The first 200 lines.
"আর-রাহিমু ইসলামী মহিলা মাদ্রাসা"
বেঙ্গিরাতুস গ্রাম, লামংগান, পূর্ব জাভা।
"আল-আম্বিয়া মসজিদ" আর-রাহিমু ইসলামী মহিলা মাদ্রাসা
অতএব,
আমাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে ফজরের নামাজের জন্য ঘুম থেকে উঠা।
আর তাই ফজরের আযানে বলা হয়—
যার অর্থ হচ্ছে,
"ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম।"
-হ্যারলিনা! -এই কথাটা মাথায় রেখো।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
মেয়েরা, দশ মিনিটের মধ্যে...
...সবাই কুরআন তেলাওয়াত শুরু করবে।
-বুঝলে? -জ্বি উম্মী!
কোথায় যাচ্ছিস, হ্যারলিনা?
কুরআন শরীফ আনতে যাই।
তাড়াতাড়ি আসিস।
ও কোথায় যাচ্ছে?
আমি জানি না। ও কি চলে যাচ্ছে?
অদ্ভুত।
তোমাদের উচিত ছিলো একে অপরকে মনে করিয়ে দেওয়া।
বারবার ওই মেয়েটার জন্য আমরা বেকায়দায় পড়ি!
এখন সবাই উঠান, বাথরুম আর...
...চালা পরিষ্কার করবে।
আর হ্যারলিনা?
- এটা তার দোষ, আমাদের না। - দোষ তোমাদের সবার!
তোমাদের সবাই শাস্তি পাবে। হ্যারলিনাও।
উম্মী! শুনুন!
কি হয়েছে? এখন কী অজুহাত দেবে শুনি?
মাফ করে দিন, আমি আমার কুরআন আনতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মাফ করে দিন।
এখন সবাই...
...কাজে লেগে পড়ো!
যাও, সবাইকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
নাদিলা, বসে থেকোনা,
কাজ করো!
- আসসালামু আলাইকুম, উম্মী। - ওয়ালাইকুমুস সালাম।
ভালো করে কাজ করো।
আলসেমি কোরোনা।
সুন্দর ভাবে করো।
- ঝাড়ু দে! - দিচ্ছি বাবা!
ধুর ভাল্লাগে না!
ধ্যাত!
আমরা ওকে শায়েস্তা করেই ছাড়বো!
কিভাবে?
- ধাক্কা দিস না তো! - তুই দিস না!
আচ্ছা দিবোনা!
হ্যারলিনা!
খুব খুশি মনে হচ্ছে?
আমাদেরকে শাস্তি ভোগ করিয়ে হাসাহাসি করছিস?
রানুম, আমিনা, ওয়াতি, তোরা যা!
সব ও একা করবে।
কি বলছিস এসব, অবি?
তোকে যেতে বলেছি, রানুম!
এটা আমাকে দে!
অবি!
কি করছিস এসব!
ও এখানে নতুন। এক মাস হলো এখানে এসেছে।
এক মাস কি কম?
শোন, এই মাদ্রাসায় আমাদের ক্লাসই সেরা!
কখনো শাস্তি পেতে হয়নি।
কিন্তু ও আসার পর থেকে...
...বারবার তেলাওয়াত আর ফজরের নামাজ কাযা করে, আর শাস্তি পাই আমরা।
ভেজালের কারখানা একটা!
- আমি জানি, কিন্তু... - এসব তোর কাছে সহজ,
কারণ তুই হাফেজা!
সকলের প্রিয় ছাত্রী!
আর আমি?
দিলা, সিতি, আমিনা, ওয়াতি, আর বাকিরা?
তুই তো...
...অনেক ভালোই আছিস!
আলসে কোথাকার!
চল!
রানুম
তুই চাইলে চলে যেতে পারিস!
ভুল তো আমি করেছি।
আরে ব্যাপার না।
আমি এইগুলো করতে অভ্যস্ত নই।
বাবা-মা আমার সব চাহিদা পূরণ করেছে।
কিছু মনে করিস না, রানুম।
আহা বাদ দে না! তাড়াতাড়ি কাজটা করি আয়!
আচ্ছা।
নিজের যত্ন নেবে।
মা, আমার এখানে ভালো লাগেনা।
কেউ আমাকে দেখতে পারেনা।
শক্ত থাকো।
আস্তে আস্তে সবাই তোমাকে পছন্দ করতে শুরু করবে।
কেউ করবেনা।
শুধুমাত্র একজন আমাকে পছন্দ করে।
আমার প্রতি সদয় আচরণ করে।
তার নাম রানুম।
কিন্তু বাকিরা আমাকে দেখতে পারেনা।
বিছানার চাদরটাও খুব দুর্গন্ধময় আর নোংরা। আমি ঘুমাতে পারি না।
হাসছো কেনো?
আচ্ছা সোনা, আমি তোমার জন্য বিছানার চাদর নিয়ে আসবো।
নতুন একটা!
আজকে রাতেই নিয়ে আসবো।
মা, এটা সমাধান নয়।
ও মা,
বাবাকে একটু বলোনা, আমি আবাসিক থাকতে পারবোনা।
হ্যারলিনা,
তুমি জানো তোমার বাবা কেমন!
