Planet Earth

Planet Earth

Download Bengali Subtitle

Specials

Release info

Planet Earth EP05 Deserts 2006 Bengali by SJB
A Commentary by Shahidul Islam Shojib

Tags

TS
Published on: 2017-03-12
Downloads: 53
Hearing Impaired: No

Bengali subtitle preview

The first 175 lines.

বাংলা সাব সজীব

আমাদের পৃথিবীর স্থলভাগের তিনভাগের একভাগ মরুভূমি।

পৃথিবীর উপর এই বিশাল ক্ষতচিহ্নগুলো

প্রাণহীন মনে হতে পারে।

কিন্তু অবাক হলেও, এর কোনটিই প্রাণহীন নয়।

এর সবগুলিতেই, কোন না কোন উপায়ে

প্রান টিকে গেছে।

সব মরুভূমিই গরম নয়।

ঘন্টায় প্রায় পঞ্চাশ মাইল বেগে সাইবেরিয়া থেকে হাওয়া ছুটে আসছে,

যা, মঙ্গোলিয়ার এই গোবি মরুভুমিতে বরফ নিয়ে আসছে।

গ্রীষ্মে এর তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস উঠে যায়।

আর মধ্য শীতে নেমে যায় হিমাংকের ৪০ ডিগ্রী নীচে।

যা এই মরুভূমিকে বানিয়েছে সবচেয়ে রুক্ষ।

খুব কম প্রাণীই এতো তারতম্য সহ্য করতে পারে।

বুনো দুই কুজ বিশিষ্ট উট,

পৃথিবীর অন্যতম দুর্লভ প্রাণী।

এবং সম্ভবতঃ সবচে কঠিন প্রাণী।

তাদের সবচে বড় সমস্যা হচ্ছে পানির অভাব।

বিশেষ করে এখন, এই শীতকালে।

যাও খানিকটা আছে, তাও বরফে জমে আছে।

অবাক করে দিয়ে হলেও, এখানকার বরফ কখনই পানিতে পরিণত হয় না

বাতাস অনেক ঠান্ডা এবং শুকনো এখানে।

তাই সূর্যের আলো এগুলোকে সরাসরি জলীয় বাস্পে পরিনত করে।

এগুলো বাষ্পীভূত হয়ে যায়।

কিন্তু এগুলোই এখানকার পানির একমাত্র উৎস

তাই এই উটেরা এগুলোই খেয়ে নেয়।

পৃথিবীর অন্যত্র,

একটি উট পানি খুঁজে পেলে একেবারে প্রায় ২০০ লিটার পর্যন্ত পানি পান করে।

আর এখানকার কৌশল হচ্ছে, অল্প অল্প করে বার বার খেয়ে নেয়া।

এবং এর কারনও আছে,

একেবারে বেশী বরফ খেয়ে পেট পুরো করলে জীবন হুমকিতে পরতে পারে।

তাই এই উটেরা নিজেদের সংযত করে নিয়েছে।

তারা দিনে প্রায় ১০ লিটার পানির সমপরিমান খেয়ে থাকে।

শীতকালে এদের বাচ্চা দেয়ার সময়।

এই রকম আজব প্রদর্শনির মাধ্যমেই

পুরুষ উটেরা মেয়েদের আকৃষ্ট করার চেস্টা করে।

গ্রীষ্মে এই উটেরা পানির গর্ত থেকে বেশী দূরে যেতে পারে না।

কিন্তু এখন, মুখে কিছু বরফ পুরে নিয়ে

তারা সঙ্গীর খোঁজে অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে।

এখন পর্যন্ত, প্রাকৃতিক পরিবেশে মাত্র হাজারখানেক উট অবশিষ্ট আছে।

আর যতোই কঠিন হোক এই গোবি মরুভূমিই তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল

পৃথিবীর আর কোন মরুভূমিই গোবির মতো নয়,

কিন্তু এই জায়গাটি কেন মরুভূমিতে পরিণত হলো ?

