The first 200 lines.
বিজ্ঞান রাজ্য নাট্যকলা সংঘের প্রথম পরিবেশনা "রহস্যময় আলো"
আমাদের সবাইকে এখানে ডেকে আনার কারণ কী?
নাটক?
"রহস্যময় আলো"?
হাজার কয়েক বছর পূর্বে, কোনো একদিন...
এক রহস্যময় আলো পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলেছিল।
সেরেছে রে!
সর্বনাশ হয়ে গেল!
এবং এর ফলে পুরো মানবজাতি পাথরে পরিণত হয়ে গেল।
তৎকালীন সময় পর্যন্ত গড়ে ওঠা সমস্ত সভ্যতার শেষ চিহ্নটুকুও ধুলোয় মিশে গেল।
কিন্তু একজন ছিল, যে হাল না ছেড়ে দিয়ে...
জেগে ওঠার জন্য নিজেকে তৈরি করতে থাকে।
সে হলো...
এক বিজ্ঞানপ্রেমী বালক, ইশিগামি সেনকু।
এক, দুই, তিন,
চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট
হাজার হাজার বছর ধরে গণনা চালিয়ে গিয়ে, সেনকু নিজের চেতনা ধরে রেখেছিল।
চড় চড়, চড় চড়!
আরে?
ব্যাপার কী?
বাপরে, গোটা পৃথিবীটাই দেখছি পাথর হয়ে গেছে!
বেশ, মানবজাতির বিশ লক্ষ বছর ধরে গড়ে তোলা প্রযুক্তিকে
আবার সেই আগের অবস্থানে নিয়ে যাব আমি!
এবং বিজ্ঞানের সাহায্যে, আমরা এই পাথরের মূর্তিগুলোতে প্রাণ সঞ্চার করার উপায় খুঁজে বের করব।
সময় হয়েছে শূণ্য থেকে সভ্যতাকে গড়ে তোলার!
সেনকু এবং তাইজু নিজেদের অন্বেষণ চালিয়ে গেল।
সঞ্জীবনী পানি কাজ করছে! এখন আমরা মানুষদের জাগিয়ে তুলতে পারব!
এবং সুকাসার সাম্রাজ্যের সাথে এক তুমুল যুদ্ধের পর,
অবশেষে সময় হয়েছে সেই রহস্যকে মোকাবিলা করবার।
ঠিক।
সেই রহস্যের সমাধানের জন্য, এই আলোর উৎপত্তিস্থল,
পৃথিবী অপর প্রান্তের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে চলেছি আমরা!
মানে?!
পৃ-পৃথিবীর অপর প্রান্ত? মাথা খারাপ?!
পৃথিবীর অপর প্রান্তে আমরা যাবই বা কীভাবে?
আমরা সব্বাই মিলে একটা জাহাজ বানাতে চলেছি!
কী রোমাঞ্চকর!
সেনকু...
এসব বোধহয় ওর দ্বারাই সম্ভব।
ঐ আলোর পেছনের রহস্যের সমাধানও হয়তো ও করে ফেলবে।
কী অবস্থা সবার?
এতোক্ষণ ধরে এসবের মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝে না থাকলে, দলে স্বাগতম।
তো, সাহায্যের ব্যাপারে তোমাদের ওপর ভরসা করা যায় তো?
একদম!
সভ্যতাকে ফিরিয়ে আনার সময় এসে পড়েছে!
আমরা পারব!
খবরাখবর দেয়া-নেয়ার মাধ্যমে ও সবার মনোবল বাড়াচ্ছে।
এই না হলে আমাদের গেন।
মঞ্চ নাটক!
আমার খুব ভাল্লাগে।
সবার ওপর বেশ প্রভাব ফেলেছে ওটা।
তো, যেহেতু আমরা সকলে মিলে একটা জাহাজ বানাতে চলেছি...
তাই সকলের আইডিয়াগুলো নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে!
গেন, তুমি পারও বটে...
সবাইকে এভাবে ডেকে আনাটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে।
এভাবে বলে না, সেনকু-চান।
আমরা সবাইকে একটু চাঙ্গা করে তোলার চেষ্টা করছি।
ম্যাগমা আর ইয়ো?
ওদের দুজনকে দেখে আমিও অবাক হয়েছি।
সচরাচর ওদের মধ্যে ঢিলেভাব লেগেই থাকে,
কিন্তু আজ ওদের চেহারায় বেশ বুদ্ধিদীপ্ত একটা ভাব টের পাচ্ছি!
ইশিগামি গ্রামের মানুষজন হলো সমুদ্রের সন্তান।
জাহাজ বানানোই তো আমাদের বিশেষত্ব।
আমার জয় এবার ঠেকায় কে!
অবশেষে আমার সুযোগ এলো!
একবার জিততে পারলে, আমি সবার উপরে পৌঁছে যাব।
ঠিক আছে। এবার তোমাদের তিনজনের আইডিয়া উপস্থাপনের পালা!
