The first 200 lines.
বাংলায় অনুবাদ: কুদরতে জাহান সাবসিন আইডি: Kudrate_Jahan
বাংলায় সাবটাইটেলটি ভালো লাগলে গুড রেটিং দিয়ে উৎসাহিত করুন।
অ্যাই, পিটার।
ওঠো, পিটার। উঠে পড়ো।
এই যে নাও তোমার স্যুট।
তোমার বোন কি রাতে ঘরে ছিল?
জানি না।
অ্যাই পিটার, ওঠো।
চার্লি! খোদার দোহাই লাগে, ওঠো!
কাল রাতে সেইরকম ঠাণ্ডা পড়েছিল!
এভাবেই নিউমোনিয়া হয়।
সমস্যা নেই।
চলো না, দেরি হয়ে যাচ্ছে তো।
মা গাড়িতে উঠে গেছে আগেই।
এতগুলো নতুন মুখ দেখে খুব ভালো লাগছে।
মা দেখলে খুবই খুশি হতো,
একটু হয়তো সন্দেহও করত...
অনুষ্ঠানে এত মানুষ দেখে।
মা নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করত।
তার ধর্মীয় নীতি ছিল ব্যক্তিগত,
বন্ধুরা ছিল ব্যক্তিগত, দুশ্চিন্তাগুলোও ছিল ব্যক্তিগত।
সত্যি বলতে, এখানে দাঁড়িয়ে তাকে নিয়ে কথা বলাটাই
সীমালঙ্ঘন মনে হচ্ছে আমার কাছে।
তার মন বোঝা খুবই কঠিন ছিল।
যদি ভেবে থাকেন, যে মাকে আসলে চেনেন,
তাহলে নিজেকেই নিজে বিশ্বাস করাতে পারবেন না।
জীবনটা আপত্তিকর না হলে,
মাকে পৃথিবীর সবচেয়ে স্নেহময়ী মমতাময়ী মানুষদের একজন বলা যায়।
মায়ের জিদ ছিল অনেক বেশি,
আমিও হয়তো তাই এরকম হয়েছি।
সব প্রশ্নেরই জবাব পাওয়া যেত তার কাছে।
আর তার কোনো কথা ভুল মনে হলে,
সেটা আপনার বিবেচনা...
ভুল বলেছিলে।
এগুলোয় বাদাম নেই?
- না। - ভালো।
বাদাম নেই তো? অ্যালার্জির ওষুধ সাথে নেই।
জানি।
হ্যালো রেক্সি! লক্ষী কুকুরটা আমার!
জুতা খোলো সবাই।
চার্লি, জুতা খোলো।
অদ্ভুত লাগছে।
হ্যাঁ।
আমার কি আরো বেশি মন খারাপ করা উচিত।
যেভাবে আছ, থাকো। আস্তে আস্তে খারাপ লাগাটা বাড়বে।
হেই, কেমন চলছে?
কাজ করছি।
আর কত গা বাঁচিয়ে চলব।
আশ্রমের জন্য ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছ?
এটা আর প্রি-স্কুল, এই দুটোই তো কাজ।
ডেডলাইনের আর কত বাকি? সাত মাস?
- সাড়ে ছয়। - ওহ, বেশি বাকি নেই তো।
শিরোনাম কী দেবে?
এসো।
হেই...
- শুভরাত্রি, পিটার। - শুভরাত্রি।
আচ্ছা...তোমার কেমন লাগছে, বাবা?
ভালোই লাগছে।
একটু খারাপ লাগছে?
হ্যাঁ, বুঝতে পারছি।
- শুভরাত্রি। - শুভরাত্রি।
ভালো করে ঘুমাও।
এটা কে?
নানু?
তোমাকেই সবচেয়ে ভালবাসত, জানো তো?
এমনকি যখন ছোট্টটি ছিলে,
তখন নানু নিজে তোমাকে দুধ খাওয়াত।
কী একটা পাগলামি!