এখানে একটি অতি সাধারন কিন্তু সুবিশাল কারন রয়েছে।

হিমালয়।

দক্ষিন দিক থেকে ভেসে আসা মেঘেরা এই বিশাল পর্বতমালায় বাধাপ্রাপ্ত হয়।

বাধা পেয়ে তারা উপরে উঠে যায়,

তাই তারা তাদের আর্দ্রতা পাহাড়ের ঢালেই জমা করে আসে

এবং অপর পাড়ের জন্য সামান্যই নিয়ে আসে।

মহাকাশ থেকে এই মরুভূমিগুলোকে স্পষ্ট দেখা যায়,

শত শত মাইল লম্বা বালিয়াড়িগুলো তাদের বুকের উপর দিয়ে লম্বালম্বি ভাবে চলে গেছে,

তাদের আড়াল করার জন্য কোন গাছপালা নেই,

খোলা পাথরের উপরকার বিচিত্র নকশাও চোখে পরে।

আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি সবচে বড়।

এর আকার প্রায় যুক্তরাষ্ট্রের সমান

এবং এটাই হচ্ছে এই পৃথিবীর সবচে বড় বালি এবং ধুলিকণার উৎস

কোন আগাম সতর্কতা ছাড়াই, এধরনের ধূলিঝড় শুরু হয়ে যেতে পারে।

এবং প্রায় ব্রিটেনের সমান এলাকাকে সারা দিনের জন্য ধুলিতে আচ্ছন্ন করে রাখতে পারে।

ড্রমডেরিস, এই উটগুলোর চলার পথেই ঝড় নেমেছে।

ভারী বালির কনাগুলো মাটি থেকে কয়েক মিটার উপরে উঠতে পারে।

কিন্তু ধূলিকণাগুলো মাটি থেকে প্রায় ৫০০০ মিটার উপরে উঠে যেতে পারে

এই বালির অস্ত্র দ্বারা সজ্জিত তীব্র বাতাস

হচ্ছে সেই শক্তি যা মরুভূমিকে চিত্রিত করে।

সরীসৃপদের গায়ের বর্মের মতো চামড়া তাদের এই ধুলির অস্ত্র থেকে বাচায়।

কিন্তু পোকামাকড়দের জন্য এই বোমাবর্ষণ অনেক তীব্র মনে হয়।

পালানোর একমাত্র পথ, মাটির নীচে।

এইভাবে বাতাসের উঠা নামা এবং ঘুর্নিতেই

বালিগুলি স্তুপাকারে জমে গিয়ে বালিয়াড়ি তৈরি করে।

এই বালির চুড়াগুলি শতশত মাইল লম্বা হতে পারে।

নামিবিয়াতে বাতাস পৃথিবীর সবচে বড় বালিয়াড়িগুলো তৈরি করেছে।

এইরকম একটি বড় বালিয়াড়ি প্রায় ৩০০ মিটার উঁচু হতে পারে।

বালির কনাগুলো উপরের প্রান্ত থেকে উরে চলে গিয়ে অন্যত্র জমা হয়,

এভাবে শুধুমাত্র উপরের অংশটাই সরে যেতে পারে

এই ধরনের বালিয়াড়ির নীচের মূল অংশটা হয়তো গত ৫০০০ বছরেও স্থান পরিবর্তন করেনি।

খুব কম পাথরই এই ধরনের ধুলোর অত্যাচার সহ্য করতে পারে।

এই উত্থিত পাথরগুলো দাঁড়িয়ে আছে মিশরের সাদা মরুভূমিতে

কিন্তু তারা এভাবে বেশিদিন থাকতে পারবে না।

তাদেরকে নির্দয়ভাবে খোদাই করে নিয়ে যাচ্ছে,

এবং পরিণত করছে আরো বালিতে।

এখন এই ক্ষয়ে যাওয়া পাথর গুলো এই বালির সাগরে নোঙ্গর করে দাঁড়িয়ে আছে।

এই শত শত মিটার লম্বা এবড়োথেবড়ো পিরামিডগুলো

এক সময় এক সুবিশাল পাথরের উপত্যকার অংশ ছিল।

এই ঝড়ো ধূলিকণাগুলো তাদের আস্তে আস্তে ক্ষয় করে নিয়ে যাচ্ছে,

এই অদম্য বাতাসের শক্তিই এই মরুভুমির চেহারাকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করে যাচ্ছে।

