The first 200 lines.
কিছু ইতিহাস লেখা হয় রক্ত দিয়ে।
কিছু ইতিহাস লেখা হয় অশ্রু দিয়ে।
এই ইতিহাস রক্ত এবং অশ্রু দুটো দিয়েই লেখা হয়েছে।
রক্ত এবং অশ্রুর কাহিনী।
- স্যার। - গুডমর্নিং, স্যার।
জরুরি প্রয়োজনে দিল্লি যাচ্ছি, SP কে জানিয়ে দাও।
ওকে, স্যার।
একটু তাড়াতাড়ি করবেন, প্লিজ? ধন্যবাদ, স্যার।
ধন্যবাদ। স্যার।
মি. বিক্রম...কোড রেড।
জলদি শুরু করুন।
আসছি, স্যার।
রাজপুত স্যার কল করেছেন।
বললেন কোড রেড।
ট্যাক্সি! স্যার!
স্যার, আইডি প্লিজ।
স্যার, ওনারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আসুন।
এইদিকে প্লিজ।
ধন্যবাদ।
জেন্টলম্যান, ইনি বিশ্বনাথ শাস্ত্রী...
DSP - ক্রাইম ব্রাঞ্চ, গুন্টুর।
এবং ইনি মি. অনুজ গুপ্তা, দিল্লি ভি.আই.পি সিকিউরিটির ইনচার্জ।
স্যার।
মি. সিং, পুলিশ কমিশনার, দিল্লি
স্যার।
ইনি মি. বিক্রম চৌধুরী...
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পার্সোনাল সিকিউরিটির ইনচার্জ।
আমি রাঘবেন্দ্র রাজপুত, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর চিফ।
স্যার, জিজ্ঞেস করতে পারি এত তামঝাম কীকারণে?
মানে, মাঝরাতে ফোন, দিল্লির জন্য স্পেশাল ফ্লাইট।
কী চলছে, স্যার?
মি. বিশ্বনাথ শাস্ত্রী, IPS ১৯৬৩ ব্যাচ।
১ম পোস্টিং... বাপাটলা ডিভিশন...
২য় পোস্টিং...চিরালা ডিভিশন...
৩য় পোস্টিং... ১৯৭৯ হতে এখন অব্দি...
DSP - ক্রাইম ব্রাঞ্চ, গুন্টুর।
তো প্রাথমিকভাবে আপনি টাইগারের জোনে কাজ করেছেন।
টাইগার...
নাগেশ্বর রাও এর জোন।
স্যরি স্যার, ঠিক বুঝলাম না।
টাইগার নাগেশ্বর রাও'কে নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন?
মি. শাস্ত্রী...
এই মিটিংয়ে প্রশ্ন শুধু আমি করব।
প্লিজ বসুন।
এবার টাইগার নাগেশ্বর রাও এর ব্যাপারে সব খুলে বলুন।
স্যার।
স্যার, নাগেশ্বর রাও যদি রাজনীতিতে যোগ দিতো...
নিজ বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করতো।
স্পোর্টসে গেলে ইন্ডিয়ার জন্য পদক জিতে আসতো।
সেনাবাহিনীতে গেলে অভিক সাহসীকতার জোরে যুদ্ধ জয় করতো
দুর্ভাগ্যবশত, সে অপরাধী হয়ে গেল, স্যার।
চাকরিজীবনে তার মতো অনেক মানুষ দেখেছি।
মঙ্গল সিং, ওমকার সিং, যাদব পিউলা।
নাগেশ্বর কি তাদের চেয়েও বড় ডাকাত?
স্যার, না জানিয়ে করলে সেটাকে চুরি বলে।
আক্রমণ করে কাউকে লুটে নিলে সেটাকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে।
তবে চ্যালেঞ্জ দিয়ে যে চুরি করে তাকে বলে টাইগার নাগেশ্বর রাও, স্যার।
স্যার, টাইগার নাগেশ্বর রাও এর ব্যাপারে অনেকে জানে।
তবে মাত্র গুটিকয়েক লোক-ই তাকে দেখেছে।
বাস্তবে, আমিও তাকে দেখিনি, স্যার।
কয়েকবছর আগে, চেরালা পুলিশ স্টেশনে স্পেশাল ডিউটির সময়...
একটা ফোন পাই।
ওপারের কন্ঠস্বরটা এখনো আমার মনে আছে, স্যার।
আওয়াজ তো নয় যেন হুংকার।
- চিরালা পুলিশ স্টেশন। - আমার কন্ঠস্বরটা মনে রাখবেন।
জঙ্গলে বিচরিত মানুষ যেমন জানে বাঘের হুংকার কীরকম...
তেমনি, এরিয়ায় কর্মরত পুলিশের-ও ওই কন্ঠস্বরের সাথে পরিচিত থাকা আবশ্যক।
তুমি কে?
পুলিশকে বলে রাখলাম...
কাকিনাড়া হতে মাদ্রাসগামী ট্রেন নাম্বার ১৭৬৪৩ সার্কার এক্সপ্রেসে...
