The first 200 lines.
এটা আমার গ্রাম।
আমি এখানে জন্মেছি।
এখানেই হেসেখেলে বড়ো হয়েছি।
এখানকার সবকিছু আমার পরিচিত।
নদীতে লাফ দেওয়া,
সাঁতারে গণেশ মন্দিরে নারকেল ফাটাতে যাওয়া।
শান্তি আন্টির খড়-পাতার বাড়ি।
বৃদ্ধ দাদির চায়ের দোকান।
আমাদের প্রিয় মন্দির আর জনপ্রিয় সব জায়গা।
গ্রামের সতেজ হাওয়া আমার স্মৃতিগুলো জাগিয়ে তুলছে।
নমস্কার, স্যার।
সবাইকে সুস্বাগত।
"পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি বিদ্যালয়ের জন্য সুনাম বয়ে আনা আমাদের এক প্রাক্তন ছাত্রকে,
আমাদের সবার পক্ষ থেকে অভিনেতা ভেলুস্বামি-কে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাচ্ছি।
"জনাব ভেলুস্বামির রসাত্মক অভিনয়ে আমরা হেসে গড়াগড়ি খাই।"
"ওনার শিরায় যে রক্তের বদলে কমেডি বহমান সেটা বললে
একদম বাড়িয়ে বলা হবে না।"
"আমাদের গেস্ট অব অনার, যিনি তামিল সিনেমায় নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন,
প্রিন্সিপাল মহাশয়কে ওনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করতে অনুরোধ করছি।
ধন্যবাদ, স্যার।
ধন্যবাদ, স্যার।
"শত ব্যস্ততার মাঝেও,
আমাদের শতবার্ষিকী উৎযাপন অনুষ্ঠানে আপনার উপস্থিতি দিয়ে
আমাদের সম্মানিত করার জন্য,
হৃদয়ের গহীন থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।"
"আমি প্রাক্তন ছাত্র আর সকল অভিভাবককে স্বাগত জানাচ্ছি..."
স্যার, ওনি লক্ষী ম্যাম না?
মন্দ নয়, মনে হচ্ছে তোমার সবই পরিষ্কার মনে আছে।
ওনার পরিবারের কী খবর?
ওনি একা বসবাস করেন।
- নাতিনাতনি? - বিয়েই তো করেননি।
"আমি জনাব ভেলুস্বামিকে বাতি প্রজ্বলিত করে অনুষ্ঠান শুরু করার অনুরোধ করছি।"
"আমি এখন কমেডির রাজা জনাব ভেলুস্বামিকে
আমাদের শতবার্ষিকী উৎযাপন নিয়ে বক্তব্য রাখার অনুরোধ করছি।"
নমস্কার সবাইকে।
অনেক অনেক ধন্যবাদ।
ম্যাডাম আমার সম্পর্কে অনেক সত্য বলেছেন।
কিন্তু তারমধ্যে একটা মিথ্যে ছিল।
বলেছেন আমি এখানে পড়েছি।
আমি একদমই পড়িনি।
পাস করতে আমার রফাদফা হয়ে গিয়েছিল।
- যাও, যাও। - ক্লাসে যাও সবাই।
শুভ সকাল, ম্যাম।
শুভ সকাল। বসো, বসো।
ধন্যবাদ, ম্যাম।
আমি তোমাদের এই বছরের ক্লাসটিচার।
পাশ করে ৯ম শ্রেণিতে ওঠা সকল ছাত্রকে অভিনন্দন।
পরের বছর তোমরা সবাই পাশ করে কলেজে যাবে।
এখন আমাকে বলো
তোমাদের মধ্যে কে কে গতবছর ৯ম শ্রেণিতে ফেল করেছিলে?
ওকে, ওকে। বসো।
এমন কেউ আছে যে ২ বছর ধরে ৯ম শ্রেণিতে আছে?
