈরি করা হয়েছে ওইভাবেই, যাতে নিউক্লিয়ার যুদ্ধেও টিকে থাকতে পারে।
ঠিক আছে। সুযোগ তাহলে আরেকটা বাড়ল।
চ্যান্সেলর, আমার একটা আপত্তি আছে।
প্রজেক্ট এক্সোডাসের কাজ তো চলছে।
প্রথম ড্রপশিপ লঞ্চ হওয়া পর্যন্ত...
বাচ্চাদের উচিত ক্যাম্প থেকে বের না হওয়া।
সবকিছু যদি কোনো ভেজাল ছাড়াই সম্পন্ন হয়,
তবুও ত্রাণ পৌঁছানোর আগেই...
ওরা মারা যাবে।
আমি ক্লার্কের সাথে একটু একা কথা বলতে চাই।
জানি, অনেক বাবা-মা-ই তাদের সন্তানদের সাথে কথা বলার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে।
ক্লার্ক, এতো বিদঘুটে পরিস্থিতি কত সুন্দরভাবে যে সামাল দিয়েছ,
এজন্য তোমায় নিয়ে আমরা গর্বিত। তোমার মা...
উনার ব্যাপারে কিছু বলতে ইচ্ছুক নই।
প্লীজ, ক্লার্ক। এখন সবকিছু ভুলে যাবার সময় এসেছে।
আমাকে একটু সময় দাও, যাতে তুমি আর তোমার মায়ের সাথে বসে...
দেখুন, আমি জানি আপনারা দুজনই আমার বাবার সাথে বেইমানি করেছেন,
মেরে ফেলেছেন। এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারবেন না।
তাই আপনাদের সাথে সমঝোতার কোনো প্রশ্নই উঠে না।
এরপর যার মা-বাবা...
কথা বলতে চায়, তাঁদেরকে পাঠিয়ে দিন।
ড্যাক্স।
ড্যাক্সকে দেখেছ কেউ?
ওইখানে কসাইগিরি করছে।
ড্যাক্স...তোমার পালা এসেছে।
আমার আম্মু কোথায়?
তোমার সাথে একটু কথা আছে, এরপরই তোমাকে মা'র দেখা পাবে।
- তুমি কি একা? - হ্যাঁ। কেন?
যতটুকু মনে পড়ে, তুমি একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছিলে।
- সে আমার জিনিস চুরি করেছিল। - রিল্যাক্স।
একটা সমস্যায় পড়েছি, আশা করি সেটা সমাধান করে দিতে পারবে।
পরিবর্তে, গ্যারান্টি দিচ্ছি...
ড্রপশিপে তোমার মায়ের জন্য একটা সিট বরাদ্দ থাকবে...
...আর পৃথিবীতে এসে আমি তোমায় একটা পদে নিযুক্ত করে দিব।
কী করতে হবে আমায়?
বেলেমি ব্লেককে খুন।
এখনো এখানে বসে আছিস?
ওর কাছে যেতে না দেয়া পর্যন্ত, এখান থেকে নড়ব না।
এত প্যারা নেয়ার কী আছে?
ওকে তো মারছি না। এতে হচ্ছে না?
সে তোমার-আমার জীবন বাঁচিয়েছে।
- তুই খালি তোর মতো ভাবছিস, কিন্তু... - আমার ভাবনাই ঠিক।
- সে এখনো হুমকিস্বরূপ। - ওর সাথে এসব করেছ বলেই।
ওই জানোয়ারটার প্রতি কোনো মায়া জন্মে থাকলে...
তা বিসর্জন দিয়ে দে।
ওর কাছে তোকে যেতে দেয়া হবে না। কথা এখানেই শেষ।
আমি তোমার পথের কাঁটা বলে এমনটা করছ।
তাহলে তোমার উচিত আমাকে ওর সাথে যেতে দেয়া।
সে আমাকে মেরে ফেলবে, ঝামেলাও চুকে যাবে।
অক্টেভিয়া, আমি সেটা বলিনি।
- বেলেমি। - মত পাল্টাইনি।
- জাহার সাথে কথা বলব না। - হেই, রিল্যাক্স।
- এজন্য এখানে আসিনি। - তাহলে কীজন্য এসেছ?
