The first 200 lines.
আঙ্কারা, ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭, সকাল ৬:২০।
- ইলমাজ, জলদি করো! - এইতো চলে এসেছি, নেরিমান!
তাড়াতাড়ি!
- কী হলো? থামলে কেন? - লালবাতি পড়েছে, নেরিমান!
- আগে বলবে না! - দাঁড়াবো নাকি যাবো, বলো?
- তোমার মাথা কি গেছে? সামনে আগাও! - ঠিক আছে, নেরিমান। ঠিক আছে।
এইতো, প্রায় এসে গেছি। আরেকটু!
আপনি বলছেন, ডেট ১০ দিন পার হয়ে গেছে?
হ্যাঁ, কিন্তু গতকাল থেকে বাচ্চার আর কোন সাড়া নেই।
- তো কী মনে হচ্ছে? - চিন্তার কোন কারণ নেই।
হৃদস্পন্দন এখনো স্বাভাবিক আছে। প্রসব বেদনা ওঠার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাক।
- চিন্তা করবেন না। সবকিছু নিয়ন্ত্রণেই আছে। - ধন্যবাদ।
খেয়াল রাখবেন।
- জলদি! - ধরে থাকো,নেরিমান! ধরে থাকো!
- নড়াচড়া করছেনা কেন? - বাদ দাও তো, ইনচি।
দেখো, যদি আজকে কিছু হয়, তাহলে রাতেই আবার আসবো। চলো এখন।
ধরে থাকো, নেরিমান! এসে গেছি!
- কী অবস্থা, নেরিমান? - ইলমাজ, সাবধানে!
আমার পানি বের হয়ে গেছে, ওমর!
হাঁসি! হাঁসি!
ঠিক আছে, নেরিমান।
আপনি চাইলে আপনাকে একটা কপি দিতে পারি।
ভালোই হবে তাহলে।
"LOVE LIKES COINCIDENCE"
★ অনুবাদেঃ আহসান সোহাগ ★
★ অনুবাদেঃ আহসান সোহাগ ★
★ অনুবাদেঃ আহসান সোহাগ ★
★ অনুবাদেঃ আহসান সোহাগ ★
হ্যালো, সোনা?
আমি ঠিক আছি। অডিশনে যাচ্ছি। তোমার কী খবর?
কিছু কাজ বাকি আছে, তারপরেই বেরুবো।
৮টার দিকে চলে এসো এখানে।
কাজ শেষ হলেই আমি চলে আসবো।
সেরিয়ারের রাস্তার ডান পাশের রেস্টুরেন্ট, তাই তো?
ঠিক তাই। অনুর তোমাকে তুলে নেবে।
লাগবে না, বাবু। আমি চিনি তো। ঠিক আছে, দোয়া করো আমার জন্য।
চিন্তা করো না, দারুণ হবে।
লাভ ইউ, বাই।
আমিও।
- ঠিক আছে, তৈরি হতে থাকো তাহলে। - আহহা!
মা, কোন গণ্ডগোল বাঁধাবে না কিন্তু। এর মধ্যেই বুঝি লাগিয়েই ফেলেছো, তাই না?
ঠিক আছে মা, রাখলাম।
সেন্ট্রাম প্রোডাকশন। জ্বী। ৭টা পর্যন্ত। আপনার এজেন্সি ঠিকানা দেয়নি?
- আমি ফিল্মের অডিশন দিতে এসেছি। - এই নিন।
আপনাকে অপেক্ষা করিয়ে রাখার জন্য দুঃখিত...
না, সমস্যা নেই।
আপনি কালকের মধ্যেই কভার ফটো পেয়ে যাবেন।
আর অযগুর কাল সারাদিনই থাকছে...
এইতো সে! স্বাগতম। চলছে কেমন?
- ভালো। - হ্যালো, আমি আয়েশা। দেখা হয়ে ভালো লাগলো।
- আপনার সাথে দেখা করার জন্য অধীর আগ্রহে ছিলাম। - দারুণ!
শুরু করছিস না কেন এখনো? আমি গিয়ে তোর মা কে তুলে নিয়ে আসি।
ধন্যবাদ, অনুর। এইদিকে।
হ্যালো, স্বাগতম। দয়া করে আপনার পরিচিতি পর্ব শুরু করবেন?
আমার নাম ডেনিজ, ডেনিজ উসমান। আমার জন্ম ১লা সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭, আঙ্কারায়।
আমার জন্ম আঙ্কারায়, ১লা সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭। সেখানে ২০০২ সাল পর্যন্ত ছিলাম।
১৪ বছর বয়সে আমি অভিনয় আর নাটকের ক্লাস শুরু করেছি...
