The first 200 lines.
স্যার? স্যার, আপনি...?
আমি হেমন্ত, দালালি করি। চিনতে পেরেছেন আমাকে?
ম্যাম মেইলবক্সে চাবি রেখে গিয়েছিলেন। সেটা ব্যবহার করে ভিতরে ঢুকেছি।
সে পাটনা ছেড়ে যাচ্ছে।
সে চলে যাচ্ছে কারণ সে চাকরি ছেড়ে দিয়েছে।
সে লিজ ব্রেক নিয়েছে। এজন্য আমাকে জরিমানা দিতে হবে।
সে বলেছে তার জিনিসপত্র বিক্রি করে...
...জরিমানা দিতে।
এজন্যই এসেছি।
একটা প্রশ্ন ছিল। টিভিটা আমি নিতে পারি?
আমার বউ একটা ফ্ল্যাট স্ক্রিন টিভির জন্য চাপ দিচ্ছে।
আমি ফ্রিজ এবং এসি বিক্রি করে দিব।
আপনি তার ব্যাক্তিগত জিনিসপত্র নিতে পারেন।
নিজের কাছে রাখতে পারেন বা পরে তাকে দিয়ে দিতে পারেন।
স্যার, কিছু মনে না করলে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারি?
আমি জানি আপনারা বিবাহিত ছিলেন না।
এবং এই এপার্টমেন্ট সে লিজ নিয়েছিল।
সে আপনার কে ছিল?
হাফ? আবারো? আচ্ছা একটা কথা বলুন।
- আরে, মাধব! - আচ্ছা আমাকে বোঝান
আমাকে বোঝান...
হাফ গার্লফ্রেন্ডকে হিন্দিতে কী বলে?
- বলুন। - মাধব।
স্যার, আমি একটা ভালো কলেজে পড়তে চাই।
আপনার কলেজ বিহারেও ফেমাস।
এটা অনেক ফেমাস।
স্যার, আমি একটা গ্রামে বড় হয়েছি।
আমি অনুভব করি যে...যে...
আমি হিন্দিতে বলতে চাই।
ইংরেজিতে বলতে গেলে পুরো দিন লেগে যাবে।
আমার মা আমাদের গ্রামে একটা ছোট্ট স্কুল চালায়।
আমাদের গ্রামের নাম সিমারাও।
দারিদ্র্য ও ক্ষুধায় জর্জরিত একটা গ্রাম।
এজন্যই আমি সমাজশাস্ত্র নিয়ে পড়তে চাই।
কী? সমাজ..?
মানে সোশিওলজি স্যার।
- ওহ আচ্ছা সোশিওলজি? - জ্বি, সোশিওলজি।
জ্বি।
এজন্যই আমি সোশিওলজি বেছে নিয়েছি,
আমার গ্রামের দারিদ্রের..
...কারণ উদঘাটন করতে।
বর্তমানে বিহারের অবস্থা খারাপ।
বিহার সবসময় এমন ছিলনা। এর একটা দারুণ ইতিহাস আছে।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ইউনিভার্সিটির একটি...
নালন্দা ইউনিভার্সিটি। এটা বিহারে অবস্থিত।
দেবী সীতা, গুরু গোবিন্দ সিং,
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, শেরশাহ সুরি, অশোক এবং গৌতম বুদ্ধ।
এরা কোথাকার জানেন? বিহারের স্যার।
আমি মানছি গত কয়েক দশক ধরে আমাদের বাজে হাল।
আমার মায়ের মতো অনেক লোক...
সমাজের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আমিও তাদের সাথে কাজ করতে চাই।
যাতে আপনারা যে প্রশ্ন করলেন, এইধরনের প্রশ্ন আর কেউ করতে না পারে।
একটা কথা বলি, কিছু মনে করবেন না।
আপনি একজন ভালো ছাত্রকে বেছে নিবেন...
...নাকি সেই ছাত্রকে বেছে নিবেন যে হাজার কিলোমিটার দূরের ভাষা ভালো বলতে পারে?
ধন্যবাদ।
মা, মনে হচ্ছে স্পোর্টস এক্সাম না দিয়েই ফেরত আসতে হবে।
তোকে এরকম হতাশ লাগছে কেন?
ইন্টারভিউ তো ভালো দিয়েছিস।
না, মা। এখানে ইংরেজির খুবই কড়াকড়ি।
সব ঘোড়ার ডিমই ইংরেজিতে।
মনে রাখিস, তুই সিমরাওয়ের রাজপুত্র।
কখনো ভুলিস না তোকে কী পরিস্থিতের মধ্যে বড় করেছি।
কী শিখিয়েছি মনে আছে তো?
