The first 200 lines.
অ নু বা দ ক : মে হে রা ব হো সে ন
মাস্টার লি এসে গেছেন!
- মাস্টার লি এসে গেছেন! - মাস্টার লি এসে গেছেন!
শু লিয়েন!
শু লিয়েন! লি মু বাই এসেছে!
- মাস্টার লি। - হ্যালো।
- সব ঠিকঠাক চলছে? - হ্যাঁ। ভেতরে আসুন।
- লি মু বাই। বহুদিন পরে দেখা হলো। - আসলেই।
- ব্যবসা কেমন চলছে? - মন্দ না। তোমার কী অবস্থা?
আমি ভালো আছি।
সন্ন্যাসী ঝেং উড্যাং পর্বতের পাশ দিয়ে এসেছিলেন।
তিনি বললেন তুমি নাকি গভীর ধ্যানের অনুশীলন করছিলে।
পর্বতটা নিশ্চয়ই খুব শান্তিপূর্ণ। তোমার প্রতি ঈর্ষা হচ্ছে।
আমি কাজে এত ব্যস্ত থাকি যে দু-দন্ড বিশ্রামেরও সময় পাই না।
আমি ধ্যান ভেঙে ফেলেছি। আমি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে পারিনি।
কেন? তুমি তো উড্যাং যোদ্ধা। যোদ্ধাদের কাছে তো প্রশিক্ষণই সব।
ধ্যানের প্রশিক্ষণের সময়ে, আমি ঘোর নিস্তব্ধতায় পূর্ণ একটি জায়গায় এলাম।
চারপাশ থেকে আলো আমাকে ঘিরে ধরলো।
সময় এবং স্থান হুট করে গায়েব হয়ে গেলো।
মনে হলো আমি এমন জায়গায় এসেছি যার কথা আমার ওস্তাদ কখনো বলেননি।
- তোমাকে জ্ঞানদান করা হয়েছিলো। - না, একদমই না।
জ্ঞানলাভের সময়ে যে পরম সুখ পাওয়ার কথা, সেটা আমি পাইনি।
উল্টো, এক সীমাহীন বিষণ্ণতা আমাকে ঘিরে ধরলো।
আমি আর সেটা সইতে পারছিলাম না।
আমি ধ্যান চালিয়ে যেতে পারলাম না। ব্যর্থ হলাম।
কিছু একটা আমাকে পৃথিবীতে টেনে আনছিলো।
কী ছিল সেটা?
মনে হয় এমন কিছু যা আমি ছাড়তে পারবো না।
তোমরা বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছো দেখছি।
আমরা বেইজিংয়ে কিছু জিনিসপত্র পৌঁছে দিতে যাচ্ছি।
তাহলে আশা করি তুমি স্যার টে-কে আমার একটি জিনিস পৌঁছে দেবে।
গ্রিন ডেস্টিনি তরবারি? তুমি এটা স্যার টে-কে দিয়ে দিচ্ছো?
হ্যাঁ। তিনি সবসময়ই আমাদের শ্রেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক হয়ে আসছেন।
বুঝতে পারছি না। তুমি কী করে এর থেকে আলাদা হতে পারো?
দীর্ঘকাল ধরে এটা তোমার কাছে ছিল।
এই তরবারির কিনারা দিয়ে অসংখ্য মানুষের প্রাণনাশ হয়েছে।
এটাকে দেখে হয়তো বিশুদ্ধ বলে মনে হয়,
কিন্তু তার কারণ হচ্ছে এর ছুরি হতে রক্ত অনায়াসে ধুয়ে যায়।
তুমি তো এটাকে ভালো কাজে ব্যবহার করো, তুমিই তো এর যোগ্য।
এখন সময় হয়েছে এটাকে ত্যাগ করবার।
তাহলে তুমি কী করবে?
