The first 200 lines.
আমি জন্ম নিয়েছি মহাকাশে।
বদনে সূর্যরশ্মির ছোঁয়া, তাজা প্রাকৃতিক বাতাস...
কিংবা জলে সাঁতার কাটা, আমার কাছে কল্পনাই রয়ে গেলো।
আমাদের সবাই তা থেকে বঞ্চিত।
তিন প্রজন্ম ধরে, মানবজাতির অবশিষ্টাংশ...
আর্ক নামক বহরে বাস করে আসছে। কিন্তু আর্কের অবস্থা প্রায় শেষ হবার পথে,
আর আমরা হলাম মানবজাতির শেষ ভরসা।
একশ কয়েদিকে পৃথিবীতে এক গুরুত্বপূর্ণ মিশনে পাঠানো হয়েছে।
আইন বরখেলাপের অপরাধে আমাদেরকে এখানে পাঠানো হয়েছে।
পৃথিবীতে আইনের বিধিনিষেধ কেউ মানছে না।
আমাদের একমাত্র কাজ হলো, সংগ্রাম করে টিকে থাকা।
কিন্তু এই ধরণী পদে পদে আমাদের পরীক্ষা নিবে।
সেটা আর কিছু নয়, নিজেদের মধ্যেই কলহ দিয়ে।
ক্লার্ক!
মন্টি!
মন্টি, উঠো!
ওরা কারা?
প্রশ্নটা হবে, ওরা কী?
গ্যাঁড়াকলে ফেঁসে গেছি।
জ্যাসপার। সে বেঁচে আছে।
ক্লার্ক, দাঁড়াও, দাঁড়াও!
গাছগুলোর আড়ালে থাকো।
সে ঠিক এখানটায় ছিল।
কোথায় সে?
ওরা নিয়ে গেছে।
- সর্বশেষ খবর কী, জনসন। - চারদিকে কানাঘুষা চলছে।
একজন নাকি ড্রপশিপ লঞ্চ হতে দেখেছে।
আমরা যে ১০০ জনকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছি...
তা সবাই জেনে ফেলা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সেটা মন্ত্রীসভা সামলে নিবে।
ওদের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করা যায়, তুমি সেটা খুঁজে বের করো।
বিচ্ছিন্নের সংখ্যা কত?
২৩। বিচ্ছিন্ন হবার হার খুব বেশি।
অ্যাবি, এই জিনিসটা অন্যরকম।
সমান্তরাল রেখা উঠার আগে ভাইটাল সাইনগুলো দ্রুত উঠানামা করতে থাকে।
এরকমটা হয় কষ্ট পেলে।
বুঝাই যাচ্ছে, রেডিয়েশনের কারণে এমনটা হচ্ছে।
আমি তা জানি, জ্যাকসন। কিন্তু ওদের ক্ষেত্রে ভিন্ন জিনিস হচ্ছে।
আমরা শুধু এর কারণটা বের করতে পারছি না।
চ্যান্সেলর সাহেব এসেছেন।
আমার ছেলেটা।
- আমরা ওদেরকে মরতে পাঠিয়েছি। - না।
আমরা ওদেরকে পাঠিয়েছি বাঁচার জন্য।
যদি ওরা দেখে পৃথিবী বাসযোগ্য...
- তবে আমরাও সেখানে বাঁচতে পারব। - অ্যাবি, হয়েছে।
জানি, জিনিসটা মেনে নেয়া কঠিন,
বুকে মিথ্যে আশা বেঁধে কোনো লাভ নেই।
স্পেস স্টেশনের আয়ু ফুরিয়ে এসেছে, ওইদিকে আবার পৃথিবীও বাসযোগ্য নয়।
এটাই তো ওদের রিস্টব্যান্ড জানান দিচ্ছে।
ওরা ওইখানে কেমন আছে, আমরা তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না।
থেলোনিয়াস, আমার কথা শুনো।
আমার উপর ভরসা রাখো।
বাচ্চারা সবাই সহিহ-সালামতেই আছে...
...তোমার ওয়েলস সহ।
হেই, কাপড়গুলো এনেছ কোত্থেকে?
ল্যান্ডিংয়ের সময় যে দুইজন মারা গিয়েছিল, ওদেরকে দাফন করে এসেছি।
বুদ্ধিমান। কিন্তু এটা আমার লাগবে ভায়া।
আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য...
একটা বাজার থাকবে, যেমনটা আর্কে ছিল।
আমার সোজা বাংলা এখনো বুঝতে পারনি, চ্যান্সেলর?
এটাই এখন আমাদের বাসস্থান।
তোমার বাবার আইন এখানে কার্যকর হবে না।
না, না, না, এটম, দাঁড়াও।
এটা ফিরত চাও? এসে নিয়ে যাও।
এটাই তো চাইছিলে, বিশৃঙ্খলা!
ছোটখাটো বিশৃঙ্খলা সবখানেই হয়।
বেলেমি।
একবার ভাবো। আমরা কি চাই, আর্ক ভাবুক...
পৃথিবীতে এসে আমরা সবাই মারা গেছি?
