The first 200 lines.
সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি লাভারদের সাদর আমন্ত্রণ আমাদের ফেসবুক পরিবারে "ব্লকবাস্টার সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি লাভারস বাংলাদেশ গ্রুপ"
অনুবাদকঃ- সাইফুদ্দিন শাকিল ও অনন্য দেবনাথ
মা! শোনো না, মা!
তোমার বদলি হলে নাহয় কথা ছিলো।
আমাদের কেন শুধু শুধু যেতে হবে?
এখানে সবকিছু ঠিক আছে।
আমাকে দাও।
মা, বুঝার চেষ্টা কর।
তুমিই বলো, ইঞ্জিনিয়ারিং-এর থার্ড ইয়ারে কে ট্রান্সফার হয়?
করতেও অনেক ঝামেলা।
দাঁড়াও, আমি নামিয়ে দিচ্ছি।
চিন্নি, তোমার খেলনাগুলো নিয়ে এসো। পরে নাহলে কান্না করবে।
- না। - না!
আমরা হায়দ্রাবাদে কোথায় থাকবো? কি করবো সেখানে?
কি প্ল্যান তা তো বলো?
- মা! - তোরা মামার বাড়িতে যাচ্ছিস, ব্যস!
আর কোনো কথা না
সত্য সেখানে মেডিকেল কোচিং-এ ভর্তি হবে।
চিন্নি নতুন স্কুলে ভর্তি হবে
- নতুন স্কুল? - হ্যাঁ, এবার খেতে আয় তোরা।
আমি খাবো না।
ঠিকাছে, তাহলে আমিও খাবো না।
- আয়। - এমন কেন করো, মা?
মা, ওরা যাক তাহলে। আমি থাকি এখানে।
আমার কলেজ এখানে। আমার বন্ধুরাও সব এখানে।
- না, মা। - আমি থাকবো এখানে। এদের পাঠিয়ে দাও।
আমি যাবো না।
- ওহ্, থাম তোরা! - মা, আমি যাবো না।
সিনু, এদিকে আয়।
তোরা মামার বাড়িতে গিয়ে থাকবি, আমাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করিস না।
কি সমস্যা, মা?
সিনু, প্লিজ, বোঝার চেষ্টা কর।
তোদের বাবা নেই। আমি তোদের সেই অভাব কখনো বুঝতে দিই নি।
এভাবে কেন বলছো?
বাবা, আমার জন্য এতটুকু কর।
তুই যদি এমন করিস, ওরা তো এখনো ছোট, ওদের কীভাবে বোঝাবো আমি?
তুই-ই ওদের রাজী করাতে হবে।
তাদের খেয়াল রাখতে হবে।
আচ্ছা, মা। আমি তাদের দেখে রাখবো।
কিছুই বুঝতে পারছি না! আমি এখন নতুন কলেজে কীভাবে ভর্তি হবো?
আমি মামা আর দাদুদের সাথে কীভাবে থাকবো যাদের আমি এত বছর দেখিনি?
নতুন বন্ধু...নতুন লোকজন...
সবকিছু নতুন!
মাও আমাদের সাথে নেই।
আমিই এখন তাদের অভিভাবক। তাদের সব দায়িত্ব এখন থেকে আমার।
সবকিছুই কীভাবে পাল্টে গেলো।
আমরা আগে সবসময় ঝগড়া করতাম।
এখন মাকে কথা দিয়েছি যে, কখনোই তাদের বকা দেবো না।
এটা কি সম্ভব?
আমরা এসে গেছি?
- তাকে জাগাবো? - সে কাঁদতে পারে!
প্রথমবার সে মাকে ছাড়া ঘুম থেকে উঠবে।
সময় নেই, তাকে ওঠাতেই হবে।
মায়ের সাথে দেখা করার জন্য আর ৩৬৪ দিন বাকী আছে।
- ষ্টেশন এসে গেছে? - হ্যাঁ, ম্যাডাম।
- দাদু আসবে বলেছিলো না? - হ্যাঁ, চিন্নি।
কখন? এখনো তো এলো না?
- আর পাঁচ মিনিট দাঁড়াই। - চলে আসবে, ঠিকাছে?
- ওই দেখ! - কি ওটা?
একটা অটো নিই?
- চল, দাদু বোধহয় আসবে না। - ঠিকাছে?
- চিন্নি, ঠিকাছে না? - ঠিকাছে।
দেখ, চিন্নি! ওই দেখ, ওই দেখ। সুইমিং পুলটা কত সুন্দর!