অন্তত...
...এক সেমিস্টার পর্যন্ত থাকো।
এরপরেও যদি ভালো না লাগে, আমি তোমার বাবাকে বলবো।
ঠিক আছে?
একটু হাসোনা সোনামণি!
জোর করে হাসছে আমার মামনীটা!
আমার মেয়েটাকে হিজাবে খুব সুন্দর মানিয়েছে।
খুবই সুন্দর!
রবিয়াতুল।
তোমার নামে বিচার কেনো আসবে হাহ?
এমনিতেই অনেক ঝামেলায় আছি,
তুমি আরও ঝামেলা পাকিয়োনা!
বহিষ্কার করে দিলে কী হবে ভেবে দেখেছো?
কী ভেবেছো, আমি তোমাকে বাড়িতে উঠতে দিবো?
অনেক হয়েছে, এবার থামো।
- খাবে? - না পরে।
- খাইয়ে দেই আমি? - না, আমি পরে খাবো।
আচ্ছা ঠিক আছে।
হ্যারলিনা সালাম পাঠিয়েছে।
সে নাকি তোমাকে অনেক মিস করছে।
কেমন আছে ও?
ভালো?
ও অনেক ভালো আছে এবং নিজেকে গড়ে তুলছে।
আমি ওকে এভাবে দেখে অনেক খুশি।
কিন্তু মনে হচ্ছে, ওর কাছে জায়গাটা এখনো ভালো লাগছেনা।
ছুটি নিয়ে দু-এক দিনের জন্য বাসায় আনলে মন্দ হয়না।
এক মাস হলো সেখানে গিয়েছে, এখনই ভালো লেগে যাবে?
এক মাসে তো মাদ্রাসায় তেমন কিছু শিখতেও পারেনি।
আমি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি, সে এখনো কুরআনটাই ঠিকমতো পড়তে পারেনা।
আরও কিছুদিন থাকুক।
তার শৃঙ্খলা শেখা দরকার।
আমি তাকে কম্বল আর বিছানার চাদর দিতে যাবো।
বাহ, হ্যারলিনা!
আমি তোর উন্নতি দেখতে পাচ্ছি।
আমি কুরআন পড়তে মসজিদে যাচ্ছি।
তুই যাবি?
তোর বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করতে যাচ্ছিস, রানুম?
ঠিক আছে, আমি তোর সাথে যাবো। দাঁড়া একটু।
আলহামদুলিল্লাহ!
আমি অপেক্ষা করছি আয়।
আমাদের সাথে আয়!
আসসালামু আলাইকুম, হ্যারলিনা!
ভেজালের কারখানা!
আমাদের নামে বিচার দিয়েছিস, কুটনি?
তোর সাহস তো কম না!
আমি উম্মীকে কিছু বলিনি।
আহ!
আমি তোর কোন কথা শুনতে চাই না।
আহারে সোনাবাবু! তুমি কি কাঁদছো?
আমি তোমাদের কী ক্ষতি করেছি?
"আমি তোমাদের কী ক্ষতি করেছি?"
ওটা নিয়োনা দয়া করে, অবি!
-চুপ কর। -দিলা, ব্যাথা পাচ্ছি!
নে!
জঘন্য।
- তুই কি আমার সাথে পাঙ্গা নিতে চাস? - না।
- চাস? - না!
ছাড়ো আমাকে!
ছাড়ো আমাকে!
উঠ, এদিকে আয়!
এদিকে আয়!
উফ, ব্যাথা পাচ্ছি।
কোথায় যাচ্ছিস?
ব্যাথা পাচ্ছি!
ছেড়ে দাও আমাকে!
- অবি! - একদম চুপ!
অবি!
এটা অনেক গরম!
একটু ছ্যাকা দেই?
আমিনা, ওকে ধর।
পেছনের দরজা দিয়ে চল।
- কোনদিকে গেলো? - এইদিকে!
রানুম।
তোকে দিয়ে কাজ করিয়েছি বলে আমার নামে উম্মী আয়ুর কাছে বিচার দিয়েছিস।
এখন আবার বিচার দিতে যাচ্ছিলি তাইনা?
না!
না, না, না!
চুপ কর কুটনি!
চুপ!
একদম চুপ!
সর!
ঠান্ডা লাগে?
না!
দাঁড়া!
বাচ্চাদের মত কাঁদিস না!
আমার সাথে পাঙ্গা নিতে চাস?
- হাহ? - ছেড়ে দাও আমাকে!
ধর ওকে!
আউচ!
সাপ্তো ভাই, আমরা...
দেয়ী, ও কেমন আছে?
কি হয়েছে ওর?
এটা গাড়ি দুর্ঘটনার কারণে হয়নি।
- শান্ত হোন। - কোথায় ছিলেন আপনারা?
আমার মেয়েটার হাত পুড়ে গেছে সেই খবর আপনাদের নেই!
জনাব, শান্ত হোন।
- জনাব সাপ্তো, আমরা... - ব্যাস, আমি জানি।
আপনারা এখানে এসেছেন নিজেদের দোষ লুকোনোর জন্য, যাতে আমি আপনাদের নামে মামলা না করি।
এটা কিভাবে হলো?
No comments yet. Be the first to leave one.