খোলার আগে একটু যন্ত্রণা দিলে, ভাইটাল সাইনগুলো আরও সুন্দর দেখাবে।
ছাড়ো ওকে।
- চাইলেই এসব থামাতে পারো। - এসব থামাব?
সবে তো শুরু করছি।
এসব ঝামেলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে?
তোর খেল খতম!
দাঁড়াও!
যুদ্ধ হবে সেয়ানে-সেয়ানে।
এটা আমার বাবার পক্ষ থেকে!
ওয়েলস।
ছাড়ো ওকে!
যথেষ্ট হয়েছে মারফি।
অক্টেভিয়া, তুমি ঠিক আছ?
হ্যাঁ।
খাবার কোথায়?
আমরা মাউন্ট ওয়েদারে যেতে পারিনি।
কী হয়েছে সেখানে? যেতে পারনি কেন?
আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে।
হামলা? কীসে?
কীসে নয়। কে করেছে।
তারমানে, আর্ক ছাড়াও...
পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব বিদ্যমান!
কথা সত্য।
পৃথিবীর ব্যাপারে যে ধারণা পোষণ করেছিলাম, তা পুরোটাই ভুল।
মহাবিস্ফোরণের পরেও অনেকে এখানে টিকে রয়েছে।
সুসংবাদ হলো, এর মানে আমরাও এখানে বাঁচতে পারব।
রেডিয়েশনের কারণে মারা পড়ব না।
আর দুঃসংবাদ হলো, গ্রাউন্ডারদের হাতে মারা পড়তে হবে।
গগলস পড়া ছোকরাটা কোথায়?
হামলাটা হয়েছে জ্যাসপারের উপর।
ওরা ওকে নিয়ে গেছে।
তোমার রিস্টব্যান্ড কোথায়?
ওকে জিজ্ঞেস করো।
কত জন হলো?
২৪। সংখ্যাটা বেড়েই চলেছে।
বোকার হদ্দ।
আর্কের লাইফ সাপোর্ট প্রায় অচল হবার পথে।
এজন্য ওরা আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে।
পৃথিবী যে বাসযোগ্য, তা তাদেরকে জানাতে হবে,
আর গ্রাউন্ডারদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে, ওদের সাহায্য লাগবেই।
হাত থেকে রিস্টব্যান্ড খোলার মানে হচ্ছে, তুমি শুধু ওদেরকেই খুন করছ না।
খুন করছ আমাদের সবাইকে।
তুমি যতটা ভাবছ আমরা এর থেকেও শক্তিশালী।
ওর কথায় কান দিও না। সে সুবিধাভোগীদের একজন।
ওরা পৃথিবীতে এলে, ফায়দাটা মূলত তারই।
তোমরা কী ঘোড়ার ডিমের সুবিধাটা পাবে?
আমরা নিজেদের খেয়াল নিজেরাই রাখতে পারব।
হাতে ওই রিস্টব্যান্ড রাখার মানে হলো, তুমি একজন কয়েদি।
এখানে আমরা কেউ কয়েদি নই।
ওরা বলেছে, আমাদের সকল অপরাধ ক্ষমা করে দেবে।
আমি বলছি, আমরা কেউ অপরাধী নই।
আমরা হলাম যোদ্ধা, সংগ্রামী মানুষ।
গ্রাউন্ডারদের উচিত আমাদেরকে ভয় পাওয়া!
আমরা এখন কী করব?
জ্যাসপারের খোঁজে বের হবো।
তুমি আবার কষ্ট করে কেন এসেছ?
অন্য কাউকে পাঠিয়ে দিলেই তো হতো।
নির্বাচনে ভোটের জন্য কেইন গোপনে একটা মন্ত্রীসভা বৈঠকের ছক কষছে।
তুমি কোন পক্ষে যাবে, তা আমাকে জানতে হবে।
আমার ভোট দেয়ার নিয়ম নেই, তা তুমি জানো।
ওরা তোমার কথা আমলে নিবে, থেলোনিয়াস।
আর তুমি আমলে নিবে না?
নিবো, যদি আমাদের মধ্যে মতৈক্য থাকে।
অ্যাবি, কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ক্রমশ বেড়েই চলছে।
অক্সিজেন হ্রাসের লক্ষণ সবজায়গাতেই বিদ্যমান,
সেটা আমাদের বাচ্চাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ওরাই প্রথমে মরবে।
- সেটা আমায় বলতে হবে না। - অবশ্যই বলতে হবে।
যদি আমরা জনসংখ্যা কমানোর উদ্যোগ না নিই,
এই ভাসমান বহরের সকলেই ৪ মাসের মধ্যেই মারা যাবে।
আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। ১০০ জনকে পাঠিয়েছি পৃথিবীতে।
ওদেরকে এখন একটু সময় দেয়া দরকার...
ওদের সংখ্যা এখন ৭৬।
আমার ছেলে সহ ২৪ জন, ওইখানে মারা গেছে।
- আমার তা মনে হয় না। - তোমার কাছে কোনো প্রমাণ নেই।
প্লীজ, থামাও এসব।
বুঝতে পারছি, ক্লার্কের জন্যই তুমি আশার ঘাড়ে ভর দিয়ে আছ...