কখনো হাল ছাড়বি না। হারকে জয় করবি।
এখানে থাকার একটা কারণ তো লাগবে।
কারণ খুঁজে বের কর।
তোর ব্রেইন যেন তোর হৃদয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।
একবার তোর হৃদয় কারণ খুঁজে পেলে,
পুরো দুনিয়া তোকে সাহায্যের জন্য প্রস্তত হয়ে যাবে।
হ্যাঁ। মা।
খুব সুন্দরী একটা মেয়ে বাস্কেটবল খেলছে।
ভাই! সে তো খুব দারুণ ইংরেজি বলে!
তার ইংরেজি শুনে, ইংরেজ লোকেরাও টাস্কি খেয়ে যাবে।
যে করেই হোক, তার সাথে একবারের জন্যে হলেও কথা বলতে হবে।
মাধব, তার সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে হবে।
ভয় পাচ্ছিস কেন? বলে ফেল।
আপনি ভালো খেলোয়াড়। আপনার শ্যুট করা উচিত।
আপনি যদি খেলেন, তাহলে হারার চান্স আছে।
তবে যদি না খেলেন তাহলে নিশ্চিতভাবেই হেরে গেলেন।
রিয়া সোমানি।
ঐ মেয়ে দুটো ভালো খেলোয়াড়।
তারা সাহায্য করবে তোমায়। তোমার লক্ষ্য নিখুত। তোমার শ্যুট করা উচিৎ।
রিয়া সোমানি!
রিয়া! রিয়া! রিয়া!
এইটা পড়েই খেলবে? এটা এক্সাম, কোনো মজা না।
- সে বলছে যে... - আমি জানি সে কী বলছে।
আমি মাধব ঝা।
আমি এখানে থাকার একটা কারণ খুঁজে পেয়েছি মা।
এবার শুধু দেখো কিভাবে হারকে হারাই।
ভিক্রম। এইদিকে। বল পাস দে।
- কসম করে বলছি, ওর মুখ ফাটিয়ে দিবো। - আমি আশু। বাড়ি দাড়ভাঙ্গা।
ও পাটনার রমন।
আমি গঙ্গা নদীর তীরে থাকি।
আমার বাড়ি গঙ্গা নদী আর রেলস্টেশনের কাছাকাছি।
তোমার রুম কোনটা?
আমরা আপনার প্রতিবেশী ভাইয়া।
আপনার পাশের রুমে।
তাহলে আমার রুমমেট কে?
আমি। মাধব ঝা।
আমি শাইলেশ কুমার পাণ্ডে। ভিতরে আসো।
আরে, মাধব। কী করছো?
আবে!
মাধব।
এটার জন্যই তো অপেক্ষা করছিলাম। এখন আমার NBA স্কিল দেখাবো।
এর মানে নর্মদা বাচাও আন্দোলন না।
এর মানে ন্যাশনাল বাস্কেটবল এসোসিয়েশন।
ছোটবেলা থেকে টিভিতে তো শুধু এটাই দেখেছি।
তুমি তার স্টাইল ভালোভাবেই কপি করতে পেরেছো মাধব ঝা।
লিবর্ণ জেমস।
আমি তার প্রেমে পড়ে যাচ্ছি।
স্টিভেন কারি।
বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।
যখন সে ইংরেজি বলে তাকে অনেক কিউট লাগে।
হ্যাঁ, মা। বাস্কেটবল খেলছিলাম।
হ্যাঁ।
ঠিক আছে আমি দেরীতে বাসায় ফিরবো।
আপনি হিন্দি বলেন?
এতে অবাক হওয়ার কী আছে?
দিল্লির সবাই হিন্দি বলে।
আচ্ছা। শুনো।
আমরা হিন্দিতে কথা বলতে পারি?
আমাদের বলা কথাগুলোই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ।
সেটা যে ভাষাই হোক না কেন।
আমার ক্ষুধা লেগেছে। চলো ক্যাফেতে যাই?
মেয়েদের দেখার জন্য সানগ্লাস পড়ো। তাইনা?
- কী যে বলছো। - তুমি খুব চালাক।
চলো মাস্তি করি।
কী হয়েছে?
