The first 200 lines.
হানিওয়া, কফুন, তোমাদের দেখে অনেক ভালো লাগছে।
তুমি কি...
আমি জারলামারেল, তোমাদের বাবা।
যখন শুনলাম উইচফাইন্ডাররা আলকেনীদের ওইখানে হানা দিয়েছে,
বিরাট ভয় পেয়েছিলাম তখন।
আর কোনো সমস্যা হবে না।
এত লম্বা জার্নি করে তোমরা নিশ্চয় অনেক ক্লান্ত।
আসো, তোমাদের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
হাউজ অব এনলাইটম্যান্ট।
আগে এরকম কোনোকিছু দেখিনি।
বিল্ডিংটা নতুনই পেয়েছিলাম।
এটা জেলখানা ছিল আগে, তাই মজবুত করেই বানানো হয়েছে।
জেনারেটর বানাতে গিয়ে বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে,
এই বিদ্যুৎ, লাইট, গরম জল এসব কিন্তু জেনারেটরের অবদান।
সবাই তোমাদের জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে।
সবাই?
তোমাদের ভাই-বোনদের সাথে পরিচিত হয়ে নাও।
হানিওয়া, কফুন, তোমরা কাজটা করে দেখালে।
আমি অলোমান, তোমাদের ভাই।
এটা হচ্ছে শেভা।
-এটা ননি, স্যামি। -স্বাগতম।
এটা হচ্ছে শীনা।
স্বাগতম।
পরিচিত হয়ে ভালো লাগল।
আর এই দুইটা পুচকে শয়তান হলো হায়া আর হোভে।
তোমাদের খিদে লেগেছে নিশ্চয়।
কিছু খেয়ে নাও আগে।
আমাদের নতুন ভাই-বোন সহ...
পরিবারের সবাই একসাথে বসে যে খেতে পারছি...
সেজন্য শুকরিয়া।
এখন শুরু করতে পারো।
তোমাদের একটু বিশ্রাম নেয়া দরকার।
হানিওয়া, এটা তোমার রুম।
কফুনের রুম এর পরেরটা।
এখানে তোমার প্রয়োজনীয় সবকিছু আছে।
এটা তোমার বিছানা।
এটা ক্লাউডে মনেটের একটা পেইন্টিং।
এটা কিন্তু অরিজিনাল পেইন্টিং নয়,
নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে।
সুন্দর না?
হ্যাঁ।
শেষের জিনিসটা সবচেয়ে বেশি চমকপ্রদ।
এগুলো হচ্ছে তোমাদের গোসলখানা।
এই বোতলের মধ্যে সাবান আছে।
পানিও গরম।
হ্যাঁ, বইয়ে পড়েছিলাম।
বইয়ের পড়া থেকে বাস্তবে পরখ করে দেখা আরও মজাদার।
আসো, কফুন. তোমার রুম দেখিয়ে দিচ্ছি।
ওরা কি ভেবেছে আমরা এসবে ঘুমাতে পারব?
আমার তা-ই মনে হয়।
আমরা যদি একটা পরিবার হয়ে থাকি,
তাহলে একসাথে ঘুমচ্ছি না কেন?
আমিও একই জিনিস ভাবছিলাম।
এখানে আসো।
আগুন ছাড়াই কত উষ্ণ!
বাবাকে অনেক মনে পড়ছে।
আমারও।
আর কোনোদিন তাঁর সাথে দেখা হবে আমাদের?
জানি না।
লোকটাকে একা একা ছেড়ে দিলাম...
মাকে হারানোর পর থেকেই যত কিছু শুরু হয়েছে!
জানি না, এখানে কেন এসেছি।
কেউ যাতে ওর সাথে কথা না বলে।
কেউ যাতে ওর কাছে না আসে। ওকে কড়া নজরে রাখবে।
আসলেই?
হ্যাঁ।
আপনি ঠিকই বলেছিলেন।
আমায় সতর্ক করেছিলেন,
আপনার বোনের...
স্বৈরশাসনে সমর্থন দিলে, আগে অথবা পরে,
আমায় অনুতাপে ভুগতে হবে।
এত আগেই তা কীভাবে তা টের পেয়েছিলেন,
তা এখনো আমায় ভাবায়।
প্রত্যেকটা সৈন্যই ওদের বিবি-বাচ্চা, মা-বাবা, পরিবার-পরিজন হারিয়েছে।
ওদের যে কেউ কিন্তু আমাদের বা উনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার ক্ষমতা রাখে।
উনি যা করেছে, যদি ওরা তা জানতে পারে...
বাকিটা কী হবে খোদা মালুম!
যদি?
