The first 149 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
হেই!
আরমিন! জেগে উঠো, আরমিন!
আমার কথা শুনতে পাচ্ছো তুমি?
হেই!
আরমিন!
চুপ করে থেকো না!
কিছু তো বলো!
কথা শুনতে পাচ্ছো আমার?
ঠিক আছো তুমি?
ব্যাথা পেয়েছ?
তোমার টিম কোথায়?
টিম?
আচ্ছা, আগে পরিস্থিতি বুঝে নেই।
তুমি এখানে একা কেন?
ঠান্ডায় নাকি ভয়ে একদম জমে গেছ তুমি!
হয়েছেটা কি?
তুই নরকের পিশাচ!
কেন মরলি না তুই?
হেই..
শান্ত হও, আরমিন!
বাকি সবাই কোথায়?
ওকে ছেড়ে দাও, কনি।
সবাই মারা গেছে, শুধু ও ছাড়া।
চুপ করো তুমি!
আরমিন এখনও পরিষ্কার করে কিছু বলেনি!
যেটা সত্য সেটা সত্যই। আমি কারো সাথে রসিকতা করি না।
শুধু আরমিনই বেঁচে আছে তাহলে কীভাবে?
কে জানে...
হয়তো ওকে ওরা মৃত ধরে নিয়েছিল?
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ওরা একই সাথে অনেকগুলো টাইটানের পিছু নিয়েছিল।
এরেন আর ওর টিমের মধ্যে শুধু এই মুরগীটা বেঁচে আছে! কি লজ্জা!
তুমি চাও জন্মের মতো তোমার মুখ বন্ধ করে দেই?
তোমরা দুজনেই দয়া করে থামো!
কেউই সঠিক চিন্তা করতে পারছে না।
আমাদের সব বন্ধুই দ্রুত মারা যাচ্ছে!
তাই, ভয়ে জমে যাওয়াটাই স্বাভাবিক!
এইতো আমার বুদ্ধিমতী ক্রিস্টা!
অপারেশনটা শেষ হলেই, আমাকে বিয়ে করবে! !
হ্যাঁ!
পুরোই তাড়ছিড়া মেয়ে একটা!
যাই হোক, এখানে একা বসে থাকা যাবা না!
দাঁড়াতে পারবে, আরমিন?
ঝামেলায় ফেলার জন্য দুঃখিত।
রেয়ারগার্ডে গিয়ে সাক্ষাৎ করব।
দাঁড়াও!
আরমিন!
চলো, কনি!
এডভান্সড টিম থেকে নির্দেশ এসেছে!
এটা নরকের সমতুল্য!
না, এটা সবসময়ই একটা নরক ছিল!
আমিই কখনও বুঝিনি!
দুনিয়াটা অনেক আগেই নরক হয়ে গিয়েছিল।
শক্তিশালীরা দুর্বলদের শোষণ করে।
আজীবন এটাই হয়ে আসছে।
কিন্তু, আমার বন্ধুরা!
এই দুনিয়ায় শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করেছে সবসময়!
আমার মতো দুর্বলকে তারা সাহায্য করেছে।
নিজেকে রক্ষা করতে পারতাম না!
প্রয়োজনের সময় ওরাই সবসময় পাশে দাঁড়াত!
ওদের মতো হতে চাইতাম আমি।
যাতে, ওদের মতো দুনিয়াটাকে ভালোবাসতে পারি!
বিনিময়ে, এই ফল পেলাম!
এরে আমার কারণে মারা গেল!
হান্নাহ, কী করছ তুমি?
আরমিন, একটু সাহায্য করো!
ফ্রাঞ্জ শ্বাস নিচ্ছে না!
ওর বুকে বারবার চাপ দিচ্ছি, কিন্তু কাজ হচ্ছে না।
কেউ দয়া করে ওকে বাঁচাও!
হান্নাহ, নিচে থাকাটা অনিরাপদ! ছাদের উপরে চলো!
এখানে ওকে একা রেখে যেতে পারব না!
কিন্তু, হান্নাহ!
ফ্রাঞ্জ তো...
থামাও এটা দয়া করে...
আবারও!
আমি আর নিতে পারছি না!
আপনারা জানেন পরিস্থিতি কতটা খারাপ এখন?
জানি, সেজন্যই আমরা সবাই এটা করছি!
বেঁচে থাকতে চাইলে আর কোন বাধা দেবেন না!
মর তুই!
তুই কোন কাজের না!
