The first 200 lines.
অনুবাদিকা: সারাহ্ ইকবাল
মুভির নাম: মর্ক
হ্যালো? হ্যালো!
- জুলি? - কী হয়েছে?
ফোন বেজে উঠেছিল।
তাই নাকি? কই আমি তো শুনলাম না।
- বেজেছিল তো। - তুমি ঠিক আছো?
হুম... তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।
নিনা, আমি আবার একটু ঘুমানোর চেষ্টা করতে চাই, বুঝলে?
- হেই। - খাবারের ব্যাপারে কী করবো?
আরে, রাখো তো। জুলির সুশি খেতে পছন্দ করে। এটা খাওয়া তেমন কষ্টকর নয়।
অথবা রান্না করা।
আমার লেখালিখি ভালোভাবে চলছে আর আমি খেই হারিয়ে ফেলতে চাই না।
বুঝলাম। একটা ট্রে তো এনে দিতে পারবে নাকি?
হাই, জুলি।
- আমি কি হাত লাগাতে নামবো, মা? - হাই, সোনা। শুধু দরজা খুলে রাখলেই হবে।
- আমাকে এক গ্লাস ওয়াইন দিতে পারবে? - হুম, দিচ্ছি।
- লক্ষী ছেলে আমার! - এই যে নাও।
- তোমাদের দেখে আসলেই ভালো লাগছে। - আমাদেরও। বহু দিন পর দেখা হলো।
সময় কোনদিকে চলে যায়, খেয়ালই থাকে না।
সবকিছু কেমন চলছে?
ভালোই। গত একমাসে জুলি একবারও আত্মহত্যার চেষ্টা করেনি।
তাই সবকিছু বলা যায় স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে।
তোমার খবর কী?
আমিও আত্মহত্যার করার ঝুঁকিতে আপাতত নেই, এইটুকু নিশ্চিন্তে বলতে পারি, তাই...
- চিয়ার্স। - চিয়ার্স।
থেরাপির ওখানের লার্সের কথা মনে আছে? ও জুলিকে পাগলের মতো ভালবাসতো...
ও আবার ঔষধ খেয়েছে। যদিওবা, ডাক্তাররা বলেছে, বেঁচে যাবে।
ওর বিবেক-বুদ্ধি যতটুকু ছিল সেটাও চলে গেছে। যদিওবা আদৌ ছিল কিনা, সেটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার।
এটা ভালো ছিল!
আমি বাথরুম থেকে আসছি।
পরপর দুইদিন স্পিকিং থেরাপি...
নেওয়াটা জুলির জন্য বেশি কষ্টের হয়ে পড়ে।
হ্যাঁ। তোমার জন্যও তো।
জুলি কোথায়?
মা আর তোমার মধ্যে সবকিছু কেমন যাচ্ছে? হুম?
আমার মনে হয়, মা একটু ক্লান্ত।
তোমাকেও দেখতে ক্লান্ত লাগছে।
না, আসলে... আজকাল একটু ব্যস্ত সময় পার করছি।
লেখালিখি আর বাকি সবকিছু নিয়ে।
ঐ ছেলেটার কী খবর... কী যেন নাম...
তোমার থেরাপি গ্রুপের কারো সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিল না?
- ওর নাম কি লার্স ছিল নাকি মনে নেই আসলে... - পিটার?
- হুম। - ও আস্ত একটা রামছাগল।
এখনো প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলে।
তুমি আর নিনাকে বাচ্চা নেবার কথা চিন্তাভাবনা করছো নাকি?
আসলে, ওগুলো কিছুই ভাবিনি...
আজকাল এতো কিছু ঘটে যাচ্ছে যে...
এতো কিছু কী?
একজন মেহমান এসেছেন।
- হাই, জুলি। সোনামণি। - হাই।
ওর নাম অ্যাংকার।
আর ওরা হচ্ছে, আমার ভাই ও ভাবি।
- নিনা। - হাই, অ্যাংকার জ্যানসন।
অ্যাংকার জ্যানসন। অনেকটাই আমাদের পুরনো প্রধানমন্ত্রীর মতো।
যদিওবা আমাদের চেহারাসুরত মিলে না।
আমাদের সবসময় জীবন নিয়ে হতাশায় ভোগা উচিত না।
জীবন তো একটাই, তাই যতটা সম্ভব উপভোগ করে বেঁচে থাকাই মুখ্য বিষয়।
তোমাদের দুজনের পরিচয় কীভাবে হয়েছে?
হয়তো এটা শুনতে একটু সেকেলে লাগতে পারে...
না, না, ঠিক আছে। আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি।
জুলি ও আমি গত ছয় মাস ধরে চ্যাটে কথা বলছিলাম আর মাসখানেক আগে প্রথম দেখা করি।
চ্যাট? নেটে?
না, পার্কের বটতলায়।
মানে?
