The first 200 lines.
চিলড্রেন অফ হেভেন
30 টাকা দাও.
বাকিটা নিয়ে যাও.
- ধন্যবাদ. - আসি.
সালাম, আকবর চাচা. আমার আলু লাগবে.
আরে ওগুলো না. ঐ নিচ থেকে নে.
আসসালামু আলাইকুম. নিব জনাব?
65 তুমান.
মা বলেছে খাতায় লিখে রাখতে.
মা'কে বল খাতায় আর জায়গা নেই. কিছু বাকি পরিশোধ করতে হবে.
ঠিক আছে.
এ তুই কী করলি?
কেন করলি? পাগল হয়েছিস?
- আমার বোনের জুতাটা পাচ্ছিনা. - যা ভাগ এখান থেকে.
- কিন্ত জুতাটা এখানেই ছিল. - যা ভাগ!
আবার এসেছিস?
তোমরা ভাড়া দাওনা. আবার এত পানি খরচ করো কেন?
তাই বলে কি কাপড় ধুবোনা?
দরকার হলে ময়লা কাপড় পরবে!
আপনি ময়লা কাপড় পরেন?
বাপের জনমে কাউকে এত পানি খরচ করতে দেখলাম না.
তাহলে আপনি আমাদের কাপড় ধুয়ে দেন.
তোমরা আমাকে পথে বসিয়ে ছাড়বে! 5 মাস ধরে ভাড়া দেয়না.
পানি কম খরচ করবে.
আপনার বউ ময়লা কাপড় পরে?
শেষবারের মত বলে গেলাম!
বাসায় যখন কেউ থাকেনা তখন আসে, ভীতু কোথাকার!
আলী.
জোহরাকে বল বাবুকে ঘুম পাড়িয়ে আলু ছিলতে.
আলী, আমার জুতা এনেছিস?
মা বলেছে বাবু ঘুমিয়ে গেলে আলু ছিলতে.
- জুতা এনেছিস কিনা সেটা বল. - হ্যা.
- নতুনের মত হয়েছে? - হ্যা.
কোথায় যাচ্ছিস?
জুতাটা দেখে আসি.
তোর জুতা নেই.
- মজা করছিস, তাই না? - না, সত্যি বলছি.
দোকানে আলু আনতে গেলাম, এসে দেখি জুতা নেই.
সব জায়গায় খুঁজেছি কিন্ত পাইনি.
তুই জুতা হারিয়ে ফেলেছিস?
মা'কে কিছু বলিস না. আমি খুঁজে দিব.
জুতা ছাড়া আমি স্কুলে কীভাবে যাব?
কাদিসনা. আমি এক্ষুনি খুঁজে আনব.
কিন্ত তুই বলেছিস সব জায়গায় খুঁজেছিস.
সব জায়গায় না.
মা'কে কিছু বলিসনা.
আলী! আলী, কোথায় যাচ্ছিস?
আমাকে সাহায্য কর. কোথায় যাচ্ছিস?
আলী, কাল শাহিনদের সাথে খেলা আছে.
কোথায় যাচ্ছিস?
তুই আবার এসেছিস?
তোকে না বললাম আর আসবিনা? কী যন্ত্রণা!
- সালাম, সাঈদ চাচা. - সালাম, কী অবস্থা?
- বাসায় যাচ্ছ? - হ্যা.
দাঁড়াও, একটা কাজ আছে.
আগামী সপ্তাহের মাহফিলের জন্য চিনি.
- তোমার বাবা'কে বলবে ভেঙ্গে দিতে. - ঠিক আছে.
ভাল থেকো.
বাড়িওয়ালা তোমার কাছে কেন আসে? যা বলার আমাকে বলবে.
তুমিই বা কেন ঝগড়া করতে গেলে? আমি শালার ঘাড় ভেঙ্গে ফেলব.
উচিত শিক্ষা দিতে হবে. কিন্ত তুমি আমার কথা শুনোনা কেন?
ডাক্তার বলেছে তোমাকে কাজ না করতে, তারপরও কেন কার্পেট ধুতে গেলে?
ভিজা কার্পেট এমনিতেই অনেক ভারি!
আর তুই! মা'কে সাহায্য করিসনি কেন... তোকে বলেনি?
তুমি কাজ না করতে. আমি এসে সব করে দিতাম.
তোর খাওয়া, ঘুম, ঘোরাফেরা ছাড়া আর কোন কাজ আছে?
তোর বয়স এখন 9. 9 বছর বয়সে আমি অনেক কাজ করতাম.
আর তুই কী করিস?
গাধা হয়েছিস? কিছু বুঝিসনা?
তুমি এত চিল্লাফাল্লা কোরনা.
সব পাগলের কারখানা.
বাবুটা আজ সারাদিন কেমন জানি করেছে.
জোহরা...
তোর বাবা'কে একটু চা দে.
ধন্যবাদ, আম্মু.
কোম্পানিতে সারাদিন চা বানাই, কিন্ত জোহরার চায়ের স্বাদ স্পেশাল.
জোহরা, চিনির বয়ামটা আনো.
এখানে কত চিনি আছে.
কিন্ত আম্মু, এগুলো মসজিদের চিনি. আমাদের উপর ভরসা করে দেওয়া হয়েছে.
ওখান থেকে একটা মিছরি এনে দে.
চিনি শেষ?
কুপনটা দোকানের ব্যাটাকে দেখিয়েছিলাম...
কিন্ত চিনি এখনো পাঠায়নি.
ওর কথা রাখো. ও একটা বদমাইশ
তুমি কুপন আমাকে দিও. আমি কোম্পানির দোকান থেকে চিনি আনব.
কার্পেটের নিচে আছে, নিয়ে যেও.
আলী...
আমি কীভাবে...
...জুতা ছাড়া...