কিন্তু এখানে একটা জিনিসের উপস্থিতি সব সময় থাকে -

মরুভূমির সূর্য।

সূর্যের তাপ এবং শক্তি পানিকে বাস্পে পরিণত করে।

এবং এখানে বসবাসকারী প্রতিটি জীবের উপরেই এর প্রভাব অনেক তীব্র।

এই সূর্য একটি সম্ভাব্য হত্যাকারী

এবং এই লাল ক্যাংগারুগুলোকে এটা মেনে নিতেই হবে।

ঠিক এই মুহুর্তে, যখন সূর্য নীচে আছে,

তখন খুব বেশী চিন্তার কিছু নেই।

কিন্তু এই সময় বেশিক্ষণ থাকবে না।

অস্ট্রেলিয়া হচ্ছে পৃথিবীর সবচে শুকনো মহাদেশ যেখানে দিনের তাপমাত্রা গায়ে ফোস্কা ফেলতে পারে।

প্রতি ঘন্টায় তাপমাত্র প্রায় পাঁচ ডিগ্রী সেলসিয়াস করে বাড়তে থাকে

শীঘ্রই এই তাপমাত্রা একটি চূড়ান্ত মাত্রায় চলে যাবে।

কোন ক্যাংগারু এই তাপমাত্রায় বাইরে থাকলে অতিগরমে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে

পূর্ন সূর্যের তাপে, ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।

মধ্য দুপুরে এই তাপমাত্রা এতোটাই চরমে উঠে যে, ক্যাংগারুরা ছায়ায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

ছায়ায় তারা হয়তো সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে বেঁচে যায়।

কিন্তু তাদের গায়ের তাপমাত্রা এখনো বেড়ে যেতে পারে।

তাই তারা তাদের মুখের লালা দিয়ে তাদের হাতের কবজি ভিজিয়ে নেয়,

যেখানে চামড়ার ঠিক নিচেই রক্ত নালীগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,

এবং এই লালাগুলি বাষ্পীভূত হয়ে তাদের রক্তকে শীতল করে

এই তাপবিকিরিত ছবিটির মাধ্যমে এই কৌশলের কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে,

ঘন নীল অঞ্চলগুলি ঠান্ডা

হাতের লালাগুলি শুকিয়ে গেলে আবার এতে লালা দিতে হবে।

এভাবেই ক্যাংগারুদের শরীর থেকে দরকারি পানি চলে যায়।

এমনকি এই ছায়াতেও গরমে সেদ্ধ হতে হয়।

তাই এক ক্যাংগারুগুলো মাটির উপরের গরম স্তর তুলে ফেলে

নিচের ঠান্ডা মাটি বের করে নিয়ে আসে।

এভাবে ছায়ায় বসে থেকে এবং নিজের হাত পা চেটে ঠান্ডা করার মাধ্যমে

ক্যাংগারুরা কোন মতে দিনের সবচে গরম সময়টা পরার করে আসে

কোন রকম অজ্ঞান হওয়া ছাড়াই

কিন্ত বেশিরভাগ মরুভূমির প্রাণীদের জন্য

জীবন ধারনের জন্য এই কৌশল যথেষ্ট হয় না।

আফ্রিকার ফেনেক শেয়ালের এই অদ্ভুত কানগুলি তাদের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

কিন্তু এই প্রাণীগুলির নিজেদের ঠান্ডা রাখার অন্য রাস্তা আছে।

তারা দিনের বেলায় মাটির নীচে লুকিয়ে থাকে

এবং সূর্য ডুবে গেলেই বের হয়ে আসে।

অন্ধকারে তারা আরেক সমস্যায় পরে।

সাহারা মরুভূমিতে রাতের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রী পর্যন্ত নেমে যেতে পারে।

