The first 200 lines.
অনুবাদক: সারাহ্ ইকবাল
-তো, কাজ শেষ? - হ্যাঁ, শেষ।
আর কোনো প্ল্যান আছে?
আমার কাছে একটা ঠিকানা আছে, কাল গিয়ে একবার দেখে আসবো।
তুমি কোথায় যাচ্ছো?
কাজে।
এত সকালে?
এখন থেকে একটু আগেই যেতে হবে।
তো, কাজটা শেষ?
হ্যাঁ, শেষ।
বেশ, ভালো।
- এখানে কত? - গুণে নাও।
জন ফ্রান্সোয়া!
ওখানে কী করছো?
বাড়িতে ফিরে এসো।
আমার কথা কানে যাচ্ছে, জন ফ্রান্সোয়া?
কোথায় যাচ্ছিস? কুত্তা কোথাকার!
এদিকে আসুন তো!
নিজেকে কী ভাবিস, কুত্তার বাচ্চা!
উঠ বলছি, হারামজাদা!
উঠে পড়, শয়তান!
উঠ বলছি!
- কী হয়েছে? - আরে, ও একটা হারামজাদা!
- ডাক্তার ডাকবো নাকি? - না, এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।
আমাকে ওকে উঠাতে বরং সাহায্য করুন।
ওকে নিয়ে একটু দৌড়ালেই হবে।
আসুন।
না, ঐদিকে।
ও এমন অজ্ঞান হয়ে পড়লে, একটু ঘোরালেই হয়ে যায়।
মনে হয়, অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম।
চলো, একটু হাঁটাহাঁটি করি।
- তুমি আবার কে? - আমি?
উনি বাড়ির কাজ করছেন। তুমিই তো কাজে রেখেছিলে।
ওখানে বসিয়ে দিন।
বয়স কত তোমার?
২২।
দারুণ এক বয়স...
২৫ থেকে ৩০ টাও সুন্দর সময়...
তবে ২২ বছরটা যেন...
অন্যরকম এক সুন্দর বয়স।
দারুণ সুন্দর যাকে বলে।
আমি আর পারছি না, তোমার যন্ত্রণা সইতে।
খুব জলদি, অনেক অর্থের মালিক হবো আমি।
এমন হাদারামকে অর্থকড়ি দেবেটা কে শুনি?
আমি আগেও তো পেয়েছি।
ভুলে গেলে?
আমি তোমার মতিগতি কখনোই বুঝি না।
- কখনোই বোঝো না? - কখনোই না।
আর কখনো বুঝবেও না।
খামাকা মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই তোমার।
তোমাকে অ্যাডভান্স দিয়েছে কিছু?
তিন দিনের মধ্যে দেবে বলে কথা দিয়েছে।
এই সপ্তাহের ছুটিতে চাইলে তোমার সাথে হাত লাগাতে পারি।
ভালোই হবে তাহলে।
ছাদের কড়িকাঠ বদলাতে হবে।
আমি বের হচ্ছি। আজ রাতেও কাজ করবো।
এখনি চলে যাচ্ছো?
হ্যাঁ।
কফি দেবো?
- কফি খাবে? - না, ধন্যবাদ।
কীসের জন্য অর্থের দরকার? আফিম?
এমন কিছুই না।
উপরে যে ছেলেটা কাজ করছে...
ওকে অ্যাডভান্স দিতে হবে, কিন্তু এরপর...
ওর বাকি পাওনা কীভাবে যে মেটাবো, তা নিজেও জানি না।
তোমার কি কাউকে দরকার নেই?