...চলতি পথে লুট করা হবে।
কাকিনাড়া থেকে কৃষ্ণাপাট্টামে তুফানে পীড়িত ভিক্টিমদের জন্য ২০ টন শস্য নেয়া হচ্ছিল।
আমরা খবর পেয়েছিলাম শস্যগুলো চুরি হতে যাচ্ছে।
খবর কে দেয়,?
স্টুয়ার্টপুরাম নাগেশ্বর রাও
কাউকে মারার বা চুরি করার আগে আমার ওয়ার্নিং দেয়ার অভ্যাস আছে।
- কন্ট্রোল রুমে ফোন কর। - ওকে, স্যার।
কাকিনাড়া হতে মাচিলিপাটনামের দূরত্ব ২৪২ কিলোমিটার।
২৪২ কিলোমিটারের ভিতর ২১ টা স্টেশন এবং প্রত্যেকটা স্টেশনে ১০ জন করে পুলিশ আছে।
প্রত্যেক ক্রসিংয়ে গার্ড এবং কোচে RPF এর কর্মী রয়েছে।
শস্যগুলো চুরি করার শুধুমাত্র ১ টা সুযোগ আছে।
চলতিপথে ২৩০০ মিটারের গোদাবরী ব্রিজ পড়ে।
এত টাইট সিকিউরিটির মধ্যে...
তাকে সাড়ে ৫ মিনিটের ভিতর ২০ টন শস্য লুট করতে হবে।
আপনার মনে হয় এটা আদতে সম্ভব, স্যার?
লোড করতে ৫ ঘন্টা সময় লেগেছে।
সাড়ে ৫ মিনিটের ভিতর ২০ টন শস্য চুরি করে নেবে?
এটা অসম্ভব।
স্যার...
অসম্ভব ভেবে যখন আমরা নির্ভার হয়ে যাই, সেখান থেকে তার মাথা কাজ করতে শুরু করে।
- অনুবাদ ও সম্পাদনায় - :.:.: F L A M Y T U H I N :.:.:
রাস্তা নেই জেনে যেখানে আমরা হাল ছেড়ে দিই, ঠিক সেখান থেকেই সে পথচলা শুরু করে।
নাও...
হেই! বোট ঘুরা!
তীরের কাছাকাছি চলে এসেছি! জলদি বোট ঘুরা!
দড়ি খুলে দে।
নাগি লাফ দে
ওকে ধরতে পেরেছেন?
- হ্যালো? - স্যার, নাগি পালিয়েছে।
নাগি নিশ্চয়ই এখানে কোথাও আছে, খোঁজো-- কিন্তু সে দেখতে কেমন আমরা জানি না।
স্যার, নাগেশ্বর রাও রেড্ডির সমস্ত ফাইল এসে গেছে।
২৫ বছরে নাগেশ্বর অপরাধের সাহিত্যরচনা করেছে নাকি?
অল্প বয়সে সে অপরাধ করা শুরু করে, স্যার।
মানে ১০ বছর বয়স থেকে?
- ৮ বছর। - ৮ বছর বয়সে ডাকাতি?
খুন করেছে, স্যার।
না, স্যার! স্যার, না!
এমন করবেন না, স্যার! আমাকে মারবেন না।
-ইয়েলামান্দা। -প্লিজ স্যার।
স্টুয়ার্টপুরাম ক্রাইমে সে ছিল আসল হোতা। স্যার! স্যার!
স্টুয়ার্টপুরামে ঘটিত প্রত্যেক অপরাধে তার হাত রয়েছে।
প্রত্যেকটা অপরাধ থেকে প্রাপ্ত টাকায় তার শেয়ার থাকে।
স্যার...স্যার...
হেই, ঠিকমতো মার। স্যার, প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন।
ওকে, স্যার। স্যার।
তোকে চুরি করতে বলেছি?
নাকি যাবার আগে আমাকে জানিয়ে গিয়েছিলি?
চুরির পর অন্তত আমাকে আমার ভাগ দিয়েছিস?
প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে টাকাটা চুরি করেছি।
আপনাকে দিতে যাব কেন?
ষাড় জমিতে হাল দেয় বলে জমি ষাড়ের হয়ে যায়?
কুকুর বাড়ির পাহারা দেয় বলে সে বাড়ির মালিক হয়ে যায়?
তো আমার স্টুয়ার্টপুরাম থেকে কামানো টাকা তুই নিজের কীভাবে বলিস?
ওর হাটুতে পেরেক ঠোকা।
এমন করবেন না, স্যার! আর কখনো দেয়াল চড়তে পারব না।
স্যার!
চোরের হাটুর ভেঙ্গে দেয়া মানে গিটারিস্টের আঙ্গুল কেটে দেয়া।
নমস্কার, স্যার।
হেই...
- তোর ছোট ছেলে? - জি, স্যার।
এখন থেকেই তোর চেয়ারের লোভ?
তার মধ্যে নূন্যতম শ্রদ্ধাবোধ নেই!
