The first 200 lines.
মাফ করবেন। দয়া করে নিচতলায় চলে যান।
কেন?
গভর্নর-জেনারেলের আকস্মিক আগমন...
"সনটাগ হোটেল সিউল, ১৯১১"
সবাই নিচে চলে যাও।
গভর্নর-জেনারেল টেরাউচি!
চলুন খাওয়া-দাওয়া করি!
আপনার শরীর কেমন আছে?
আপনাদের জাপানি ঔষুধ আমাকে সুস্থ করে দিয়েছে।
তাই নাকি?
কাং ইন-গুক...
স্বর্ণের বিজনেস কার্ড?
জ্বি, স্যার।
তোমার চেহারাই বলে দিচ্ছে তুমি প্রচুর অপব্যয় করছ।
সবই আপনার মহত্ব!
কোরিয়ার মতো গরীব দেশ জাপানের উপনিবেশ হওয়ার পর থেকে,
আমাদের দেশের শিল্প কারখানাগুলো অর্থনৈতিকভাবে অনেক গতিশীল হয়েছে।
তাই, আপনি যদি...
আমার কাছে...
এই দেশে স্বর্ণের খনি চালু করার অনুমোদনের অাদেশ দিতেন...
তাহলে আমি আপনার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ থাকতাম।
অপারেটর!
অপারেটর!
জেনারেল সাহেব!
আপনার কি আঘাত লেগেছে?
আমি আপনাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি।
গভর্নর জেনারেল সাহেব বিপদে আছেন!
গভর্নর জেনারেল সাহেব!
আমি আপনাকে রক্ষা করব। আপনাকে আমি কথা দিচ্ছি।
গভর্নর জেনারেল সাহেব গুরুতরভাবে আঘাত পেয়েছেন!
ধন্যবাদ, ডাক্তার।
আপনার শুয়ে থাকা উচিত।
গভর্নর জেনারেল কেমন আছেন?
এতো বড় ধাক্কা ওকে সত্যিই পাগলাটে বানিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু ওর দেখি আমার কথা ঠিকই মনে আছে!
ওকে বলতে শুনলাম "কাং ইন-গুক আজ থেকে আমার বন্ধু"।
"আমার সৈন্যরাও তাদের এভাবেই রক্ষা করবে যেমনটা সে আমাকে করেছে"
এতে কি বুঝাচ্ছে, বলুন তো?
আমি তো এখনই টাকার গন্ধ পাচ্ছি!
ঠিক আছে!
আমার একসাথে দুইটা পথ তৈরী হলো।
ঠিক আপনার যমজ সন্তানদের মতো।
আপনি কি জিজ্ঞেস করবেন?
অাপনি কি এই মিটিং এর ব্যাপারে কাউকে কিছু বলেছেন?
না।
অাপনার স্ত্রীকেও না?
মোটেও না।
তুমি আজকের মিটিং নিয়ে কাউকে কিছু বলেছ?
কাকে বলব?
কাজের মহিলা বা অন্য কাউকে?
তুমি আমাকে কেন সন্দেহ করছ?
তোমাকে কেন?
আজ তো... আমি নিজেকেই নিজে মারতে বসেছিলাম!
- এটা কি তাহলে ভূল হলো না? - কি?
জাপান যুদ্ধ না করেই আমাদের দেশকে দখল করে নিল।
তাই আমাদের কি কিছু পাওনা আছে না?
আজ তোমার মতো মানুষের কারণে আমাদের দেশ পরাধীন।
যাও আমার ব্যাপারে খোঁজ নাও। আমিও কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছি।
ভয় পেয় না। আজ রাতেই আমি ওকে দূরে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
কোথায়?
মানচুরিয়াতে।
দরজাটা বন্ধ কর।
ম্যাডাম, এতো রাতে আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
এক আত্মীয়র বাড়িতে।
এসব কি একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে না?
আমার এদেরকে টিকিয়ে রাখতে হবে।
দয়া করে আপনাদের যার যার কাজে মন দিন।
গাড়ি দুটোর পিছনে যাও, জলদি।
আর সবাইকে মেরে রেখে আসো।
আপনার স্ত্রীকেও?
শুধু আমার মেয়ে দুটোকে নিয়ে এসো।
যাও।
"পরিচালনায় চোই ডং-হুন"
"রচনায় চোই ডং-হুন এবং লি কি-চিওল"
অন্য দিকে ঘুরাও!
ঐদিকে!
এখান থেকে সরুন।
তোমার বন্দুক ফেলে দাও!