না, আর থাকলেও এই সিদ্ধান্ত আমি নিতে পারি না।
কারো পাওনা থাকলে, সেটা মিটিয়ে দেওয়াই শুধু আমার কাজ।
এর বাইরে আমি তোমার কোনো উপকারেই আসতে পারবো না।
আমি নিজেও জানি না, কতদিন কাজ চালিয়ে যেতে পারবো।
তাদেরকে আমার কথা বলে দেখো।
-আমার জায়গায় কাজ করবে? - মনে হয় না, ওরা আমাকে নেবে।
আমি সর্বহারা, উদ্বাস্তুর মতো রাস্তায় ঘুরছি।
এবার কাজ হলে, আমি তোমাকে সাহায্য করবো।
কাজ সারতে কতদিন লাগবে?
এক দিন।
মাত্র এক দিনে এত কামিয়ে নেবে?
কাজটা শেষ করতে পারবো কিনা, সেটা নিয়েই সন্দেহ আছে।
- গতবার তো ঠিকঠাকভাবেই শেষ হয়েছিল। - সেটা গতবারের কথা।
কখন যাবে?
জানি না। গত মাসে ওরা বলেছে, সময় হলে, ওরা আমাকে ডাকবে...
কিন্তু এখনো কোনো ডাক আসেনি।
সে কী চাচ্ছিল?
অর্থ।
তার ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলেছে বুঝি?
হ্যাঁ, একদম পথে বসেছে।
আহারে! তুমি জেলে থাকতে সে কিন্তু তোমার উকিলের বিলও শোধ করেছিল।
সেসব কথা ভুলিনি আমি।
- তোমার বোন কী বলে জানো? - আবার শুরু করো না তো।
তোমার আসল জায়গা জেলে, আর কোথাও নয়।
আমার বোন সবসময় সত্যি কথাটাই বলে।
সবসময়...
- কাজ কেমন চলছে? - ভালোই।
আর কত দিন লাগবে?
১০ দিনের মতো।
আর ঐ পাশটা?
সেটাও দশ দিনের মধ্যেই হয়ে যাবে।
বেশ ভালো।
হ্যালো! ওটা তার হাতে পৌঁছে গেছে, মনে হচ্ছে।
একটা ডোরাকাটা খাম। না, আমি দেখার আগেই নিয়ে গেল।
আমি আপনাকে ছবিগুলো পাঠাচ্ছি।
ওমারে!
হেই, মশাই!
কোথায় আপনি?
- কী হয়েছে? - আমাকে সাহায্য করতে পারবেন?
জলদি!
কী হয়েছে?
দরজাটা ভেঙে ফেলতে হবে। ও নিশ্চয়ই জ্ঞান হারিয়েছে।
ছাদে একটা কুড়াল রাখা আছে।
জন ফ্রান্সোয়া!
কী করছো তুমি?
করছোটা কী তুমি?
উনি আর বেঁচে নেই।
- তুমি কি ক্লান্ত? - হ্যাঁ, একটু।
সব কেমন চলছে, বাবা?
চলছে বেশ।
- হ্যালো, ম্যাডাম। - হ্যালো, ভেতরে আসুন।
আসুন।
গতকালের জন্য ধন্যবাদ।
ব্যাপার না। আপনার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি।
তা করতে হবে না।
সে যে পরিমাণ নেশা করতো, এমন কিছু যে ঘটবে, আগেই জানা ছিল।
আমি কি কাজ চালিয়ে যাবো?
না।
এই বাড়ির দেখাশোনা এখন থেকে ওর বোন করবেন। তাই সেসব নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই।
ওহ?
দেখুন, আমি দুঃখিত।
আমার পাওনা তাহলে কে মেটাবে?
ওর বোন আসবে নাকি সেটা নিয়েও সন্দেহ আছে।
সে যে কোনো এজেন্সির সাহায্য বাড়িটা বেচে দেবে।
আমি ওকে কতবার বারণ করেছি, ওসব ছাইপাঁশ না খেতে।
এখন তো চিরতরে খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।
আপনি কখন বাড়ি ছাড়ছেন?
শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের পর।
ওর হাতে একটা কাজ ছিল? আপনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন?