...আঙ্কারা আর্টস থিয়েটারে।
ইস্তাম্বুলে আসার পর আমি ম্যাগাজিনে কাজ করা শুরু করি।
এরপর নিজের স্টুডিও হওয়ার পর, আরো কিছু কাজ শুরু করে দেই।
আমার উচ্চতা ১৬৮ সে.মি। আর ওজন মনে হয় ৫৮ কেজি।
আপনার তো তাহলে আন্তর্জাতিক অনেক অর্জন আছে।
কিন্তু আপনি ম্যাগাজিনের কভারে কাজ করেছেন, আবার বিজ্ঞাপনও করেছেন।
- আসল কাজ কোনটা? - দুটোই।
কোন বিষয়বস্তু যদি আমার মনে ধরে যায়...
...তাহলে যেকোন কাজেই লেগে থাকতে পারি।
ফ্রেঞ্চ বলতে পারেন?
হ্যাঁ, অনেকদিন হলো চর্চা নেই, কিন্তু চেষ্টা করবো।
কিন্তু না, পারফেক্ট ফ্রেঞ্চ বলা কাওকে আমি চাচ্ছি না।
আমি টার্কিশ একসেন্টে ফ্রেঞ্চ বলতে পারে, এমন কাওকেই চাচ্ছি।
নাহলে ফ্রেঞ্চ কোন অভিনেত্রীকেই খুঁজে নেবো। এজন্যেই আসলাম এখানে।
ঠিক আছে।
অনেক ফটোগ্রাফারই...
...অনেক ধরণের ছবি তুলছে। কিন্তু আপনার ছবির একটা স্বকীয়তা আছে।
মন্ত্রটা কী?
কীভাবে এমন আলাদা হলেন?
আমি আসলে বলতে পারবো না, আমার কোন মন্ত্র আছে কি না।
আমার মনে হয়, আমার বাবা ফটোগ্রাফার হওয়ায়, আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছে।
এইতো সে এসে গেছে! মা, শেষবারের মত আবারো বলছিঃ তার কাজ নিয়ে কোন কথা বলবে না!
ঠিক আছে, বাবা! এই নিয়ে ৫০ বার বলে ফেললি!
- হ্যালো, শুভ সন্ধ্যা। - স্বাগতম, মা।
দেরি হওয়ার জন্য দুঃখিত। আপনারা কেমন আছেন?
- আমার বাবা- সাদিক। আমার মা- গুলশান। - খুব ভালো লাগলো দেখা হয়ে।
ঠিক আছে, বসে পড়ো।
- এই, তুমি তো বিশ্বাসই করবে না কী যে হয়েছে! - দাঁড়াও, বাবু। পরে বলো।
এক্সকিউজ মি!
বাবা আমার!
- দারুণ হয়েছে। - ধন্যবাদ।
নেরিমান তেইজে?
আপনি কি আমাকে আপনাকে সাথে নিয়ে এই প্রদর্শনী ঘুরানোর অনুমতি দিবেন?
- ঠিক আছে, চলো তাহলে। - আমি একটু পর আসছি।
ইস্তাম্বুলে আর কতদিন আছেন আপনারা?
আমরা আগামীকালকেই চলে যাচ্ছি। কাজ তো আর বসে থাকেনা, বোঝোই তো।
- ঠিক। বাবা, ওয়াইন নেবে না? - কাজের কথায় আসি...
...বুরাক যখন বললো যে, তুমি একজন অভিনেত্রী, তখন সত্যি বলতে কি, আমাদের একটু মন খারাপ হয়েছিলো।
আসলেই? কেন?
ভুল বুঝো না... আমরাও মুক্তমনা...
মা, তোমার গ্লাসটা দেবে?
বেশি খাস নে, বাবা। তুই তো আবার গাড়ি চালাস।
আমার চিন্তা করো না। আমার সুন্দরী ড্রাইভার আছে না!
সব তারকারাই কি উচ্ছৃঙ্খল? না।
কিন্তু সত্যি কথা বলতে, অনেক কম-বেশি আছে এখানে।
- যাই হোক, সংসার জীবনের জন্য এসব ভালো না। - আমরা কি অর্ডার দিবো?
মা, আমাদের মাছের অর্ডার কি দিবো?
