The first 127 lines.
আমি নিশ্চিত, পরশপাথর সম্পর্কে আর কোনো বইয়ে...
কোনো কিছু লেখা নেই।
মন্ত্রীর কাছে যেটা ছিল সেটা ছিল নকল, এবং আবার, আমাদের কাছে ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।
তাহলে রাজধানীতে ফিরে গেলে কেমন হয়?
ভাইয়া!
দেখো!
অ্যালকেমির পরিচিতি। মনে হয় আগেও পড়েছি।
হাহ, তোমার মনে হয়?
হেই, এটা অনেক বিরক্তিকর!
একটু দাঁড়াও, আরেকটু।
বেশ, হয়ে গেছে!
দেখো একবার, উইনরি!
তুমি তো বলেছিলে তুমি আমাকে একটা উপহার দিবে।
এবং আমরা এখনই তোমার উপহার বানিয়ে দিচ্ছি।
ওটাই ছিল আমাদের সর্বপ্রথম রুপান্তর।
মানুষ কোনো কিছু বিসর্জন করা ছাড়া কোনো কিছু অর্জন করতে পারে না।
যদি তুমি কিছু পেতে চাও, তাহলে তোমাকে এর সমান মূল্যের কিছুর দরকার পড়বে।
এটা হলো অ্যালকেমির সমমূল্যের বস্তু বিনিময়ের নিয়ম।
তখনকার সময়ে, আমরা ভাবতাম পৃথিবীটা বুঝি এরকমই।
উইনরি, তোমার এ কাজ করা উচিত হয় নি, দুজন এখন বিপদে পড়ে গেছে।
তা ঠিক। এডওয়ার্ড আর অ্যালফন্স ওটা শুধুমাত্র তোমার জন্য করছিল।
আমি সত্যিই দুঃখিত।
তারা যতই শিখুক না কেন তা ব্যাপার না,
মানুষ প্রায়ই এ কাজে হাল ছেড়ে দেয়।
কিন্তু ওই দুজন ইতোমধ্যেই ভালো অ্যালকেমিস্ট হয়ে গেছে।
কিন্তু ওদেরকে তো অ্যালকেমি সম্পর্কে কিছু জানার কথা না।
ওরা দুজন, যাই হোক, উনারই তো ছেলে।
তো তোমাদের বাবা কখন তোমাদেরকে অ্যালকেমি শেখালো?
যে লোক এখানে নেই তার কাছ থেকে কীভাবে আমরা কোনো কিছু শিখবো?
এটা ওই বইটাতে লেখা ছিল।
তোমরা দুজন এর মতো কঠিন জিনিসও বুঝতে পেরেছো?
হ্যাঁ কিছুটা।
হ্যাঁ কিছুটা।
আমরা কি কোনো ভুল করেছি?
না, তোমরা দুজন অসাধারণ কাজ করেছ। আমার মনে হয় সবাইকে এ ব্যাপারে বলা দরকার।
বইটা যেখান থেকে পেয়েছিলে সেখানেই রেখো কিন্তু।
বাবা যখন বাসায় আসবেন, তাকে যেন অবশ্যই ধন্যবাদ জানাও। আর, ওই দরজাটা কখনো খুলবে না।
বুঝেছি!
বুঝেছি!
এইতো এসে গেছো!
বাবা কোথায় যাচ্ছেন তা কাউকে না জানিয়েই কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন,
তাই মা দূরের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দিন কাটাতেন।
কিন্তু তবুও, আমরা যখন অ্যালকেমির চর্চা করা শুরু করলাম,
তিনি আমাদের উৎসাহ দেয়ার জন্য মুচকি হাসতেন।
মা আমাদের প্রশংসা করছিলেন।
আমরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতাম আর এভাবেই আমরা অ্যালকেমির গভীরে চলে গেলাম।
মা!
মা!
দেখো, দেখো!
দেখলে?
আরে বাপরে!
ভাইয়া এটা বানিয়েছে! আমারটা এখনও এরকম হয়
অসাধারণ, উভয়ের জন্যই বলছি! তোমরা আসলেই তার সন্তান!
বাবাও কি আমাদের প্রশংসা করতেন?
হ্যাঁ। একবার তিনি বাসায় আসুক, তারপর তিনি করবেন।
আমি উইনরির বাসায় যাচ্ছি!
ভাইয়া!
ভাইয়া...
তুমি কি বাবাকে ঘৃণা করো?
আমি বলবো না যে আমি তাকে ঘৃণা করি... তাকে আমার ঠিকমতো মনেও নেই।
যখনই কেউ তার সম্পর্কে কথা বলে, মা এর চেহারা পাল্টে যায়।
এটাই আমার পছন্দ না।
দু-দুঃখিত...
চলো উইনরির বাসায় যাই!
ক-কী বলছো তুমি?
যেমনটা তোমায় বললাম!
আমার মা বাবা মারা গেছেন।
কি-কিন্তু তারা দুজন তো ডাক্তার, তাই না?
হ্যাঁ। এ কারণে তারা দুজন ইশবালের যুদ্ধে গিয়েছিলেন, আর এখন তারা মৃত।
উ-উইনরি, আমাদের বাবারও...