আমি তো তোমাদের দুজনকে একসাথে দেখে ঝটকা খেয়ে গেছি।
তুমি কলেজের সবচেয়ে হট মেয়েকে ধরেছো।
রিয়া সোমানি পুরাই জোশ।
তোমার কপাল ভাল।
- হেই মাধব। - কঠিন কপাল তোমার।
আমার কাছে একটু গড়বড় লাগছে।
কেন? গড়বড় লাগার কী হলো?
তোমার মনে হয় না এই মেয়ে তোমার সামর্থ্যের বাইরে?
ওর মাঝে কী কমতি আছে?
সে সিমরাওয়ের যুবরাজ।
- দেখো তো একবার। - চুপ করো।
এতো পাম দিয়ো না।
পরে একদিন ফেটে যাবে।
মাধব, ওদের কথা শুনবে না।
রিয়া তোমাকে বরবাদ করে দিবে।
- বুঝেছো? - তার কথা শুনো না।
সবাই সরো। আমাকে ঘুমাতে দাও।
তোমাদের মতো বিহারীদের সাথে এক রুমে উঠাই ভুল হয়েছে।
- আমাকে দেখে জ্বলছে তোমাদের। - আমাকে ধাক্কাচ্ছ কেন?
- বাদ দাও! - মন খারাপ করছো কেন?
- আমাকে ঘুমাতে দাও - শুনো। আমার কাছে একটা আইডিয়া আছে।
আগে তাকে টেস্ট করে দেখছো না কেন?
- টেস্ট? কিসের টেস্ট? - হ্যাঁ।
বাস্কেটবল বাদে অন্যকিছুর ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করে দেখো।
তাকে ডেটে বা মুভি দেখতে যাওয়ার কথা বলো।
- ডেট? - জোশ আইডিয়া।
প্রিমিয়াম সিট বুক দিবে।
ওরা তোমায় কম্বোল দিবে।
- তারপর কম্বলের নিচে... - বাজে কথা বাদ দাও।
এইসব উল্টাপাল্টা কথা বলবে না।
হাস্যকর ব্যাপার।
মনে হয় শাইলেশ ঠিকই বলেছে।
যদি মেয়েটা রাজি হয় তাহলে সে তোমার গার্লফ্রেন্ড।
আর নাহলে তো তার জীবনে তোমার মূল্য বোঝোই।
বুঝেছো?
একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?
বলে ফেলো।
আমরা কি শুধুই বাস্কেটবল ফ্রেন্ড...
...নাকি মাঝেমধ্যে কফি খেতে যেতে পারি?
অবশ্যই পারি।
- আরেকটা প্রশ্ন। - বলো।
শুধুই কি কফি ফ্রেন্ড নাকি...
...নাকি মুভি দেখতেও যেতে পারি?
মানে?
হাফ কোর্ট থেকে বল জালে ফেলো।
যদি ফেলতে পারো। তাহলেই মুভি দেখতে যাবো।
গুডবায়।
মুভি দেখতে যাওয়া এতোই ইম্পোর্টেন্ট?
আমি সিমরাওয়ের যুবরাজ। আমি হার মানিনা।
আমি হারকেই হারাই।
বেশ। আমরা মুভি দেখতে যাবো।
তুমি তো পানিশূন্যতায় ভুগবে। পানি খেয়ে নাও।
তো, আমরা ডেটে যাচ্ছি। তাইনা?
- এর মানে কী? - মানে আমরা শুধুই ফ্রেন্ড।
আরেকটু কাছাকাছি যা।
কর্ণার সিটের জন্য ৪০০ টাকা খরচ করেছি।
আর পপকর্ণের জন্য ১৫০।
আমাদের গ্রামে ১০ টাকায় এগুলো পাওয়া যায়। এখানে এতো দাম কেন?
আমাদের পাশের কাপল তো খেলা শুরু করে দিয়েছে।
সে কোথায় গেল?
আচ্ছা। এবার তোকে শুধু চেয়ারটা পিছের দিকে নিতে হবে।
কোনো মেয়ের সাথে এই প্রথমবার হলে!
এমনকি ধোনিও বিশ্বকাপের ফাইনালে এতো চাপের মধ্যে ছিলনা।
এতো নার্ভাসের কী আছে?
বেশি ভাবার দরকার নেই। তার হাত ধরে ফেল।
সে সরিয়ে দিল!
আরে সে তো কাঁদছে! করতে চেয়েছিলাম কী! হচ্ছে কী!
অভিনন্দন মাধব ঝা।
ইতিহাসের সবচেয়ে ফালতু লাভার।
এই মুভি তো ডাব করা।
No comments yet. Be the first to leave one.