The first 200 lines.
অনুবাদে: শহিদুল ইসলাম নীরব হাবীব সিয়াম এবং আরুশ আরিয়ান।
সম্পাদনায়:- শহিদুল ইসলাম নীরব।
স্কাইল্যাবের কক্ষপথ থেকে বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়েছে।
নাসা এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে স্কাইল্যাব পৃথিবীত পতিত হতে পারে।
এর ধ্বংসাবশেষ ভারতে পতিত হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।
স্কাইল্যাবের ব্যাপারে প্রতিটা আপডেট চাই আমার।
এর গতিপথ চিহ্নিত করুন।
যদি জনগণ জানতে পারে নব্বই হাজার কেজি-র একটা স্পেস স্টেশন...
...তাদের ওপর পড়ে যাচ্ছে, তারা আতংকে ভেঙ্গে পড়বে।
এর সমাধান পাওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ যেন জানতে না পারে।
এটা আপাতত গোপন আছে... আশা করি গোপনই থাকবে।
আবার... রুমে কেউ নেই তো?
আর কেউ শুনেছে না তো?
১৯৭৯
নীলাম সঞ্জীব রেড্ডি মন্ডল কমিশন চালুর সিদ্ধান্ত নিলেন।
বিজয়নগর অন্ধ্র প্রদেশের জেলা হিসেবে পরিচিতি পেলো।
মাদার তেরেসা নোবেল পুরষ্কার পেলেন।
তবে এখনও তাকে সাধারণ সাদা শাড়ি পরে অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল।
এতসব ঘটনা, ভাবনা আর উন্নতির বাইরে...
ভারত...
দক্ষিণ ভারতের একটা ছোট্ট গ্রাম।
বান্ডালিঙ্গামপল্লী।
এর মত গ্রাম হয় না।
এখানকার গ্রামবাসীর মত বাসিন্দাও কোথাও নেই।
ষাট বছর পুরনো ভগবান রামের একটা মন্দির।
কিন্তু আজ পর্যন্ত দলিতদের এখানে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
নিচু জাতের লোকেদের আসা নিষেধ।
এই নিয়মের প্রতি ক্ষোভ থেকে...
এখানে লাচি মন্দিরে প্রতিমার মত একটা প্রতিমা তৈরির চেষ্টায় আছে।
কিন্তু লাচি যদি ভিতরে না গিয়েই থাকে...
তাহলে সে কীভাবে জানলো মন্দিরের ভেতরের প্রতিমাটা কেমন?
রামের তীর এখানে।
সূর্যোদয়ের সময় মন্দিরের বারান্দায় যে জিনিসটা আপনি প্রতিদিন দেখতে পারবেন...
তা হলো চিন্নার ঘোরাঘুরি করা।
ভক্তির জন্য নয়,
তার নজর থাকে ভক্তদের ফেলে দেয়া পয়সার ওপর।
চিন্না!
চিন্না!
চিন্না! এই রোদে কোথায় যাচ্ছিস?
পনেরো বছর আগে, তালা তাবিজ আর ভূতপ্রেতদের দিয়ে
এই হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হয়।
এটা নিয়ে অনেক গুজব, ভয়ভীতি আছে
কিন্তু কেন, সেটা কেউ জানে না।
পুরনো জীর্ণ-শীর্ণ এই আরটিসি বাস,
-টিকেট দেন! -গল্পে ভরপুর!
আর এখানেই সব শুরু।
খুচরা নেই, আপনি নামার আগেই দিয়ে দিব।
অর্থই মূলমন্ত্র।
কী হয়েছে? অস্বস্তি লাগছে তোর?
আমার কার্ড শো করলেই বুঝে যাবি।
-চাল দিবি কি না বল? -কোথাও আপোষ করছিস না তুই...
বাবা, দুটো দশ টাকা আছে?
তোর কাছে একটা বিশ টাকা আছে?
না।
তাহলে আমারও নেই।
থামো তো বাবা।
তোমার মত লোকেরাই সোনার বাক্স ফেলে দিয়ে বলে ঘরে জায়গা নেই।
কী বলছিস তুই?
