The first 168 lines.
বাংলা সাব সজীব
মানুষ নিজের জীবনের ঝুকি নিয়ে পৃথিবীর সবচে উচু স্থানগুলিতে আরোহণ করে
কেউ কেউ মনে করে, এই উঁচু চূড়াগুলিতে আরোহণ করে
তারা এটাকে জয় করলো,
কিন্তু আমরা এখানে পরিদর্শক মাত্র।
এটি একটি হিমশীতল অচেনা জায়গা,
এটি হচ্ছে আরেকটি কঠিন স্থান -
পৃথিবীর অন্যতম নীচু এবং উত্তপ্ত স্থানের একটি
এটা সাগরপৃষ্ঠের চেয়ে প্রায় ১০০ মিটার নিচু
কিন্তু এখানেও একটি পাহাড়ের জন্ম হচ্ছে
সালফিউরিক এসিডের এই খালটি আমাদের ধারনা দিচ্ছে যে,
এর গভীরে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ চলছে।
এটি হচ্ছে ইথিওপিয়ার ডানাকিল ফাটল,
পৃথিবীর পৃষ্ঠে বিশালাকার প্লেটের মাঝখানে
এই ফাটল বরাবর বিশাল ভুমি একে অপর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে
এই ফাটল দিয়ে ভুঅভ্যান্তরের লাভা উপরে উঠে আসছে
আর তৈরি করছে নতুন আগ্নেয়গিরির সারি।
এটার নাম, এরটা আলে
বর্তমানে পৃথিবীর সবচে দীর্ঘ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
প্রায় একশ বছর ধরে এটা থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা বের হচ্ছে।
এধরনেরই কিছু আগ্নেয়গিরি ইথিওপিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলগুলি তৈরি করেছিল।
৭ কোটি বছর আগে
এই অঞ্চলও, সমতল এবং গভীর ছিল
ডানাকিল ফাটলের মতোই।
গলিত লাভা পৃথিবীর গভীর থেকে বের হয়ে
প্রায় ৫০০ মাইল চওড়া এই বিশালাকৃতির পাথরের চাইকে উপরে ঠেকে তুলেছে
এটিই আফ্রিকার ছাদ।
লক্ষ কোটি বছর ধরে, বৃষ্টি এবং হিমবাহ এই পাথরে ক্ষয় করে
এই উপত্যকা এবং গিরিপথকে গড়ে তুলেছে
তিন মাইল উঁচু এই চূড়ায়
কিছু অসাধারন পর্বতারোহীদের বাস-
জেলাডা বেবুন।
তারা এই ইথিওপিয়ার উচুভুমিতেই বাসকরে।
যে উঁচু এবং খাড়া পাথরের ফাকে তারা ঘুমায়, সেটা শুধুমাত্র তুখোড় পর্বতারোহীদের জন্যই
এবং জেলাডোর ঠিক দরকারি জিনিসটাই আছে।
যে কোন প্রাইমেট প্রানীদের মধ্যে সবচে শক্তিশালী আঙ্গুল।
এবং নির্ভীক চরিত্র।
তবে শুধুমাত্র নির্ভীক চরিত্র দিয়েই এখানে টিকে থাকা যায়না
জেলাডোদের সাথে একটা দিন কাটালেই বুঝা যায়, তারা কিভাবে এই পরিবেশে মানিয়ে নিয়েছে।
সব বানরদের জন্যই সকাল হচ্ছে হাওয়া লাগানোর সময়
বন্ধুদের সাথে আড্ডা খুনসুটির সময়
কিন্তু অন্য বানরদের মতো না করে
জেলাডো বানরেরা এসময় অনবরত বকবক করতে থাকে
এভাবেই হাতকে ব্যাস্ত রাখার পাশাপাশি, তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখে।
কিন্তু এই সামাজিকতাও বেশীক্ষণ চলে না
জেলাডোদের দিন কাটে অনেক ব্যাস্ততায়,
এবং তাদের কাজ জমে আছে,
অন্য বানরেরা এখানে টিকতে পারবে না,
কোন খাবারতো নেইই খাওয়ার মত পোকামাকড়ও বেশী নেই
কিন্তু জেলাডোরা অন্যদের চেয়ে আলাদা
তারা পৃথিবীর একমাত্র বানর যারা ঘাস খেয়ে জীবন ধারন করে।
তারা অন্য যে কোন বানরদের চেয়ে বড় দলে বাস করে,
কিছু কিছু দলে তো ৮০০ বানর থাকে।
এবং তারা অন্য তৃণভোজীদের মতোই ঘাসের উপর চড়ে বেড়ায়