- দারুণ না? - হ্যাঁ।
হেই...অটো, দাঁড়া। হেই অটো, দাঁড়া, দাঁড়া বলছি!
আমি দেখছি।
এইটা বি-ব্লক না?
মানে সান শাইন ভ্যালি বি-ফেইজ...
কে রে এরা?
গোল্ড-ফেইজে অটো ঢুকতে মানা করেছিলাম না?
ঘুমাচ্ছিলি নাকি?
- হেই বের হ! - ঘুমাচ্ছিলি? - বের হ!
বের হ...অটো বের কর।
- আরে এটা বি-ব্লক না, বস? - আরে এটা গোল্ড-ফেইজ।
বি-ব্লক না, ওইদিকে যাও!
তাড়াতাড়ি বের হও।
- এদিকে আয়। - আমরা এখানে থাকবো না।
না।
বি-ব্লক খুঁজছে!
এই বাবু, এক প্যাকেট বিরিয়ানি! এই একটু বিরিয়ানি!
হেই ধুর! কেউ শোনে না!
বি-ব্লক ২৯ টা কোনদিকে?
এই জায়গায় নতুন?
এখন তো বৃষ্টি হচ্ছেনা? তাহলে আপনি রেইনকোর্ট কেন পড়েছেন?
ঠিক ১ ঘন্টা পরে বৃষ্টি হবে, এই জন্য!
আপনি কীভাবে জানলেন?
চলো।
ডান দিকে।
বি-ব্লকটা কোন দিকে?
অন্ধ নাকি? ঠিক করে কর না!
ছাড়ো তো।
এই অল্প কাটার জন্য টাকা লাগবে না।
রাখ, চা খাস।
দোয়া করি, ভাই! আজকে শিউর সেঞ্চুরি করবেন আপনি!
- গোল্ড-ফেইজ এর ছেলেরা বেশি বেড়েছে। - দেখা যাক!
বৃষ্টি না হলেই ভালো, কি বলিস?
বি-ব্লক ২৯ টা কোনদিকে?
২৯? সোজা যাও, কোনায় একটা ঘর দেখতে পাচ্ছো?
- হ্যা? - ওটাই।
তোমার জন্য রক্ত বের হয়ে গিয়েছে!
আরে ব্যাপার না!
- তুমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তেছো? - হ্যাঁ -আপনি? -আমি?
আমি অনেক পড়ালেখা করে ফেলেছি। এখন আমি ব্যবসা করি।
- ওইটা না? - হ্যাঁ।
চিন্নি, চলে এসেছি।
- ভাই, চা খান! - লাগবে না।
আমি বাড়ি যাচ্ছি, সেখানেই খেয়ে নেবো।
শুনছেন!
শুনুন!
- আমি? - হ্যাঁ।
- সি-১০ টা কোনদিকে? - সোজা ডানে, তারপরে বামে, তারপরে ডানে, বামে...
বললে অনেক কষ্ট হবে।
- এসো আমি দেখিয়ে দিচ্ছি। - লাগবে না, আপনি বলুন।
আরে বলছি তো কষ্ট হবে
আমি ওইদিকেই যাচ্ছি। এসো, আমি তোমাকে দেখিয়ে দিচ্ছি।
এই হচ্ছে সি-১০!
বাবা,এখানে।
আমিও কাছেই থাকি! ওটা আমার ঘর!
এখানে নিয়ে আসেন।
এটা হচ্ছে দাদুর বাড়ি!
মা যেমনটা বলেছিলো, সব একই আছে।
দেয়ালে অনেক নকশা, গান্ধীজী আর নেহেরুজীর ফটো আছে!
এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন, সিনু? ভেতরে আয়।
ইনি মামী, খুব কঠোর নারী। কিন্তু মা বলে ওনার হৃদয়টা খুব কোমল।
- তোর ক্লাস কাল থেকে শুরু হবে। - আচ্ছা, মামা।
রশিদটা নে।
- এটা ক্লাসে দেখাবি। - আচ্ছা।
- দাদু চিন্নি-কে স্কুলে নেবে। - আচ্ছা।
- তোর কলেজ কোনদিন শুরু হবে? - আরও ১ সপ্তাহ আছে, মামা।
আচ্ছা, বিকেলে কথা হবে।
মামা একজন উকিল, উকিল যে কিনা সত্যের জন্য লড়ে।
এই জন্য তিনি এখনো বাইকেই ঘুড়ে বেড়ান।
আমার মামাতো ভাই, সে IAS-এর জন্য পড়ছে।
ইনি দিদা, উনি খুব ভালো আচার বানান।
মা বলে, উনি নাকি প্রত্যেক ঋতুতে আচার বানান
- হেই, দিদি! - মামাতো বোন।
মামী এই বছর তার বিয়ে দিতে চাচ্ছেন।
- ওনাকে সাহায্য কর। - ঠিকাছে।
- মামী, আমি করছি। - তুই পারবি? - হ্যাঁ, পারবো।
হুম, ভালোই করছিস।
আর সবশেষে, আমার মনভোলা দাদু!