নড়বে না! পুলিশ!
আমাকে মাফ করে দিন, ম্যাডাম।
আপনার চোখ বন্ধ করুন।
তোমার ভয়ে আমি চোখ বন্ধ করব কেন?
"ASSASSINATION"
১৯১১ সালে গভর্নর জেনারেলকে হত্যার চেস্টা!
কিন্তু খবরটা পত্রিকার কোথাও নেই।
শুধু ইয়েম সেক-জিন এর জেল পালানোর খবরটা আছে।
"১৯৪৯ সাল, রাস্ট্রদোহী আন্দোলন নিয়ে তদন্ত"
সেই যুগে খবরের কাগজ তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল, একারণে এমনটা হয়েছে।
ধরা পরার ১০ দিন পরই ইয়েম জেল থেকে পালিয়ে যায়।
সেই প্রথম কোন ব্যক্তি যে সেন্ট্রাল পুলিশ স্টেশন থেকে পালাতে পেরেছে।
সে আসলেও অনেক সাহসী।
তার শরীরে দুটো বুলেটের ছিদ্র ছিল,
তাই সে সবার সাথে ছলনা করে মানচুরিয়ায় চলে যায়।
আপনি ইয়েমের সাথে কতকাল ছিলেন?
প্রায় ১৫ বছর? আমরা দুজনেই কিম কুর অধীনে কাজ করতাম।
কিমই ইয়েমকে পুলিশ প্রধান বানিয়েছিলেন,
তাই ইয়েম সবসময় গুপ্তচরদের সাজা দিত।
সেটাও আদেশের মাধ্যমে।
কিন্তু... ইয়েম সাংহাইয়ে আপনাকে মারার চেস্টা করল কেন?
তখন আমি... আমি জাপানি গোয়েন্দা ছিলাম।
"জাপানি দূতাবাস সাংহাই, ১৯৩৩ সাল"
সাংহাই সংবাদ।
এশিয়াকে নিরাপদ করার জন্য শান্তিযুদ্ধ চালনা করা হয়েছে।
কিন্তু জাপানের সাম্রাজ্যভুক্ত সৈন্যরা মাত্র এক মাসেই বিদেশি বাহিনীদেরকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে।
এই, কে আপনি?
দুঃখিত।
সিউলের কাং ইন-গুক সৈন্যদেরকে ১০ টি উড়োজাহাজ দান করেন।
কোরিয়া গ্যারিসন সেনাপতি মামোরু,
তখন অসাধারণ একটি ভাষন দেন।
ক্যাপ্টেন।
পিছনের দিকে একটা দরজা আছে!
ইতিমধ্যে, সাংহাইয়ে কোরিয়ান সন্ত্রাসীদের অনুসন্ধান শুরু হয়ে গেছে।
তুমি ঐদিকে যাও,
আর তুমি ঐদিকে গিয়ে দেখ।
কোরিয়ান শীর্ষ অপরাধী কিম কুর মাথার বিনিময়ে ৫০,০০০ ইয়েন ঘোষণা হয়।
আর কিম ওন-বং এর মাথার বিনিময়ে ৮০০,০০০ ইয়েন ঘোষণা করা হয়।
"হাংজহু, চীন"
এই, নৌকা ঘুরান, আমরা মাছ ধরছি!
তারা বলে আমি নাকি প্রাথমিক কোরিয়া সরকারের প্রেসিডেন্ট।
এই, কে আপনি?
কিম কুর কাছে গিয়ে আমার নাম বলো।
আমি কিম ওন-বং।
"কিম কু, কোরিয়া সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট।"
কতদিন পর দেখা।
মাফ করে দিও, তোমার বিয়েতে আসতে পারিনি।
আপনি বেইজিং আসলেন না কেন? আমার উপর রাগ করেছেন?
আর আমিও আপনার স্ত্রীর মৃত্যুর সময় আসতে পারিনি।
আমরা দুইজনেই এখন লুকিয়ে আছি, তাই এসব নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নেই।
এই জায়গাটা ভালোই আরামদায়ক।
সাংহাই থেকে পালিয়ে আসার পরও পরিস্থিতি এখনও খারাপই আছে।
তারপরও, আমাদের যা দরকার সব এখনো আছে।
আইনসভা, বিচারসংক্রান্ত শাখা, নির্বাহী শাখা।
তো, আমরা কি ভিতরে যেতে পারি?
আপনারা দুজন একে অপরকে চিনেন?
অবশ্যই।
দেখে ভালো লাগল যে আপনি এখনও বেঁচে আছেন।
এইতো আছি আর কি।
তো, আসল কাজ কি, স্যার?