আমার সঙ্গে বেইজিংয়ে চলো।
তুমি সশরীরে স্যার টে-কে এই তরবারিটা দিতে পারো।
একেবারে পুরোনো দিনগুলোর মতো হবে।
আমাকে আমার ওস্তাদের কবর দেখতে যেতে হবে।
বহু বছর আগে জেড ফক্স তাকে খুন করেছিলো।
আমার এখনো তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়া বাকি, তবুও অবসরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি।
আমাকে তার কবরে গিয়ে মাফ চাইতে হবে।
কাজ শেষে তুমি আমার সঙ্গে যোগ দিয়ো।
তুমি এলে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো।
চেষ্টা করবো।
- ঠিক আছে। আপনি যেতে পারেন। - ধন্যবাদ।
চলো শহরের ভেতরে ঢুকি। মালামাল খালাস করে বিশ্রাম নেয়া যাবে।
খোদার কাছে শুকরিয়া যে সব ঠিকঠাক আছে। অসংখ্য ধন্যবাদ, মিস ইউ।
আমি তো শুধু আমার দায়িত্ব পালন করছিলাম।
তোমার বাবা প্রতিষ্ঠা করার পর থেকেই সান সিকিউরিটি সেরা হয়ে আসছে।
তুমি তোমার পিতার সুখ্যাতি বহুগুণে বৃদ্ধি করেছো।
- আপনাকে ধন্যবাদ। - এটাই সত্য।
এটা হলো লি'র ব্যক্তিগত তরবারি।
একজন মহান বীর একটি মহান হাতিয়ারেরই যোগ্য।
পুরো দুনিয়ায় একমাত্র সে-ই এই তরবারির যোগ্য।
কিন্তু উপহার হিসেবে এটা অতি জাঁকালো। আমি এটা গ্রহণ করতে পারছি না।
এই তরবারিটা লি মু বাই-কে গৌরবের সাথে সাথে যন্ত্রণাও এনে দিয়েছে।
লি এসব যন্ত্রণাকে পেছনে ফেলে আসতে চায়।
তরবারিটি রেখে ওকে ওর পুরনো হিংসাত্মক জীবনধারা ত্যাগ করতে সাহায্য করুন।
ঠিক আছে। আমি এই তরবারিটির তত্ত্বাবধায়ক হবো।
নবম শ্রেণির উপদেষ্টা, রাজ্যপাল ইউ এসেছেন।
ঠিক আছে। আমি পোশাক বদলে আসছি।
ধন্যবাদ। আপনি সবসময়ই আমার এবং লি'র ভালো বন্ধু হয়ে এসেছেন।
চলে যাওয়ার অত তাড়া নেই। একে নিজের বাড়িই মনে করো।
আমার অতিথি হিসেবে তুমি আজ রাত এখানেই থাকবে।
শোনো, শু লিয়েন,
নাক গলানোর জন্য মাফ কোরো, এবং আমাকে একটা কথা বলো।
তোমার বাবা ছিলো আমার ভাইয়ের মতো,
আর সেইসূত্রে আমি তোমাকে আমার মেয়ের মতোই গণ্য করি।
বুঝতে পারছি না, স্যার টে, একটু খুলে বলুন?
লি মু বাই তার তরবারি এবং যোদ্ধা জীবন ত্যাগ করছে,
এর মানে হয়তো সে তোমাকে কোনো ইঙ্গিত করছে।
- আমি জানি না। - না বোঝার ভান কোরো না।
আমি জানি, তোমাদের দুজনেরই মনে পরস্পরের জন্য অনুভূতি আছে।
কিন্তু সেই অনুভূতি ব্যক্ত করবার মতো সাহস তোমাদের দুজনের কারোরই নেই।
এতগুলো বছর অপব্যয়িত হলো।
লি মু বাই এবং আমি আসলে ভীতু নই।
হয়তো আপনি যেমন ভেবেছেন, ব্যাপারটা তেমন নয়।
যখন ব্যাপারটা আবেগ-অনুভূতি সংক্রান্ত হয়, তখন বড় বড় বীরেরাও বোকা বনে যায়।
পরেরবার লি মু বাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে সে যদি সোজাসাপ্টা কথা না বলে,
তাহলে আমাকে জানিয়ো, আমি ওকে আচ্ছামতো বকে দেবো!
আপনি এই কক্ষটিতে থাকবেন।
জি, আপনি কে?
আমি আজ এখানে আপনাদের অতিথি।
কিন্তু এটা তো স্যার টে এর স্টাডি রুম। আপনি এখানে...
