The first 200 lines.
বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদক সিজান_সৈকত
উৎসর্গঃ ভ্রমনপ্রেমী সকল মানুষদের প্রতি!
ঐ যে আমার ট্রেন।
দাড়াও, দাড়াও!
ধুরো।
ঘুম থেকে ওঠ, জ্যাক।
ফ্রান্সিসের সাথে দেখা হইছে?
হ্যালো, পিটার।
- শুভ অপরাহ্ন, হুইটম্যান? - ইয়াহ, আমরাই।
আপনাদের টিকিট দেখতে পারি, প্লীজ?
ধন্যবাদ।
প্লীজ, এখানে ধুমপান করা যাবেনা।
বিদেশে স্বাগতম।
মিষ্টি লেবু?
- অবশ্যই। - হ্যা, প্লীজ।
খারাপ হবেনা।
চল ড্রিংক করি আর সিগারেট খাই।
এখানে আসার জন্য, তোদের ধন্যবাদ দিয়ে শুরু করছি।
- ধন্যবাদ। - তোকে স্বাগতম।
ধন্যবাদ।
আমার কাছে এই পৃথিবীতে, তোরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
হয়তো কখনো এসব বলা হয়নি, কিন্তু এটা সত্য এবং আমি চাই তোরা সেটা জানিস।
- তোকে ভালবাসি, পিটার। - ধন্যবাদ।
- তোকেও ভালবাসি, জ্যাক। - আমিও।
এটা কিভাবে সম্ভব হলো! গত এক বছরে আমরা কেনো কথা বলি নাই?
চল আমরা একটা চুক্তি করি।
- কিসের জন্য? - ওকে।
আমি চাই আমরা আবার আগের মতো ভাই হয়ে যাবো...
নিজেদের ফিরে পাবো এবং আমাদের বন্ধন আরও মজবুত হবে।
আমরা সবাই একমত?
- ওকে। - ইয়াহ।
আমি চাই আমাদের এই ভ্রমণটা, একটা আধ্যাত্মিক ভ্রমণ হোক...
যেখানে আমরা অজানার সন্ধান করবো, এবং সেটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবো।
আমরা এর সাথে একমত?
- অবশ্যই। - আমারও একই মত।
আমাদের মাঝে কোনো লুকোচুরি থাকবেনা এবং আমরা সবকিছু পজিটিভলি নিবো!
এমনকি সেটা চরম বেদনাদায়ক হলেও।
আমরা তাতে একমত?
আমার সাথে ব্রেন্ডান আছে, সে আমাদের যাত্রাপথ ঠিক করছে।
- ব্রেন্ডান কে? - আমার নতুন সহকারী।
সে প্রতিদিন সকালে দরজার নিচ দিয়ে, আমাদেরকে আপডেট শিডিউল দিবে...
সকল আধ্যাত্মিক যায়গা এবং মন্দিরের, যা আমাদের দেখা প্রয়োজন...
এছাড়াও আরামদায়ক হোটেল এবং পরিবহনসহ যা কিছু প্রয়োজন, সে সবকিছুর ব্যবস্থা করবে।
সে এতসব কিভাবে করবে?
তাকে একটা প্রিন্টার ও ল্যামিনেটিং মেশিন দিয়েছি।
- সে কোথায় আছে? - তাতে কিছু যায় আসেনা।
সে এই ট্রেনের আলাদা বগিতে আছে...
তার সাথে আমাদের কখনো দেখা হবেনা।
তিনটি সিটের ব্যবস্থা করুন, প্লিজ।
- এটা তোর কাছে ঠিক লাগছে? - ভালোই লাগছে।
- ইয়াহ, ভালোই লাগছে। - তোদের আর কোনো প্রশ্ন আছে?
- আমার আছে। - ওকে, বলে ফেল।
তোর মুখে কি হইছে?
আমার অল্পবিস্তর মনে আছে!
তারপরও যা মনে আছে সেটাই বলি...
তখন প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিলো, যথারীতি ৫০ মাইল বেগে গাড়ি চালাচ্ছি...
হঠাৎ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়, চাকাগুলোও রাস্তা থেকে ছিটকে যায়...
আর আমি রাস্তা থেকে উড়ে যাই!
ঘুড়ির মতো গোত্তা খেয়ে, শূণ্য থেকে ৫০ ফিট নিচে পরি।
পড়ার সময় কাচের কিছু টুকরো এবং গাড়ির ধ্বংসাবশেষ এসে মুখে লাগে।
এবং কিছু সময়ের জন্য, আমার চারদিক নিঃশব্দ হয়ে যায়।
একেবারেই,
তারপর বুম! বাইক মাটিতে আছড়ে পরে, সেটা দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং আগুন ধরে যায়!
তখন একটা পাহাড়ের সাথে মুখে আঘাত লাগে।
আসলে আমি তখন বাড়ি ফিরছিলাম! আর এখন একাই বসবাস করছি।
যাইহোক, দুজন পথচারী আমাকে খুঁজে পায় এবং তারাই সকল ময়লা সরানো শুরু করে...
