The first 200 lines.
কুইন অফ টিয়ার্স
চার বছর আগে
এপিসোড ০৩
এই পুরো ফুলের বাগানটার মালিক আমরা।
বুঝেছি।
ভেবেছিলাম আমার মা হয়তো এখানেই কোথাও আছে।
বোধহয় দোকানে গেছেন।
আমার মা কিন্তু একটা দোকানও চালান।
তোমাকে তো বলেই ছিলাম যে আমার পরিবার এই শহরের মধ্যে বেশ প্রভাবশালী আরকি।
হ্যাঁ।
মা!
মা?
ইয়ংডু-রি সুপারমার্কেট
ধুর।
মনে হচ্ছে এখানেও নেই।
যেটা ইচ্ছা হয় নাও।
এটা খাও।
একদম নতুন ফ্লেভার।
আইস পপ
এটা তো স্ট্রবেরি ফ্লেভারের।
স্কুল ছুটির পর সব ছেলেমেয়েরা এটা কেনে তাই এটা খুবই জনপ্রিয়।
খেতে বেশ ভালোই আর চাঙ্গা লাগে।
আমি প্রথমবার খেলাম এটা।
তুমি এই প্রথমবার আইস পপ খেলে?
বুঝেছি। বড় হয়ে হয়তো খাওনি, কিন্তু ছোটবেলায়?
তোমার মা তোমাকে কখনো কিনে দেননি?
না, দেয়নি।
সত্যি বলতে, আমার আগেই মনে হয়েছিল।
কি মনে হয়েছিল?
তোমার টি-শার্টগুলোতে সবসময় ফুটো থাকে।
কি?
এটাকে ভিন্টেজ বলে।
-আমি এগুলো ইউরোপ থেকে বানিয়ে-- -আর আজকে তুমি যেটা পরে এসেছো দেখে মনে হচ্ছে
এটা তোমার দাদির আমলের।
না, আগে আমার কথা ভালো করে শোনো।
এই কার্ডিগানটার দাম জানতে পারলে...
তুমি একদম টাশকি খেয়ে যাবে।
-আমার কাছে মিথ্যা বলার প্রয়োজন নেই। -বিশ্বাস করো।
আমি এতটাও গরীব না।
সত্যি বলছি।
তারথেকে তুমি নাহয় আমাকে বিশ্বাস করো।
আমি কথা দিচ্ছি।
আজ এই মুহূর্ত থেকে,
তুমি এতদিন জীবনে যা-কিছু উপভোগ করতে পারোনি তার সব দায়িত্ব এখন আমার।
গাধাটা বোঝানো সহজ হবে না মনে হচ্ছে।
তোমাকে বলেছিলাম না যে আমার অ্যাপার্টমেন্ট লিজ দেওয়া হয়েছিল?
হ্যাঁ বলেছিলে।
কিন্তু সবটা বলা হয়নি।
আসলে…
প্রতি মাসে আমি দুই মিলিয়ন ওউন সঞ্চয় করি।
তোমাকে এমনভাবে তাকাতে হবে না যেন কিছু বোঝোনি।
আমি কিন্তু ভাব নিচ্ছি না।
এমনটা তো হতে পারে।
তোমার পরিবারের ওপর ঋণের দায় থাকলেও আমার কোন আপত্তি নেই।
আমাদের ঋণ?
এর চেয়ে বেশী কিছুও যদি থেকে থাকে,
তাতেও আমার কোন অসুবিধা নেই।
কারণ…
আমি সবসময় তোমার পাশে থাকতে চাই।
আমার পাশে থাকতে চাও?
হ্যাঁ।
আজীবনের সঙ্গী হয়ে
তোমার পাশে থাকবো।
হঠাৎ করে এসব পুরনো কথা কেন মনে পরছে?
আমি যদি এখন মারা যাই তাহলে তুমিই কি হবে
সেই মানুষটা যার কথা আমি শেষ ভেবেছিলাম?
তুমি ঠিক আছো?
হ্যে-ইন।
তোমার ব্যথা লাগেনি তো?
সব ঠিক আছে?
আজকে এখানেই শেষ করলে হয় না?
ওকে খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে।
এখন বিশ্রামের প্রয়োজন।
চলো যাওয়া যাক।
Okay.
হাসপাতালে থাকতে খুব মাথা ঘুরছিল,
কিন্তু আমি সত্যিই ভেবেছিলাম তখন বোধহয় আমি মারা যাবো।
তাই আমি আবার নিজেকে বোঝালাম
যে আমি এভাবে মরতে পারি না।
কারণ তাহলে আমি
অপমানবোধ করবো।
তুমি ঠিক আছো?
