The first 196 lines.
পূর্বে যা দেখেছেন:
ওকে বিশ্বাস করো না।
ও বিপজ্জনক।
- নড়াচড়া করবেন না। - আমার ওকে খুঁজে বের করতে হবে।
- ওকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। - হুম, বারবার একই কথা বলে যাচ্ছেন।
প্রতিবার যখন জিজ্ঞাসা করি কাকে আপনার ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে, আপনি অজ্ঞান হয়ে যান।
আপনার জ্বর যেহেতু অনেক বেশি, আমার ধারণা আপনার কোনো আইডিয়াই নেই
- আপনি কার ব্যাপারে কথা বলছেন। - আমার হাতকড়া।
আমার হাতকড়া।
- আমার হাতকড়া কোথায়? - কী?
- আমার জ্যাকেট পকেট। - আমি বুঝতে...
- জ্যাকেট পকেট! - আচ্ছা।
বিপজ্জনক।
ও বিপজ্জনক।
- অন্ধকার হয়ে আসছে। - তাহলে জলদি পা চালাও।
- কামলাচোদা। - আরেকটু জোরে বলো তো শুনি?
আমাদের ক্যাম্প করা উচিত।
- কী, এখানে? - হ্যাঁ, এখানে।
আমি থামছি না। তোমরা আরাম-আয়েশ করো।
- অন্ধকারে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাও। - গাছপালাগুলো আমাদের ধরবে?
না। গাছপালাগুলো যে উপড়ে ফেলছে সে।
এত চিন্তিত হলে, আমাকে ক্লিপটা ফেরত দাও নাহয়?
বন্দুক প্যান্টে রাখো।
সাইদ ঠিক বলেছে। হাঁটতে থাকলে, আমরা সৈকতে পৌঁছাতে পারব না।
হুম, কেন শুনি?
আমার কথা বিশ্বাস করো।
এটা অস্ট্রেলিয়া।
- এটা আমরা। - দারুণ লাঠি।
দুই দিন আগে, আমরা সিডনি থেকে টেক অফ করি।
লস এঞ্জেলেসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া
সব বাণিজ্যিক বিমানের মতোই আমরা একই রুট ধরে উড়ছিলাম।
পাইলট বলেছিল, উনি ভূমির সাথে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন?
হুম, ছয় ঘণ্টা পর। উনি ঘুরে ফিজির উদ্দেশ্যে চলতে শুরু করেন।
তো আমরা যাত্রাপথ পরিবর্তন করি।
দুর্ভাগ্যবশত, কেউ জানত না আমরা যাত্রাপথ পরিবর্তন করেছি।
টার্বুলেন্স আঘাত হানে।
বাকিটা আমরা জানি।
পাইলট বলেছিল যে আমরা মূল যাত্রাপথ থেকে ১,০০০ মাইলের বেশি দূরে ছিলাম।
হুম, কিন্তু ওরা আমাদের খুঁজে পাবে।
ওদের কাছে যেসব স্যাটেলাইট আছে তা দিয়ে তোমার লাইসেন্স প্লেটের ছবিও তোলা সম্ভব।
আমরা সবাই যদি লাইসেন্স প্লেট পরে থাকতাম।
- তুমি এত হতাশাবাদী কেন? - বেসিক ফটোগ্রাফি: তাক করো, ছবি তোলো।
স্যাটেলাইট ছবি তুলতে পারে, কিন্তু তাকে বলে দিতে হয় কোথায় তাক করতে হবে।
বালছাল।
ওকে, তোমার পাপেট শো খুব উপভোগ করলাম। চমৎকার।
তো আমরা এক অজানা জায়গার মধ্যখানে আটকে আছি।
অন্য ব্যাপারে আলাপ করা যাক?
আব্দুল তার পিচ্চি রেডিয়োতে যে ট্রান্সমিশনটা ধরতে পেরেছিল।
যে ফ্রেঞ্চ মেয়েটা বলছিল, "ওরা সবাই মারা গিয়েছে।"
ট্রান্সমিশনটা লুপ আকারে চলছে... কত সময় ধরে, বিল্লি?
- ষোল বছর। - ঠিক।
চলো ওই ব্যাপারে কথা বলা যাক।
বেশ, ফিরে গিয়ে আমাদের বাকিদেরকে এটা বলতে হবে।
- ঠিক কী বলবে ওদের? - আমরা যা শুনেছি।
- আমি কোনো ফালতু অনুবাদক নই। - কেউ ওদের কিচ্ছু বলবে না।
পুরোপুরি না বুঝে আমরা যা শুনেছি তা ওদের জানালে এটা আতঙ্ক সৃষ্টি করবে।
আমরা যা জানি তা যদি ওদের বলি...
...তাহলে আমরা ওদের আশা কেড়ে নেবো।
আর আশা হারিয়ে ফেলা খুব বিপজ্জনক ব্যাপার।
তো আমরা মিথ্যা বলব?