যেগুলো আমার নাক-মুখ, ও কানের ভেতরে জ্যাম হয়েছিলো।
আমার ব্রেন সাড়া দিচ্ছিলো না, আর হার্টও বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো...
টেকনিক্যালি, আমি তখন মৃত ছিলাম।
সেসময় তারা সঠিক কাজগুলোই করে, যেকারনে আমি এখনো বেচে আছি।
- হতভাগা। - ওয়াও।
জ্ঞান ফেরার পরে প্রথমেই মাথায় আসে, "পিটার ও জ্যাক এখানে থাকুক।"
- মায়ের সাথে যোগাযোগ হইছে? - না।
- তোর? - না।
আমারও না।
মরন।
- এটা কি? - ইন্ডিয়ান টাইপ মাসল রিলাক্সার।
ট্রেন স্টেশনের ফার্মেসীতে পেলাম।
- ওটা কি? - এখানে প্রেসক্রিপশন লাগে না।
একধরনের ইন্ডিয়ান ফ্লু মেডিসিন, যার ভেতর ঘুমের ঔষধ মেশানো আছে।
- তোরটা কি? - ইন্ডিয়ান ব্যাথানাশক, ট্রাই করতে পারিস।
আমি মুখের জন্য খাচ্ছি! সাবধানে ব্যবহার করিস।
কেবল এক ড্রপ খাবি।
শহহ।
আমার একটা দাতও পড়ে গেছে।
একটা ছোট গল্প শুনবি, ফ্রান্সে বসে লিখেছিলাম।
- সেটা কতো বড়? - কি?
- সেটা কতো বড়? - কতো বড়? যাইহোক কিছু মনে করিস না।
এটা ডিনার পর্যন্ত জমা রাখতে পারিস।
এরপরে যখন তোর দাত খুলবি...
আগেভাগে বলবি, প্লীজ এটার জন্য ক্ষমা করো...
একটু পিছিয়ে কথা বলবি? মাত্রই আমার চোখে থুতু ছিটালি।
যাইহোক, শেষ কবে আমেরিকা যাওয়া হইছে?
মনে নাই, শেষকৃত্যে হবে হয়তো।
অন্যভাবে বললে এক বছর?
আমাকে বলতেই হবে, আমি চাইনা আমাদের এই সম্পর্ক শেষ হয়ে যাক।
আমি অর্ডার নিতে পারি, প্লীজ?
আমরা মাংস নাকি মাছ নিবো? আমি মুরগী নিবো।
জ্যাক, তুই মাছটা খেয়ে দেখবি? বাজি ধরে বলতে পারি সুস্বাদু হবে।
আর পিটার, ভেড়ার মাংস? মুরগী, মাছ এবং ভেড়ার মাংস?
কেমন মনে হচ্ছে?
আর কে স্যুপ নিবি? হাত তোল।
- এটা কি বাবার সানগ্লাস? - ইয়াহ।
তুই এখনো তার স্মৃতিচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছিস!
এটা দিয়ে কিভাবে দেখিস?
- তিনটা স্যুপ। - স্যুপ, ইয়েস।
আমার জন্য অর্ডার না করে পারিস না?
- কি? - তুই নিজের জন্য অর্ডার কর।
কোন পার্টে আছিস?
তেমন কিছুনা, এটা অন্যকিছু মনে করালো।
এলিস কেমন আছে?
ভালোই।
সে একটা কোম্পানি শুরু করেছে, যারা মাটির ছোট পাত্র তৈরী করে।
আর সেসব বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে।
- তোকে একটা দিয়েছিলাম তো। - ওহ, ইয়াহ।
ধন্যবাদ।
আমার ঐ স্টুয়ার্ডকে দরকার।
এই জার্মানগুলো বড্ড বিরক্ত করছে।
লেডিস! শান্তি বজায় রাখার জন্য প্লীজ আস্তে কথা বলুন, ধন্যবাদ।
আমি কি আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছি?
দাড়াও, তাকে জিজ্ঞেস করে দেখি যদি সে পাওয়ার অ্যাডাপ্টার দিতে পারে!
এলিস প্রেগন্যান্ট।
- সত্যিই? মজা করছো না তো! - না।
- কতো দিন? - সাত মাস পনেরো দিন।
তাহলে ব্যাপারটা দাড়ালো, আগামী ছয় সপ্তাহর ভেতরে বাচ্চা জন্মাবে।
আশা করা যায়।
তাই চেষ্টা করবো এখানে যেনো, বেশিদিন আটকে থাকতে না হয়।
ফ্রান্সিসকে বলিস না।
ব্রেন্ডান, ঠিক ভোল্টেজ পাচ্ছে না।
আপনার স্যুপ, স্যার।
প্লীজ, এটার জন্য ক্ষমা করো।
হুম।
এটা পড়ে দুঃখ পাওয়ার কথা ছিলো?
আমি সেটাই মনে করি।
আমি তেমন পাগলাটে স্বভাবের না, যে মেকানিকের সাথে উচ্চবাচ্য করবো।
- সেরকম কিছুই তো হয়নি। - এখানকার সব চরিত্রই কাল্পনিক।
স্যার, ডেজার্ট অর্ডার দিবেন?
