The first 200 lines.
সেই করতালির আওয়াজ এখনও আমার কানে বাজে,
এবং এত বছর পরও, তা আমার মনে আছে,
কারণ একরাতে,
আমি আমার রোব খুলে ফেলি ; তারপর কী করি?
শর্টস পরতে ভুলে যাই।
আমার পড়া, কনুই বাঁকা করে মারা, ঘুষি মারা - সব মনে আছে,
এর চেয়ে বাজে উপায়ে কারও মেদ ঝরানো সম্ভব না ;
যেহেতু জানেন, আমার জীবন গতানুগতিক ধারার নয়।
যদিও আমি...
যদিও আমি চাই আপনাদের বাহবা পেতে যখন আপনারা...
যখন আমি শেক্সপীয়ারের নাটক করতে যাবো...
"ঘোড়া ! ঘোড়া ! আমার রাজ্যে ঘোড়া চাই !"
৬ মাসে একজন বিজয়ীকেও পাইনি।
যদিও আমি অলিভার নই, তারপরও...
এমনকি অলিভার যদি সুগার রে-এর সাথে লড়ত,
সেও জিনিসটাকে বক্সিং এর বদলে নাটক ভাবত।
তাই আমার আসল প্রতিভা দেখাতে একটা মঞ্চ দরকার,
আর যদিও আমি লড়াই পারি, আমার মন পড়ে আছে আবৃত্তিতে।
এটাই বিনোদন।
এটাই বিনোদন।
জেইক লামোটা এবং জিমি রিভ্স
ক্লিভল্যান্ড এরেনা-তে।
লামোটা যদিও অপরাজিত, পয়েন্টে সে বেশ পিছিয়ে।
এই রাউন্ডে সে অনেক কিলঘুষি খেয়েছে।
জেইকের বাম চোখে লেগেছে। জিমি রিভ্স তাকে কুপোকাত করেছে...
জ্যাক, প্রত্যেকবার ক্লিভল্যান্ডে এসে তোমাকে ঐ কালামামার হাতে চিৎপটাং হতে হয় কেন?
সময় থাকতে জ্বলে ওঠো।
সে জিতে যাচ্ছে ; আরও পয়েন্ট লাগবে তোমার।
১০ম রাউন্ড শুরু হতে যাচ্ছে ; তোমার ওকে হারাতেই হবে এবার।
ওকে কামড়াও, লাত্থি দাও, যা দরকার করো।
তুমি জানো, তোমার কী করতে হবে।
এসব তো বাম হাতের কাজ... কত পালোয়ান হারল তোমার কাছে।
মাদারচোতটারে কাত করে ফেলো। বুঝলে? হারিয়ে দাও ওকে।
এত বুঝলে তুই নিজেই ফাইট কর?
হেল্প !
একটা নকআউট দরকার তোমার। এই রাউন্ড-ই শেষ সুযোগ।
১০ম এবং শেষ রাউন্ড। দুজনকেই গুডলাক।
লামোটার মুখে ভয়ের ছাপ নেই কোনো।
রিভ্স এর সামনে এক তুখোড় ফাইটার,
যে জানে না কীভাবে পিছিয়ে থাকতে হয়।
লামোটা সবেগে এগিয়ে যাচ্ছে, বক্সিংয়ের বিশেষ কৌশল প্রয়োগে...
কনুই বাকিয়ে চোয়ালে মারল বাম হাত এবং রিভ্স হলো কাবু !
জনতারা জেইকের জন্য উল্লাস করছে।
রেফারি রিভ্সকে তাগাদা দিচ্ছে। তাকে উঠতেই হবে।
লামোটা আবারও মারতে আসল, রিভ্স ডান হাতটা মিস করল,
পরপর দু'বার বাম হাতে খেল, এরপর চোয়ালে সজোরে বাম হাতের ঘুষি,
এবং দ্বিতীয়বারের মত রিভ্স হলো কাত।
অপ্রতিরোধ্য জেইক এই ১০ম রাউন্ডে দারুণ কামব্যাক করেছে।
রিভ্স আবারও উঠেছে ; লামোটা আসছে ঘা দিতে।
বাম হাতে চোয়ালে ঘুষি, আবারও বাম হাত, এরপর ডান হাতে পেটে ঘুষি।
বুকের নিচে তিনবার বাম হাতে ঘুষি, চোয়ালে একটা ঘুষি,
মাথায় আরও দু'বার বাম হাতে ঘুষি, চোয়ালে বাম ও ডান হাতে ঘুষি।
তৃতীয়বারের মত রিভ্স হলো কাত,
এবং রেফারি লামোটাকে সরিয়ে নিচ্ছে।
২... ৩...
৪...৫...
- রেফারি রিভ্সের ওঠার সময় গুনছে। - ৬... ৭...
- কিন্তু সময় গড়িয়ে যাচ্ছে... - ৮...৯...
...এবং বেল বেজে গেল।
হাঁটতে না পারলেও বেল বাজায় রিভ্স বেঁচে গেল।
কিন্তু লামোটা দেরি করে ফেলেনি তো?