বাইরে প্রচুর ভীড়। আমি একটু শান্ত জায়গা খুঁজছিলাম।
আমি স্যার টে এর প্রধান ভৃত্য, ডে লু। ইনি আমাদের আরেক অতিথি।
এত পাতলা ধাতুর অস্ত্র হওয়া সত্ত্বেও এটা কত্তো ভারী।
আসলে এর হাতলটা ভারী। আর এর ছুরিটা কোনো সাধারণ ধাতুর নয়।
তারপরও, বাকিসব হাতিয়ারের থেকে এই তরবারিই সবচাইতে হালকা।
তরবারি চালানোর অভ্যেস নেই বলে তোমার এটাকে ভারী মনে হচ্ছে।
না, অস্ত্র-হাতিয়ার নিয়ে আমার অনেক অভিজ্ঞতা আছে।
আমার বাবার নিরাপত্তাকর্মীরা আমাদের সঙ্গেই থাকে।
ওরা আমাকে ওদের হাতিয়ার দিয়ে খেলতে দেয়।
এর খাপটা কতো সুন্দর।
সুন্দর, তবে বিপজ্জনক।
যখন তুমি এটাকে রক্তরঞ্জিত অবস্থায় দেখবে, তখন আর সুন্দর মনে হবে না।
এটা ৪০০ বছরের পুরনো।
খুবই সূক্ষ্ম।
আপনি বলেছিলেন এই তরবারির মালিক...
আমার বন্ধু লি মু বাই।
সে এটা স্যার টে-কে উপহার হিসেবে দিয়ে দিয়েছে।
লি মু বাই! সেই বিখ্যাত যোদ্ধা?
তার সম্পর্কে অনেক শুনেছি। উনি তরবারিটা কেন স্যার টে-কে দিয়ে দিয়েছেন?
অনেক লম্বা কাহিনী।
- আপনিও নিশ্চয়ই একজন তরবারি যোদ্ধা। - হ্যাঁ, তবে আমার পছন্দ চাপাতি।
এই তরবারিটা লি মু বাইয়ের জন্য একদম উপযুক্ত।
সত্যিই।
যোদ্ধা হওয়াটা নিশ্চয়ই দারুণ একটা ব্যাপার।
যোদ্ধাদেরও বেশকিছু নিয়মকানুন আছে। যেমন - বন্ধুত্ব, আস্থা, সততা।
সর্বদা নিজেদের ওয়াদা পালন করা।
নিয়মকানুন ছাড়া, আমরা বেশিদিন টিকতে পারতাম না।
আমি আপনাদের মতো যোদ্ধাদেরকে নিয়ে অনেক পড়েছি।
যোদ্ধারা ইচ্ছামতো ঘুরে বেড়ায়, যে পথের বাধা হয়ে আসে, তাকে ধোলাই দেয়!
বই বেচার জন্য লেখকরা মালমসলা মিশিয়ে ওসব লেখে।
আপনিও তো ঠিক গল্পের চরিত্রগুলোর মতোই।
দিনের পর দিন গোসল না করে থাকতে হয়, পোকামাকড়ে ভর্তি বিছানায় ঘুমোতে হয়।
ঐসব বইয়ে কি এগুলো লেখা আছে?
আপনি জানেন আমি কী বোঝাতে চাইছি।
শিগগিরই আমার বিয়ে হবে, কিন্তু আমি যেরকম জীবন চেয়েছি, সেটা পাইনি।
তোমার বাগদানের খবর আমি শুনেছি। অভিনন্দন।
একজন নারীর জীবনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এটা, তাই না?
- আপনি তো বিবাহিত নন, তাই না? - তোমার কী মনে হয়?
না। বিবাহিত হলে আপনি এরকম অবাধে ঘুরতে পারতেন না।
মানতেই হচ্ছে, তোমার কথাই হয়তো সঠিক।
রাজ্যপাল ইউ, একবার দেখে নিন।
২ ফিট ৯ ইঞ্চি লম্বা, ১.১ ইঞ্চি চওড়া।
এর হাতলটা ১ ইঞ্চি লম্বা, ২.৬ ইঞ্চি চওড়া,
০.৭ ইঞ্চি পুরু, প্রত্যেক পাশে ১.৫ ইঞ্চি।
এটার হাতলের সাতটা চুনি অনুপস্থিত।
এর নকশা থেকে বলে দেয়া যায় যে এটা কিন উ যুগে তৈরি।
এর ওপর যে কৌশলে খোদাই করা হয়েছে, সেটা হান রাজবংশের আমলে হারিয়ে গেছে।
আপনার জ্ঞানের পরিধি খুবই অসাধারণ।
একটা তরবারি নিজে থেকে কিছু করতে পারে না।
একে দক্ষতার সাথে চালানোর মাধ্যমেই এর মধ্যে প্রাণ ফিরে আসে।
বুঝতে পারছি। বলতে থাকুন, স্যার টে।
বেইজিংয়ের ভেতরের শহর কোনো সমস্যা না।
সবজায়গায় রাজবংশের ব্যক্তিবর্গ এবং কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকায়,
রাজকীয় প্রহরীরা জায়গাটাকে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে রেখেছে।
কিন্তু বাইরের শহরটাতে শাসনকার্য পরিচালনা করা মুশকিল।
ঐ শহর বিভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক মানুষে ভরপুর।
সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করার ব্যাপারে সাবধানে থেকো।
শুধুমাত্র আদালতের ভরসায় বসে থেকো না।
জিয়াং হু'র কিছু অপরাধী সর্দারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখো। (জিয়াং হু - চীনের অপরাধী সম্প্রদায়, যারা মার্শাল আর্টে পারদর্শী)
এতে করে তোমার পদ নিরাপদে থাকবে।
কড়া এবং নমনীয়, দুটোই হতে হবে। এটাই শাসন করার নিয়ম।
কর্ত্রী।
তুমি যাও, আমি করছি।
- বসুন। - আমি একজোড়া সিল্কের পায়জামা বানিয়েছি।
- এগুলো পরে দেখবে? - ওখানে রেখে দিন।
শুনলাম তুমি নাকি আজ ইউ শু লিয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছো।
আপনি ওকে চেনেন?