জেলাডোদের পাশেই চড়ে বেড়ায় ওয়ালিয়া আইবেক্স
এরাও এই পাহাড়ি এলাকায় অপ্রতিম
এই দুর্লভ প্রানীগুলো সাধানরনত বেশ লাজুক
কিন্তু জেলাডোদের পাশে তারা বেশ খোশমেজাজেই থাকে।
আমরা দেখে থাকি তৃণভোজীরা একে অপরকে এড়িয়ে চলে
কিন্তু এই বিশেষ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে একে অপরকে উপকারের জন্যই।
মাথা নিচু করে খাওয়া কোন মতেই ঝুঁকিপূর্ণ না,
যখন অন্যরা পাহারায় থাকে।
ইথিওপিয়ার নেকড়ে-
তারা দিনের আলোতে আক্রমনের চেস্টা করেনা
কিন্তু গোধুলিবেলা থেকেই এই মালভুমি বিপদসংকুল হয়ে ওঠে
যখন খাওয়া দাওয়া প্রায় শেষ,
খাড়া ঢালুতে ঘুমাতে ফিরে যাবার আগে শেষবারের মতো একটু সামাজিকতার সুযোগ আসে,
একটি সংকেত সবাইকে সতর্ক করে দেয়।
যে খাড়া ঢালুতে তাদের দিনের শুরু হয়েছিল সেখানেই তাদের দিন শেষ হয়,
ইথিওপিয়ার আগ্নেয়গিরিগুলো ঘুমন্ত
কিন্তু অন্য স্থানে সেগুলো এখনও বিস্ফোরিত হচ্ছে।
আগ্নেয়গিরিই এই পৃথিবীর বিশাল সব পর্বতমালার ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
দক্ষিন আফ্রিকার আন্দিজ পর্বতমালা
এই বিশাল পর্বতমালা বিষুবরেখা থেকে এন্টার্কটিকা পর্যন্ত প্রায় ৫০০০ মাইল বিস্তৃত
এটা তৈরি হয়েছিল প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশ থেকে
দক্ষিন আমেরিকার তলদেশ দিয়ে উঠে এর প্রান্ত সীমা নির্দেশ করেছে
এর একেবার দক্ষিন আছে পাতাগনিয়া পর্বত
এটা মধ্য গ্রীষ্ম
কিন্তু আন্দিজের আবহাওয়া পৃথিবীর সবচে অস্থির
এবং কোন সতর্কতা ছাড়াই যে কোন সময় ঝড় শুরু হয়ে যেতে পারে
তাপমাত্রা নেমে যায়,
এবং গুয়ানাকো আর তার সদ্যজাত সন্তানকে পরতে হয় প্রবল তুষারঝড়ের মধ্যে
সত্যিই সব ঋতু এক দিনেই ...
একটি পুমা -
আন্দিজের সিংহ।
পুমা সাধারনত একা এবং নিভৃতে থাকে
এধরনের একটি পুমার দলকে দেখতে পাওয়া সত্যিই খুব দুর্লভ।
এটা একটা পরিবার, মা এবং তার চার সন্তান।
তার এই একটি গ্রীষ্মেই
তার সন্তানদের এই পাহাড়ে বেচে থাকার কৌশল শেখাতে হবে।
চারটি সন্তানকে একসাথে নিয়ে চলা সত্যিই একটি বিরাট অর্জন।
কিন্তু তার আছে একটি দারুন এলাকা
খাবার এবং পানিতে সমৃদ্ধ
যদিও বাচ্চাগুলি তাদের মায়ের সমান বড়
কিন্তু তারা এখনো মায়ের উপর নির্ভরশীল
নিজে নিজে শিকার ধরতে শিখতে তাদের প্রায় বছরখানেক লেগে যাবে।
তাদের মায়ের কৌশল এবং অভিজ্ঞতা ছাড়া
তারা তাদের প্রথম শীতকাল অতিক্রম করতে পারবেনা।
ঘূর্ণিঝড়ের মতো বাতাসের আক্রমনে
এই ঢালগুলিতে কোন প্রানের অবশিষ্ট নেই।
আরো উত্তরে, সেখানে আরেক বিপদ
আড়াই শত মাইল গতিতে,
একটি হিমপাত, এর চলার পথের সবকিছু ধ্বংস করে রেখে যায়,
আমেরিকার রকি পর্বতমালায়
প্রতি শীতে প্রায় এক লক্ষ হিমপাত তাদের ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
এই বিশাল পর্বতমালা, মেরুদন্ডের মতো
পাতাগোনিয়া থেকে আলাস্কা পর্যন্ত বিস্তৃত
রকি পর্বতের ঢাল, যদিও এরা অনেক রুক্ষ
তারপরও কিছু প্রাণীর শীতকালীন আবাসস্থল
একটি মা গ্রিজলি ভালুক তার গুহা থেকে বেড়িয়েছে
