The first 200 lines.
ধুস, শালা! ফ্রাঙ্ক, থ্যাংক গড!
আমি শেষ!
ফ্রাঙ্ক, আমি দুঃখিত. শহরে এত গলি ঘুপচি যে পথ হারিয়ে ফেলেছি.
কী দিন একখান. সকালে বউয়ের অফিস ছিল.
বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যাব এই সময় মরা কান্না জুড়ে দিল. কিছুতেই শিকাগোর বাহিরে যাবে না।
- দেখেই মনটা খারাপ হয়ে যায়, ফ্রাঙ্ক. - আর কোনো অজুহাত?
- না. - ভাল, পরের বার সময়মত আসবে.
- বুঝেছ? - আমি দুঃখিত. আর হবে না.
- কী অবস্থা ফ্রাঙ্ক? - দেখা হয়ে ভাল লাগল.
- হাই মার্টি, দেরী হয়ে গেল. - আল, নিচে জিমি আর রাউলকে হেল্প করবে?
হ্যাঁ, নিশ্চয়.
- আমাকে ভরসা কর না? - আমি চোর-বাটপারের মাঝে বাস করি.
- নকল নোটটা আছে? - হ্যাঁ, এই তো.
ভালই তো. একেবারে আসল লাগছে.
- তাহলে ডিল পাকা. - চমৎকার.
কিন্তু একটা সমস্যা. এই আল নামের লোকটা
জাল নোটের ব্যবসা নিয়ে অনেক প্রশ্ন করে.
কোনো ভেজাল থাকলেই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আমাকে সতর্ক করে দেয়.
সেজন্য আমি ওকে অনুসরণ করি.
ও সিক্রেট সার্ভিসের লোক, ফ্রাঙ্ক.
- আমার কী করা উচিত বল? - এমন ব্যবস্থা কর যেন লাশ না পাওয়া যায়.
তুমি আমার হয়ে ওকে সাইজ কর.
- আমার ধারণা তুমিও ওর দলে. - তুমিই আমার কাছে এসেছিলে, মনে আছে?
- তাহলে মার ওকে. প্রমাণ কর আমি ভুল. - আমি শুধুই একজন বিজনেসম্যান.
তাহলে মেরে...
বিজনেস কর.
ফ্রাঙ্ক, এটাই আমি দেখতে চাচ্ছিলাম.
চল, একটা অমলেট বানানো যাক.
আমার পিস্তলটা নিয়ে আসি.
আমার পিস্তল?
তোমাকে গ্রেপ্তার করা হল.
তোমাকেও গ্রেপ্তার করা হল. সিক্রেট সার্ভিস.
পিস্তলের ওজন দেখেই তুমি টের পেয়েছিলে ওটা খালি, তাই না?
একটা বুলেট থাকলেও থাকতে পারত.
হাই, ফ্রাঙ্ক.
কোথাও গিয়ে আমরা এই ব্যাপারে আলাপ করি?
তুমি আগেও মানুষ মেরেছ, ফ্রাঙ্ক?
তোমার ভয় লাগে না?
লাগে তো.
এসব ছদ্মবেশী কাজকারবার আমার ভাল লাগে না. ভয় করে.
সিক্রেট সার্ভিসে যোগ দিয়েছে
মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য.
কিন্তু বন্দুকের মুখে নিজেকে ছুড়ে দিতে কে চায়?
যাকে বাঁচাচ্ছ তার বদলে নিজে গুলি খেতে চাও?
জানি না. হয়ত
- এই কাজ আমার জন্য না. - তুমি ভাল মানুষ, আল.
- ভাল এজেন্টও হবে তুমি. - তুমি কীভাবে জানো?
আমি মানুষ দেখলে চিনতে পারি.
- চল, খাওয়া যাক. - আমাকে বাসায় যেতে হবে.
অনেকেই আমায় সাবধান করেছিল যে তুমি ঝামেলাবাজ লোক.
- অফিসে দেখা হবে. - ধুস! অফিস.
- মনরো আমাদের এখানে যেতে বলেছে. - আমি যাব.
- আমিও তোমার সঙ্গে যাব. - না. তুমি বাসায় ফিরে যাও.
আমি উঁকি-ঝুঁকি মারছিলাম না কিন্তু স্মোক এলার্ম থেমে যায়.