বলুন কী কাজ করতে হবে, স্যার।
কানাকা রাও রাঙ্গুন গিয়ে অনেক মাল কামিয়েছে।
সব টাকা তার ট্রাঙ্কে দাপাদাপি করছে।
বুঝতে পেরেছি, স্যার।
পাল্লালু... স্যার।
ওকে ৩ টাকা দিয়ে দে।
স্যার, প্লিজ আর ২ টাকা বাড়িয়ে দেন।
তোর নানি আমার কাছে টাকা জমা রেখে গেছে?
আসলে স্যার...কোডি ভীরান্না আপনার দেয়া কাজ করতে গিয়ে
লোকে তার পা ভেঙ্গে দিয়েছে।
ভীরান্না আর হাটতে পারবে না।
তার বাচ্চারা উপোষ -- তো কী?
তুই তার বাচ্চাদের নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছিস!
পা ভাঙ্গার পর ভীরান্নার বউ তোর সাথে শুয়েছে নাকি?
হারামজাদা !
কাজ শেষ হলে দেখা যাবে। যা।
আয়।
এখানে খুঁড়ছো কেন, বাবা?
দেয়াল যেখানে ভঙ্গুর ইঁদুর ঠিক সেখানটাই খুঁড়ে।
এখানে খুঁড়লে সহজে গর্ত করতে পারব।
নে, ধর।
নাগি, কেউ আমার পা ধরে টানছে।
আমাকে বের কর!
হেই! চোর পালাচ্ছে!
আয়! উঠুন, স্যার!
- আয়। - বাড়িতে চোর ঢুকেছে।
- আয়! ধর শালাকে! - ভিতরে টান ওকে।
বাবারা, আমি আর পালাতে পারব না।
বস্তাটা ইয়েলামান্দাকে দিবি।
ইয়েলামান্দা ২ টাকা দেবে। ১ টাকা ভীরান্নাকে দিয়ে বাকিটা রেখে দিস।
এটা আমাদের চুরি করা টাকা। আমরা কাউকে দেব না।
ওকে ছাড়িস না! টেনে ঢোকা।
আমি ধরা পড়লে পুলিশ তোদের ধরতে কতক্ষণ?
হাঁ করে কী দেখছিস? দেয়ালে ওঠ!
আমাদের ধরতে গেলে তুমি কে সেটা জানতে হবে, বাবা।
কীভাবে জানবেনা আমি কে?
মুণ্ডুহীন শরীর দেখে কীভাবে বুঝবে, বাবা?
পরিণত বয়স অব্দি বাঘ সিংহের মতো শিকারীরাও ব্যস দুধ খায়, স্যার।
কিন্তু নাগি ৮ বছর বয়সেই রক্তপান শুরু করে।
বাবার দেয়া অন্ন পেটে ঠিকমতো যাবার আগেই...
নাগেশ্বর তার বাবার মাথা কেটে ফেললো!
সে কি আদৌ মানুষ?
নাগেশ্বর রাও'কে বুঝতে গেলে, আপনাকে স্টুয়ার্টপুরাম সম্মন্ধে জানতে হবে।
বেজ্জালা প্রসাদ... স্টুয়ার্টপুরামে যাকে কুরুক্ষেত্রের দ্রোনাচার্য বলা হয়।
অতীতে বেজ্জালা প্রসাদ হতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সকল গ্যাংস্টার
আজ স্টুয়ার্টপুরাম শাসন করছে।
হেই!
শূকরের মাংস খেয়ে শুধু গড়াগড়ি খেলে হবে না।
গাধার রক্তপান করে ঘোড়ার ন্যায় ছুটতে হবে।
কোনো পুলিশ যাতে তোমাদের ধরতে না পারে
১০ টাকা।
কে চায়?
আমি চাই! আমি চাই!
- তোর লাগবে? - জি, স্যার।
নে।
ভিতরে একটা কাকড়াবিছে আছে।
১৪ বছর বয়সে নাগেশ্বর রাও বেজ্জালা প্রসাদের সংস্পর্শে আসে।
চুরি করতে শুধু সাহস থাকলে হবেনা। মাঝেমধ্যে বুদ্ধি খাটাতে হবে।
ও আমাদের ভেঙ্কাটাইয়ার ছেলে।
তুমি আমার কাছ থেকে বিদ্যা শিখতে চাও?
সেইজন্যই তো এটা করলাম।
গাধার রক্ত পান করলে, কয়েকঘন্টা বিরামহীন ছুটতে হয়,
নয়তো, শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে মৃত্যু হতে পারে।
এতটাই কঠোর প্রশিক্ষণ বেজ্জালা প্রসাদ নাগেশ্বর রাও'কে দিয়েছে।
:.:.: TIGER NAGESWARA RAO :.:.:
বিভিন্ন গ্যাংয়ের মধ্যে অযথা সংঘর্ষ এড়াতে...
স্টুয়ার্টপুরামে প্রতিবছর নিলাম অনুষ্ঠিত হয়, স্যার।
ইয়েলামান্দার নজরদারিতে।
No comments yet. Be the first to leave one.