The first 200 lines.
অনুবাদ আয়োজনে :.:.: মোহাম্মদ ইউসুফ :.:.:
সাব-ইন্সপেক্টর মালা, আছেন?
- হ্যাঁ, বলছি। - প্লেন রাখা হয়েছে।
- কোথায়? - গেট নাম্বার ৮২।
গেট নাম্বার ২ তে চলো ।
টার্মিনালে ফিরে আসুন। উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
গেট নাম্বার ৮২ তে ফিরে আসছি।
লেডিজ এন্ড জেন্টলম্যান..
আমাদের ফ্লাইট কিছু যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে...
টার্মিনালে আবার ফেরত যাচ্ছে।
আপনাদেরকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যে যার সিটে বসে থাকুন।
সময়ে সময়ে সবকিছু আপনাদেরকে জানানো হবে।
আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি সেজন্য।
ধন্যবাদ।
গীতা সেথি।
দিবিয়া রানা।
জেসমিন।
আপনারা প্লিজ আমাদের সাথে আসুন।
স্যার, সমস্যাটা কী বলা যাবে?
এখানেই শুনতে চাও সব?
চলো।
আমি দিবিয়া রানা, হরিয়ানায় জন্ম।
হেড গার্ল।
রাজ্য চ্যাম্পিয়ন।
পিসিএমে গড়ে স্কোর ৯৯.৮ PCM= Physics, Chemistry, and Mathematics
বেশ বিখ্যাত ছিলাম তখন।
হরিয়ানার নানহেরি থেকে এসেছি।
নামও হয়তো কখনও শোনেননি।
একটা ধ্বজভঙ্গ এয়ারপোর্ট আছে বটে সেখানে...
তবে, সেখানে কোনো প্লেন নেই।
হয়ত আমার পাইলট হওয়ার স্বপ্ন এখান থেকেই শুরু হয়েছে।
ম্যাম, হাত উঠাও।
দেখে তো ভালো মেয়েই মনে হয়। ভন্ডামি কবে থেকে শুরু করলে?
তখন এক জ্যোতিষি ভবিষ্যৎবাণীও করেছিলেন যে...
এই মেয়ে আসমানে পৌঁছুবে।
শালা ভন্ড!
যখন বোর্ড এক্সাম শেষ হলো..
আমরা মুম্বাইতে চলে আসলাম।
বাবা লোন নিল...
তারপর, আমাকে ইন্ডিয়ার টপ একটা ফ্লাইং স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিল।
আর শোনো, তাঁর মায়ের ডাক নাম...
আর পোষা কুকুরের নাম জানা লাগবে তোমার।
- হুম। - তুই পাগল হয়ে গেছিস, চিন্টু!
পাসওয়ার্ড হ্যাক করে বিক্রি করছিস?
শেষবারের কথা মনে নেই?
আপনি একটু বোঝার চেষ্টা করুন।
ম্যাম, আজ ফিস দেওয়ার লাস্ট ডেট।
আপনার বিল প্লিজ পাঠিয়ে দিন।
আপনিও দয়া করে বোঝার চেষ্টা করুন।
আমি আপনাকে কোনো প্রকার সাহায্য করতে পারছি না।
বিলটা পাঠিয়ে দিন, বাকিসব কিছু আমি ম্যানেজ করে নিচ্ছি।
এমন তো না যে তুই যুদ্ধে যাচ্ছিস!
অন্তত কোথাও তো যাচ্ছি।
তাড়াতাড়ি কর নইলে ফ্লাইট মিস করে ফেলবি!
মিস কীভাবে করবে? পাইলট তো এখানে বসে আছে।
উনাদেরকে কীভাবে বলব যে তাঁদের দিবিয়া রানা একজন প্রতারক?
গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিটের পরপরই অর্থনীতিতে নামল ধ্বস।
চাকরি তো একটা পেয়েছি...
তবে প্লেনের সামনে নয়, পেছনে।
কী করব? পরিবারের কারো মনে দুঃখ দিতে ইচ্ছে করেনি।
মিথ্যা ভয়ানক একটা জিনিস।
একটা মিথ্যাকে ঢাকতে শ'খানেক মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়।
খোলো।
এখন কী খুলব?