- বাবা, মেন্যুটা দেখবে? - কিন্তু সৌভাগ্যবশত তোমাকে ভালোই মনে হচ্ছে।
মা, আমরা এসব আলাপ করতে বসিনি।
তুই তো আমাকে কোন কথাই বলতে দিচ্ছিস না রে, বাপ! ঠিক আছে, আমি চুপ গেলাম!
মস্কোর নতুন স্টোরের উদ্দেশ্যে।
তুমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছো, মা।
- কীসের? - আরে, এখানে কেও নেই কেন?
- অভিনয়ের ব্যাপারে। - কেও আছেন!
দুঃখিত।
- মেন্যুটা দেয়া যাবে আমাদের? - যাই হোক, তোমার অভিনয় বাদ দেয়ার সিদ্ধান্তটা একদম ঠিক আছে।
ধন্যবাদ।
বাবা, তুমি কী নেবে?
যদি ফার্মের কিছু না হয়, তাহলে আমি সামুদ্রিক কিছু নিবো।
- মা, তুমি? - স্ট্রিপড রেড ম্যুলেট নিবো।
ডেনিজ, তুমি কী নেবে?
আসলে, আমি বুঝতে পারছিনা, কেন আপনাদের এই ধারণা হলো।
- কিন্তু এখন তো ম্যুলেটেরই মৌসুম, মা! - না, আমি আমার অভিনয়ের ব্যাপারে বলছি।
আজকেই মাত্র একটা বিশাল অডিশন দিয়ে আসলাম। সেখানে টেকার খুব ভালো একটা সুযোগ রয়েছে।
যদি টিকেই যাই, তাহলে আমাদের শ্যুটিং হবে ফ্রান্সে।
যদি এমনটা হয়, তাহলে অভিনয় ছাড়ার ব্যাপারে আমার কোন চিন্তাভাবনাই নেই।
দুঃখিত, আমাকে ফোনটা রিসিভ করতে হচ্ছে।
শ্বশুর-শাশুড়িদের সাথে ডিনারের অনেক যন্ত্রণা, জেয়নাপ।
অনেক আজগুবি কাহিনী হচ্ছে এখানে। পাগল হয়ে যাচ্ছি আমি!
ওরা ভেবেছে, আমি অভিনয় ছেড়ে দিচ্ছি।
আমি জানবো কীভাবে? অবশ্যই, বুরাকের সঙ্গে তো আলাপ করবোই।
উনি বললেন "তুমি অভিনয় করো জেনে আমাদের প্রথমে একটু মন খারাপ হয়েছিলো।...
...যারা সংসার শুরু করতে যাচ্ছে, তাদের এই পেশায় আসা ঠিক না।..
....আমাদেরও নিজস্ব কিছু আদর্শ আছে।...
...অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্তটা সত্যিই অনেক ভালো ছিলো।"
বুঝতেই পারছিস জেয়নাপ, আমি কোন গ্যাঁড়াকলে ফেঁসে গেছি!
উমম, আমি তোকে পরে ফোন দিচ্ছি, আচ্ছা?
- ফুল-টুল কিছু পাঠাবো নাকি? - যা হবার, তা হয়ে গেছে।
- তুমি উনাদের মিথ্যে বলেছো কেন? - ডান দিকে যাও, ডেনিজ।
সামনে একটা মোড় আছে।
- তুমি কেন বললে- আমি অভিনয় ছেড়ে দিবো? - আচ্ছা, তাহলে কী ই বা করার ছিলো আমার?
গত ক বছর ধরে আমাকে জ্বালিয়ে খাচ্ছিলেন উনারা!
তোমার কী মনে হয়? কেন তারা এতদিন তোমার সঙ্গে দেখা করেননি?
আমার সিদ্ধান্ত বুরাক নিয়ে ফেলেছে, আর তার বাবা-মা কেও বুঝিয়ে ফেলেছে!
এজন্যেই এতকিছু, তাই না বুরাক?
তুমি যদি আমাকে আগে জানাতে, আমরা দুজনে মিলে কি বোঝাতে পারতাম না?
কী বোঝাবে উনাদের, ডেনিজ?
তারা ঠিকই আছেন।
- তুমি কীভাবে তাদের বোঝাতে? - এটা আমার ক্যারিয়ার, বুরাক!
আর আমি এই লাইন ছাড়ছি না, ঠিক আছে?
- মিরর দেখে তো চালাবে! - আমি মিরর দেখেই চালাচ্ছি!
- তাই নাকি! - কথা ঘুরাবে না!
এর নাম মিরর দেখে চালানো?
বেশ, তুমি মিথ্যে বলেছো। এরপর?