আচ্ছা, বুঝলাম। আমি আসলে জানতাম না, জুলি চ্যাটও করে।
ছয় মাস হলো, সরকারের পক্ষ থেকে ওকে কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে।
- জানি। আমার শুধু মনে ছিল না আরকি... - তুমি ব্যস্ত ছিলে।
জ্যাকব ও নিনা "দ্যা টাইমস" পত্রিকার সাংবাদিক।
স্বনামধন্য পত্রিকা।
আমার "কোরোনিকল" আসতে আজকাল দেরি করে, তাই আমিও "দ্যা টাইমস" সাস্ক্রাইভ
জ্যাকব আপাতত ছুটিতে আছে।
- তোমার বইয়ের কাজ কেমন চলছে? - ভালো...ভালোই চলছে।
আমি আমার সাথে একটা জিনিস এনেছি...
আপনারা চোকোচিনো।
- কথা দিচ্ছি, এটা খেতে দারুণ লাগবে। - কখনো খাইনি। দেখে তো সুস্বাদুই লাগছে।
এটা কি চকলেট?
আজকে আরও একটা বিষয়ে আমরা কথা বলতে চাচ্ছিলাম।
জুলি ও আমি বিয়ে করতে চাই।
...যদি আরকি আপনাদের আপত্তি না থাকে।
আমরা ওকে ঠিক মতো চিনিও না।
আমরা জুলির সিদ্ধান্তে বাধা দিতে পারি না। ও এখন প্রাপ্ত বয়স্কা।
ও ব্রেইন ড্যামেজে ভুগছে।
তুমি কি বুঝতে পারো, ও কতটা হীনসম্মতায় ভুগে?
হুম, তা পারি।
ছেলেটা একটা থাকার ব্যবস্থাও করেছে। ছোট...ছিমছাম একটা ফ্ল্যাট।
আমার ছোট্ট সোনামণিটা...
আমরা বুঝতেই পারিনি, ঠিক না?
আমরা বুঝতেই পারিনি, ও কতটা হতাশায় ভুগছিল।
ও নিজেও কখনো মুখ ফুটে কিছু বলেনি।
মনে হয়, তুমি ঠিক বলছো।
মনে হয়, জুলির জন্য এটাই ভালো হবে...
- চিয়ার্স! - চিয়ার্স!
- গীতিকারের জন্য একটা টোস্ট হয়ে যাক? - চিয়ার্স।
সাব্বাশ, ম্যারিয়ান!
মনে হচ্ছে, কিছুক্ষণ পর, এই চেয়ার ছেড়ে উঠা মুশকিল হয়ে যাবে।
" প্রিয় জুলি...
আমি শুধু তোমাকে ধন্যবাদ দিতে চাই
নিজের জীবনে আমাকে আসতে দেওয়ার জন্য...
আর তোমাকে ও তোমার পরিবারকে জানার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।
আমি জানি, তোমার পরিবার তোমাকে অত্যন্ত ভালবাসে,
আর সেইজন্য, আমার মনে হয়, তোমার আজকের দিনে তাদেরকে সবথেকে বেশি...
... দরকার ছিল।
আমাদের সকলের জন্যই আপনজনদের সান্নিধ্য পাওয়াটা
আসলেই অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার।
আর, যদিওবা আমরা পরস্পরকে খুব বেশিদিন ধরে চিনি না,
তবুও কেন জানি মনে হয়, আমরা যুগ যুগ ধরে একে অপরকে চিনি।
আমার মন বলে, আমি তোমাকে খুব ভালোভাবেই বুঝি।
হয়তো তুমি যতটা ভাবো তার থেকেও বেশি।
কথা দিচ্ছি, আমি তোমার মনের মতো নিজেকে করে নিতে পারবো।
কথা দিচ্ছি, আমি তোমাকে হতাশ করবো না।
আমার...আর তেমন কিছুই বলার নেই... শুধু বলতে চাই...
জুলি...
ধন্যবাদ। আমাকে তোমার জীবনের অংশ করে নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আমি তোমাকে ভালবাসি, জুলি।
- ওরা চলে গেছে? - ও একটু ক্লান্ত ছিল। বিশ্রাম করতে গেছে।
- তুমি ঠিক আছো তো? - হুম, একদম।
এটা অ্যাংকারকে দিয়ে দিতে পারবে? ওর ক্যামেরা।
- তুমি তো আজ রাতে থাকছো, তাই না? - হ্যাঁ।
কী হলো?
হ্যালো?
- ফোন বেজে উঠেছিল। - জ্যাকব...
কিছু একটা হয়েছে।
জুলি!
জুলি!
রিকি মারলিন জেরি ১৯৭২-২০০২ "সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ"
জুলি ১৯৭৩-২০০৪ "সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ"
রিকি মারলিন জেরি ১৯৭২-২০০২ "সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ"
এ-এন-কে-ই- আর
অ্যাংকার জ্যানসন।
না, ও এই ঠিকানায় আর থাকে না।
যতদূর জানি, ও এখন জুটল্যান্ডে থাকে।
তুমি কিছুই জানতে পারোনি? আচ্ছা, ধন্যবাদ।
হাই, সোনা।
- হাই। - কী করছো তুমি?
এতো অন্ধকার করে রেখেছো কেন?