জুতা।
গত কুড়ি বছর ধরে এই লাইনে কাজ করছি।
ধরে নাও তোমার ক্যারিয়ার আর খ্যাতির সমাপ্তি এখানেই।
যতোই সৎভাবে খেলার চেষ্টা করো, জীবন মাঝেমধ্যে তোমার সাথে পল্টি নেবেই।
আমি আর মি. সেথি দু'জনেই সম্ভ্রান্ত পরিবারের সদস্য ছিলাম।
তারপর, সেথি ভাইদের মধ্যকার কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর...
আমরা দু;জনে বনবাসে চলে গেলাম, খালি হাতে।
বিমান বালার জব তো বেশ সহজে পেয়ে গেলাম।
১৯৯৮ সালের মিস কারনাল ছিলাম আমি।
আরে বাহ, মিসেস সেথি।
আজকে একটু বেশিই হট লাগছে আপনাকে।
বলো না একবার?
- কী? - প্লেনের ভেতরে...অই যে...
সিট আর অক্সিজেন নিয়ে কিসব বলো?
না, অরুন।
একটু বলো না, প্লিজ?
কেবিনে বায়ু চাপ হ্রাস হওয়ার পর...
অক্সিজেন মাস্ক যেগুলো প্রত্যেক সিটের উপরে আছে...
সবগুলো নিচে নেমে যাবে।
তুমি শিউর?
যার যার সিটে বসে থাকুন।
মাস্কটা মুখের সামনে নিন...
নাক আর মুখে চেপে ধরুন...
তারপর, স্বাভাবিকভাবে দম নিন।
- তারপর? - যে কোনো ধরনের সাপোর্টের জন্য...
আমাদের ক্রু'দের সাথে যোগাযোগ করুন।
অর্ডার চলে এসেছে।
গীতু, কাজ ছাড়ো।
আজকে যেও না।
গত ছয় মাস ধরে এমনিতেও ওরা তোমাকে স্যালারি দিচ্ছে না।
ওদের সাথে "যোগাযোগ" করে লাভ নেই।
যেতে তো আমারও ইচ্ছে করে না।
কিন্তু, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের উসিলায় দৈনিক যে ভাতা'টা পাই সেটা এভাবে ছেড়ে দেব?
বাটার চিকেন আর নানের উসিলায় খরচ তো উঠে যাচ্ছে, না?
আমি তো শুধু অপেক্ষা করছি...
কবে এই বালের এয়ারলাইন কোম্পানি আমাকে আমার প্রভিডেন্ট ফান্ড দেবে...
আর, কখন আমরা গোয়ায় গিয়ে রেস্টুরেন্ট খুলব।
হ্যালো, দুলাভাই!
গীতু, স্যুটকেস... পুন্নু এসেছে।
হেই, পুন্নু? সাপ্না?
সারপ্রাইজ!
হ্যাপি দিওয়ালী, গীতু!
হ্যাপি দিওয়ালী...
নমস্কার।
দিওয়ালীর সম্ভাষণ জানিয়ে একেবারে মালপত্তর নিয়ে বাসায় ঢুকে গেছে শালাবাবু।
সাপ্নার থোবড়াটা দেখো না একবার?
দু'জনের আবার ঝগড়া হয়েছে।
সব আমার দোষ।
মায়ের মৃত্যুর পর ওর তেমন দেখভাল করতে পারিনি।
কথা সত্য।
বেশি আবেগী হয়ে যেয়ো না।
তুমি ওর মা নও।
"মায়ের মৃত্যুর পর ওর তেমন দেখভাল করতে পারিনি। "
মা মনে হয় বেঁচে থাকলে ও এতোদিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতো!
আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলো...
আশা নিরাশার হিসেব মেলাতে মেলাতেই জীবনটা পার করে ফেলি।
বিউটি কুইন থেকে কবে যে কাজের বুয়া হয়ে গেলাম টেরই পেলাম না।
তোমার রুচি তো বেশ দামী।
হাত তোলো।
তুই তো জেলে যাবিই যাবি।
যেমনটা আমার নানু বলত...
"এটা তো হওয়ারই ছিল!"
ডাইনি কোথাকার!
মাগিগিরী করতে এসেছিস এখানে?
তুমি কে?
কুত্তার বাচ্চাটা কোথায়?
- আমার স্বামী কোথায়? - তোমার সাথে আমি ধোঁকাবাজি করিনি।
আনশুল!
