The first 200 lines.
ইসাবে সমস্যা থাকায় বেশ কিছু জায়গায় নিজের মত করে অনুবাদ করে দিয়েছি। অনাকাংখিত ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
সাবটাইটেলটি উৎসর্গ করছি শাকিল রহমান সামিউল হাসান মোঃ সাব্বির শেখ
ফেসবুকে আমাদের গ্রুপ Flim Society Malayalam Movie Lovers BD মালায়ালাম মুভি লাভারস
লোকজন প্রায়ই জিজ্ঞেস করে আমি কোথা থেকে এসেছি।
আমি তাদের কেরালার কোন এক প্রান্তে থাকা ছোট্ট এক গ্রামের নাম বলি।
Manjadikuru ""ভাগ্যবান লাল শস্যল বীজ""
আমি ওখানে জন্ম গ্রহণ করিনি, বড় ও হইনি আর বসবাস ও করি না।
কিন্তু আমি ওই জায়গার অংশ, আমার অংশ।
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ কে এন হাসান
এই দেশে, কোন কিছুই ভাল হয় না।
গাছের শিকড় রাস্তার উপরে চলে এসেছে।
সবকিছু কেটে পিচ দিতে হবে।
যেমনটা দুবাইতে করেছে।
টায়ার বদলে অতিরিক্তটা লাগাতে হবে।
হ্যারি।
- হ্যারি? - হ্যাঁ।
কি করছ তুমি? এদিকে এসো।
কি হয়েছে, সোনা?
তোমাকে মাতুব্বারি করতে কে বলেছে?
তো কি হয়েছে?
বিদেশে ওটা আমার প্রথম চাকরি ছিল না?
চাকরির কাথায় আগুন দিয়ে দেব।
গাড়িতে ওঠ, সে করবে।
আচ্ছা।
ওরা কারা?
কাউস্টুবামোভ এর মেয়ে-জামাই।
ওহ।
দুবাই থেকে এসেছে।
দুবাইতে মেকানিকের কাজ কর এজন্য....
কোথায় কি করতে হবে সেটা তাদের বলতে যাবে?
আমি শুধু গাড়িটা চেক করছিলাম।
ওটা ড্রাইভারের কাজ, তোমার নয়, বুঝেছ?
- আচ্ছা। - এতটা গাধা কিভাবে হও তুমি?
এই মহিলা আর তার জামাই হল আমার বাবা- মা।
আমি তাদের অগণনীয় লাগেজে (লাগজের বাইরে) ছিলাম।
তাদের একমাত্র ছেলে।
প্রায় ১১ বছর বয়স। ভিকি।
ভিকি।
এসো, গাড়িতে ওঠ।
আমাদের আগমন গ্রামের এক বিখ্যাত অনুষ্ঠানের জন্য ছিল।
আগের যুগ অনেক কঠিন ছিল।
কেরেলা ঈশ্বরের নিজের দেশ হিসেবে পরিচিতির আগে।
আধুনিক টেলিভিশন সিরিজ, যানজট,
নির্বাচন আর ভোট, মোবাইল ফোন এগুলো ছিল না।
তখনকার কেরেলা যখন আইসক্রিম ও পাওয়া যেত না।
সুজাতা, তোমার বাড়িতে চলে এসেছি।
আমি লাগেজ নামাচ্ছি।
কাউসটুবাম যেখানে আমার মা জন্মেছিল।
আমাদের পরিবারের বংশীয় বাড়ি।
বড় পরিবার। চার মেয়ে আর দুই ছেলে।
মা।
হ্যা? সরে দাঁড়াও।
যখন বছরে একবার বেড়াতে আসতাম....
তখন শুধু দাদা-দাদী,
আর এই বড় বাড়িটা ছিল।
কিন্তু এইবার সেটা ভিন্ন ছিল।
আমি উনার সাথে শেষ মুহুর্তেও থাকতে পারিনি, আপা।
শান্ত হ, সুজি।
বাবা। কেন আমাদের ছেড়ে চলে গেলে?
খোদা। আমি এই কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না।
বাবা, ওঠ। আমি এসেছি, তোমার আদরের মেয়ে।
নিজেকে সামলা, সুজি।
সে এখানে কি করছে?
অনেকদিন আগেই আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে।
কে ভেতরে ঢুকতে দিয়েছে তাকে?
রঘু, এখন যাস না ওখানে। দয়া করে কোন ঝামেলা বাঁধাস না।
অন্তত বাবার শেষকৃত্যের দিনে তো নয়।
তাকে বলে দিলে ভাল হবে।
এখানে তার কোন দরকার নেই।
যা, যা।
উনি আমার মায়ের বড় ভাই।
নক্সাল বিরোধী, যে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
কেউ ভাবতে পারেনি সে কখনও ফিরে আসবে।
তুমি কে?
আমি.... ভিকি।
সুজাতার ছেলে।
যে আমেরিকা থেকে এসেছে?
না, বড় দেশ দুবাই থেকে, তাই না?
অসুস্থ থাকাকালীন কেউ উনাকে দেখতে আসেনি।
কিন্তু সবাই তার শেষকৃত্যে এসেছে।
শায়লা আন্টিকে মনে আছে তোমার?
নাস্তা করেছ?
না
মা?
ওর জন্য নাস্তা নিয়ে আয়।
মা, আমার লাগবে না।
অন্তত একটু দুধ খা, মা।
সকাল থেকে সবার মাছ-মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।
আমার কি বাচ্চা বা ওরকম কিছু আছে যে দুধ খাওয়াতে হবে?