আমাদের যে ফোন নাম্বারটা দিয়েছিল, সেটার কোন অস্তিত্বই নেই।
ওর সম্পর্কে কোন তথ্যও খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেলো না।
তুমি ওর নাম্বার দিয়ে করবে কী শুনি?
অ্যাংকারের কোন ভাই-বোন ছিল না, ঠিক না?
তুমি পত্রিকার অফিসে প্রথম যোগ দেওয়ার পর যেভাবে প্রশ্ন করতে, আজকেও সেভাবে করছো।
- ওর ছিল নাকি ছিল না? - ও বলতে গেলে, কোন পরিবার ছিল না।
আপনজন বলতে, শুধু একজন খালা ছিল।
যদিওবা তিনি বিয়েতেও আসেননি। কিন্তু কেন?
এটা দেখো।
এই বইটা অ্যাংকার ওর সাথে নিয়ে যেতে ভুলে গেছে।
- তো? - ভালো করে দেখো।
ও ই চেয়েছিল যেন আমরা,
জুলির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণে "সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ" কথাটা রাখি।
আর এ কারণেই তুমি ওকে খুঁজছো?
অ্যাংকার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের পরে খুব তাড়াতাড়িই চলে যায়।
হ্যাঁ। আসলে বেচারা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল।
আমরা সবসময় তো আর এমন কঠিন সময়ের মুখোমুখি হই না।
ক্লজ। এখনো চান, তুমি যেন পত্রিকায় আবার কাজ করা শুরু করো।
- তুমি ওদের সাথে কথা বলছো না কেন? - আমি বইটা শেষ করার চেষ্টা করছি।
এটা শেষ করতে খুব বেশি সময় নিচ্ছে। হয়তো এই সময়ের মধ্যে কিছু করা উচিত।
এতে করে সামনে আগাতেও পারবে।
বলছো কী এসব? বেশি সময় নিচ্ছে, মানে?
এই সময় দ্রুত অতিবাহিত হচ্ছে না? নাকি সবকিছু খুব ধীর গতিতে চলছে, কোনটা?
জুলিকে ভুলে, সামনে এগিয়ে যাবো?
- আমি আসলে এটা বলিনি! - তাহলে, চুপ থাকলেই পারো!
আমি জানি, এটা মেনে নেওয়া কঠিন।
দুই বার। দুইবার, আমি ওর জন্য কিছুই করতে পারিনি।
তুমি তো আর সারাটাদিন ওকে চোখে চোখে রাখতে পারতে না। তোমার আর কী করার ছিল, সোনা?
পত্রিকা অফিসের ফোন নাম্বারটা কী যেন?
ফোন বাজছে।
ক্লজ পিটারসন, প্লিজ।
হাই, ক্লজ। আমি জ্যাকব ভিডটোফট।
ভাবছিলাম, একটা ব্যাপারে আপনি যদি আমাকে সাহায্য করতে পারতেন।
আপনি কি ঠিকানা পরিবর্তনের তালিকাটায় ঢুকতে পারেন?
তাই? অ্যাংকার জ্যানসন। এই যে, পুরাতন ঠিকানা...
কোন বিপদে জড়িয়ো না, বুঝলে?
আমি শুধু ওর সাথে কথা বলতে চাই।
কাল দেখা হবে।
অ্যাংকার জ্যানসন
গাড়ি চালিয়ে বাড়ি পর্যন্ত যেতে পারেন।
- জ্বি? - বললাম, চাইলে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি পর্যন্ত যেতে পারেন।
আচ্ছা।
- কাকে খুঁজছেন আপনি? - ওহ, আমি...
আমি অ্যাংকার নামে একজনকে খুঁজছিলাম। আপনি কি জানেন, ও এখানে থাকে কিনা?
- অ্যাংকার? - জ্বি।
হ্যাঁ, ও এই বাড়িতে নতুন এসেই উঠেছে।
- তাই নাকি? - আসুন।
অ্যাংকার?
মনে হয়, ও সরঞ্জামাদি কিনতে শহরে গিয়েছে। ও একটু বাড়ি মেরামতের কাজ করছে।
হাই, অ্যাংকার।
হাই, জ্যাকব।
আপনি এখানে কী করছেন?
হাই, কার্ল।
- তোমার সেল ফোনের নাম্বার কাজ করছিল না। - মানে?
যেই নাম্বারটা তুমি আমাদেরকে দিয়েছিলে।
ওহ, আচ্ছা, বুঝেছি। আমি নতুন নাম্বার নিয়েছি তো তাই।
- তাই...তোমার সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। - না, বুঝতে পারছি।
ওহ, তুমি এটা ফেলে এসেছিলে।
- এটা জুলির জিনিসপত্রের সাথে ছিল। - আচ্ছা।
তাহলে, আপনারা পূর্ব পরিচিত?
হাই।
দাঁড়াও।
হাই, অ্যাংকার। তোমাকে ইঞ্জিনটা দেখতে হবে। রাস্তায় দুবার গাড়ি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
হাই। কে আপনি?
No comments yet. Be the first to leave one.