এখানে কি প্রতিযোগিতার আদৌ কোনো দরকার আছে?
সেনকু ছাড়া আর কে-ই বা জিতবে?
হুম। ব্যাপারটা অদ্ভুত।
যেখানে সেনকু নিজেই যত জলদি সম্ভব বেরিয়ে পড়তে চায়।
আরে? ইয়ো-চান?
আমারটা সবার শেষে দেখলেই ভালো করবে।
হাজার হোক, আমার জাহাজ এরমধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে।
আগে দর্শনদারী পরে গুণ বিচারী, ঠিক কিনা?
যে সবার প্রথমে জাহাজটা বানিয়ে দেখাতে পারবে সে-ই বিজয়ী
এই জংলীগুলো কী-ই বা আর...
নাহ্। এই অবিকশিত মানুষগুলোর ওপর হাসাটা ঠিক হচ্ছে না।
দুর্দান্ত!
আমাদের গ্রামে জাহাজের ছড়াছড়ি।
এই জীবনে তো আর কম জাহাজ দেখলাম না।
এবার ইয়োর জাহাজ দেখার জন্য আর তর সইছে না!
তখন তো খুব বড় গলায় বলছিলে...
আগে দর্শনদারী পরে গুণ বিচারী, তাই না?
ঠিকই তো।
কী হলো, জলদি দেখা!
আমি এমন কথা ঘুণাক্ষরেও বলিনি!
নাকি বলেছিলাম?
আরে মনে পড়েছে!
ওটা তো আমি বাসায় ফেলে এসেছি!
আরে, এটা দেখছি ভেলার মতো দেখতে কিছু একটা!
কী হলো, সেনকু-চান?
জাহাজটা কি খড়কুটো দিয়ে তৈরি?
কী দিয়ে তৈরি?
এটা কি খড়কুটো দিয়ে বোনা?
হ্যাঁ, সেরকমই কিছু একটা হবে।
এটা খুব কাজে দেবে, ম্যাগমা।
ঠিকই বলেছ তুমি।
তোমরা আসলেই সমুদ্রের সন্তান।
অভিজ্ঞতার চেয়ে মূল্যবান জিনিস আর হয়না।
খড়কুটো দিয়ে তৈরি জাহাজ আসলেই টেকসই হয়ে থাকলে...
এই জাহাজটা বানানোর কাজ শুরু করাই যায়।
এইতো!
ধুর!
ও তো পুরোই ক্ষেপে গেছে!
ওরকমটাই তো আমরা চাই। কিন্তু বানানো গেলে তো!
এটাই হলো সত্যিকারের পালতোলা জাহাজ।
জিনিসটা দেখতে তো দারুণ। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ করতেই তো কয়েক হাজার বছর লেগে যাবে!
এটা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে আমিই পটল তুলে ফেলব!
আমার সাথে এমন কোরো না!
যদি এটা বানানোর জন্য মোটামুটি শ'খানেক লোক থাকত, তবে না...
এখনো চোখ খোলেনি তোমাদের?
ঐ ফালতু মঞ্চ নাটকটার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল বলে মনে হয়?
সুকাসার জাগিয়ে তোলা সকল গাট্টাগোট্টা লোকজন এখন আমাদের দলে।
বিজ্ঞান এবং শক্তি, দুটোই এখন সম্মিলিতভাবে আছে আমাদের হাতে।
এই যাত্রা বেশ রোমাঞ্চকর হতে চলেছে!
এমন একটা জাহাজে করে পৃথিবীর অপর প্রান্তে যাওয়া...
বেশ সহজই হওয়ার কথা, না?
হ্যাঁ, যদি এক বিশেষ প্রতিভাসম্পন্ন...
আরেকজন ব্যক্তির নাগাল পাওয়া যায় তবেই।
সুকাসা-সান...
ঘ্যানঘ্যানানি থামাও এবার।
অ্যাঁ?
সুকাসা আমাকে তোমার ব্যাপারে বলেছে।
তুমি সে-ই না, যার কাছে কাকে জাগিয়ে তুলতে হবে, সে বিষয়ে সব তথ্য থাকত?
তোমাকে আমার একটা কাজ করে দিতে হবে, সাংবাদিক।
সাংবাদিক...
মানুষজনের সাথে মিশতে পারা...
মানুষজনদের ব্যাপারে তথ্য...
সাংবাদিক হিসেবে এগুলোই ছিল আমার অস্ত্র।
কী চাও তুমি?
তোমার যাকে দরকার, তার খোঁজই দিতে পারব আমি।
একজন ক্যাপ্টেনের দরকার আমার।
সমগ্র পৃথিবীব্যাপী এক আবিষ্কারের যুগের সূচনা করতে চলছি আমরা।
জাহাজ পরিচালনায় সিদ্ধহস্ত একজন ক্যাপ্টেনকে দরকার আমাদের।
যে হবে গোটা মানবজাতিকে বাঁচিয়ে তোলবার চাবিকাঠি।
এমন একজনকেই আমাদের দলে প্রয়োজন।
দেখতে পেয়েছি।
ওটাই সেই দ্বীপ।
আমরা আসছি, ক্যাপ্টেন।
কিন্তু...