এই! এই! -মাত্র দশ টাকা...
মাস্টার!
দশ টাকা। এই বেটার ওপর।
-রামারাওয়ের ওপর টাকা লাগিয়েছে মানে, -হ্যালো!
টাকা নিশ্চিত গেছে!
কার্ড শো কর।
রাজা...
রাজা...
রাজা।
তোকে কার্ড দেখাতে হবে না। আমি টাকা নিয়ে নিচ্ছি।
-দাঁড়া! -দেখাও!
টেক্কা...
টেক্কা...
টেক্কা।
-রামারাও, জিতে গেলি! -এই দশ দিয়েছি, এই দশ জিতেছি।
দুটো রাজা একটা টেক্কা থাকলে কী করতে?
এক ডেকে ৫২টা কার্ড থাকে।
১৩টা স্পেড আর ৪টা রাজা।
সব সম্ভাবনা হিসেব নিকেশ করে...
পেছন থেকে সব দেখে নিয়েছিল সে।
হারলে আমার বাবার দশ টাকা যেত।
আর জিতলে আমার দশ টাকা কামাই হতো। এসবই ভেবেছি।
আনন্দ।
রামারাও।
সুবেদার রামারাও।
গ্রামের যে কাউকে জিজ্ঞেস করো। তারা বলে দিবে। আমার দাদা...
আমার দাদার ব্যাপারে বল তাকে।
মারা যায়নি উনি?
মারা গেছে।
কে সে?
আমাদের জমিদারের মেয়ে। হায়দ্রাবাদে থাকে।
মনে হয় আজই এসেছে।
স্বাগতম হে সরস্বতী কন্যা
গৌরি ম্যাডাম আসলেই আমাকে শিস দিয়ে ডাকবে।
দেখাও তো!
জোরে।
গেছে পড়ে।
ও যেকোনো সময় চলে আসবে।
কেউই ঠিকঠাক কাজ করতে পারে না।
বইটা রাখো তো আগে।
জোর করে শুয়ে দেয়া কেন? আমি কি বাচ্চা না কি?
চিঠিতে লিখেছিলাম তোমার শরীর খারাপ।
ভেতরে আসার পর যদি তোমাকে হাঁটতে দেখে...
একেবারে বারোটা বাজিয়ে দিবে।
তার রাগ সম্পাদক আর আমাদের ওপর ঝাড়বে।
আজকের জন্য শুয়ে পড়ো।
শুয়ে পড়ছি। কিন্তু একটা সিগারেট তো খেতে দাও।
ও আসলে তো আর খেতে পারব না।
গৌরি ম্যাডাম হায়দ্রাবাদে চাকরি করে।
'প্রতিবিম্বম' নামে বড় এক পত্রিকা চালায়।
উনিই তো পত্রিকার সর্বেসর্বা।
এমনভাবে মাথা নাড়ছো যেন প্রতিবিম্বম পড়েছো। পড়েছো?
গৌরি ম্যাডাম একদিন কাজ না করলে কাজ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।
সকলে তার লেখা পড়েছে।
তাই বুঝি?
আমিও হায়দ্রবাদের।
-তার লেখা তো কখনো পড়িনি। -কখনো পড়োনি?
ম্যাডাম আপনি জমিদারের মেয়ে না?
এই "জমিদারের মেয়ে"-টা কী?
আমার নাম নেই?
কী নাম আমার?
গৌরি।
সম্প্রতি কিছু লিখেছেন, ম্যাডাম?
চাকরিতে বিরতি থাকে। কিন্তু লেখকের কলম আর শিল্পের কোনো বিরতি থাকে না।
উচিত বলেছেন, ম্যাডাম।
বান্ডালিঙ্গামপল্লী, হায়দ্রাবাদ।
কিছু ভাবছো বাবা?
কিছু না।
দাদার কাছে আমায় নিয়ে কিছু বলার সাহস কোরো না।
অনুরোধ করলি না কি হুমকি দিলি?
দাদা দেখছে, হাসো একটু।
হাসার মন নেই।
দাদা!