...স্কুলে...
...যাব?
অন্য জুতা পরে যাবি.
আলী, তোর সাহস অনেক বেড়েছে. তুই আমার জুতা হারিয়েছিস.
আমি বাবাকে বলব.
জোহরা, বাবাকে বললে দুজনই মার খাব. বাবার কাছে নতুন জুতা কিনে দেওয়ার টাকা নেই.
তাহলে আমি কী করব?
আমার কেডস পরে যাস.
তুই যখন ফিরে আসবি...
...তখন আমি যাব.
এটা তোকে দিলাম.
নেক্সট.
ব্যথা পাওনি তো?
শোন বাচ্চারা. ও লাফ দিয়ে পরে গিয়েছে কারণ তার জুতা ভাল না
তোমাদের জন্য সবচেয় ভাল হল...
...কেডস.
কিন্ত তোমাদের অনেকেই কেডস পরোনি...
...আবার অনেকেই পরেছ.
জলদি আয়!
- দেরি হল কেন? - আমি দৌঁড়ে এসেছি.
জলদি দে. দেরি হয়ে গিয়েছে.
সময়মত যেতে পেরেছিলি?
না, দেরি হয়েছে. তোকে আরও আগে আসতে হবে.
আমি তো ক্লাস শেষ করেই এসেছিলাম.
- মা'কে কিছু বলিসনি তো? - না, এখনো কিছু বলিনি.
কেডস ময়লা হয়ে গিয়েছে. আমার পরতে লজ্জা লাগে.
বকবক করিস না.
সত্যি বলছি. অনেক ময়লা.
তাহলে চল পরিষ্কার করি.
- আলী, চল খেলি. - এখন না.
- আরে চল. - না.
- আরে আয়. - মা অসুস্থ.
ধেৎ ব্যাটা.
আজ জোহরা ঘরের সব কাজ করেছে, আর আলী সাহায্য করেছে.
আমি বাজার করেছি.
আমি ঘর মুছেছি, সবজি ধুয়েছি, আলু ছিলেছি.
আমার সোনামণি.
টাকা হাতে আসলেই তোমাদের জন্য কিছু আনব.
ডাকছিস কেন?
বৃষ্টি হচ্ছে. বাহিরে কেডস ভিজছে. আমার যেতে ভয় করে.
ম্যাডাম. কয়টা বাজে?
আরও সময় আছে, লিখো.
ম্যাডাম. আমি যাই?
এত তাড়া কীসের তোমার?
যাও.
কী হয়েছে তোমার? কাঁদছ কেন?
আমার জুতা নালায় পরে গিয়েছে. তুলতে পারছিনা.
কান্না কোরনা. আমি তুলে দিচ্ছি.
যাও ধরো.
জুতাটা ধরো, ভাই.
কোথায় ছিলি?
এত দেরি হল কেন?
- জুতা ভিজা কেন? - আমি আর এগুলো পরবনা.
ভিজা কেন বল?
নালায় পরে গিয়েছিল.
ভিজাটা পরে স্কুলে কীভাবে যাব?
এগুলো বড়, এমনি এমনি খুলে যায়.
শুধু বাহানা খুঁজিস!
তুই আমার জুতা হারিয়েছিস. আমাকে আমার জুতা দে না হলে বাবাকে বলব.
যা মন চায় কর!
বাবার কাছে এখন টাকা নেই, বাবা আবার ধার করবে.
আমি ভেবেছিলাম তুই বুঝবি.
দাঁড়াও.
এখানে আসো.
কোথায় ছিলে? এত দেরি হল কেন?
স্যার, আমার বাসা অনেক দূরে.
নাকি খেলাধুলা করে আসো, কোনটা? কালকেও দেরি করেছিলে.
পরেরবার কিন্ত ঢুকতে দিবনা.
হ্যা, স্যার.
জুতা ভিজা কেন?
নালায় পরে গিয়েছিলাম, স্যার.
তাহলে প্যান্ট ভিজেনি কেন?
ছোট নালা ছিল.
তাই?
মোজা ভিজেনি কেন?
আর যেন না হয়.
- ক্লাসে যাও. - যাচ্ছি, স্যার.
- আসব, স্যার? - আসো.
আজকে শাহিনদের সাথে খেলা.
আমি আসবনা. মা অসুস্থ.
আজকে ফাইনাল.
কী হচ্ছে? সবাই চুপচাপ বসো.
সোজা হও.
বসো!
এতক্ষণ যারা হেসেছ এবার কাঁদবে.
15 জন ছাড়া সবাই লাড্ডু পেয়েছ.
যেই 3 জন সবচেয়ে বেশি পেয়েছে.
করিম নানভা.
আলী মন্দগার.
সালমান নাজাফি.
ক্লাস শেষে তোমাদের সাথে কথা আছে.
জোহরা, জোহরা.
তুই থামলিনা কেন?
কোথায় যাচ্ছিস?
খানম চাচির বাসায় যাচ্ছি বাটি ফেরত দিতে.
এখনো রাগ ভাঙ্গেনি?
- এটা সুন্দর না? - তুই কোথায় পেয়েছিস?
টিচার আমাকে উপহার দিয়েছে. এটা তোর.
নে.
- এটা আমার? - হ্যা.
আমি মা'কে এখনো বলিনি.
আমি জানি.
বাটি দিয়ে আসি.
আলী, থালাটা আন.
খানম চাচিকে দিয়ে যায়.
- কে? - আমি আলী.
- আমি স্যুপ এনেছি. - আসো, আসো.
- সালাম. - সালাম, আলী.
অনেক ধন্যবাদ.
- তোমার বাবা কেমন আছে? - ভাল আছে.
আলী, তোমার মা'কে ধন্যবাদ দিও.
No comments yet. Be the first to leave one.