The first 200 lines.
হেই, উঠ!
উঠ, ফয়সাল।
উঠ, উঠ।
চল।
তোমার ব্যাগ কোথায়?
আমি যাচ্ছি না এখন।
কিন্তু তুমি তো বলেছিলে, আমার সাথে যাবে।
যাব, কিন্তু পরে।
তোমাকে ছাড়া আমি কোথাও যাব না।
- আরে বুঝার চেষ্টা কর, ফয়সাল। - না, না।
তোমাকে ছাড়া আমি কোথাও যাচ্ছি না।
মীর ভাই কোথায়?
মীর ভাইকে নিয়ে তোর চিন্তা করতে হবে না।
আমার উপর ভরসা রাখ।
এখানে থাকলে কী বিপদ হবে, জানিস?
ঘোড়াগুলোর কী হবে?
এখানে আর এক মুহূর্ত থাকাও ঠিক হবে না।
চল।
পা ব্যথা করছে। একটু আস্তে হাঁটো।
কথা বলিস না।
কী হলো?
সবকিছু কেমন শুনশান নীরব হয়ে গেছে।
ব্যাঙ, পোকামাকড়ের...
আওয়াজও শোনা যাচ্ছে না।
পালা, ফয়সাল।
ভাগ!
মীর চাচা! মীর চাচা!
নার্গিস?
ওই মহিলা কাকাদের ধরে নিয়ে গেছে।
- কোথায় নিয়ে গেছে? - পুরনো বাংলোর দিকে।
তুই বাড়ি যা।
না কাকা। আমি তোমার সাথে যাব।
জাভেদ, শান্ত হও।
জাভেদ, শান্ত হও।
নিজেকে সামলে রাখো, জাভেদ।
মীর কাকা।
সালাম, স্যার।
বিস্তারিত খুলে বলো।
এই এলাকার কিছু বাসিন্দা দুর্গন্ধ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে।
মধ্যে হঠাৎ সেই দুর্গন্ধ চলে যাওয়ায়, কেউ আর তেমন মাথা ঘামায়নি।
কিন্তু গতরাত থেকে, প্রকট দুর্গন্ধের কারণে ওইখানে থাকাই যেন মুশকিল।
রোজ সেই বাড়ি থেকে চিৎকার-আর্তনাদের আওয়াজ ভেসে আসে।
পারিবারিক ঝামেলা ভেবে কেউ সেটাতে নাক গলাতে চায়নি।
প্রতিবেশীরা দুই সপ্তাহ আগে দেখেছে, এক লোক তার বউকে জুতা দিয়ে বেদম পিটাচ্ছে।
কিন্তু মহিলাটা না-কি নীরবে মার খেয়েই যাচ্ছে।
এমন আজব কিসিমের মানুষ এখনো দুনিয়ায় আছে!
ব্যাপারটায় আমার অনেক কষ্ট লেগেছে।
মনে হচ্ছিল যেন…
এসব রচনা-টচনা বাদ দিয়ে সারাংশ বলো।
তোমার কিচ্ছা-কাহিনি পরে শোনা যাবে।
এক মহিলার অর্ধগলিত লাশ গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে, স্যার।
পরিস্থিতিটা আপনার কল্পনারও বাইরে।
মনে হয় মহিলাকে ২/৩ দিন অভুক্ত রেখে, ওরা খালি নির্যাতন চালিয়েছে।
শরীর থেকে বের হওয়া রক্তের স্রোত দেখে মনে হলো…
- রচনা বাদ দিতে বলেছি না! - সরি, স্যার।
স্যার, মুখে কিছু একটা বেঁধে নিন।
দরকার নেই, পেট খালি আছে। বমি হবে না।
স্যার!
কী হলো, স্যার?
রুমালটা দাও।
আরেকটা দাও।
পেটের নাড়িভুঁড়ি সব বের হয়ে যাবে...
এটা তোরও ঘর, আমি জানি।
কিন্তু তোরা সীমা লঙ্ঘন করে ফেলেছিস।
মাফ করে দিস। আমার কিছু করার নেই।
আজকে তোদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
ক্ষমা করে দিস।
দুঃখিত জেরি সাহেব।
না, গোপি, প্লীজ।
আরে, এটা-তো মরেই গেছে। দেখাব খুলে?
একদম না।
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির কথা মনে আছে?