ছয় মাস মাটির নীচে গুহায় কাটিয়ে
তার দুটি বাচ্চা তাকে অনুসরন করছে,
এবং বাহিরের পৃথিবীতে তাদের প্রথম পদক্ষেপ রেখেছে
এই খাড়া ঢাল বাচ্চাগুলিকে এক প্রকার সুরক্ষা দেয়
সুযোগ পেলেই পুরুষ ভালুক তাদের মেরে খেয়ে ফেলবে।
কিন্তু বড় প্রানীদের পক্ষে এই ঢাল বেয়ে উপরে উঠা অনেক কঠিন।
পুরুষ ভালুক আকারে মহিলা ভালুকের দ্বিগুণ
এমনকি মা ভালুকও বিপদে পরে যায়।
বাচ্চাগুলি হালকা হওয়ায় সহজেই বরফের উপর দিয়ে হেটে যায়,
এবং তাদের জীবন শুরু হয়ে যায়,
কিন্তু মা দ্বিধাদন্দে পরে যায়,
ছয় মাস হয়ে গেছে সে কিছু খায়নি
এবং তার দুধ ও শেষ হয়ে গেছে,
তাকে খুব তাড়াতাড়ি এই সাজানো বাগান ছেড়ে যেতে হবে
এবং বাচ্চাগুলোকে নিয়ে পাহাড় থেকে দূরে চলে যেতে হবে।
সে যদি দেরি করে, তাহলে হয়তো পুরো পরিবারকেই না খেয়ে থাকতে হবে।
গ্রীষ্মকালে রকি পর্বতমালার আসল রুপ ফুটে উঠে।
বরফগুলো গলে ঝড়ে গেলে,
চূড়াগুলোর আসল চেহারা বেরিয়ে আসে।
এখন পর্বতারোহীরা উঁচু চুড়াগুলিতে উঠতে পারবে।
দুই মাইল উপরে এই পাথুরে পাহাড়ে প্রান অস্তিত্ব নেই বলেই মনে হয়।
কিন্তু এখানেও প্রাণী বাস করে-
একটি গ্রিজলি ভালুক।
এটাকে এখানে দেখাটা অনেকটাই অবাক করে,
চিন্তা করাও মুসকিল কিসের খোঁজে এটা এখানে এসেছে।
বছরের এই সময়টাতে, শীতের জন্য ভালুকের মোটা হবার সময়
তারপরেও বেশ কয়েকটি ভালুক এই আপাত রুক্ষ ঢালুগুলোতে জমা হয়েছে।
তারা খুঁজে বেরাচ্ছে, এক অদ্ভুত ধরনের খাবার
মথ।
নিচের গরম থেকে বাঁচতে লক্ষ লক্ষ মথ উপরে উঠে এখানে এসে বাসা বেঁধেছে
তারা এখন এই পাথরের ফাকে শীতনিদ্রায় আছে,
ভালুকের খাওয়ার জন্য মথ খুব ছোট মনে হলেও
এগুলো চর্বিতে পরিপুর্ন।
এবং এগুলোই ভালুকের বার্ষিক খাদ্যের সঞ্চয়।
এখানে আরেকটি সংগ্রাম চলছে ,
কিন্তু অনেক সময় নিয়ে, ধীরে।
এই ভাঙ্গা পাথরগুলো এই পাহাড়ের হাড়ের গুড়োর মতো
রকি পর্বতমালা এখন আর উপরে উঠছে না,
এট ধীরে ধীরে ভেঙ্গে যাচ্ছে।
পৃথিবীর সর্বত্রই, সব পর্বতই কুয়াশা, বরফ এবং পানি দ্বারা ক্ষয়ে যায়।
আল্পস পর্বতমালা গড়ে উঠেছিল দেড় কোটি বছর আগে।
যখন আফ্রিকা মহাদেশ ধীরে ধীরে সরে গিয়ে ইউরোপের দক্ষিন দিকে ধাক্কা দিতে শুরু করে।
এই খাড়া চূড়াগুলোই, প্রাচীন সাগরের তলদেশের ক্ষয়ে যাওয়া অবশিষ্ট
যে সাগর দুটি মহাদেশের মধ্য দিয়ে বয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু এগুলো হচ্ছে আলপাইনের ছোট ছোট পাহাড়।
এর কেন্দ্রের উচ্চতা তিন মাইলের মতো উঁচু।
যার চুড়ো সব সময় বরফে ঢাকা থাকে।
ম্যাটারহর্ন
এর চূড়া এতটাই খাড়া যে, এখানে বরফও জমে থাকতে পারে না।
মন্ট ব্লাঙ্ক - পশ্চিম ইউরোপের সবচে উঁচু শৃঙ্গ
আল্পসের এইরুপ এবড়ো থেবড়ো আকৃতি
গড়ে তুলেছে সেই বিখ্যাত পর্বত ভাস্কর -
হিমবাহ.
বিশাল আকারের বরফের প্রবাহ
পাথুরে তলদেশের দিয়ে
ঘষতে ঘষতে পর্বত বেয়ে নীচে নেমে আসছে,
গভীর উপত্যকা বরাবর।
এগুলোই হচ্ছে পৃথিবীর সবচে ক্ষয়সাধনকারী শক্তি,
No comments yet. Be the first to leave one.