...কিন্তু আর্কের চ্যান্সেলর হিসেবে, মিথ্যে আশা আমায় মানায় না।
আর যখন মানব-অস্তিত্ব হুমকির মুখে, তখন তো নয়ই।
আমায় ডেকেছিলে?
আশা-ই হচ্ছে সবকিছুর চাবিকাঠি...
...আর যাকে চ্যান্সেলর বানানোর জন্য আমি ভোট দিয়েছিলাম, সে তা ভালো করেই জানে।
আমি যাচ্ছি এখন।
আমার কথা ভেবে সময় নষ্ট করো না, কেইন।
আমায় গুলি করেছিল কে?
বেলেমি ব্লেক, ফ্যাক্টরি স্টেশনের একজন দ্বাররক্ষী।
ড্রপশিপে করে পালিয়ে গেছে। ওকে কে সাহায্য করেছে, তা এখনো খতিয়ে দেখছি।
আমার মৃত্যুতে সবচেয়ে লাভবান হতো কে?
কিছু বলার থাকলে, সোজা-সাপটা বলে ফেলো।
যে মহিলা আমার জীবন বাঁচিয়েছে, তুমি তাঁকেই মৃত্যুদণ্ড দিতে যাচ্ছিলে...
...আর আমি মারা গেলে, তুমি হয়ে যেতে বর্তমান চ্যান্সেলর,
আর বাঁধা দেয়ার জন্য অ্যাবিও থাকত না।
আমি শুধু আইন-মোতাবেক আমার কর্তব্য পালন করেছি।
তুমি তখন ভারপ্রাপ্ত অস্থায়ী চ্যান্সেলর ছিলে।
তাই তোমার দরকার ছিল, ভেবেচিন্তে আইন প্রয়োগ করা।
কোন জায়গায় আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করতে হয়, তা জানতে হবে।
তোমায় খুনের পিছনে আমার কোনো হাত নেই,
তবে এই কাণ্ড দেখে মোটেও অবাক হইনি।
বর্তমানে নিজ দায়িত্ব পালনে তুমি যে কতটা দুর্বল...
সেটা শুধু আমি নই, অনেকেই জানে।
ওই, ছোট্ট একটা আঁচড়।
দলের বন্ধুর সংখ্যা দ্রুতই বাড়িয়ে নিচ্ছ।
ক্ষতটা কিছু দিয়ে ঢেকে নাও, সংক্রমিত হতে পারে।
প্যাকটা তো দারুণ।
হ্যাঁ, সিট বেল্ট আর ইন্সুলেশন।
সাথে করে একটু প্যারাসুটও নিয়েছি,
ভাবলাম জ্যাসপারকে বয়ে নিয়ে আসতে সুবিধা হবে।
বেশ। এটা অন্য কাউকে দিয়ে দাও।
- তুমি আমাদের সাথে যাচ্ছ না। - আমার গোড়ালি ঠিকই আছে।
সমস্যা গোড়ালি নিয়ে নয়, ওয়েলস, সমস্যাটা তোমাকে নিয়ে।
তুমি রসদের জন্য ফিরে এসেছিলে। আমি তো সাহায্য করতেই এসেছি।
ক্লার্ক সে ঠিকই বলেছে। ওকে আমাদের দরকার হবে।
তাছাড়া কেউ স্বেচ্ছায় যেতে রাজি হচ্ছে না।
আমি দুঃখিত মন্টি, তুমিও আমাদের সাথে যাচ্ছ না।
কী বলো এসব? জ্যাসপার আমার বেস্ট ফ্রেন্ড!
এখানে তোমার প্রয়োজনীয়তা অনেক।
তুমি ফার্ম স্টেশনে বেড়ে উঠে হাতে-কলমে প্রকৌশল বিদ্যায় দীক্ষা নিয়েছ।
- তো? - খাদ্য আর যোগাযোগ ব্যবস্থা সামলাতে পারবে।
তোমার কাজ হলো, এ-জায়গাটা সামলানো।
আর্কের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করা যায়, সেটা দেখো। আমি জ্যাসপারকে নিয়ে আসছি।
হেই। তুমি রেডি?
আমি কোথাও যাচ্ছি না, তোমাদেরও যাওয়া ঠিক হবে না।
ওই বর্শাটা ৩০০ ফুট দূর থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
- তো, জ্যাসপারকে এভাবে মরতে দিব? - এটা তো কখনোই না।
তুমি স্পেসওয়াকার?
আর বিনোদন দিও না।
নিজেকে অনেক সাহসী মনে করলেও আসলে তুমি একটা ভীতুর ডিম।
এখানে সাহস দেখিয়ে লাভ নেই। এটা সুইসাইড মিশনের শামিল।
গাছ দিয়ে একটা পাঁচিল তৈরি করো। আমি ওর সাথে যাচ্ছি।
জ্যাসপার কিন্তু আমাদের সাথে ঠিকই গিয়েছিল।
- কী ছিল এটা? - আমি জানি না।
ওরা বলছিল বড় ধরণের একটা সাপ।
No comments yet. Be the first to leave one.