আর্ক থেকে বলল, ওরা একটা আশ্রয়কেন্দ্রের খোঁজ জানে...
- যেটা এখান থেকে বেশি দূরে নয়। - কী ধরণের রসদ পাওয়া যাবে ওখানে?
যা দিয়ে শীত কাটানো যায়।
আমি ওটা দেখতে যাচ্ছি। আমার ব্যাকআপ লাগবে।
আমাকে বলছ কেন?
কারণ, এই মূহুর্তে...
তুমি ছাড়া অন্য কাউকে ভরসা নেই।
ঠিক আছে জিনিসপত্র নিয়ে আসছি, মিনিট দশেক লাগবে।
ওরা ওই গ্রাউন্ডারটাকে কী করবে বলে তোর মনে হয়?
এ ব্যাপারে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।
ওকে তুলে আনার পর অনেক দিন কিন্তু হয়ে গেল।
ওর বন্ধুরা ওকে কতদিন খুঁজে বেড়াবে?
বাদ দে। এর মধ্যে সবাই হাইপোথার্মিয়াতেই মারা যাব।
এখন কেমন লাগছে?
দুর্বল, বিরক্তিকর।
বেঁচে যে রয়েছি সেটাই ভাগ্য।
সব প্যারা থেকে মুক্ত থাকতে হলে, বিশ্রাম নিতে হবে।
দরকার পড়লে ওকে কাঁধে বয়ে নিয়ে বেড়াব।
আমি আজকে একটু ক্যাম্প থেকে বেরচ্ছি।
ঘণ্টা-খানিক পর ওর ব্যান্ডেজটা বদলে দিতে পারবে?
দাঁড়াও, কোথায় যাচ্ছ তুমি?
আর্ক থেকে ছোট্ট একটা কাজ দেয়া হয়েছে।
- চিন্তার কিছু নেই। - বাহিরটা তো নিরাপদ নয়।
ফিন, ক্লার্ক অনেক সাহসী। নিজের খেয়াল সে রাখতে পারবে।
ক্লার্ক...
যাওয়ার সময় হয়েছে।
সে যাতে পরিপূর্ণ বিশ্রামে থাকে।
এটা তো প্ল্যানের মতো মনে হচ্ছে।
এতো খাবার নিয়েছ যে?
পথটা তো মাত্র একদিনের।
একদিনের অনেক কিছুই হতে পারে।
হেই, মিলার, রোমার মা-বাবা তোমার সাথে কথা বলতে চায়।
আমাদের হাতে বেশি সময় নেই।
তোমার জন্য একটু পানি নিয়ে এসেছি।
এই যে।
খানিকটা স্বস্তি লাগছে, তাই না?
তোমার উপর নজর রাখতে পারিনি বলে দুঃখিত।
আমার ভাইটা যত নষ্টের মূল।
হারামজাদা একটা, তোমার এতক্ষণে বুঝে যাওয়ার কথা।
তুমি আমাকে বুঝতে পারছ, আমি জানি সেটা।
আচ্ছা, তোমার শরীরটা একটু পরিষ্কার করে দিই।
পুরোটা দোষ আমার। কারণ, যখন আমায় গুহায় বন্দী করেছিলে...
তখন একটু বেশি উন্মাদ হয়ে গেছিলাম।
আমি কীভাবে বড় হয়েছি, তা জানলে ঠিকই বুঝতে পারতে।
আমার নাম লিংকন।
লিংকন।
আমি অক্টেভিয়া।
এটার জন্যই এতকিছু?
এটাই শুধু বলতে চেয়েছিলে?
এখানে কথা বলাটা বিপজ্জনক।
কথাই যদি না বলতে চাও, তাহলে নিজের নাম বললে কেন?
আমি মারা যাওয়ার পর... যাতে আমায় মনে রাখো।
তোমায় মরতে দিব না আমি। এরকম কথা বলো না।
অক্টেভিয়া...