সত্য চাপা রাখবেন কয়দিন?
কাহিনী শুধু জানেন আপনি, আমি, আপনার উইচ...
রাণীর ওই সাগরেদ, যাকে পাহারায় রেখে এসেছি।
আর রাণী নিজে।
আগে হোক বা পরে, সৈন্যরা রাণীর মুখ থেকেই সব শুনতে চাইবে।
তখন ওদের আটকাবেন কীভাবে?
উনাকে আর রাণীর পদে কোনোদিন বসালে তো!
এর মানে কী আসলে?
এর মানে, আমাদের কাছে দুইটা পথ খোলা আছে।
হয়, তাঁর বোনকে যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে সিংহাসনে বসিয়ে...
তাঁকে স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করতে হবে...
না হয় তাঁকে সিংহাসনের আশে পাশে ঘেঁষতে দেয়া যাবে না।
যা-ই বলুন না কেন, সে তাঁর সিংহাসন ছাড়তে রাজি হবে না।
আমার কোনো কথায় উনি রাজি হবেন না।
তাই আপনাকে চেষ্টা করতে হবে।
তুমি প্রিন্সেস মাঘরার সাথে, তাই না?
উইচফাইন্ডার তোমায় বিশ্বাস করে এখানে পাহারায় রেখে গেছে।
তাহলে ধরে নিতে পারি তুমি ওদের কারো কাছে শপথ করেছ।
যদি মাঘরার কাছে শপথ নিয়ে থাকো...
তাহলে ভায়া উইচফাইন্ডারের হাতে তোমায় হেনস্থা হতে হবে।
মুখটা বন্ধ করো।
এই-তো, গতকালই আমি নিষ্ঠুর এক মানুষের ভৃত্য ছিলাম।
সঠিক সময় না আসা পর্যন্ত আমি...
সবকিছু মুখ বুজেই সহ্য করেছি।
তুমি ওর কাছে কী জন্য ঋণী?
আনুগত্যের জন্য নিশ্চয়!
কিন্তু তোমার কর্তব্যপরায়ণতা...
তোমার ভবিষ্যৎ, তোমার জীবনের কী হবে?
এটা কীভাবে হতে পারে?
রাণীমা বলে দিয়েছেন, সমস্যাটার সমাধান করা গেলে কোনোকিছুর আশা করতে পারি।
এখন বুঝে শুনে বলো, সমস্যার সমাধান করে...
জীবনে ভালো কিছু চাও কি না?
রাজকুমারীর ফুটফরমাশ খাটার চেয়ে...
রাণীর ফুটফরমাশ খাটা বহুগুণে উত্তম।
কী এটা?
পড়ো।
অনেক অনেক দিন আগে...
দৃষ্টিশক্তি নিয়ে যে-কোনো আলোচনায় তুমি ছিলে মুখ্য!
আমি আমার সেই আগের বোনকে ফিরে পেতে চাই।
আমি আশাবাদী, আগের শুভ সত্ত্বাটা এখনো তোমার মধ্যে বিদ্যমান।
আর সে তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি মেনে নিয়ে...
বিচক্ষণতার পরিচয় দিবে।
"সিংহাসন ত্যাগ করলাম!"
সিল বানাও তোমার, সবখানে ছড়িয়ে দাও।
লোকজনকে এটা পড়ে শোনাও, এখনই।
আর মেনে নাও, আমার অনুশাসনেই তোমাকে বাকি জীবনটা কাটাতে হবে।
কী মজার কাহিনীই না শোনালে!
এখানে পায়চারী করে করে ভাবছ, আমি তা হতে দিব!
আমার জন্য?
মন চাইলে করো, না চাইলে করো না।
সুযোগটা তোমায় দয়াপরবশ হয়ে দিইনি, দিয়েছি বাবার স্মৃতি-রক্ষার্থে।
মানো কি না মানো, সেটা সম্পূর্ণ তোমার ইচ্ছা।
কিন্তু আমার ইচ্ছা-তো অন্য কিছু, মাঘরা।
তুমি সেটা ভালো করেই জানো।
এটা জোরাজুরির মতো কোনো বিষয় নয়।
আমার জীবন বাঁচাতে করেদদের সাথে সন্ধি করতে হয়েছে,
সেটার কষ্ট কি কখনো তোমার ধাতে সইবে?
রাজা-রাণী বাছাই করবেন শুধুমাত্র দেবতারা।
আর যখন তাঁরা বাছাই করবেন, মৃত্যুকে অবশ্যই সাক্ষী হতে হবে...