আমি ছেলে হলে নানু বেশি খুশি হতো।
জানো, আমিও ছোটবেলায় ছেলেদের মতো ছিলাম।
পুতুল খেলতে অসহ্য লাগত, গোলাপি রঙও পছন্দ ছিল না।
এখন কে আমাকে দেখে রাখবে?
আরে, মানে কী!
আমি আছি কীসের জন্য?
তুমি মরে গেলে?
তাহলে...
বাবা দেখে রাখবে তোমাকে।
কিংবা পিটার।
তুমি বাচ্চাকালে কখনো কাঁদোনি।
জানো সেটা?
জন্মের সময়ও না।
একটু কি কান্না পাচ্ছে আজকে?
কাঁদলে কি মনটা হালকা হবে?
শুভরাত্রি, সোনামণি।
আমার আদরের অ্যানি, যে কথা বলতে পারিনি, তার জন্য ক্ষমা কোরো।
আমাকে ঘৃণা কোরো না। নিজের জীবন নিয়ে হতাশ হয়ো না।
আমাদের ত্যাগের বিনিময়ে এক বিশাল পুরস্কার অপেক্ষা করছে।
অনেক ভালোবাসা রইল, ইতি মা।
মা!?
ওয়ার্কশপে একা একা ভয় পেয়েছি।
মানে... কী দেখে?
না।
কাজ শেষ হয়েছে?
প্রায়।
পরীক্ষার পরে বাকিটা কোরো, কেমন?
ঠিক আছে?
- আচ্ছা। - ঠিক আছে।
হায় খোদা! ওটা কী?
আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে,
নিজের ভুলের কারণেই নায়কের সর্বনাশ হয়েছে।
হেরাক্লসের ভুলটা কী ছিল?
দাম্ভিকতা।
আচ্ছা। কেন?
কারণ পুরো নাটকজুড়ে ওকে যেই ইঙ্গিতগুলো দেয়া হয়েছিল,
ও নির্বিকারভাবে সেগুলোকে অগ্রাহ্য করে গেছে।
ভিন্নধর্মী চিন্তা।
ও ভেবেছিল, সবকিছু ওর নিয়ন্ত্রণে আছে,
কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে,
সফোক্লিস যেহেতু ওরাকলটা লিখেছে, মানে এটা অনিবার্য,
মানে, এটা তো হেরাক্লসের নিয়তিতেই লেখা ছিল, তাই না?
যদি ওর কোনো কিছু করার থাকত, তাহলে কি ব্যাপারটা বেশি ট্র্যাজিক হতো নাকি কম?
- কম। - আচ্ছা।
- কেন? - কারণ,
পিটার, তুমি কী বলো?
আহ...কোন পার্ট নিয়ে?
আমার মনে হয়, অনিবার্য নিয়তির ব্যাপারটাই বেশি ট্র্যাজিক,
এর মানে চরিত্রগুলোর কখনোই জেতার আশা ছিল না।
ওরা আজীবনই নিরাশ, সুযোগই নেই অন্য কিছু করার।
এই অনিশ্চিত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে ওরা ছিল স্রেফ দাবার ঘুঁটির মতো।
- হ্যালো! - হাই!
মায়ের ঘরে গিয়েছিলে?
না।
দরজাটা খোলা ছিল।
হ্যালো?
সরি, অযৌক্তিক চিন্তা করছিলাম।
- সমস্যা নেই। - ধন্যবাদ।
বাবা, গোরস্থান থেকে ফোন করেছে।
কী নিয়ে?
দেখি।
হ্যালো? হ্যাঁ।
মানে কী?
খুঁড়ে নিয়ে গেছে?
মাত্র এক সপ্তাহ হয়েছে।
হ্যাঁ হ্যাঁ নিশ্চয়ই।
আচ্ছা, বুঝেছি...
পরে ফোন করি? হ্যাঁ, গুডবাই।
কী হয়েছে?