আমরা বানাচ্ছি পালতোলা জাহাজ।
আধুনিক জাহাজ
পালতোলা জাহাজ
বায়ু-চালিত
এমন একটা জাহাজ চালানোর ব্যাপারে অভিজ্ঞ কাউকে কি আদৌ পাওয়া যাবে?
মানে, কোনো আধুনিক মানুষকে।
হয়তো শুধু প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে চালিয়েছে, এমন কাউকে পাওয়া যাবে।
সারাজীবন জাহাজ চালিয়ে পার করেছে, এমন কাউকে পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ।
রিয়ুসু-
রিয়ুসু?
না, কিছুনা!
চলো! জলদি চলো!
নানামি অ্যাকাডেমি।
এই ধরণের নৌ-অ্যাকাডেমিগুলো সাধারণত জাহাজ চালানো শিখিয়ে থাকে।
কোনো শিক্ষকের অন্ততপক্ষে জাহাজ পরিচালনা করতে জানার কথা।
বেশ, পাথরের মূর্তি খনন করার সময় এসে পড়েছে।
খুঁড়ে খুঁড়ে একাকার করে দাও, গরিলার দল!
সবকিছু আমাদের ওপর ছেড়ে দে!
আমি কোনো গরিলা নই, বুঝেছ?
এদের সবাইকে জাগিয়ে তুলবে নাকি?
না। সঞ্জীবনী পানি শেষ হয়ে আসছে।
হোমুরা অলৌকিক গুহাটা ধ্বসিয়ে দেওয়ায় আজ এই হাল।
সেক্ষেত্রে, যথেষ্ট অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কাউকেই আমাদের বেছে নিতে হবে তাহলে।
একবার রিপোর্টের কাজে এখানে এসে কয়েকজন শিক্ষকের সাথে পরিচয় হয়েছিল আমার।
এইতো সে।
রিয়ুসুই...
তোমার মুখে আগেও এই নামটা শুনেছি।
না, না!
ওকে তোমাদের একদমই দরকার নেই!
তোতলানো বাদ দিয়ে ঝেড়ে কাশো তো।
ছেলেটার প্রতিভা আছে, ঠিক না?
আর এই কারণেই তোমার মুখ ফস্কে ওর নাম বেরিয়ে পড়েছে।
নানামি অ্যাকাডেমি ছিল নৌ-বাণিজ্যের একচ্ছত্র রাজা, নানামি গ্রুপের মালিকানাধীন।
২ লাখ কোটি ইয়েন সমমূল্যের সম্পত্তি ছিল তাদের।
আর ও হলো নানামি পরিবারের প্রচণ্ডরকম স্বেচ্ছাচারী ছেলে...
নানামি রিউসুই।
সে ছেলেবেলা থেকেই হাত খচরার লাখ লাখ ইয়েন
জাহাজের মডেল আর বোতল বন্দি জাহাজ সংগ্রহ করার পেছনে ব্যয় করত।
হ-হাত খরচার লাখ লাখ ইয়েন?!
তাতেও মনের আশ না মেটায়, নিজের জন্য আস্ত একটা পালতোলা জাহাজই বানিয়ে নেয় সে।
মিডেল স্কুলে পড়ার সময় থেকেই, মনের খোরাক জোগাতে...
কারো সাহায্য ছাড়াই সে জাহাজ চালিয়ে পুরো বিশ্ব ঘুরে বেড়িয়েছে।
মিডেল স্কুল থেকেই জাহাজের ক্যাপ্টেন?!
একে হেলাফেলা করা যাবেনা!
অভিজ্ঞতার চেয়ে মূল্যবান আর কিছু হয়না।
বললাম না যে ও প্রচণ্ডরকম স্বেচ্ছাচারী?
ক্ষমতাবান লোকদের একজন হওয়ায় সুকাসাও ওকে ঘৃণা করত।
আমি হলে ওকে বেছে নিতাম না।
রিয়ুসুই-কুনের মতো প্রতিভাবান নাবিক যেমন খুঁজে পাওয়া যাবেনা,
তেমনই তার মতো ফালতু ব্যক্তিত্বের কাউকেও আর খুঁজে পাওয়া যাবেনা।
ভালোই উভয়সংকটে পড়া গেল...
আমরা কি মোটামুটি দক্ষ এবং ভদ্র কাউকে বেছে নেবো...
নাকি ডানপিটে কিন্তু প্রচণ্ডরকম প্রতিভাবান কাউকে বেছে নেবো?
ও তো এরমধ্যেই সঞ্জীবনী পানি ওর ওপর ঢেলে দিয়েছে!
প্রতিভা সবার ওপরে অবশ্যই।
অবশেষে ফিরে এসেছি আমি!
আরো একবার এই পৃথিবী আমার হতে চলেছে!
রিয়ুসুই
রিয়ুসুই
No comments yet. Be the first to leave one.