The first 200 lines.
অনুবাদক আদনান ইসলাম সৈকত এবং আবরার শাফিন
সম্পাদনায় আবরার শাফিন
যখন আমি ছোট ছিলাম,
'আন্নামায়া' নামের তেলেগু সিনেমা আমার কল্পনায় বাধা পড়ে যায়।
একজন সাধু, যিনি ৬০০ হাজার বছর আগে বাস করতেন...
বেশিরভাগ সময় দাদার সাথে বসেই আমি সিনেমাটা দেখতাম!
যখনই টিভিতে সম্প্রচার হতো।
সিনেমাতে একটা দৃশ্য ছিল, যেখানে সাধুর শিষ্যগণ ...
তারই গান গায়।
"জীবনের একেকটা দিন নিছক খেলা"
যখনই এই গানটা বেজে উঠতো আমার দাদার চোখ ছলছল করতো।
আর সেই মুহূর্তে,
আমি দাদার দিকে তাকিয়ে থাকতাম আর সিনেমা থেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলতাম।
তাই একদিন আমি দাদাকে জিজ্ঞেস করি,
গানের অর্থ কি তা আমাকে বলার জন্য আর তিনি বলেন,
"জন্মানো যেমনি সত্য।"
"তেমনি মৃত্যুবরণ করাটাও সত্য।"
"জন্ম-মৃত্যুর মাঝে সবকিছু এক নিছক নাটক।"
আমার বয়স যখন ১৪ হয়, তখনই আমি দাদার কথার মানে বুঝতে শুরু করেছিলাম।
তখনই আমার চিন্তাভাবনার পরিবর্তন ঘটতে শুরু হয়।
আমি ভেবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি যে, সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন একজন পরিচালক।
- আমার জীবনের কলকাঠি নাড়ছে কে! - এই যে শুনছেন।
আপনার কাছে কি গর্ভধারণ পরীক্ষার কোনও সরঞ্জাম আছে?
৪ সপ্তাহ আগে আমি এখানে বসেছিলাম আমার স্বামীর হাত ধরে।
আমার তখন মনে হয়েছিল, যেন সে জন্ম ও মৃত্যুর মাঝে কোনো শান্তিপূর্ণ স্থান খুঁজে পেয়েছে।
আর সেই গান আমার মাথায় বাজতে থাকে।
"জন্মানো যেমনি সত্য।"
"তেমনি মৃত্যুবরণ করাটাও সত্য।"
"জন্ম-মৃত্যুর মাঝে সবকিছু এক নিছক নাটক।"
সে মরেনি।
এখনো সে বেঁচে আছে।
সে আমাকে কখনো আপন ভাবেনি, যেমনি করে আমি ভেবেছি তাকে।
সে আমাকে না চেনার ভান করত।
আমাকে দেখেও,না দেখার ভান করত।
একই বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে হবে জেনে সে নিজেকে থামাতে নাক চেপে ধরত।
ভাগ্যের পরিহাস নির্মম।
"উড়তে পারাটা যথেষ্ট নয়"
"উড়তে পারাটা যথেষ্ট নয়"
"পাখি উড়তে খোলা আকাশের প্রয়োজন।"
"পাখি উড়তে খোলা আকাশের প্রয়োজন।"
এই,তুমি! মনোযোগী হও।
জী স্যার ।
"উড়তে পারাটা যথেষ্ট নয় "
"উড়তে পারাটা যথেষ্ট নয়"
"পাখি উড়তে খোলা আকাশের প্রয়োজন।"
"পাখি"
"উড়তে খোলা"
"আকাশের প্রয়োজন।"
"দূর এই আকাশে উড়বে পাখি"
"দূর এই আকাশে উড়বে পাখি"
"পা ঝাপটানো যথেষ্ট নয়"
"পা ঝাপটানো যথেষ্ট নয়"
শুনলাম আপনি বাচ্চাদের পড়ান।
- আপনার গলা বেশ সুরেলা। - ধন্যবাদ স্যার।
আপনি টিভি প্রোগ্রামগুলোতে অডিশন দেন না কেন?
ইচ্ছে হয়। কিন্তু তারপর আর...
তো জীবিকার জন্য কি করেন?
- তুই কী অন্ধ নাকি? - কী বন্ধু?
দূর হ,হারামি!