- ওটা কি ডায়নোসর ছিল? - ওটা ডায়নোসর ছিল না।
- তুমি বলেছো যে তুমি ওটাকে দেখোনি। - হুম, দেখিনি।
তো কীভাবে জানো যে ওটা ডায়নোসর না?
কারণ ডায়নোসর বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
হুম।
তো, ওর অবস্থা কী? দেখে মনে হচ্ছে...
-...মৃত্যুপথযাত্রী। - ও মরবে না।
- গায়ের রঙ হলুদ হয়ে গেছে। - ওনার ক্ষতস্থান সংক্রমিত হয়েছে,
- তবে এন্টিবায়োটিক এর বিরুদ্ধে লড়াই করবে। - যদি না করে?
তাহলে ওনার শরীর থেমে যাবে...
...একটা একটা করে অঙ্গ।
ওনার পেট শক্ত হয়ে যাবে, এরপর...
মনে হচ্ছে উনি খুব যন্ত্রণায় ভুগছেন।
হুম।
এটা কী?
দোস্ত?
- ও কী করেছিল বলে মনে হয়? - এটা আমার মাথা ঘামানোর বিষয় না।
- ওকে বেশ মারদাঙ্গা পাবলিক মনে হচ্ছে। - হার্লি।
:.:.: LOST S01 E03 :.:.: "Tabula Rasa" অনুবাদক: নূরুল্লাহ মাশহুর
কী করছো তুমি?
আমি পাহারা দিচ্ছি। শুনেছো তো ওরা কী বলেছে।
তুমি আমার থেকে বন্দুক নিয়ে গেছ, ছোকরা?
ও বন্দুকে বিশ্বাস করে না। ও প্রতিবাদ মিছিল করে।
- আমি প্রতিবাদ মিছিল করি না। - এটা ফেরত দাও।
- আল জাজিরা আমাদেরকে পাহারা দিবে। - আল জাজিরা একটা নেটওয়ার্ক।
- আমি বন্দুকটা রাখব। - আমাদের উচিত বন্দুকটা ওকে দেওয়া।
- হুম। বন্দুকটা কেটের কাছে থাকা উচিত। - আমার আপত্তি নেই।
বেশ?
- শুভ সকাল। - শুভ সকাল।
- তুমি আমার ভেড়ার খোয়াড়ে ঘুমাচ্ছ। - দুঃখিত।
- এখানে কীভাবে এলে? - হেঁটে হেঁটে।
- হেঁটে হেঁটে? - হুম।
- কোথা থেকে? - শহর থেকে।
- সবচেয়ে কাছের শহরও ১৫ কিলোমিটার দূরে। - এ কারণেই আমি ক্লান্ত।
নাম কী তোমার?
- অ্যানি। - তুমি ক্ষুধার্ত, অ্যানি?
তো আমাকে বলবে কেন তুমি আমার জায়গায় অনধিকার প্রবেশ করেছো?
আমার টাকা ফুরিয়ে গিয়েছিল।
তুমি আমেরিকান?
কানাডিয়ান। কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশনের পর দুনিয়া ঘুরে দেখার ইচ্ছা হলো।
অস্ট্রেলিয়া আমার তালিকার শীর্ষে ছিল, তাই একটা ফ্লাইট ধরে মেলবোর্নে চলে এলাম,
কিন্তু এখানে কাউকে চিনি না, তাই ভাবলাম কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করি।
মেলবোর্ন এখান থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে।
আমার হাঁটতে ভালো লাগে।
আর এভাবেই ঘুরতে ঘুরতে আমার খামারে ঢুকে পড়লে?
খামারও ভালো লাগে আমার।
খামারের কাজ জানো?
হুম।
আমার স্ত্রী আট মাস আগে এক বুধবারে মারা গিয়েছে।
একগাদা কাজ আর বিশাল এক বন্ধকের বোঝা আমার কাঁধে চাপিয়ে গেছে।
যদি প্রথমটার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করো,
আমি তোমাকে ন্যায্য বেতন আর থাকার জায়গা দেবো।
ডিল।
আমি বাঁহাতি।
দোস্ত। দোস্ত!
হেই, দোস্ত, ওরা ফিরেছে।
তোমরা সবাই যেমনটা জানো, উদ্ধারকারী টিম যাতে আমাদের চিহ্নিত করতে পারে
সেই প্রচেষ্টায় আমরা পাহাড়ের ওপর উঠেছিলাম।
ট্রান্সসিভারটা কোনো প্রকার সিগন্যাল পেতে ব্যর্থ হয়েছে।
আমরা সাহায্যের জন্য কোনো বার্তা পাঠাতে পারিনি।
তবে আমরা হাল ছাড়ছি না।
আমরা যদি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি, সেলফোন, ল্যাপটপগুলো একত্রিত করি,
আমি সিগন্যাল বুস্ট করে আবার চেষ্টা করতে পারি।
কিন্তু তাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তাই আপাতত,
আমাদের অবশিষ্ট খাবার বণ্টন শুরু করতে হবে।
যদি বৃষ্টি হয়, আমাদেরকে পানি সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে।
আমার তিনটা আলাদা গ্রুপ দরকার।
প্রতিটা গ্রুপে একজন লিডার থাকবে। পানির জন্য একটা গ্রুপ।
আমি সেটা সামলাব। ইলেকট্রনিকস কে সামলাবে? তুমি? খাদ্য বণ্টন?