কাটা লাশের ভিতরের জিনিস দেখার জন্য, হাসপাতালের বাইরে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতেন।
উনার সাথে কারও তুলনা হয় না।
কিন্তু তুমি তো এই পুঁচকে ইঁদুরকে মারতে গিয়ে ভয়ে চুপসে গেছিলে।
জীবিত ইঁদুরকে একটু ভয় লাগতেই পারে।
কিন্তু মৃত ইঁদুর কি কিছু করতে পারবে, নাজিয়া?
- দেখো একবার। - না, গোপি।
এসব বাইরে ফেলে দাও প্লীজ।
দুধ পাতিল থেকে পড়ে গেলে, মা আমাকে মেরেই ফেলত।
- আবার কী হলো? - আরও আছে ইঁদুর।
ইঁদুরের ক্ষেত নাকি এখানে?
মাগনা বাদাম নিয়ে চিবচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু দেনা-পাওনার কী অবস্থা?
মহাজন বলেছে, বাকি টাকার অর্ধেক পরিশোধ না করলে,
আপনাকে দোকান থেকে কিছু না দিতে।
তিনদিনের মধ্যে সব পাওনা মিটিয়ে দিব।
এগুলো নেবার টাকা আছে হাতে?
দেখান।
আচ্ছা। এগুলোই হবে।
সকাল সকাল এসব দুঃসংবাদ দেখিয়ে ওদের লাভটা কী?
শুধু শুধু জনগণকে দুশ্চিন্তায় ফেলা।
আর তুমিও এসব আজেবাজে জিনিস কেন দেখো?
শিক্ষামূলক কত চ্যানেল আছে!
নিজে তো স্কুলে যাওই না,
আবার টিভি থেকে কিছু শিখতেও ইচ্ছে করে না।
আপনার মোট ৩০০০ রুপি বাকি।
তিন দিনের মধ্যেই দিয়ে দিব।
- কী লাগবে আপনার? - এগুলো দাও।
নীলাম, ম্যাডাম!
ইয়াশপাল জি।
কেমন আছেন? শরীর-স্বাস্থ্য ভালো তো?
আপনার বাসায় অনেকবার গিয়েছি। কিন্তু আপনাকে পাইনি।
এই মাসসহ আপনার তিন মাসের বাড়ি ভাড়া বাকি।
আসলে, বেতন পেতে একটু দেরী হচ্ছে তো!
সেজন্য ভাড়াটা দিতে পারছি না।
বেতন পেলে সবার প্রথমে আপনার পাওনাই চুকিয়ে দিব।
রেলওয়ে কি ঠিকঠাকমতো বেতন পরিশোধ করে না?
- স্কুল আসলে… - ওহ, হ্যাঁ...
স্কুল কি ঠিকঠাকমতো বেতন পরিশোধ করে না?
আপনাকে এভাবে বিরক্ত করার কোনো ইচ্ছা নেই আমার।
আমার স্ত্রী যখন অসুস্থ ছিল, আপনি অনেক সাহায্য করেছেন।
কিন্তু আমারও তো ঘর-সংসার আছে।
যত তাড়াতাড়ি পারেন, দিয়ে দিয়েন।
আচ্ছা, এখন আসি।
গর্তগুলো সিমেন্ট দিয়ে ভরাট করে দিলেই হবে।
তাইলে ইঁদুর আর ঢুকতে পারবে না।
হ্যাঁ। ইয়াশপাল জি'র সাথে মাত্র কথা হলো।
বত্ব, তোমার প্রমোশনের কী অবস্থা?
হবে মনে হচ্ছে। কিন্তু নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না।
কথায় আছে, পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি।
বাবা প্রায়ই বলতেন…
বর্তমানে আমরা কী করছি, তার উপরেই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
আম্মু, এটা নানার বাণী নয়। এটা গান্ধীজী'র বাণী।
হয়েছে।
হেই ইঁদুর ব্যাপারী, কী অবস্থা?
- হাই, নাজিয়া! - হাই!
আন্টি, বাড়ি ভাড়াটা!