স্বাগতম হে সর--
মা আমার, সোনা আমার।
একটু খ্যামা দে।
বাবাকে যখন হায়দ্রাবাদে আসতে বললাম...
চিঠি লিখে বললে বাবা অসুস্থ।
চিঠির বিষয়বস্তুতে আসি...
এভাবে কেউ লেখে?
"যেকোনো সময় চলে যাবে এই প্রাণ। "
"যেকোনো সময় কবজ হবে এই জান।"
এ বলেছে ছন্দ করে লিখতে।
-আমি? -চুপ কর!
আমার মা তার ছন্দের জন্য আমাকে অযথা কাজের দিকে প্ররোচিত করে।
মা, অনেক ভালোভাবে বলেছি না?
হ্যাঁ, কোথাও লিখে রাখ।
চুপ কর।
আর আমি কী দেখলাম?
বাবা ইটের ভাটার মত সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছে।
আমি আমার সম্পাদককে চ্যালেঞ্জ করে এসেছি
আমার চাকরি স্থায়ী না করার জন্য তাকে পস্তাতে হবে।
তাই নাকি? তার সাথে তোর কী ঝামেলা?
"গৃহ এবং গৃহবধূ..."
"চাঙ্গা থাকার উপায়।"
"কষ্ট ছাড়াই দাগ তুলুন"
এসব আলতু-ফালতু জিনিস আর কতদিন লেখব?
এসব ছোটখাটো আর্টিকেল অনেক লিখে ফেলেছি।
এবার বড় একটা লিখতে চাই।
কভার নিউজ।
সুবেদার খান্ডেরাও...
আমার চাচা।
সুবেদার মহেশ্বর রাও...
-সুবেদার... -ম্যাডাম আমি জানি।
চুপ কর।
হ্যা, আমরা আমাদের ধনদৌলত হারিয়েছি।
কিন্তু ইতিহাস, সেটা এখনো আছে।
যেটার দরকার সেটা হলো উকিলের মুখ থেকে সুখবর শোনা।
গৌরব ফিরে আসবে আবার।
আমরা কাজের ব্যবস্থা করবো। কারো অধীনে কাজ করবো না।
কিছু টাকা উপার্জন করিস বলে ভেবেছিস মাথার উপর উঠতে পারবি?
-মানুষের... -তোর সাহস কীভাবে হয়...
আমার নাতিকে চাকরি দেয়ার কথা বলিস।
যা ভাগ।
সে সুবেদার।
বলেছিলাম না, সে কারো অধীনে কাজ করে না?
জি ম্যাডাম। কিন্তু...
কোনো কিন্তু নয়।
রামা, আমার শাড়িটা কেমন?
এটা দেখ।
উনি তোকে দেখতে বলছে।
নতুন?
মা, নতুন?
একটা টাকা নাই ঘরে।
পাওনাদারেরা বাড়ির চারপাশে হন্যে হয়ে ঘুরছে।
আমি বলেছিলাম তোমাকে, কেস না জেতা পর্যন্ত এসব অহেতুক খরচা করবে না।
তাকে বল সেটা।
সে-ই কারেন্ট বিল দিয়েছে।
হ্যাঁ, কারেন্ট বিল না দিলে লাইন কেটে দিত।
কারেন্ট বিলের কথা বলিনি আমি।
শাড়ির কথা বলছিস?
তোর বাবা থাকলে এভাবেই কথা বলতি?
-উনি তো তীর্থযাত্রা করে বেড়াচ্ছেন। -না।
শাড়িটা সুন্দর।
ভালো কাপড়। হাতে বানানো।
দুটো দুশো টাকা। কিনে ফেললাম।
ভালো করেছো।
-এই মেশিন আমার রক্তচাপ বলে দিতে পারবে? -হুম।
দাদা। স্কুটারটা তোমার?
-হ্যাঁ আমার। -হ্যাঁ ওনার।
শুধু পরিষ্কার করে আর ধুয়ে রাখে। বাইরে আর নিয়ে যায় না।
তাতে তোর কী?
No comments yet. Be the first to leave one.