মনে হচ্ছে মচকে গেছে।
আমি কি আবার বেশি নাটুকে হয়ে যাচ্ছি?
হ্যাঁ, অন্যদিন হলে সেটাই বলতাম।
কিন্তু আজকে যেহেতু আমি ব্যথা পেয়েছি,
তাই আজকেরটা যুক্তিসম্মত ধরা যায়।
তাই নাকি?
কাঠে আগুন জ্বালানোর কাজটা বেশী কঠিন নাকি?
কিন্তু এটা ওক গাছের কাঠ।
-মানে আগুন জ্বালানো যাবে না? -না, ঠিক তেমনটা না।
কিন্তু আমার মত ক্যাম্পাররা ওক গাছের থেকে বরই গাছের কাঠ বেশি পছন্দ করে।
বরই কাঠের পোড়া গন্ধটা মাংসের ভেতরে ঢুকে ওটাকে আরও সুস্বাদু করে তোলে।
ঠিক আছে। জ্বালাও তাহলে।
বাপরে, এসব দেখে একদম স্মৃতিকাতর হয়ে পরছি।
সেবার আফ্রিকা-ভ্রমণের দিনগুলোর কথা মনে পরছে।
আমার যুবক বয়সটা পুরো উদ্দামতা আর রোমাঞ্চে ভরপুর ছিল।
মানে তুমি বলতে চাইছো যে
যেবার তুমি মশার ভয়ে পুরো সপ্তাহ হোটেলের রুমে বসে ছিলে?
জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়েই আমি অনেক রোমাঞ্চের স্বাদ নিয়েছি।
এসব কি?
চারিদিকে তো কেবল ধোঁয়া।
মনে হচ্ছে কাঠগুলো ভেজা।
সবচেয়ে ভালো আর দক্ষ ক্যাম্পারও এমন কাঠ দিয়ে কিছু করতে পারবে না।
হিয়্যুন-য়্যু কখনো কাঠ নিয়ে অভিযোগ করে না।
ও গ্রাম থেকে এসেছে।
তুমি এমন কারো সাথে আমার তুলনা করতে পারো না
যে কিনা হয়তো শূকরের প্রশ্রাবে ভেজা এবড়োখেবড়ো রাস্তায় ফুটবল খেলে বড় হয়েছে।
ওর এসবের অভিজ্ঞতা আছে।
ওহ, তুমি আর তোমার সব ফালতু অযুহাত।
আগে বলো তো, ও কোথায় এখন?
তুমি রাখো এসব। ওকে বলো এসে করে দেবে।
না, আমি পারব এটা করতে।
সু-ছেওল, অনেক হয়েছে। তুমি থামো এবার।
ক্যামোমিল বানাচ্ছো?
হ্যাঁ।
চেয়ারম্যান সাহেব আর আমার জন্যও কি দুটো বানিয়ে দিতে পারবে?
অবশ্যই।
বাবা আজকে হঠাৎ এত জলদি শিকার থেকে ফিরে আসলেন কেন?
আসলে…
একজন বড় তান্ত্রিক আমাকে ফোন করেছিল।
কি বললেন উনি?
হঠাৎ করে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে চেয়ারম্যান সাহেব শিকারে গিয়েছেন কিনা।
-তিনি কিভাবে জানলেন? -কোন সন্দেহ নেই যে উনি অনেক বড় একজন সাধক।
তিনি বললেন আজকের দিনে যদি চেয়ারম্যান সাহেব শিকারে যান তাহলে তার বিপদ হতে পারে।
এজন্যই বাবা সাথে সাথে ফিরে এলেন?
হ্যাঁ, কিন্তু এটা অন্তত হ্যে-ইনের জন্য সুসংবাদ।
ও উনার পথ ধরে যেতে পেরেছে।
মা!
মা!
মা!
হ্যে-ইন পায়ে ব্যথা পেয়েছে।
কি? কিভাবে?
শুনলাম শিকারের সময় নাকি একটা বন্য শুকরের সামনে পরেছিল।
কিন্তু অতটাও ব্যথা পায়নি। অবস্থা বেশী খারাপ না।
হে ঈশ্বর। ও ঠিক আছে তো?
আপনি কি করে জানলেন?
সত্যিই আপনি মহান।
কি বললেন উনি?
যাইহোক, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আমি শীগ্রই একদিন গিয়ে দেখা করবো।
আরে কি বললেন উনি?
তিনি তোমার প্রাক্তন স্ত্রীকে স্বপ্নে দেখেছেন।
শিকারের জায়গায় একটা ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে ছিল।
তোমাকে ওর সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিল।
আজকে যদি শিকারে যেতে তাহলে মরণ-ফাঁদে পরতে হতো।
দেখেছো?