জ্যাক, এখানে আসো।
লাভ নেই। এটা ওহায়ো, নিউ ইয়র্ক নয় !
- তুমি একটু বেশিই সময় নিয়েছিলে ! - শালার বেজন্মা !
রোবটা ঠিকমতো পরা আমাকে !
ভাই ও বোনেরা...
...ওহায়ো বক্সিং কমিশন-এর নিয়মানুযায়ী,
১০ রাউন্ড শেষে,
সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিজয়ী হচ্ছে,
- জিমি রিভ্স ! - উৎফুল্ল জেইক লামোটা,
''দ্য ব্রনক্স বুল'' তার ১ম ফাইটে হেরে গিয়েছে।
এ কেমন বিচার ! জেইক-ই তো এই ফাইটের বিজেতা !
জেইক ফাইটটা জিতেছিল !
যাবে না। এই রিংয়ের ভিতরেই থাকো।
তুমিই বিজয়ী...ও আগে যাক। থেকে যাও বলছি।
লামোটা ফাইটে ৭ বার রিভ্সকে কুপোকাত করার পরও,
শেষমেশ সে ফাইটটা হারল।
জেইক ! জেইক ! জেইক ! জেইক !
হেল্প !
...ওর হাত উঠানোর পরই খেল খতম হয়ে যায়।
ওরা বলল, সে নাকি ফাইটটা জিতেছে। শুনে মানুষের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
টমি ম্যাচটা সামলালে এই অঘটন কখনোই ঘটত না।
নিউ ইয়র্কের টাইটেল ফাইটে তাকে টমির সাথে থাকতে হবে।
নইলে তোমার ভাই সেই ধরা খাবে।
- জানি সেটা। - ভালো।
ওকে বুঝাও, সবাই মিলেমিশে কাজ করলে, তার জন্যই ভালো।
- বললাম তো জানি। - খুব ভালো,
কিন্তু সময় থাকতেই তোমার ওকে বিষয়টা বুঝাতে হবে।
আল্লাহ্র ওয়াস্তে থামবে এবার?
এক জিনিস নিয়ে কতক্ষণ পকপক করবে?
বললাম তো, আমি সব বুঝি।
সে ব্যাস তার নিজের জন্য কাজ করতে চায়।
- বিষয়টা কি এতই দুর্বোধ্য? - কথাগুলো বলছি, কারণ সে...
- ঘাড়ত্যাড়া টাইপ মানুষ। - হাসালে।
কাজটা খুব সহজ বুঝি? তুমিই নাহয় কথা বলো তার সাথে।
- তুমি জানো, তাকে কী বলতে হবে। - আমি তার সাথে কথা বলতে পারবো না।
- কেন পারবে না? - কারণ সে আমাকে পছন্দ করে না।
কেউ তোমাকে পছন্দ করে না ; এই চিরন্তন সত্যটা মেনেই ফেলো।
তারা জানতো।
তারা জানতো, কে বস।
বিচারকরা জানতো না। কী যে তাদের মাথা খেল, আল্লাহ্ই জানে।
মানুষ জানতো।
আমাকে তো বিশ্বাসই করো না ; ভেবেছিলে, আমি ওখানে আউফাউ কাজ করি, না?
তুমি ভেবেছিলে, আমি ওখানে আউফাউ কাজ করি, সত্যি না?
আমি কোনো আউফাউ কাজ করি না।
- সব তোমার মনের ভুল। - হ্যাঁ, তাতে কী?
একবার চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্ট পেয়ে নিই, তারপর যত আউফাউ কাজ করবো।
হয়েছে?
না, এখনও হয়নি।
বেশি রেঁধো না আবার। বিচ্ছিরি লাগে খেতে।
স্বাদটাই নষ্ট হয়ে যায়।
করছটা কী? বললাম না বেশি না রাঁধতে।
তুমি বেশি রেঁধে ফেলছ ; নিয়ে আসো এবার।
- মাংস লাগবে তোমার? - নিয়ে আসো এখানে।
নিয়ে আসো !
পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে ! নিয়ে আসো বলছি !
- মাংস লাগবে তোমার? - হ্যাঁ, এখনই !
বেশ। এই নাও তোমার জানের মাংস।
- ঠিকমত রাঁধতে তো দিবে নাকি? - অত সময় নেই আমার।
বেশ। খুশি এবার?
- খুশি? - এইটাই তো চাই আমার।
প্রাণভরে খাও এবার।
একটা মাংসের জন্য আমাকে কথা শুনাচ্ছ? একটা মাংসের জন্য?
তোমার কথা ঠিক। টমির সাথে তার হাত মেলানো উচিৎ।
তার মনমেজাজ ভালো থাকলে, কথা বলে দেখবো। আর কীই বা করার আছে আমার?
টমি প্রতিদিন আমাকে তোমার আর জেইকের সাথে কথা বলতে বলে
বিষয়টা মিটমাট করার জন্য ;
এর মধ্যে আমি ফেঁসে যাচ্ছি।
তুমি ফেঁসে যাচ্ছ? আমি তো ওর ভাই।
- ও মাথা খারাপ করে দিচ্ছে আমার। - তুমিই তো ওর ভাই।
তুমি না বললে, আর কে কথা বলবে ওর সাথে?