সেজন্য আমি ভয় পাই.
কিন্তু ভিতরে যা দেখেছি তাতে আরও ভয় পেয়ে যাই.
লোকটা ওভেন চালু রেখে ঘর ছেড়ে চলে যায়.
৩১ বছর ধরে এই দেশে আছি.
আমেরিকা আমি ভালবাসি. আমি হোয়াইট হাউজেও গেছি.
আমেরিকাই হল একমাত্র দেশ যেখানে যেকেউ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে পারে.
এগুলো যখন দেখলাম এই খুনে জিনিসগুলো
আমি পুলিশে ফোন দেই. ওরা সিক্রেট সার্ভিসে ফোন দেয়.
এটা দুই দিন আগের কথা.
প্রেসিডেন্ট বছরে ১,৪০০ বার হুমকি পান, আমাদের সব চেক করতে হয়.
- লোকটার নাম ম্যাককলি? - না, ম্যাকক্রলি, কলোরাডোর ডেনভারের লোক.
মনে হয় যেন গতকালেরই ঘটনা. আমি কত কেঁদেছি.
জোসেফ ম্যাকক্রলি ডেনভার.
৩০ বছর আগে মারা গেছে. ১১ বছর বয়সে.
এই লোকটা নকল বার্থ সার্টিফিকেট দিয়ে
ড্রাইভিং লাইসেন্স তুলেছে.
- থ্যাংকস, জ্যাক. - বাই.
ফেডারেল এজেন্ট, দরজা খুলুন!
হায় হায়! এটা তো তুমি.
- হ্যালো? - ফ্রাঙ্ক হরিগান?
- হ্যাঁ? - সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট?
- হ্যাঁ, আপনি কে বলছেন? - মাশাল্লাহ, সত্যিই তুমি?
- তুমি কোথাকার কে হে? - তুমিই আমার এপার্টমেন্টে গিয়েছিলে.
- ম্যাকক্রলি? - আমাকে বরং বুথ ডাক.
- অসওয়াল্ড কেন না? - কারণ বুথের ছিল অদম্য মনোবল
মঞ্চের উপরে লাফ দিয়ে উঠে লিঙ্কনকে গুলি করার.
- কোথায় তুমি? - ভাবতেও পারবে না আমি কত কাছে.
আমি তোমার পরিচিত এই ধারণা নিয়ে কথা বলতে ভালই লাগছে.
তোমার ছবি দেখেছি, আর্টিকেল পড়েছি. তুমি কেনেডির প্রিয় এজেন্ট ছিলে.
সে বহুদিন আগের কথা কিন্তু এখনও একাজে লেগে আছ কেন?
চল সাক্ষাতে কথা বলি.
তুমি আমার ব্যাপারে যত কম জানবে তত ভাল.
- কারণ আমি প্রেসিডেন্টকে খুন করব. - এই কথা বলা উচিত হয়নি তোমার.
হাসিঠাট্টার ছলেও প্রেসিডেন্টকে হুমকি দেয়া রাষ্ট্রীয় অপরাধ.
আমি মশকরা করছি না.
কাউকে না কাউকে প্রেসিডেন্টের জন্য নিজ জীবন হুমকির মধ্যে ফেলতে হবেই.
- তা ঠিক. - সেটা আমিই ফেলি.
তুমি যদি বাঁধা হয়ে দাঁড়াও তাহলে খেলাটা একটু কঠিন হয়ে যাবে.
ভাগ্য আমাদের মিলিয়েছে, ফ্রাঙ্ক.
- আমি শুধু একটা কৌতুক মানতে পারছি না. - কোন কৌতুক?
দুজন প্রেসিডেন্ট হত্যাকাণ্ডে তুমি সরাসরি জড়িত.
একটু থামো. আমার চুলো জ্বলছে.
লোকটা ওখানে ৩ সপ্তাহ আগে ভাড়া আসে.
অদ্ভুত ব্যাপার হল অন্য ভাড়াটিয়ারা ওকে কখনো দেখেনি.
তাই জবানবন্দীগুলো গোলমেলে. উচ্চতা ৫'৮"-৬'২".
ওজন ১৬৫-১৮০ পাউন্ডের মাঝামাঝি.
- বয়স? - ২৮-৪৫ এর মাঝামাঝি.