তাই এই সময়টা এই মরুভূমির শেয়ালের বাচ্চাদের খেলার জন্য পর্যাপ্ত ঠান্ডা।

এখন সব ধরনের প্রাণীরাই বেরিয়ে আসে।

এদের মধ্যে কয়েকটি বেশ অপ্রত্যাশিত

ব্যাঙের গায়ের চামড়া অত্যান্ত ভেদ্য।

দিনের তাপমাত্রায় তারা খুব দ্রুত শুকিয়ে মারা যাবে,

তাই এটা কেবল এই সময়েই তার আস্তানা থেকে বের হয়।

একই কথা কাঁকরাবিছের বেলাতেও খাটে।

যদিও তাদের গায়ের খোসা পানির মতো স্বচ্ছ।

প্রকৃতপক্ষে, মরুভূমির সব ছোট প্রাণীরাই নিশাচর।

তাই শুধুমাত্র এই সময়টাতেই বোঝা যায়,

মরুভূমিতে কতো প্রাণী থাকতে পারে।

কিন্তু আর্দ্রতা রাতের বেলাতেও হারায় এবং এটা যে কোন উপায়ে হোক পুরন করতে হবে।

এবং ঠিক এই সমস্যাটাই সব মরুভূমির বাসিন্দাদের জীবনের পথ নির্ধারণ করে দেয়,

চিলির আটাকামা মরুভূমি।

পৃথিবীর সবচে শুস্ক মরুভূমি।

এর কোন কোন অঞ্চল হয়তো গত পঞ্চাশ বছরেও বৃষ্টির দেখা পায়নি,

এবং এরকম রেকর্ড সাথে থাকলে

আপনি আশা করতেই পারেন যে, এই অঞ্চলটি একদম নিস্ফলা।

এগুলো দক্ষিন আমেরিকার উট, গুয়ানাকো।

তারা আর্দ্রতা ধরে রাখতে বেশ পটু।

কিন্তু তারপরও তাদের নিয়মিত পানির দরকার হয়,

তারা এর কিছু অংশ পায়, ক্যাকটাসের ফুল থেকে।

কিন্তু এই উত্তরটিও আরেকটি নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়।

এই ক্যাকটাসগুলিই বা কিভাবে বৃষ্টি ছাড়া টিকে থাকতে পারে।

গরম বাতাস মাটি থেকে সব আর্দ্রতা শুষে নিয়ে যায়,

স্পষ্টতই এখানে নিশ্চই কিছু একটা আছে যেটা বৃষ্টির জায়গা দখল করেছে

এর রহস্য লুকিয়ে আছে এই মরুভূমির সমান্তরালে বয়ে চলা সাগরের শীতল পানির স্রোতে।

এই শীতল পানি উপরের আর্দ্র বাতাসকে ঠান্ডা করে দেয়

এবং এতে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়।

এবং মরুভূমির বাতাস গরম হয়ে উপরে উঠে গেলে, এই ঠান্ডা বাতাস কুয়াশাকে মরুভূমির অনেক গভীরে নিয়ে যায়,

এই ক্যাকটাসগুলোতে শিশিরকনা জমতে খুব বেশী সময় লাগে না।

এই কুয়াশা এতোটাই নিয়মিত হয় যে

স্যাঁতসেঁতে জায়গা পছন্দ করা আগাছাগুলোও ক্যাকটাসের গা বেয়ে গজিয়ে ওঠে

এবং তারা স্পঞ্জের মতো পানিকে শুষে নেয়।

যে অঞ্চলে একেবারেই বৃষ্টি হয়না,

সেখানে এই অমুল্য কয়েক ফোটাই অনেক প্রাণীদের জীবন রক্ষাকারি উপাদানে পরিণত হয়।

স্থলের আরো ভেতরে, সেখানে বাতাস অনেক গরম তাই জলীয় বাস্প শীতল হয়ে কুয়াশায় পরিণত হতে পারেনা।

তাই মরুভূমির এই সরু ঢালুতেই এই আটাকামাদের বসবাস

যেখানে জীবন ধারন করা যায়।

এই কুয়াশা ছাড়া,

এই অঞ্চলটাও শুন্য হয়ে যেতো।

এই গুয়ানাকোগুলোই এই শিশিরের বেশীরভাগ গ্রহন করে থাকে।

কিন্তু এগুলো বেশিক্ষণ টিকবে না।

এক দু ঘন্টার মধ্যেই সূর্যের তাপ এগুলো উড়িয়ে নিয়ে যাবে

এবং ক্যাকটাসের গা ও শুকিয়ে যাবে।

আরিজোনার সোনরা মরুভূমি আটাকামার মতো এতোটা শুষ্ক না -

কিছু বৃষ্টিপাত এখানে হয়,

কিন্তু অনিয়মিত।

তাই যখন বৃষ্টিপাত হয়,

উদ্ভিদ এবং প্রানীরা এটা বেশী পরিমানে নেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়,

এবং বৃষ্টি আসছে।

গরমে যখন বৃষ্টিপাত হয়,

দৈত্যাকৃতির সাগুয়ারো, সবচে বড় প্রজাতিগুলোর একটি,

More Bengali subtitles for Planet Earth

Comments

No comments yet. Be the first to leave one.

Keep it about this subtitle — sync, quality, typos.500 characters left