তুমি বুদ্ধি করে আমার কথা শুনে ফিরে এসেছিলে।
ভাগ্যকে এড়িয়ে যাবার উপায় নেই।
এখন থেকে বড় কোন সিদ্ধান্ত নেবার আগে তান্ত্রিকের সাথে দেখা করে নেবে।
ঠিক আছে।
ডক্টর কিমকে খবর দিলে হয় না?
আমি ঠিক আছি। সামান্য মচকে গেছে।
হিউন-য়্যু তোমার জীবন বাঁচিয়েছে।
আমি তো ভেবেছিলাম ও একটা পাখিও মারতে পারবে না, তাই বলে বুনো শুকর?
সব নাটক করছিল ও।
নিশ্চয়ই ওর অভিজ্ঞতা আছে।
তুমি কি এইমাত্র ওর প্রশংসা করলে
এমন একটা প্রাণীকে বাগে আনতে অনেক অভিজ্ঞতার দরকার হয়।
বন্য শুকর খুবই মোটা চামড়ার পশু, তাই একবারে জায়গামত শুট করতে হয়।
আর না মারলে পারলে, অবস্থা আরও ভয়ংকর হয়ে পরে।
একদম ঠিক। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে ওর ভাগ্য সহায় ছিল।শটটা মিস করলে কি হত?
একবার ভেবে দেখ।
নতুন সৈনিকের মত বেপরোয়া হওয়াটা ওর একেবারেই উচিত হয়নি।
স্পেশাল গার্ড টিমে ও একজন নৌসৈনিক ছিল।
- শুটিং এর জন্য ওর অনেক সুনাম ছিল। - সত্যি?
হ্যাঁ, সত্যি।
তাহলে এবার বুঝতে পারছো তো যে
ওকে শুটিং শেখানোর প্রস্তাব দেয়াটা তোমার কত বড় একটা বোকামি ছিল।
একটা জিনিস তো নিশ্চিত।
আজকে যদি ও এক মুহূর্তের জন্যও ভয়ে পেয়ে পিছু নিত তাহলে আমি এখন এখানে থাকতাম না।
হেব্বি ভাগ্য তোর।
-কেন? - আমি ওর ওই পুরুষালী পেশীগুলো দেখে বুঝেছিলাম
এতগুলো বছর ও শুধু পড়ালেখা করে সময় নষ্ট করেনি।
তুই কি করে জানলি?
আমি যখন জেলে ছিলাম,
ও ওই পেশীবহুল হাতগুলো দিয়ে আমার সামনে
চুক্তিনামাটা রেখে বললো "প্লিজ স্বাক্ষর করুন"।
আর তাতেই আমার হৃদয়ে
একটা দোলা দিয়ে উঠলো।
-ফুপি। -আহ ফুপি, থামো তো।
এবার আমাকে একেবারে চমকে দিয়েছিস, হিউন-য়্যু।
এত স্বল্প সময়ে কিভাবে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নিলি
আমি এতকিছু ভাবিনি।
সবটাই প্রবৃত্তিগতভাবে হয়ে গেছে।
তোর প্রবৃত্তি জানতো যে তুই ওকে মরতে দিতে পারিস না।
ওকে তোর বাঁচাতেই হত যাতে করে ও ওর উইলের ব্যাপারটা পুনর্বিবেচনা করে।তাই না?
হ্যালো?
হ্যে-ইন কোথায়?
ও রাতের ওষুধ খেয়ে ঘুমোতে গেছে।
বেচারি খুব ক্লান্ত নিশ্চয়ই।
আমার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না।
সত্যি বলতে, আমি ওই রাস্তাটা আগেই পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি।
আর তখন লক্ষ্য করি যে বেড়ার কিছু জায়গা ভাঙা।
আমার মনে হচ্ছে আহত শুকরটা ওই ভাঙা জায়গাটা দিয়েই ঢুকেছে।
সেই রাস্তাটা দিয়েই তো চেয়ারম্যান হং এর যাবার করা ছিল।
কি বলতে চাইছেন আপনি?
মানে কি কেউ ইচ্ছা করে ওই বন্য শুকরটাকে দিয়ে টোপ ফেলেছে ওনার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে?
সেক্ষেত্রে কি হয়েছে তা কিন্তু আমরা কেউই জানিনা।
আমি আশেপাশের সব সিসিটিভি ক্যামেরা আর ড্যাশক্যাম চেক করে দেখবো।
আমি নিজে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখবো।
No comments yet. Be the first to leave one.