নির্বাচনের আগ দিয়ে একটা শুভ দিনেই উত্তেজনা বাড়ে.
- তোমার অপেক্ষায় আছে. - হাই, ফ্রাঙ্ক.
- স্যাম. - বহু দিন পর দেখা.
- শুনলাম নতুন ডিরেক্টর খুব কড়া. - আমিই দুই বছর ধরে ডিরেক্টর হয়ে আছি.
আমি আল আন্ড্রেয়া. ম্যাট উইল্ডারকে চেন?
সুপার বৌল খেলার ২০ ডলার আমি এখনও ওর থেকে পাই.
ওরা হল এজেন্ট বিল ওয়াটস আর লিলি রেইনস.
- দিন দিন এখানকার সেক্রেটারিগুলো সুন্দরী হয়ে উঠছে. - আর এজেন্টগুলো বুড়ো ভাম.
লিলি একজন এজেন্ট.
জানি, শুধু সেন্স অব হিউমারটা পরখ করে নিলাম.
বসো, লোকটার ব্যাপারে কথা বলা যাক.
আপাতত ওর নাম হল বুথ.
- ওর ব্যাপারে কতটুকু জানো? - লোকটা ভয়ংকর.
- সেটা কীভাবে জানলে? - আমি মানুষ চিনতে পারি.
প্রথম রাতে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করনি কেন তুমি?
- সেদিন আমাদের ধকল গেছে. - এত ধকল যে তদন্ত করতে পারনি?
- রুমে মাত্র ১০ মিনিট ছিলে. - আমার কাছে ওয়ারেন্ট ছিল না.
- তোমার সুনামের যে ছিরি... - কোন সুনাম?
- আসল কথায় আসা যাক. - কীসের কথা বলছে সে?
আমিই ভুল বকছি নাকি ও আসলেই আমার পিণ্ডি চটকাচ্ছে?
হয়ত দুটোই.
বিল, একটা সময় আমিও তোমার মত ঘাউড়া ছিলাম.
এসব শোনার আমার সময় নাই. মিয়ামিতে ৭৫ এজেন্ট সামলাতে হবে আমাকে.
আমাকে ফ্যাক্স কর, স্যাম.
- লোকটাকে নিয়ে কী করব আমরা? - তদন্ত বহাল রাখব.
- আমার ফোন ট্যাপ করব. - সে আবার ফোন করবে?
- হ্যাঁ করবে. ওর অতিরিক্ত মনোবল আছে. - অতিরিক্ত মনোবল?
- হ্যাঁ, নিজের ঢোল নিজে পেটানো আরকি. - এর অর্থ জানি.
- তাই? খতিয়ে দেখতে হয়. - আচ্ছা, তোমার ফোন ট্যাপ করব.
যাই হোক, ওয়াটস কিন্তু তোমার মত ঘাউড়া ছিল না.
আমার কোন সুনামের কথা সে বলছিল, স্যাম?
তুমিই জানো.
আমি বুড়ো হয়ে গেছি বলে মানসিক ক্ষমতা
সামাজিক দক্ষতার সঙ্গে প্রশ্নবিদ্ধ হবে?
তোমার সুনাম ছাড়া আর কী নিয়ে বলব বলতো?
আমাকে প্রেসিডেন্টের সুরক্ষার কাজে নিয়োগ দাও.
সুরক্ষা? এত বছর পর? ফ্রাঙ্ক তুমি নূহের আমলের লোক.
- ঐ লোকটা সর্বচ্চ চেষ্টা চালাবে. - ওয়াটস আমার পেছনে লেগে থাকবে.
এত বছর ধরে অন্তত এই জিনিসটা আমার পাওনা.
- আমি তোমাকে রাখব. - আমাকে ফিরতে হবে.
তুমি এই বয়সেও ঐ পোস্টে কাজ করতে চাও?
হ্যাঁ, অন্তত একজোড়া জুতো এখনও আমার আলমারিতে লুকানো আছে.
আমরা থামছি. ট্রাভেলার জনগণের সঙ্গে কথা বলবে.
ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট বেরুচ্ছে. এখানে একজন সিকিউরিটি আস.
- কী হচ্ছে এসব? - হরিংটনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে.
- তুমি ঠিক আছ? - যাও এখান থেকে.
- কী হচ্ছে? - হার্ট অ্যাটাকের ফোন পেয়েছি.