ওকে।
আর তৃতীয় আরেকটা গ্রুপ লাগবে যারা...
- হাই। - হেই।
তোমাকে একটা ব্যাপার বলা দরকার।
ওকে। শিওর।
আমরা সিগন্যাল পাঠাতে পারিনি
কারণ আরেকটা সিগন্যাল এটাকে ব্লক করে দিচ্ছিল।
অন্য সিগন্যালটা আমরা শুনেছি।
এটা একটা ফ্রেঞ্চ নারীর ডিসট্রেস কল ছিল।
সে বলছিল বাকিরা মারা গিয়েছে।
কিছু একটা তাদেরকে মেরে ফেলেছে।
ও দ্বীপে একাকী ছিল।
এটা ১৬ বছর ধরে বেজে চলছে, জ্যাক।
তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম।
আর কিছু?
ও কেমন আছে? শার্পনেল বিদ্ধ লোকটা।
- সঙ্কটাপন্ন। - ও কি জেগেছিল?
সার্জারির সময় স্রেফ কয়েক সেকেন্ডের জন্য।
কিছু বলেছে?
না।
তো, কী বলল ও?
কিছুই বলেনি।
কিন্তু তুমি ওকে বলেছ যে তুমি জানো।
আমি কিছুই জানি না।
বেশ, তুমি জানো ও ওই মাগশটে আছে।
আর আমরা হাতকড়াগুলো খুঁজে পেয়েছি।
আর লোকটা বারবার বলে যাচ্ছে, "ও বিপজ্জনক"।
এটা আমার মাথাব্যথা না। আমার সমস্যা না।
হুম, ঠিক বলেছ।
লোকটা সুস্থ হয়ে উঠলে জনি ফিভার মেয়েটাকে সামলাবে।
আরও শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক না পেলে উনি সুস্থ হবেন না।
- লাগেজের ওই ওষুধগুলো... - কানের ইনফেকশন আর পায়ের ছত্রাকের জন্য।
আমরা সবকিছু ঘেঁটে দেখেছি।
ওভারহেড কম্পার্টমেন্ট এর লাগেজগুলো?
- ওসব তো প্লেনের ভেতরে। - হুম?
কিন্তু ওখানে দেহগুলো পড়ে আছে,
আর সবাই... মৃত।
- আমি এটা সামলাচ্ছি। তুমি নজর রেখো... - দারুণ। হুম, সমস্যা নেই। যাচ্ছি।
- কী করছো তুমি? - লুকোচুরি খেলছি। তোমার মতোই।
তুমি লুট করছো।
বলতে পারো।
- ব্যাগে কী? - মদ, সিগারেট, কয়েকটা প্লেবয় ম্যাগাজিন।
- তোমারটায় কী? - ওষুধ।
বেশ, অনুমানযোগ্য, তাই না?
নিজের দেশেও কি এসব করো? মৃতদের থেকে চুরি করো?
ভাই, হুশে ফিরে আসো আর এখানকার পাখির বিষ্ঠার ঘ্রাণ শুঁকে দেখো।
কোনো উদ্ধারকারী আসছে না।
তুমি স্রেফ নিজের সময় অপচয় করছো,
এমন এক লোককে বাঁচানোর চেষ্টা করছ, শেষবার যার পেটের ভেতর
আমার মাথার সাইজের একটা ধাতুর টুকরা আটকে থাকতে দেখেছিলাম।
তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করি।
ওকে সুস্থ করার জন্য তুমি কয়টা পিল ব্যবহার করবে?
- যতগুলো লাগে। - হুম?
কতগুলো আছে তোমার কাছে?
তুমি বৃহৎ চিত্রটার দিকে খেয়াল করছো না, ডক।
- তুমি এখনও সভ্য জগতে পড়ে আছো। - হুম? আর তুমি কোথায়?
আমি? আমি বন্য জগতে।
হেই, আমি ধরছি। আমি ধরছি।
- ধন্যবাদ। - আমি পারব। পারব। ইয়াহ।
বেশ, ভালো দিকটা খেয়াল করো।
এটা যে-ই ছিল না কেন আমাদের চেয়ে অন্তত ভালো আছে।
আমি পারব।
- বাচ্চাটা কেমন আছে? - ঠিক আছে, সম্ভবত।
ভালো।
তো তোমার...
তোমার স্বামী ওই ফ্লাইটে ছিল?
ওহ, না, আমি বিবাহিত নই।
No comments yet. Be the first to leave one.