...এই সংঘাত নিবারণ করা যাবে শুধু একটা মাধ্যমেই।
তুমি ওদেরকে বুঝালেই হবে।
বলবে, তুমি ওদের শত্রু নও।
আমি ওদের শত্রু।
অক্টেভিয়া, যাও এখান থেকে।
বেলেমিও নেই এখানে।
যাও এখান থেকে, নইলে আবার কিন্তু পিটানো শুরু করব।
ঠিক আছে, আমি চলে যাচ্ছি।
প্রথম ড্রপশিপ কিন্তু শীঘ্রই এখানে নামতে যাচ্ছি।
জাহাকে তো সবসময় এড়িয়ে চলতে পারবে না।
চেষ্টা করব।
আশ্রয়কেন্দ্রটা কাছেপিঠেই কোথাও থাকার কথা।
- দরজা তো খুঁজে পেতে হবে। - সে হয়ত তোমায় ক্ষমা করে দিবে।
আমি ওকে গুলি করেছি, ক্লার্ক।
সে কখনোই আমাকে ক্ষমা করবে না।
ভাগ হয়ে যাই, আরও জায়গা খুঁজে দেখা দরকার।
কাছেই থেকো, ডাক দিলে যাতে শুনতে পাও।
ওই লোকটাকে দেখে একটুও ভালো লাগেনি।
যখন অত্যাচার চালাচ্ছিলে, তখনই বুঝেছি।
ফিন মারা যাচ্ছিল।
আমার কৃতকর্মের জন্য আমি ক্ষমা চাইতে রাজি নই।
প্রেমিকের টানে মহাকাশ থেকে...
পৃথিবীতে চলে আসাটা অবশ্য চাট্টিখানি কথা নয়।
আমি তোমার সাথে তাল মিলাচ্ছি না।
- হেই। - হেই।
তেষ্টা পেয়েছে?
দাঁড়াও, আমি পরিষ্কার করে দিচ্ছি।
দাঁড়াও, দাঁড়াও।
তোমায় আর্কে বন্দী করার পর থেকেই অপেক্ষা করে আসছি।
আমি কথা বলতে চাই না।
- কিছু একটা হয়েছে। - ফিন...
জানি। এটা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাইনা।
- ভালো... - কখনোই না।
আমায় ভালোবাসো?
সবসময়।
ঠিক আছে, তারপর?
তোমার বিশ্রাম নেয়া উচিত।
নিতে দাও।
বেলেমি।
এখানে। একটা দরজা পেয়েছি।
জং ধরে গেছে মনে হচ্ছে।
দেখি, পা টা সরাও।
- একটু ধরো তো। - ঠিক আছে।
এখানে।
যুদ্ধের পর থেকে এ-জায়গায় হয়ত কারও পা পড়েনি।
আসো।
মরার জন্য খুবই বাজে জায়গা।
খুবই বাজে একটা জায়গা।
ধুর শালা।
যা রেখে গিয়েছিল, সব নষ্ট হয়ে গেছে।
শেষ বোমটা ফোটার আগে ওরা হয়ত...
অধিকাংশ রসদই বণ্টন করে দিয়ে গেছে।
দেখো, কম্বল পেয়েছি।
সামান্য কম্বল পেয়েই এতো খুশি?
একটু হলেও তো কাজ হবে!
ক্যান্টিন, মেডিকেল কিট বা তাঁবু পেলে খুশি হওয়া যেত।
- হায় খোদা! - কী?
পৃথিবী আসলেই ভয়ংকর।
আমার কাছে দারুণ লেগেছে।
তাজা বাতাস, গাছ-বিড়িক...
...বাদাম!
এগুলোর স্বাদ অমৃতের মতো, তাই না?
পৃথিবীর সাথে বড়সড় একটা মোলাকাত করতে চাই।
কীরকম জানি অদ্ভুত আচরণ করছিস।
আমাদের কাছেও অদ্ভুতই লাগছে, কিন্তু সেটা উপভোগ করছি।
মুতে আসি।
অক্টেভিয়া? অক্টেভিয়া!
হয় আমি পাগল হয়ে গেছি, নয়ত এখানে গ্রাউন্ডার এসেছে,
- হয় আমি পাগল হয়ে গেছি, নয়ত... - আচ্ছা, শান্ত হও।
কী দেখেছ আমায় বলো!
ওই যে!
- জ্যাসপার এখানে কেউ নেই। - ওই যে সে এখানে!
আমাদেরকে পালাতে হবে। পালাতে হবে। তোমরা কেউ কিছু করছ না কেন...
No comments yet. Be the first to leave one.