আগে সাধারণ মানুষকে ঢুকতে দে!
নয়তো, টাইটানেরা আমাদের সবাইকে খেয়ে ফেলবে!
তোমরা কি করছ, সৈন্যরা?
গ্রেফতার করো ওদের!
কি-কিন্তু...
দরকার লাগলে গুলি করো!
এই উপত্যকার শাসনকর্তা আমি!
তোর মতো দুই পয়সার সৈনিকদের পেটের খাবার কে জোগান দেয়?
নাকি, শহরের সব সৈন্যকে তিন বেলা তুই খাওয়াস?
তাহলে, আমার কথা শোন! ধাক্কা দে!
তোদের কাউকে না খেয়ে থাকতে হবে না! আরামসে তিন বেলা খেতে পারবি!
সাহায্য করো সবাই! নগদ টাকা দেব!
ভয় পেয়ো না, সোনা!
বাবা দেখবে সবগুলো টাইটানকে কামানের গোলা মেরে উড়িয়ে দেবে!
মা!
দেখো!
ধাক্কা মারো!
মরতে না চাইলে ধাক্কা মারো!
বাঁচাও! বাঁচাও!
আরে, এটার কি হলো! এভাবে পাগলের মতো দৌড়াচ্ছে কেন?
এটা হাইব্রিড প্রজাতির!
এখন এত চিন্তার সময় নেই!
এটার গতি বেশ দ্রুত!
ওটার কাছে পর্যন্ত যেতে পারছি না!
ওটাকে মারতেই হবে!
মাফ করবেন! কি হচ্ছে এখানে?
আরে, এ যে দারুন এক যোদ্ধা!
তুমি! ওদেরকে বলো ভ্যানে ধাক্কা দিতে!
তোমাকে নগদ পয়সা দেবো!
সিরিয়াসলি! পেছনে সৈনিকেরা গণহারে মরছে!
তারা তাদের জীবন দিয়ে দিচ্ছে টাইটানদের সাথে লড়াই করে শুধু আপনাদের বাঁচানোর জন্য!
অবশ্যই!
নিজের জীবন উৎসর্গ করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়াই তো তোমাদের কাজ!
শতাব্দীতে প্রথম একটা টাইটানকে মেরে নিজেকে বিশেষ কিছু ভাবা শুরু করে দিয়েছ নাকি?
আমার মনে হয়, আপনি ঠিকই বলেছেন স্যার!
মানুষের জানমালের নিরাপত্তার জন্য দরকার হলে আমরা মরবো! একজন সৈনিকের মৃত্যু অনেকগুলো জীবনকে বাঁচায়!
উদ্ধত স্বরে কথা বলবে না!
এখানে তোমাদের শাসনকর্তা আমি!
বাড়াবাড়ি করলে তোমাকে কোর্ট মার্শাল করা হবে!
একটা মরা লাশ কীভাবে কথা বলবে?
না, দাঁড়াও!
স্যার, হয়তো আমাদের উচিৎ...
ভ্যানটা ফিরিয়ে দাও!
আমরা বেঁচে গেছি!
ধন্যবাদ তোমাকে!
তুমি আমাদের বাঁচিয়েছ!
অসংখ্য ধন্যবাদ!
দারুন দেখিয়েছ, মিকাসা!
চোখ ধাধিয়ে গেছে!
ধন্যবাদ স্যার।
ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হতে হবে আমাকে! এক কোপেই তরবারির ব্লেড ভেঙে ফেলেছি!
পরের বার, আরও সতর্ক থাকবো!
তুমি কি সবসময়ই এরকম সাহসী ছিলে?
দুঃখিত, প্রশ্নটা করা ঠিক হয়নি!
এখন কেন এসব মনে পড়ছে আমার?
৮৪৪ বর্ষ।
হয়ে গেছে, আম্মু!
দেখো আম্মু!
দারুন নকশা, সোনা!
দারুন কাজ দেখিয়েছ তুমি!
এই কাপড়ের নকশা তৈরীর কাজ প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম অব্দি করে আসছি আমরা।
যখন তোমার বাচ্চা হবে, তাদের শেখাবে এগুলো।
আমার বাচ্চা হবে কীভাবে?
উম্মম্ম...
তোমার আব্বুকে জিজ্ঞেস করো।
আব্বু, বলো!
ইয়ে...মানে... বাবা তো বেশি কিছু জানে না!
ড. জেগার আসছেন, উনাকে জিজ্ঞেস করো!
No comments yet. Be the first to leave one.