হয়তো আপনি যাওয়ার আগেই, চিঠিটা এসে পৌঁছোবে।
গতকালই চলে এসেছে।
আপনার কাছে আছে?
দেখানো যাবে?
দেখার মতো কিছু নেই। একটা ট্রেনের টিকিট আর হোটেল রুমের ভাড়ার বিল।
আপনি দেখে কী করবেন?
টিকিটটা আমাকে দিন।
আমি কিনে নেবো।
আচ্ছা, নিতে পারেন। সমস্যা নেই।
যদি কাজে দেয়, আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।
একটা ট্রেনের টিকিট আর একটা হোটেল রুমের ভাড়ার বিল।
কোথাকার টিকিট?
প্যারিস।
হোটেলের নাম?
আমি যতদূর জানি, উইন্ডশর।
পিয়েরে ব্লেরট এগুলো দিয়ে কী করতে চেয়েছিল?
জন ফ্রান্সোয়ার বদলে কাজটা করতে চেয়েছিল।
সে আর কী কী জানে?
সে জানে, কাজটা করলে অনেক অর্থ কামাতে পারবে।
ওরা কবে এ বিষয়ে কথা বলেছিল?
গতকাল সকালে।
বাড়ির ভেতরে পুলিশ ও ডাক্তার বাদে আর কেউ ঢুকেছিল?
না... হ্যাঁ, যে লোকটা বাড়ি মেরামতের কাজ করছে।
আমিই তাকে ডেকে এনেছিলাম,
বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার জন্য।
মি. গোডনের কখন যাওয়ার কথা ছিল?
আজ।
থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ।
ওরা যখন কথা বলছিল, তখন আপনি কোথায় ছিলেন?
- করিডোরে। - ওদের কথা আপনি ঠিকমতো শুনেছিলেন তো?
অবশ্যই।
সরি, ওখানে আমার ভাই আছে। ওর কাছে গেলেই আমার টিকিট দেখাবে।
আপনি সাথে চলুন।
আপনি টিকিট দেখতে চাইলে, ওর কাছে যান।
কিন্তু আপনারও সাথে যেতে হবে।
লাথি দিয়ে ট্রেন থেকে বাইরে ফেলে দিলে কেমন হবে, হারামজাদা?
আপনি পাগল!
কী সমস্যা, লুডো?
সে টিকিট দেখবে, অথচ জায়গা থেকে নড়তেই চাচ্ছিল না।
আসুন, আমি টিকিট দেখাচ্ছি।
- হ্যালো? - মি. গোডন?
জ্বি।
কাগজ- কলম আছে?
এক সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
কাল দুপুরের মধ্যে, গারু ডি নর্ডে যাবেন। লকার নাম্বার ১০৩।
আপনি ট্রেনের টিকিটের সাথে নির্দেশনাও পাবেন।
কোডটা হচ্ছে, ৪০২ # ৪।
টিকিটে যে স্টেশনের কথা লেখা থাকবে, তার আগের স্টেশনে নেমে পড়বেন।
মাথায় রাখবেন, আগের স্টেশনে নেমে পড়বেন।
ঈশ্বর...
স্বাগতম, স্যার। আপনার টিকিট?
ধন্যবাদ। যাত্রা শুভ হোক।
সে ভ্যালেন্সিতে নামবে।
- কখন? - ৫:০৮।
আমি দেখছি।
আমার দুটো নেম প্লেটবিহীন গাড়ি লাগবে, ৫:০৮ মিনিটে,
হ্যালো।
- হ্যালো। - কোথায় যাচ্ছেন?
- এই জায়গাটা চিনেন? - জ্বি।
- অনেক দূরে? - হুম, বেশ দূরে।
গাড়ির নাম্বার, ৩৭৫ এমএইচজি ৪৫।
বের হও।
ওখানে যাও।
- জামা কাপড় ছাড়ো। - কেন?
দেহ তল্লাশি চালাবো।
No comments yet. Be the first to leave one.