আমরা কোরিয়ায় একটা অপারেশনের পরিকল্পনা করছি। পুরো দলটাকে একসাথে করতে হবে।
ভালো তো।
তো চলুন এই ভালো কাজটার অংশীদার হওয়া যাক।
আপনাদের মূল উদ্দেশ্যটা কি?
সেটা কাগজে পড়ে নিন।
কিন্তু আমাদের লোক বাদ দিয়ে আপনি ওদেরকে কেন ব্যাবহার করবেন?
কারন জাপানিরা ওদের চেহারা কোনদিন দেখেনি।
আর, এখন শুধু আমরা তিনজনই এই অপারেশনের সম্পর্কে জানি।
এক মহিলা জানেন।
তিনি কি ধরা পড়েছেব?
তিনি ধরা পড়ার তালিকায় আছেন।
মহিলাটার প্রানের ঝুঁকি আছে।
আন ওকয়ুন! ৩য় ইউনিটের বন্দুকচালক, কোরিয়ান স্বাতন্ত্র্য সেনা।
তারই ঊর্ধ্বতন এক অফিসারকে গুলি করায় জেল হয়েছিল। কিন্তু তাকে আমরা ব্যাবহার করতে পারব।
ডুক-সাম!
হাঙ্গেরীয়ানদের কাছ থেকে বিস্ফোরক কিনে এনেছিল,
কিন্তু, সেগুলো নিম্নমানের পণ্য হওয়ায় তার জেল হয়ে যায়।
এ হচ্ছে চু সাং-ওক। যাকে বড় বন্দুক নামে ডাকা হয়।
একটু অলস প্রকৃতির, কিন্ত স্বাধীনতার জন্য মিলিটারি স্কুলে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।
ওরা দুজন একই জেলেই আছে।
এদের তিনজনকেই সাংহাই নিয়ে আসুন।
অক্টোবর মাসের শেষ দিনে, মিরাবিয়াউ হোটেলে, সকাল ১০ টায়।
কিন্তু তারা কি রাজি হবে?
আসলে, তাদের সন্তুষ্ট করাই আপনার মূল কাজ।
কিসের শব্দ হলো?
এটা কি ছিল?
এই, কোনো শব্দ শুনেছ?
আমি তো কিছু শুনিনি।
- কিছু করার চেস্টা করবে না। - নড়বে না।
আমার ঠান্ডা লেগেছে, ভিতরে আসবেন না!
এ কি?
আমাকে সব কাজ সুন্দর শান্তিমতো করতে দাও।
ভাই, আপনি আমাকে সাথে নিবেন?
বিগত দুই মাস, আমি আপনাকে যথেস্ট সন্মান করেছি।
আপনি কি জানেন আপনি কি করছেন?
চুপ থাকো!
খুলছে না কেন?
- ডুক-সাম! - জ্বি, স্যার।
ডুক-সাম এখানকার কোনো এক সেলে বন্দি আছে।
চু সাং-ওক। এটা ভিতর থেকেই খোলা আছে।
তাই নাকি?
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ধুর!
আমাদের এই কাজে নিয়োগ দিচ্ছে কারা?
আমি জানি না। আমি শুধু আদেশ মতো কাজ করছি।
এই লোকের সাথে গিয়ে কিম ওন-বং এর সাথে দেখা করে আসুন।
সাংহাইয়ের মিরাবিয়াউ হোটেলে।
কিম ওন-বং আমার সাথে দেখা করতে চান?
এটা তো অনেক সন্মানের ব্যাপার।
কিন্তু আমি বুঝলাম না, আমিই কেন?
আমার বৌ-বাচ্চা নেই একারনে?
এটা হচ্ছে জাপানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলন।
আমি ৩-৪ বছর এক জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছিলাম।
তাই বলে খালি পেটে না। তাদের আমাকে পারিশ্রমিক দিতে হবে।
আপনি তো স্বাধীনতার জন্য মিলিটারি স্কুলে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন?
আর প্রশিক্ষণ শেষ হলে একটা স্বাধীনতার জন্য অঙ্গীকারপত্রে সই করেছিলেন?
আমি?
তাই নাকি?
১০ বছর পরও, আমার ভালোই মনে আছে।
"গাছের পাতা ঝরে যাওয়ার আগেই..."
আমার মনে আছে। আমিও লাইনটা লিখেছিলাম।
আর তারপরেই আমার রক্তাস্বল্পতা ধরা পড়ে।
No comments yet. Be the first to leave one.