তিনদিনের মধ্যেই দিয়ে দিব।
- কিন্তু আব্বু তো.. - তোমার আব্বুর সাথে কথা হয়েছে।
ওহ আচ্ছা, ঠিক আছে।
আরেকটা জিনিস বলতে ভুলে গেছি।
আজ থেকে আমি নাইট শিফটে কাজ করব।
- ঠিক আছে। আমি যাই। - আচ্ছা।
- বাই, গোপি। - বাই, নাজিয়া।
- বাই যুবরাজ। - বাই।
- বাই, নাজিয়া। - বাই।
আম্মু।
- আজকে কলেজে যাব না। - কেন?
তিনবার আওয়াজ হয়েছে?
আম্মু, পেটটা ভীষণ ব্যথা করছে।
পেটের আবার কী হলো?
সত্যিই ব্যথা করছে।
আমার লক্ষ্মী সোনার কাছে সামান্য ব্যথা-ট্যাথা কিছুই না।
তাই, পেট ব্যথাকে পাত্তা না দিয়ে সে আজ কলেজ যাবে।
- আম্মু! - যথেষ্ট অভিনয় করেছিস, এবার রেডি হ।
এই মাসে তিনবার একই ভান ধরেছিস।
আম্মু, প্লীজ।
আম্মু!
আন্টি।
আন্টি!
গোপী! সন্ধ্যাবেলায় বাসায় এসো।
- মাছ ভুনা করছি। - আচ্ছা।
ওইসময় যুবরাজ থাকায় বলতে পারিনি।
সে ভাববে, ভাড়া দেয় না, কিন্তু ঘরে উৎসব চলে ঠিকই।
ঠিক আছে? বাই
।156
- আরে যাচ্ছিস কোথায়? - সেরেছে!
- এতো তাড়া কীসের তোর? - বলো।
- খোদার নামে দিচ্ছিস তো? - একদম।
- ১০০ রূপি। - ১০০?
হ্যাঁ। আজমীর শরীফ যাচ্ছি।
তোর জন্য খাস দিলে দোয়া করব।
- খোদার নামে দিচ্ছিস তো? - হ্যাঁ।
খোদা তোর ভালো করুক।
সাফল্য তোর পায়ে এসে কদমবুসি করবে।
মিনি নেই এখানে?
আচ্ছা, সমস্যা নেই।
গোপী, গোপী!
শোন।
ধর তোকে সুযোগ দেয়া হলো, ৫ জন বিখ্যাত জীবিত/মৃত...
…অভিনেতার সাথে ডিনার করার জন্য।
মিনি কোথায়? ছুটি নিয়েছে নাকি?
ওর কথা ছাড়। এটার উত্তর বল।
যদি তোকে পাঁচজন অভিনেতার সাথে ডিনারের সুযোগ দেওয়া হয়...
সুধাকর, তোর এসব ফালতু গেম খেলার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা নেই।
তোর সমস্যা কী? মিনিকে দিয়ে কী করবি?
আমাকে তো সারাজীবন ভীতু বলে খেপিয়েছিস।
দেখিস, আজকে ওকে বলেই দিব।
আর কত ডেটে যাবি তুই?
দশটা মুভি আর বিশটা ডিনার তো একসাথে আমরা করেই ফেলেছি।
পুরো অফিস একসাথে গেলে সেটাকে ডেট বলে না।
আজকে জিজ্ঞেস করব, আমার সাথে একা ডেটে যাবে কি-না?
- আচ্ছা দেখব। - গান্ধী কী বলেছে জানিস?
প্রচেষ্টা ছাড়া সফলতা আসে না।
- তাইলে ওকে বলে দেখ। - সেটাই তো।
- ওকে অবশ্যই বলব। - ও তোর পিছনেই দাঁড়িয়ে আছে।
হাই!
আজকে খাবারে ঢেঁড়সের সবজি দিয়েছে।
আচ্ছা।
আচ্ছা।
কেমন কথা হলো, গোপী?
হাত-পা কাঁপে নাই?
আরও ভালো কিছু বলা উচিত ছিল।
জন্মদিনের শুভেচ্ছাটাও ভালো করে জানাতে পারিস না।
ডেটে যাবার কথা বলবি কেমনে?
-এই কথাটা কেন যে বললাম? - আচ্ছা বাদ দে।
তোকে যদি পাঁচজন বিখ্যাত অভিনেতাকে ডিনারে আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়,
…তারা হোক জীবিত বা মৃত।
কাকে কাকে আমন্ত্রণ জানাবি? আর কেন জানাবি?
- কাউকেই জানাব না। - কেন?
No comments yet. Be the first to leave one.