...একই অবস্থা...
এটা একই ব্যাপার না!
যদি তুমি মারা যাও, তাহলে এর মানে হচ্ছে তুমি আর কখনো ফিরে আসতে পারবে না!
তুমি ফিরে আসতে পারবে না ব্যাপারটা এমন না।
আমি এরকমটা একটা বইয়ে পড়েছিলাম।
কৃত্রিম মানব বলে একটা কথা আছে, যার নাম হোমানকিউলাস।
শুনতে মনে হয় এটা যেন একটা মস্তিষ্কবিহীন পুতুল, কিন্তু অ্যালকেমি দ্বারা, তুমি এটাকে-
চুপ করো!
এটা এমন বিষয় যা করার অনুমতি নেই!
অ্যালকেমি সর্বশক্তিমান না।
এ কারণেই আমাদের কতো অটোমেইল ইঞ্জিনিয়ারদের অস্তিত্ব আছে।
খচ্চর শয়তান বুড়ি...!
উইনরির জন্য কষ্ট লাগছে।
তোমাদের দুজনের আবার কী হলো?
কী ব্যাপার, এডওয়ার্ড? তুমি কত বড় হয়ে গেছো, এটা দেখতে হাস্যকর লাগছে।
অ্যাল, তুই কত আস্তে দৌড়াস!
মা, দেরি করার জন্য দুঃখিত!
মা...!
মা!
তিনি কিছুদিন যাবৎ নন;
অনেক বছর ধরেই এই রোগে ভুগছেন।
সোনা...
এইগুলো তাঁর জন্য লেখা চিঠি।
যদি আমরা কোনো একটা ঠিকানায় চিঠি পাঠাই...
কেউ তো নিশ্চয়ই জানবে যে তিনি কোথায়, আর তাকে ঘরে আসতে বলবেন?
তিনি ঘরে আসুক তা আমি চাই না! কিন্তু আমাদের আর কিছু করার নেই! ধুরু!
তোমার বাবা...
...আমাদের জন্য এই টাকাগুলো রেখে গেছেন।
আমি এগুলো খরচ করিনি। এগুলো ব্যবহার কোরো, এবং তোমরা দুজন একে অপরের খেয়াল রেখো।
তুমি কী বলছো, মা?
তুমি আমার জন্য কিছু রুপান্তর করে দিতে পারবে... এডওয়ার্ড?
মনে হয়... একটা কাঁচুলি হলে ভালো হবে।
তিনি... সবসময়... আমার জন্য বানিয়ে দিতেন...
এ কারণে মা আমাদের অ্যালকেমির চর্চা করতে দেখলে আনন্দিত হতেন...
...কারণ এটা তাকে বাবার কথা মনে করিয়ে দিতো।
এটাই আমরা অবশেষে বুঝতে পারলাম।
ভাইয়া, আমার ক্ষুধা লেগেছে...
ঠান্ডাও লাগছে...
চলো বাসায় যাই।
অ্যাল...
চল... মাকে ফিরিয়ে আনি।
দেখ, এইতো তার নোটগুলো!
আমি এর মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝছি না, কিন্তু এখানে মানুষ রুপান্তর নিয়ে কিছু একটা লেখা আছে!
যদি এর পাঠোদ্ধার করতে পারি...
কিন্তু, এখানে তো লেখা যে মানুষ রুপান্তর নিষিদ্ধ কাজ।
যদি মৃতরা জীবিত হয়ে ফিরে আসতে পারে, তাহলে সবাই অবশ্যই খুশি হবে।
কেউ কখনো সফল হতে পারেনি, এবং তারা হাল ছেড়ে দিয়েছে, তাই বয়স্করা এটাকে নিষিদ্ধ করেছে।
অ্যাল, যদি তুই, আমি, আর মা আবার একসাথে থাকতে পারি, তাহলে মা অনেক খুশি হবে!
তবুও, হয়তো আমাদেরকে আগে বাবাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে হবে...
মা যে মারা গেছেন এটা তার দোষ! মা সবসময় তার জন্য অপেক্ষা করতেন, অথচ তিনি তার শেষকৃত্যেও আসেনি!
এটা যদি এমন কিছু হয় যা তিনি করতে পারেন নি, তাহলে আমরাই এটা করবো!
আমরা এটা করবোই!
আমরা নিজেদের জন্য একজন শিক্ষক নিলাম, এবং শুরু থেকেই অ্যালকেমি শেখা শুরু করলাম।
আর তারপর, একদিন...
পানি - ৩৫ লিটার; কার্বন - ২০ কিলোগ্রাম; অ্যামোনিয়া - ৪ লিটার; লেবুর রস - ১.৫ কিলোগ্রাম...
ফসফরাস - ৮০০ গ্রাম; লবণ - ২৫০ গ্রাম, যবক্ষার - ১০০ গ্রাম; ফ্লোরিন - ৭.৫ গ্রাম; লোহা - ৫ গ্রাম; সিলিকন - ৩ গ্রাম...
এসব উপাদান মিলে তৈরি হয় একটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহ।
No comments yet. Be the first to leave one.