- আমি কথা বলে দেখবোনে। - যা পারো করো, ব্যাস।
- এতটুকুই আবদার তোমার কাছে। - আগামীকাল দেখা হবে।
- যাই তাহলে। - দেখা করবো কোথায়?
জিমে থাকলে দেখা হতে পারে, নয়তো হবে না।
- আচ্ছা, জিমের কাছে দেখা হবে। - আচ্ছা। স্যাল?
হ্যাঁ?
আর কী কী অভিযোগ তোমার, শুনি।
- অভিযোগ? ওগুলো কোন জাতের গাঁজর? - গাঁজরই তো।
- ওগুলো কোনো খাবারের জাতে পড়ে? - খেয়েছিলে তো। খেয়েছিলে ওগুলো?
ওগুলো কোনো খাবারের জাতে পড়ে? না খেয়ে উপায় কী !
- অনেক সহ্য করেছি তোমার তামাশা ! - আর কোনো উপায় ছিল না !
- অবিশ্বাস্য ! - আর কোনো উপায় ছিল না !
ঢং যত্তসব ! দূরে যাও আমার থেকে !
- প্লিজ ! - এখানে আয়। এখানে আয় !
হাত দিয়ো না গায়ে, দূরে যাও আমার থেকে !
মরা ! অনেক সহ্য করেছি তোমার তামাশা !
জানোয়ারের মত আচরণ কেন তোমাদের?
- কী?! - জ্যাক, অনেক হয়েছে !
- জানোয়ারের দল ! - আর কত !
ঐ কুত্তার বাচ্চা আমারে জানোয়ার কচ্ছে।
- ঐ, শোন ! - আর কত, জ্যাক।
আমি তোর কুকুরটা দিয়ে লাঞ্চ করবো !
শুনছিস আমার কথা? শুনছিস, ল্যারি?
- ল্যারি? - জানোয়ার কোথাকার !
কাকে জানোয়ার বললি? তোর মা জানোয়ার !
কুত্তার বাচ্চা !
কালকে যাওয়ার পথে তোর কুকুরকে মরা পাবি, বলে রাখলাম।
- আমি আর পারছি না ! - ব্লক জুড়ে সবাই,
- সবাই তোমার বাকোয়াজ শুনছে। - ঐ শালার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করবো আমি।
- শান্ত হয়ে বসো তো। - আমি আর পারছি না !
ওখানে একটা জিনিসও ভাংলে তোর খবর আছে !
খোদার কসম, ওখানে এসেই তোর ঘাড় মটকাবো আমি।
আসো পারলে।
শান্ত হবে একটু?
বাল !
কী এমন করলাম আমি?
আসো, সোনা, আর ঝগড়াঝাঁটি হবে না।
- ডিল, ঠিক আছে? - মোটেও ঠিক নেই !
ঠিক হচ্ছে না কাজটা, বলে রাখছি...
সারাক্ষণ হাতির মত খাওয়া-দাওয়া করতে পারো না,
এত ছাইপাশ আর কত সহ্য করা যায় !
ঠিক করছ না কাজটা। আমার কথা মানো।
রিভ্স-এর কথা ভুলে যাও। আরও লাখ লাখ ফাইটের সুযোগ আছে তোমার।
তুমি এভাবে চালিয়ে যেতে পারো না।
কী সমস্যা?
কিছু একটা তো হয়েছে ; খুলে বলো।
আমার চিন্তা কী নিয়ে, জানিস?
আমার হাত।
কী হয়েছে তোমার হাতের?
আমাত হাতগুলো ছোট। বাচ্চা মেয়েদের মত।
আমার হাতও অমন। সমস্যা কী তাতে?
এর মানে জানিস?
আমি যত বড়ই হই না কেন, যার সাথেই লড়ি না কেন,
যাই করি না কেন, কখনই জো লুইস-এর সাথে লড়তে পারবো না।
তা ঠিক, সে হেভিওয়েট, তুমি মিডলওয়েট।
আমি সেরাদের সাথে ফাইট করার সুযোগ পাবো না।
কিন্তু সত্যি বলতে কী, আমার সাথে তাদের তুলনা চলে না।
আমি কখনোই সেই সুযোগ পাবো না।
তুই জিজ্ঞেস করায় বললাম।
তোমার এমন কিছু মাথায় আনাও উচিৎ হয়নি।
সে হেভিওয়েট, তুমি মিডলওয়েট।
স্বপ্নেও তোমাদের ফাইট সম্ভব না। শুধুশুধু এটা নিয়ে ভেবে সময় নষ্টের কী মানে?
এটা স্বাভাবিক না।
একটা উপকার কর আমার।
- কী? - আমার মুখে ঘুষি মার।
- কী? - আমার মুখে ঘুষি মার।
বাদ দাও।
আমার মুখে ঘুষি মার বলছি।
- যত জোরে পার মার। - বাদ দাও তো, আমি নেই এর মধ্যে।
No comments yet. Be the first to leave one.