নইলে কোনো উত্তরাধিকার, রাজপদবী বা ঐশ্বর্যের অস্তিত্ব থাকবে না।
শুধুমাত্র ক্ষুদ্র একটা মিথ্যা ওই তুচ্ছ প্রজাদের বিশ্বাস করাতে হবে।
যদি আমার অমরত্ব দেখতে চাও,
তাহলে তোমরা কেউ একজন আমার বুকে সাহস করে চাকু বসিয়ে দাও।
দৈব-নীতি, দৈব-কণ্ঠ, দৈব-বাণী।
বিপদে পড়লে এই কয়টা শব্দকে...
অজুহাত হিসেবে ভালোভাবেই ব্যবহার করা শিখে গেছ।
তোমার ভাগ্যে লিখা ছিল, এরকম একটা জায়গায় তোমার পতন ঘটবে...
তখন তুমি বলবে, দেবতারা তোমার সাথে আছেন...
কিন্তু দুর্ভাগ্য তোমায় সবকিছু থেকে বিচ্যুত করে দিবে,
যা তুমি একটু একটু করে জমিয়েছিলে।
তাই সিংহাসন ত্যাগ করার অনুরোধ রইল।
হয় করো, না হয় করো না।
সবকিছু তোমার উপরেই।
ঘুম হয়েছে?
না আসলে।
বুঝতে পেরেছি।
চির-চেনা সবকিছু পিছনে ফেলে এসেছ।
একটু খারাপ লাগাটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু কথা দিচ্ছি, কিছুদিন পর অনেক ভালো লাগবে।
এখন তোমরা তোমাদের পরিবারের সাথে আছ।
আসো, তোমাদের সবকিছু ঘুরিয়ে দেখাচ্ছি।
এইখানে আমরা রোজ পড়াশোনা করি।
পেন্সিল দাওতো একটা।
আমাদের প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে।
ঠিক আছে?
এই হলো গ্রন্থাগার।
সবগুলো বই জোগাড় করতে প্রায় ১০ বছর লেগেছে।
বিজ্ঞান, গণিত, চিকিৎসা শাস্ত্র,
ইতিহাস, ভূগোল, প্রকৌশলবিদ্যা, সাহিত্য।
আমাদের পূর্বপুরুষেরা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে...
জ্ঞান পৌঁছে দেয়ার ব্যাপারে অতি-সতর্ক ছিলেন।
যেন তাঁরা জানতেন, আমাদের একদিন তা দরকার হবে।
বইগুলো হচ্ছে আশীর্বাদস্বরূপ, যার আলোয় তোমাদের আলোকিত করতে চাই।
এই আশীর্বাদ একদিন অভিশাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে, তাই না?
কারণ প্রতিদিন আমরা চোখের সামনে...
অনেক কার্যকর জিনিসকে ক্ষয় হতে দেখছি।
তোমার একা একা লাগে না ?
আসলেই?
কফুন, আমি কী বুঝাতে চেয়েছি, তা তুমি ভালো করেই জানো।
এসব জিনিস আমরা যতটুকু সম্ভব লোকচক্ষুর আড়ালে রেখেছি।
আসলেই।
আমার মতো মানুষদের খুঁজতে, সারাটা জীবনই ঘুরে-ফিরে কাটিয়েছি।
পার করেছি ট্রিভ্যান্টাস, ঘুরেছি ওয়েস্টার্ন ব্যাডল্যান্ডেও।
পায়ানের পশ্চিমাঞ্চল, আর আটলান্টিকের সকল জায়গায়।
কিন্তু কোনো দৃষ্টিশক্তি ওয়ালা মানুষের দেখা পাইনি।
তুমি সমুদ্র দেখেছ?
সাঁতারও কেটেছি।
তো ফিরে আসলে কেন?
এ জায়গাটা তৈরি করতে।
এটা হচ্ছে জ্ঞানের ভাণ্ডার আর এক অভয়ারণ্য...
যেখানে আমরা নির্বিঘ্নে জ্ঞান অন্বেষণ করতে পারব।
আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া বিজ্ঞানকে দিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারব।
কিন্তু তুমি-তো বললে, আগে তোমার মতো মানুষের দেখা পাওনি।
পাইনি বলেই-তো তোমাদের জন্ম দিলাম।
আমরা সবাই তোমার সন্তান?
হ্যাঁ। তুমি, কফুন...
অলোমান, শেভা।
শুধু এই দুইটা বাদে।
ওরা অলোমানের সন্তান।
আর ওদের মা?
ওরা তোমাদের মতোই ওদের মা'কে ভালোবাসে।
মায়ের জন্য ওদের মনে আলাদা একটা স্থান আছে।
No comments yet. Be the first to leave one.