স্বাধহীন খাবার, বাজে আর ফালতু প্রথা।
বাড়িতে শেষকৃত্য চলছে। আস্তে কথা বল, মা।
আমাকে ক্ষুদার্থ বানানো বন্ধ কর।
তাহলে ভুতের মত খেটে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে।
ধ্যাত, সে এরকম কেন?
কেমন আছিস, মা?
সবাই শেষকৃত্যে এসেছে?
প্রায়ই।
জানেন, আমাদের আংকেল আর তার ছেলে ওখানে থাকে।
শুনেছেন?
১০ বছর পরে আমাদের বড় ভাই দেখা দিয়েছে।
কে? মুরালি?
হ্যাঁ।
যে নক্সাল পার্টিতে যোগ দিয়ে পালিয়েছিল।
আস্তে। বাইরে লোকেরা যেন শুনতে না পায়।
আমার স্বামী দিল্লি থেকে আসছে।
গভর্নরের সাথে মিটিং আছে, এজন্য একটু দেরি হচ্ছে।
সরকারি অফিসে চাকরী করে সময় বের করা সহজ ব্যাপার নয়।
আর অন্যদের কি খবর?
সুজাতা আর তার স্বামী দুবাই থেকে চলে এসেছে।
আর ওখানে শিলা, মাদ্রাজে শিক্ষকতার কাজ করে।
কিন্তু ওর স্বামী বেকার।
এই কারণে তারা তাড়াতাড়ি সন্তান নিতে পারছে না।
আর রঘু পাশের ঘরে থাকে।
সবচেয়ে ছোট সুধা, আমেরিকায় থাকে।
মাত্র ফোন দিয়ে বলল সে আগামীকাল আসবে।
তোর বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল সেইই রঘু?
এটা সত্যি সেই মামলা করেছিল.....
এখন গালগল্প করার সময়?
মা, গ্লাসগুলো নিয়ে যা।
- আম্মু। - আসছি।
এক্ষুনি আসছি।
মনেহয় ওরা এসব শুনতে পছন্দ করছে না....
....কিন্তু আমরা তো এই বাড়ির মারামারি দেখতে এসেছি।
ওরা নিয়ে গেছে।
বাবা, আংকেল, দিল্লি থেকে উন্নি আংকেল এসেছে।
উন্নি এসে গেছে।
মা, তোর বাবা এসে পড়েছে।
হেই।
ওটা আমার।
ওটা আমার।
জানিস কে আমি?
আশেপাশে গিয়ে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারবি কানান কে।
ভাইয়া?
কি হয়েছে, বোন?
কি ব্যাপার?
এটা আমার গাড়ি।
কে বলেছে?
তোর নাম লেখা আছে?
তুমি আমার গাড়ি চুরি করেছ।
যা ভাগ। আমি কারো গাড়ি চুরি করিনি।
তুমি চোর। আমি মা কে বলে দেব।
আমার ভাইয়া চোর না।
ধর তোর গাড়ি।
আমি শুধু দেখতে চেয়েছিলাম এটা কিভাবে কাজ করে।
যা মেনিমুখো।
এগুলোও নিশ্চই চুরি করেছ।
হেই, ঈশ্বরের নামে কসম করে বল তো...
যদি তোর গাড়ি আমাকে দিতে বলতাম, দিতি?
না। কখনও না।
তাহলে জিজ্ঞেস করছিস কেন?
সুজি, আমি ঘুমাতে যেতে পারি?
মুখের ওটা না ধোঁয়া পর্যন্ত নয়।
এগুলো কি, ভিকি? কোন ধরনের নোংরা মোজা।
বলেছিলাম না, খালি পায়ে বাইরে না যেতে?
মা...
ওই ছেলে-মেয়ে দুইটা কে?
কারা?
যারা ছোট্ট বাড়িটাতে থাকে।
মানে, ঝোপঝাড়ের পাশের বাড়িটা?
ভিকি, তাদের সাথে কথা বলবে না।
ওরা রঘুর ছেলে-মেয়ে।
আবালের দল।
মিষ্টি কথা দিয়ে ভুলিয়ে-ভালিয়ে সব বোনদের ওই বাড়িতে নিয়ে গেছে।
আমার সাথেও সেটাই করার ধান্দা।
কি?
ভিকি, নাও এগুলো।
ভিকি সুটকেস বন্ধ করো, সে কিছু নিয়ে যেতে পারে।
চোর।
এই কাপড়গুলো ধুতে হবে।
নষ্ট করে ফেলিস না কাপড়গুলো ভীষণ কোমল।
উঠা।
এই গাট্টি। যা।
মা, সে সব কথা বুঝে যাবে।
এই বাচ্চাগুলো খারাপ কথাগুলো ভাল বুঝতে পারে।
হরি, কাঁথাটা বিছিয়ে নাও।
ভীষণ ক্লান্ত আমি।
অনেক ব্যাগ টানাটানি করেছি আজ।
তুমি একটু বিছিয়ে দাও।
হেই।
কি?
না।
প্লিজ।
নাও।
আমার নাম ভিকি, তোমার নাম কি?
মা,
আসছি।
মা,
মেয়ে না।
রোজা।
রোজা, তোমার বয়স কত?
বারো।
তোমার বয়স কত?
দশ।
- মা... - হ্যাঁ।
বালের মেয়েটা কোথায়?
ওই রাতে কেউই ঘুমাতে পারে নি।
তার অনেকগুলো কারণ ছিল।
অসহ্য গরম।
মশা। বাচ্চার কান্না।
বিষাদ, লালসা, দোষ।
No comments yet. Be the first to leave one.