জীবিকার জন্যে আমি মার্কেটিং এর চাকুরি করছি,স্যার।
বেশিরভাগ সময়ে আমরা হারবাল প্রোডাক্ট বিক্রি করি।
ধন্যবাদ।
আর মার্কেটিংয়ের চাকুরি মানেই নিজের আয় ঝুকিতে রাখা।
তা তো বটেই।
এমনকি আমি নিজেও মার্কেটিং এর চাকরি করেছি যখন আমি যুবক ছিলাম ।
দারুণ,স্যার।
ঘরের সদস্যরা তেমনটা খুশি ছিল না।
তাই ,আমি শিক্ষকতার পেশা বেছে নিয়েছি।
দুই কাপ কফি দিন ,প্লিজ।
আর তারপরে আমি বুঝতে পারলাম শিক্ষকতা থেকে মার্কেটিংয়ে তেমন কোনো পার্থক্য নেই।
বাবা আমাকে সবসময় বলতেন, "শিক্ষকতা হল সব থেকে অভিজাত পেশা।"
কিন্তু তার মনক্ষুণ্ণ হয়, যখন আমি ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাকুরি ছেড়ে দিই,
নার্সারির শিক্ষক হবার জন্যে।
আমাদের দেরি হয়ে যাবে!
"আমাদের দেরী হয়ে যাবে!"
আমার নাম অখিলা।
আর ইনি হচ্ছেন আমার স্বামী প্রমোদ।
এখানে আসার কারণ হচ্ছে ,আমাদের বিয়ে হয়েছে তিন বছর হলো,
কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সন্তানাদি হয়নি। আর পরিবারের সবাই এটা নিয়েই কানাঘুষো দিয়ে যাচ্ছে।
বাচ্চারা।
সবাই বসে পড়ো।
কী?
কী?
A তে আপেল।
D তে কি হবে?
আমরা দেখে নিবো, কে সবচেয়ে বড় বাড়ি বানাতে পারে।
এসব কি?
হ্যালো বাবা।
আমি হাসপাতালের দিকেই আসছি।
ফিরে এসে তোমাকে ফোন করবো।
আচ্ছা।
বাচ্চা আর পরিবার।
এসব চিন্তাভাবনার আগে আমার জীবনটাই শেষ।
আমার নিজের কিছু স্বপ্ন আছে।
আমি গল্প-কথক হতে চাই।
উপন্যাসটা আমাকে দাও।
একজন উপন্যাসিক হওয়া।
কিন্তু তা স্বপ্নই থেকে গেল।
আমি এই পর্যন্ত একটি গল্পও শেষ করতে পারিনি যা লিখা আরম্ভ করেছিলাম।
গল্পটা শুধু স্বপ্ন দেখা নিয়েই নয়, তাইতো?
আমি নিজের উপর সন্তুষ্ট নই কারণ আমি প্রয়োজন মত পরিশ্রম করছি না।
হতাশার চাদর ঘিরে ধরেছে আমাকে!
- এতক্ষণ লেগেছে কেন? - ট্রাফিক জ্যামে আটকে ছিলাম।
আশানুযায়ী তার রিপোর্ট সব ঠিকঠাক এসেছে।
কিন্তু আমরা টেস্টে অগ্রসর হওয়ার আগে,
আমার পরামর্শ থাকবে আপনিও টেস্ট করান।
ঘাবড়ানোর কিছু হয়নি!
তো,আপনার উপন্যাস লেখা কতদূর এগিয়েছে?
আমি বন্দি!
মাফ করবেন, আমার বাচ্চামোপনা ব্যবহারের জন্যে।
হাটতে বের হলে কেমন হয়?
বিয়ের এতবছরেও আমি তার সাথে আমাদের ঝগড়া নিয়ে কখনো কথা বলতে পারিনি।
সে কোনোকিছু নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করেনা,গভীরভাবে।
মাঝেমাঝে চিন্তা করি,আমি কি বিয়ে করে ঠিক করেছি!
যখন আমি এসব নিয়ে বাবার সাথে কথা বলি,তিনি বলেন...
তোর মাথাটা কি গেছে? বাচ্চাকাচ্চা হলে সব সমস্যা উধাও হয়ে যাবে।
তারা একে-অপরকে ভালোবেসেছে বলে জন্মেছি আমি
তাদের ছোট্ট এক ঘর ছিল, যেখানে ছিলাম না আমি।
যদি আমার কিছু হয় কেউ কি পরোয়া করবে?
ওহ তাই নাকি?
এ সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। একঘন্টা পর আমরা এ নিয়ে আলোচনা করব,কেমন?
ঠিক আছে।
- হাই ,মা। - এই যে ,এটা ধর।
না,এটা লাগবে না।
তুমি বের হচ্ছো নাকি?
আমি আমার বন্ধুর বাসায় যাচ্ছি। আমাদের একটা এসাইনমেন্ট আছে,তা শেষ করতে হবে।
তুমি তো জানো,তোমার বাবা রাতে বের হওয়াটা পছন্দ করে না।
- আমার তেল ভর্তি করতে কিছু টাকা লাগবে। - আমি কী বলছি ,তুমি কানে নিবে না?
তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসবে কিন্তু!
কোথায় যাচ্ছো?
আমি তোমার আত্মায় ভর করেছি।
আমি কাঁচা মাংস গিলে খায়।
যদিও আমি ক্ষুদ্ধ তারপরেও, আমি নরম মাংসের জন্য প্রার্থনা করি।
তারা একে-অপরকে ভালোবেসেছে বলে,জন্মেছি আমি।
তাদের ছোট্ট এক ঘর ছিল , যেখানে ছিলাম না আমি।
যদি আমার কিছু হয় কেউ কী পরোয়া করবে?
টিম্মি! টিম্মি ,না,টিম্মি!
আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
- হাই, আংকেল! - হাই, টিম্মি!
আচ্ছা তাহলে আমি চলে যাচ্ছি!
দাঁড়াও! যাওয়ার আগে এক কাপ কফি খেয়ে যাও।
তাকে জ্বালাতন করাটা তোমার বন্ধ করা উচিত।
রান্নাঘরে তোমার জন্যে কফি রাখা আছে ,গিয়ে দেখো।
- আজ এত খুশি দেখাচ্ছে তোমাকে, ব্যাপার কী? - যাও আগে কফি নিয়ে আসো।
- অতিরিক্ত কফি খাওয়াটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়,
এর কারণে পেটে গ্যাস জমে যেতে পারে!
- সে বারবার হাসছে কেন, ঘটনা কী? - আমরা তীর্থযাত্রার জন্য...
অমরনাথ যাবো! - দারুণ তো!
এখনো তা কনফার্ম হয়নি ।
সে গতকাল ট্রাভেল এজেন্সিতে গিয়ে কথা বলে এসেছে।
আমরা সিট বুক করে রেখেছি ,এখন কেবল টাকা পরিশোধ করতে হবে।
- সে একটু বেশীই আগ্রহী! - তুমি চুপ করবে!
সে সব ঠিকঠাক করে ফেলেছে। সে তো কেবল কথাটা বলেছে।
এই ,চল আমরা বাজারে যায়? আমি কিছু জিনিসপত্র কিনবো।
চল পদ্মাকেও সাথে নিয়ে যায়।
-হাই! -অবশেষে তুমি এসেছো।
অন্য কোন রঙের আছে?
এটার নকশা এরকমই।
এই দেখো, এটা আসলেই সুন্দর।
আরে,আমরা ঠিক দামই বলেছি।
ম্যাডাম, এটা একদাম। আমরা আপনার নিয়মিত গ্রাহক।
আচ্ছা ,আমরা এটা পরে দেখবো।
হ্যালো?
এটা কে?
আচ্ছা, আচ্ছা।
- এই, হচ্ছেটা কী? - উনি এটাকে ৩০০ রূপি বলছেন।
প্লিজ, ২০০ রাখুন।
আমাকে একটু সময় দাও।
হ্যালো, স্যার।
স্যার, একটু অপেক্ষা করুন।
তিনি ভিতরেই আছেন, আমি তাকে এখনই ডেকে আনছি।
- স্যার, আপনার জন্য ফোন এসেছে। - কে বলছেন?
- শ্রীমান। - হ্যালো?
বল।
আচ্ছা?
আচ্ছা?
সামনের সপ্তাহে আমি লোকজন পাঠাবো।
-হ্যালো? -আমি রাস্তায় আছি।
- দশ মিনিটের মধ্যে আসছি। - বাই।
ম্যাম?
একটু দাঁড়াও।
প্লিজ আসুন। আমি আপনাকে পরে ফোন করব। ঠিক আছে?
হ্যালো, ডাক্তার।
অখিলা!
আপনার টেস্টের রিপোর্ট গতকাল এসেছে।
একবার দেখে নিন।
- সবকিছু ঠিকঠাক আছে। - অসংখ্য ধন্যবাদ, ডাক্তার।
হ্যালো, বাবা?
প্রমোদ তোমাকে ফোন করেছে?
না, কিছুই না। আমি কেবল অপেক্ষা করছি...
তার জন্য হাসপাতালে।
হ্যাঁ, রিপোর্ট এসেছে।
ভয়ের কিছু নেই, সবকিছু ঠিক আছে।
বাবা, একটু দাঁড়াও, আমার অন্য একটা ফোন এসেছে।
হ্যালো?
হ্যালো? কে বলছেন?
হ্যাঁ, অখিলা বলছি।
কখন?
আমি একই হাসপাতালে আছি!
না, এ হতে পারেনা! আমি একই হাসপাতালে আছি!
No comments yet. Be the first to leave one.