আমার আগেই বোঝা উচিৎ ছিল।
এই দামী হোটেল ভাড়া করা ছ্যাঁচড়গুলো বেশিরভাগ বিবাহিতই থাকে।
আনশুল!
আনশুল!
সোনা, তুমি যা মনে করছ বিষয়টা আসলে তা না!
- একটু বুঝিয়ে বলতে দাও? - তোকে তো শালা খুন করে ফেলব!
একটা সুযোগ দাও আমাকে?
তোকে কুত্তার মত গুলি করে মারব!
- গুলি লেগে যাবে! - ছাড়ো বলছি!
জান, একটু মাথাটা ঠান্ডা করো!
আমি স্যরি! একটু শান্ত হও!
ছাড় আমাকে!
আমার ভুল হয়ে গেছে! পাগলামি করো না, লক্ষ্মীটি!
আমি...
আমার মা বাবা একজন আরেকজনকে বড্ড ভালোবাসত...
কিন্তু, সেটা যথেষ্ট ছিল না।
সবাই তাঁদের কানে গুজুরগুজুর করত, "বাচ্চা নাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।"
কিন্তু, কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
আমি তো পয়দা হলাম...
কিন্তু, ওদের হয়ে গেল ডিভোর্স।
আর, আমি জাবালপুরে নানুর বাসায় তরী ভেড়ালাম।
নানু সবসময় টেনশনে মগ্ন থাকত যে...
উনি না থাকলে কে আমার দেখভাল করবে?
সবাই আসলে এটাই ভাবত আমাকে দেখে।
"হায় বেচারী! "
বেচারী নয় কারা জানেন?
পয়সাওয়ালা লোকেরা।
আমার স্বপ্ন জাবালপুর আর গ্রিনফ্লিল্ড স্কুলের চেয়েও বড়ো ছিল।
শুধু এখান থেকে বের হওয়ার দরকার ছিল টাকা।
তাই, মিসেস খাল্লারের লকার থেকে এক্সামের প্রশ্ন চুরি করে বেচতাম।
হেডমিস্ট্রেস বিষয়টা টের পেয়ে যায়।
শুরুতে তো ধমক দিল প্রচুর...
পরে শালী ৩০% এ রাজী হয়ে গেল।
পয়সার শক্তিই হচ্ছে এটা।
হাজারো স্বপ্ন আর আইডিয়া নিয়ে মুম্বাইতে আসলাম...
তারপর, বাস্তবতা আমায় দুনিয়া চেনাল।
কখনও সাপ্লায়ার ঠিকমত মাল দিত না...
কখনও ক্রেতা ঠিকমত পয়সা দিত না।
এই অভাবী পরিস্থিতিতে দুটো জিনিস শিখলাম।
এক, টাকা কামাতে হলে আগে কিছু টাকা থাকতে হবে।
দুই, সবসময় প্ল্যান বি মজুদ রাখতে হবে।
মানুষ বলে, যাদের টাকা আছে তাঁরা নাকি সুখের দেখা পায় না।
আর, যারা সুখী থাকে তাঁরা টাকার দেখা পায় না।
সুখ তো আমার ভাগ্যেই নেই...
তাই, কান্নাকাটি করা লাগবেই।
এরচেয়ে আমি ভাঙব তাও মচকাব না!
বসতে বলেছে কে?
বসো।
ধারা ৩৮০(এ)
ধারা ৩৮০(বি)
ধারা ৪৪০
জানো এসব ধারায় কী শাস্তি হয়?
সোজা, জেল।
কিরে চিকনী চামেলি?
তোদের কোহিনূর এয়ারলাইন্সে চলছেটা কী?
কী ব্যাপার? বলো?
এসব করার দরকারটা কী?
সেথি ম্যাম...
সেথি ম্যাম!
কী?
আমাদের স্যালারি একাউন্টে কবে ঢুকবে?
লোনের প্রথম কিস্তিটা তো দিতে হবে।
কিছু জানেন আপনি?
এইচআর ম্যানেজার মিত্তালের সাথে কথা বলেছি।
উনি বলেছেন, পরের সপ্তাহে দিওয়ালীর বোনাসের সাথে দিয়ে দেবে।
শিউর।
তুই কত কিউট, গীতু!
দিওয়ালীতে মতিচুরের লাড্ডু কেনার পয়সাও পাবো না।
No comments yet. Be the first to leave one.