আমি যদি কোথাও কোন স্টোর না খুলি, তখন তোমার পরিকল্পনা কী হবে?
- স্টোর খোলা নিয়ে আবার কী ঝামেলা? - কী?
- "কী" মানে কী? কেন না? - মজা করতেই হবে তোমাকে!
- না। - তুমি কী বলছো, তা নিজেই জানো না।
আর তুমি কী করছো, তা নিজেই জানো না! আজকে ফ্রেঞ্চ ফিল্ম, কালকে...
- জীবনে একটা সুযোগই হতে পারে... - হ্যাঁ, সবসময়ই তোমার জীবনে সুযোগ আসছে!
সবকিছুই তোমার সুযোগ!
এ কেমন জীবন? যাই হোক, এসব থিয়েটার-ফিয়েটার তোমার কম্ম নয়।
- আবারো শুরু করে দিলে। - কী?
যখনই একটা সুযোগ সামনে আসে, তখনই তোমার মাঝখানে বাগড়া দিতে হয়!
কী বলতে চাচ্ছো তুমি? আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে একটু রেহাই দাও!
তুমি ব্যর্থ হচ্ছো, এটা তাহলে আমার দোষ? আমি তোমার অস্কার পাওয়া ঠেকাচ্ছি!
- আমাকে কি ব্যর্থ মনে হয়? - নিজের দিকে একটু তাকাও, ডেনিজ।
একটু ভাবো।
যদি এটা তোমার জীবনের কোন সুযোগ না হয়ে থাকে, এটা শুধুমাত্র একটা ফ্রেঞ্চ ফিল্ম। বোঝার চেষ্টা করো, ডেনিজ!
করছো কী তুমি, ডেনিজ? কোথায় যাচ্ছো?
ডেনিজ, এসো বলছি!
হায়রে আল্লাহ, সমস্যাটা কী?
এবার আমি এক, দুই, তিন বলার সঙ্গে সঙ্গে একটা পাখি উড়াল দিবে।
কিন্তু তোমাকে হাসি দিতে হবে। এই যে, এক, দুই, তিন!
- এক্সকিউজ মি, এটা কার প্রদর্শনী? - উনি ওখানে আছেন মনে হয়।
আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।
এই ছবিগুলো তুলেছিলেন...
...একজন পেশাদার স্টুডিও আর্টিস্ট।
- আমি রাখছি, বুরাক! - ডেনিজ।
এখানকার বেশ কিছু ছবি উনি উনার ৪০ বছরের কর্মজীবনে তুলেছিলেন।
যদিও হাজার হাজার ছবির মধ্যে এই কয়টাই টিকে ছিল।
- বুরাক, কী সমস্যা? - আরে, আমি বেজায়গায় গাড়ি রেখেছি!
যেকোন মুহূর্তে একটা কিছু হয়ে যেতে পারে, তুমি কি দয়া করে বের হবে?
আমি দেখতে পাচ্ছি তোমাকে। আচ্ছা, আমি আসছি।
Foto Turgut ছিলো আঙ্কারার গাজি জেলার ছোট্ট একটা স্টুডিও।
আর ইলমাজ তুরগুত...
...৪০ বছরের প্রতিদিন সেখানেই ছবি তুলে গেছেন।
দিনে জনা দশেক লোক আসতো স্টুডিওতে।
সপ্তাহে ৭০ জন।
এর মানে, মাসে ৩০০ জন, আর বছরে ৩৬৫০।
আর দশ বছরে ৩৬,৫০০ জন।
কিছুদিন পর, আপনার আর একা বোধ হবে না।
কারণ, সময়ের সাথে সাথে সবাই ই পরিচিত হয়ে উঠবে।
এক বছর আগে উনাকে যখন আমরা হারালাম...
...আমার মনে হলো, এরকম একটা প্রদর্শনীর আয়োজন করে উনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা উচিত...
...আমার এবং এই ছবিগুলোর প্রত্যেকের পক্ষ থেকে।
আসার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।
ডেনিজ।
দেখো, এরকম করো না। আমি কাল সকালেই রাশিয়া চলে যাচ্ছি।
- দয়া করে এভাবে আমাকে বিদায় দিও না। - শুভ কামনা রইলো।
আচ্ছা, দেখো, আমি একটু রেগে গিয়েছিলাম। আমার ভুল হয়ে গেছে।
ঠিক আছে?
দেখো বুরাক, তুমিও যদি তোমার বাবা-মার মত চিন্তাভাবনা করে থাকো, তাহলে আমাদের আলোচনা করা দরকার।
No comments yet. Be the first to leave one.