- আমার অতি প্রিয়! - দাদু!
আমি ঠিক সময়ে স্টেশনে গিয়েছিলাম...
কিন্তু ট্রেইন নাম্বার নাকি প্লাটফর্ম নাম্বার মিস করেছিলাম।
এটা আমাদের রুম! একটু ছোট।
সত্য টিকটিকি-কে খুব ভয় পায়। আমি ফ্যান ছাড়া ঘুমাতে পারিনা।
তোদের মুখ ধোয়া হল?
সিনু, কফি!
তোর দুধ, চিন্নি।
নে এটা।
চিন্নি গরম পানিতে গোসল করে, আর সে দুধ একদমই খায় না।
- কি হলো? - কিছুনা, মামী।
এই নে।
রুটির সাথে বাঁধাকপির তরকারী, ঠিকাছে? - বাঁধাকপি?
- ঠিকাছে, মামী। - আচ্ছা,মামী। - আচ্ছা।
চিন্নি, মামী যাই বলুক, ওকে বলবি, ঠিকাছে?
আমি সত্য-এর খাট জানালার পাশে ছেড়ে দিলাম।
যাতে সে ভালোভাবে পড়তে পারে।
নিজেকে খাপ খাওয়াতে কত কষ্ট, সেটা ভালোই বুঝতে পারছিলাম।
মামী, দাদু, দিদা, সবাই সেখানে থাকবে।
সবাই যেন বলে, চিন্নি খুব ভালো মেয়ে, ঠিকাছে?
তুমি ১ বছর একদম কাঁদতে পারবে না।
১ বছরে কতদিন হয়, মা?
আমিও মায়ের কাছে অনেক প্রমিস করেছি।
সত্য যেন ডাক্তার হয়।
আমি যেন রাগ না করি, ভালো করে পড়ালেখা করি
এবং এদের সাথে যেন ঝামেলা না করি।
ও, বৃষ্টি হচ্ছে!
মা বৃষ্টি খুব ভালবাসতো!
তিনি সব বাচ্চাদের কাগজের নৌকা বানিয়ে দিতেন।
এটা ঠাম্মা কে দিও।
- আরে, কি এটা? - ইডলি নারিকেলের চাটনি।
তুমি...?
তুমি সিনু?
লক্ষ্মী-র ছেলে?
সত্য আর চিন্নি এসেছে?
তারা উপরের তলায়।
ও ধনী মামীর মেয়ে।
মা বলেছিলো, ওরা আমাদের পছন্দ করেনা।
কিন্তু ওকে তো এমন মনে হচ্ছে না।
খুব সুন্দর!
আমার মায়ের মত লম্বা চুল! সুমধুর হাসি।
তাকে যেন বার বার দেখার ইচ্ছে হয়।
দেখতে গেলে, তুমি আত্মীয়।
আমি পদ্মাবতী, পদু! আমার দিদারও নাম এটা।
শ্রীনিবাস...সিনু আমার দাদুরও নাম এটা।
চলো, বাবা! বৃষ্টির মধ্যে কে সিগন্যাল মেনে চলে?
দাঁড়াও, আমি দিচ্ছি।
আমার মনে হয় গোল্ড-ফেইজ এর মেয়ে, বাবা!
অন্তত তাকে দেখানোর জন্য ভিখারিকে ১০টা টাকা দিতে পারতে।
- ওই ভিখারির চেহারা তোর মনে আছে। - না!
ঠিক সেরকম তোর চেহারাও মেয়েটার মনে নেই।
তোমার চেয়ে নিরাশাদায়ক দুনিয়াতে আর কিছু নেই, বাবা।
নিজেকে গোল্ড-ফেইজের সাথে তুলনা না করে,
ওদের চেয়ে বড় কিছু চিন্তা করিস।
দাঁড়ান...দাঁড়ান, স্যার!
আমি তো কাছেই ছিলাম, ডাকলেই পারতেন।
সব বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে। এখানে রাখুন, স্যার।
আমরা আছি তো, নাকি? আমাদের সাহায্য করা উচিৎ করা নয় কি?
আপনি কি করেন, স্যার?
No comments yet. Be the first to leave one.