টাকা নিয়ে কী সমস্যা হয়েছে যেন।
বেশ, আমি মুভি দেখতে গেলাম।
ঠিক আছে।
ও খালি বলত,
"আমি একটা বোঝা, আমি একটা বোঝা, আমি একটা বোঝা।"
আর আমি বলতাম, "না, না।"
কিন্তু আসলে ও একটা বোঝাই ছিল।
এখন আমরা নতুনদেরকে কিছু বলার সুযোগ করে দেবো।
সবাই শুনুন।
যারা প্রথম বা দ্বিতীয়বার এখানে এসেছেন,
চাইলে কিছু বলতে পারেন।
হ্যাঁ, আপনি কি...
না হলে নাই।
চাপ নেবার দরকার নেই।
আমার নাম অ্যানি।
হাই, অ্যানি।
আমার মা এক সপ্তাহ আগে মারা গেছে।
তাই একটু হালকা হতে এখানে এসেছি।
সাধারণত এরকম থেরাপি সেশনে আসতে চাই না,
তবে কয়েক বছর আগে একবার এসেছিলাম।
জোরাজুরির কারণেই আসলেও...
খারাপ লাগেনি বিষয়টা...
মায়ের বয়স হয়েছিল, শেষের দিকে তার মাথা ঠিক ছিল না।
আমার সাথে বেশি ভালো সম্পর্ক ছিল না,
তাই তার মৃত্যুতে হয়ত খুব বেশি আঘাত পাইনি।
কিন্তু, মাকে ভালোবাসতাম অবশ্যই।
মায়ের জীবনটাও সহজ ছিল না।
পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার শেষের দিকে তীব্র আকার ধারণ করেছিল।
এছাড়া ভুলেও যাচ্ছিল সবকিছু।
আমি ছোট থাকতেই আমার বাবা মারা যান,
তীব্র বিষণ্ণতার কারণে না খেয়ে থাকতে থাকতে।
ব্যাপারটা অবশ্যই সুখকর ছিল না।
আর আমার ভাই।
আমার ভাই ছিল সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত,
১৬ বছর বয়সে সে নিজের গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।
মরার আগে যথারীতি মাকে দোষ দিয়ে যায়,
মা নাকি ওর শরীরে অন্য কাউকে ঢোকানোর চেষ্টা করেছে।
এই হলো মায়ের জীবনকাহিনী।
বৃদ্ধাশ্রমে যাবার আগ পর্যন্ত আমাদের এখানেই কাটিয়েছে।
তার আগে আমাদের মধ্যে কোনো কথাই হতো না।
মাঝে মাঝে হতো,
মাঝে মাঝে না।
সবকিছুতে ছড়ি ঘোরাবার চেষ্টা করত।
তারপরে আমার স্বামী সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়,
আমার মেয়ে পেটে আসার আগ পর্যন্ত এই নিয়ম ছিল।
প্রথম সন্তান, পিটার হবার সময়ে মাকে ধারেকাছে আসতে দেইনি,
তাই মেয়েটাকে দিয়ে দিলাম,
আর পায় কে, সাথে সাথে তাকে নিজের থাবায় নিয়ে নিল।
তারপর... অপরাধবোধে ভুগতে লাগলাম।
ভুগতেই থাকলাম।
বিশেষ করে যখন অসুস্থ হয়ে পড়ল, অবশ্য শেষের দিকে মাকে মা বলেই চিনতাম না,
মায়ের অবশ্য কোনো অপরাধবোধ ছিল না।
আর আমি আমার পরিবারের ওপর আর কোনো চাপ নিতে চাইনি।
ওরা আমাকে কোনো সাহায্য করতে পারত কি না, এ ব্যাপারেও আমি নিশ্চিত না।
আর আমি, আমার কেবলই মনে হয়...
মনে হয়, সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে।
অবশেষে বুঝলাম, আসলে দোষটা আমারই।
আমাকে দোষ দেয়া যায় না,
কিন্তু আমারই দোষ! আমি...
কীসের জন্য এ কথা মনে হয়?
জানি না।
আচ্ছা শহরে কী হচ্ছে,
কোনো ধরনের সম্মেলন?
No comments yet. Be the first to leave one.