তোমার মা ওর মতো নারীর সঙ্গে মেলামেশা করাটাকে পছন্দ করবেন না।
আমার যার সাথে মন চায়, তার সাথে মিশবো।
তোমার বাবার বাড়িতে বিপদ ডেকে এনো না।
- আমি এখন ক্লান্ত! - তাহলে ঘুমোতে যাও।
তুমি বড় হয়েছো, শিগগিরই তোমার বিয়েও হয়ে যাবে।
ভবিষ্যত যে কী বয়ে আনবে তা ঈশ্বরই ভালো জানেন।
যেমনটা ছিল, তেমনই থাকবে।
থামুন, আমি ক্লান্ত।
বাইরে ঠান্ডা। আমি জানালাগুলো বন্ধ করে দিচ্ছি।
কনকনে শীত, তাই না?
চোর!
চোর চোর! কেউ সাহায্য করো!
সে ছাদের উপরে রয়েছে!
তরবারিটা চুরি হয়ে গেছে! কেউ সাহায্য করো!
সে ছাদের উপরে রয়েছে! অ্যাই চোর, দাঁড়া!
ধর ওকে!
আমার মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নাও!
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী দেখছো? যাও, ওকে ধরো!
তরবারিটা ফিরিয়ে দাও, তোমাকে ছেড়ে দেবো।
তুমি উড্যাং থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত?
আমরা হলাম কলাকৌশল প্রদর্শক। আপনি ভুল বুঝছেন।
- আমরা শুধুমাত্র স্টান্ট অনুশীলন করছিলাম। - চলো।
অনুশীলন? কাকে বোকা বানাচ্ছো তোমরা?
কই গেলো ওরা?
রাজ্যপাল ইউ এর বাড়ি।
নিচে নামো!
তরবারিটা দিয়ে দাও।
স্যার টে আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।
তরবারিটা আমি ফিরিয়ে আনতে পারিনি।
কিন্তু আমি নিশ্চিত, ঐ চোরের সঙ্গে ইউ পরিবারের যোগসূত্র রয়েছে।
- মুখ সামলে কথা বলো! - কিন্তু আমি সত্যিই দেখেছি...
যথেষ্ট হয়েছে! বেরিয়ে যাও!
রাজ্যপাল ইউ কি তরবারিটা দেখেছিলেন?
হ্যাঁ, তবে এই চুরির সাথে তার সম্পৃক্ততা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না।
কিন্তু তরবারিটা তো তার আঙিনারই কোথাও না কোথাও লুকোনো আছে।
তাহলে নিশ্চয়ই কেউ তাকে ফাঁসানোর মতলবে আছে।
এই ব্যাপারে লি মু বাইকে অবহিত করতে হবে।
সাবধানে, দেখে চলুন।
- কী হয়েছে? - কেউ ঐ প্রচারপত্রগুলো লাগিয়েছে।
দেখি তো।
কেউ জেড ফক্সের পেছনে লেগেছে। অদ্ভুত তো, ওকে এখানে খুঁজছে কেন!
- পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বর্শা লড়াই! - ইয়াংয়ের বর্শা লড়াই শেখার স্কুল!
No comments yet. Be the first to leave one.