আমরা মিষ্টি নাকি ফল নিবো? আমি পুডিং নিবো।
জ্যাক, তুই কেক নিবি? আর পিটার, তোর জন্য কোনটা ভালো হবে?
কুকিজ?
- সে নিজের অর্ডার নিজে করবে। - কুকিজ।
আমি একটু আসছি...
সে কি নিজের মনেকরে, সবকিছু নিয়ে নিবে?
আমার মনেহয়, সে এখনো শোকে আছে।
বেশ, আমারও সেটাই মনে হচ্ছে! কিন্তু এসব কি অনৈতিক কাজ নয়?
আইনগতভাবে, আমরা তিনজনেই সানগ্লাসের দাবিদার।
আমি এই বিছানাটা নিবো, কারন আমি বড় এবং পায়ে চোট পেয়েছি।
পিটার, আশাকরি উপরে থাকতে আপত্তি নেই!
তাহলে উপরটা নিজের মতো গুছিয়ে নে।
আর জ্যাক, তুই ছোট খাটো একটা ভাল্লুক।
তাই দরজার পাশের বিছানাটা তোর। ভাগাভাগি কেমন লাগলো?
- ওহ দুঃখিত, আমি তো... - উঠে দাড়াও৷
- ব্রেন্ডান, এই হলো জ্যাক। - শুভ সন্ধ্যা।
- আর এটা পিটার। - হ্যালো, ব্রেন্ডান।
- পরিচিত হয়ে ভালো লাগলো। - কি অবস্থা বাছা।
- ওখানে সবকিছু কেমন যাচ্ছে? - বেশ ভালোই।
- এর মানে কি? - আর কোনো উত্তর পাইনি।
আবার চেষ্টা করো, কিসের জন্য অপেক্ষা করছো?
- বেশ, একটা মেসেজ পাঠিয়েছি। - তুমি হাসছো কেন?
মুখে টেপ প্যাচানো ও সবকিছু মিলিয়ে তোর কাছে তাকে কেমন লাগছে?
ব্রেন্ডান, তোমাকে কি বলেছিলাম?
মুখের ব্যাপারে বলতে পারবো না, কিন্তু আমার ধারণা তার ব্রেন আঘাতপ্রাপ্ত।
ধুর বাল! আবার এখান থেকে শুরু করো।
তাকে না পাওয়া পর্যন্ত কল দিতে থাকো, আর প্রতি ১০ মিনিট অন্তর অন্তর চেষ্টা করবে।
- ওকে। - এটা জরুরী, আমরা প্রায় চলে এসেছি।
- ওকে। - এবং আরেকবার, আমরা ক্লিয়ার হয়ে নেই।
আমি চাইনা এসব কোথাও উল্লেখ করো, কিংবা এসব নিয়ে অন্য কারো সাথে আলাপ করো।
- অন্যভাবে বললে, এটা সারপ্রাইজ থাকবে। - ওকে।
- একটা পাওয়ার এডাপ্টার দিতে পারবে? - এখনি না।
এখানে কতদিন থাকবি?
কি বলতে চাচ্ছিস? সে বললো তো, এই মাসের শেষ পর্যন্ত।
উহ হুহ।
এটা জিজ্ঞেস করলি কেন?
এমনিই জানতে চাচ্ছিলাম, যাতে আমার প্লান ঠিক করতে পারি।
- কিসের প্লান? - এখনো জানি না।
যাইহোক, আমি আমার টিকিট কেটে নিয়েছি! ফ্রান্সিসকে আবার বলিস না।
এখানে আমি একা তার সাথে থাকবো না!
এটা কি এলিসের পাত্র?
আমাকে আরও কিছু অর্ডার করতে হবে।
- ব্রেন্ডানকে বলে দিবো। - ওকে।
তার একটা চর্ম রোগ আছে, যেকারণে তার মাথা ন্যাড়া থাকে...
যদিও তার ন্যাড়া হবার দরকার পরেনা কারন, তার যেখান থেকে চুল পড়ে সেখানে আর ওঠে না।
তাকে আবার এসব বলতে যাস না।
এতে সে অপমানিত বোধ করবে।
এসব কি বাবার চাবি?
- ইয়াহ। - তার গাড়ির চাবিও আছে।
বোতামটা কোথায়?
আমি খুলছি।
শুভ সন্ধ্যা, মিঃ হুইটম্যান। কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
অনুগ্রহ করে আমাদেরকে, স্যাভরি স্ন্যাকস দেয়া যাবে?
অবশ্যই, আর কিছু লাগবে?
- উম, মনেহয় না। - এখনি নিয়ে আসছি।
একটা জিনিস বলতে ভুলে গেছি।
আমার সাথে বাথরুমে যেয়ে সিগারেট খাবে?
তুমি পুরাই পাগল।
তোমার নাম কি?
জ্যাক, তোমার?
রিটা।
তুমি অনেক সুন্দরী।
এরকম আর করো না।
No comments yet. Be the first to leave one.