- তুমি ঠিক আছ, ফ্রাঙ্ক? - আমি এখানে আরাম করছি.
বুঝেছি হারামজাদা.
কাজটা কে করেছে?
সবাই কাজে ফিরে যাও.
- জোকারটা কে ছিল? - এটা জোক নাও হতে পারত.
- তোমাকে আজ অসুস্থ মনে হয়েছে. - কত ধানে কত চাল সেটা ওকে আমি শেখাব.
ফোনটা সেই লোকটা করেনি তো?
- আমার বাসার গলি ছেড়ে আসছ, আল. - তুমি গাড়ি কেনো না কেন?
আমি বহু বছর নিউ ইয়র্কে আছি. পাবলিক ট্রান্সপোর্টে অভ্যস্ত হয়ে গেছি.
বাস যদি এতই পছন্দ তাহলে আমার গাড়ি দখল কর কেন?
তোমাকে আমার ভাল লাগে তাই.
- দেখতে অদ্ভুত লোকটা. - এখন আর অমন দেখায় না হয়ত.
এখানে একটু থামাও তো.
ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত, আল. কয়েকজন এজেন্ট পাঠিয়ে দাও.
- পাগলটাকে খুঁজতে বলবে. - সকালে ব্যবস্থা করব.
থামো, আরেকটা ফোন আসছে.
- হ্যাঁ. - ফ্রাঙ্ক.
- বুথ. কী অবস্থা? - ভাল আছি, থ্যাংকস.
থামো, আগের ফোনটা কেটে দেই.
- পেয়েছ? - ওকে ব্যস্ত রাখ.
- হ্যাঁ? - আমাকে ট্রেস করছ?
- কেন করব না বল? - করবেই তো. এই ব্যাপারে তুমি ওস্তাদ.
- তোমাকে নিয়ে আজ আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছিল. - কেন?
মোটর শোভাযাত্রায় আমি ভেবেছিলাম তুমি হয়ত থাকবে না.
তোমার এই ধরণের কাজ করার মত অবস্থা নেই.
- ঠিকই বলেছ. - তোমার সিনেমা দেখছি.
- সিনেমা - নভেম্বর ১৯৬৩, কেনেডির শেষ দিন.
বিমানে উনি টেক্সাস আসেন.
প্রচণ্ড উত্তেজনাকর মুহূর্ত ছিল.
এরপর ডালাস. সকালে লাভ ফিল্ডে.
তোমরা চকচক করছিলে. কেনেডি, জ্যাকি আর তুমি.
তোমাকে অনেক তরুণ লাগছিল, ফ্রাঙ্ক.
সেদিন কী হয়েছিল তোমার?
গুলির পর অন্য এজেন্টরা তোমার থেকে অনেক দূরে ছিল.
জানালায় তুমি নিশ্চয় ওকে দেখেছিলে, কিন্তু প্রতিক্রিয়া দেখাও নি.
গভীর রাতে যখন আজরাইল হাজির হয়...
জানালার মুখে তুমি রাইফেলের নল দেখ, নাকি কেনেডির ছিন্নভিন্ন খুলি?
তুমি প্রতিক্রিয়া দেখালে কি উনি বেঁচে যেতেন?
করলে হয়ত তোমার নিজের খুলিই উড়ে যেত.
তুমি বুক পেতে দাঁড়াতে নাকি নিজের জীবনকে ভালবাস?
যা হওয়ার তা হয়েছে.
দশ বছর পূর্তিতে এস্কয়ারের আর্টিকেলটা আমি পড়েছি
সেখানে তোমার আর বাকী এজেন্টদের কথা লেখা ছিল.
খুব দুঃখের কথা তোমার স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে চলে যায়.
ড্রিংকিং প্রবলেমের জন্য চাঁছাছোলা হয়ে যাও তুমি.
এতে জীবন মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়.
তোমার সততা দেখে আমি আশ্চর্য হয়েছি.
কিন্তু সৎ মানুষের জন্য দুনিয়া বড়ই জালিম.
আর তুমি, বুথ? তোমার গল্প কী?
মহা কাব্যিক উপাখ্যান.
আবার কথা হবে তোমার সাথে. বন্ধু পেয়ে ভালই লাগছে.
- পেয়েছ ওকে? - পেয়েছি.
No comments yet. Be the first to leave one.