ওকে, বসো।
এবার তোমরা সবাই মনোযোগ দিয়ে পড়বে।
চলার পথে ব্যর্থতা আসবেই।
কিন্তু সেটা কোনো বিষয় না।
গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা কীভাবে চেষ্টা করে সফলতা অর্জন করবো, ওকে?
- তো, আজ আমরা প্রথমে-- - ম্যাম, ভেলুস্বামি দাঁড়ায়নি।
ভেলুস্বামি কে?
ভেলুস্বামি, দাঁড়াওনি কেন?
ম্যাম, যারা ২-৩ বার রিপিট করছে কেবল তাদের দাঁড়াতে বলেছিলেন।
এটা আমার চতুর্থ বর্ষ চলছে।
ভেবেছিলাম ৪ বারের কথা জিজ্ঞেস করলে দাঁড়াবো।
ধর, সবজিগুলো তোর মাকে দিয়ে আয়।
যদি সময় নষ্ট করে আড্ডা মারিস,
আর সন্ধ্যা করে বাড়ি ফিরিস, রাতে কপালে ভাত জুটবে না, মনে রাখিস।
এই বাজার করতে গিয়ে ব্যবসায় ক্ষতি হয়ে যায়।
- তোমার ছেলে এবারও ফেল করেছে? - প্রতিবারের মতো।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির সময় এমজিআর ওর বেঞ্চমেট ছিল।
সে এখন চিফ মিনিস্টার।
ওর ছেলে এখনো ক্লাস ৯ এর ব্রেঞ্চে বসে তা দিচ্ছে।
কী আর করা? আমার কপাল।
- আমার ভাই কান্দাস্বামি আছে না? - একচোখা মালটা?
একদম। শ্রীলঙ্কায় ছেলের জন্য চা-পাতা তোলার চাকরি জোগাড় করে রেখেছে।
কিন্তু তার জন্য ওকে ক্লাস ১০ পাশ করতে হবে।
সেজন্যই ওকে এখনো পড়তে পাঠাচ্ছি।
চা-পাত তোলার জন্য আকবরের ইতিহাস জানতে হবে কেন?
খাল খনন করে আর রাস্তার দু'পাশে গাছ লাগানোর পর লোকটা মরেছিল।
সেটা জেনে আমার লাভ কী?
ইতিহাস বাদ দিলাম।
বেসিক অঙ্ক, দুয়ে দুয়ে চার, চারে চারে আট পর্যন্ত ঠিক আছে।
কামলা দেওয়ার জন্য বীজগণিত শিখতে হবে কেন?
2 এর সূত্র শিখে কী করব?
এর পেছনে দায়ী কে, জানেন?
একজন হলো ডা আবদুল কালাম।
ওনি পৃথিবীকে দেখিয়েছেন একজন মানুষ দরিদ্র ঘরে জন্মেও ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট হতে পারে।
দ্বিতীয়জন।
প্রমাণ করেছেন রেলওয়ে স্টেশনের চা-বিক্রেতাও প্রধানমন্ত্রী হতে পারে।
কিন্তু তারমানে কি সবাই প্রেসিডেন্ট আর প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে?
সব কপালের লেখা।
কী বলেন, জনাব?
না পড়ে ফেল করিনি আমি। সব হয়েছে ভাগ্যের কারণে।
গল্পটা তাহলে বলি।
শিট! ইয়াক!
গন্ধ হজম করতে পারছি না। পেটের মধ্যে মোচড় দিচ্ছে।
ট্রাকটা মানুষের মল দিয়ে ভর্তি।
ওর থেকে কী সুগন্ধ আসবে?
যাচ্ছে কোথায়?
- ওখানের পাহাড় দেখেছিস? - ইয়েস।
ওর পেছনে বড়ো একটা খাল আছে।
ওখানে ফেলে উপরে চুন ছিটিয়ে দেবে।
কারণ?
চুন মলগুলোকে সারে রুপান্তরিত করে।
তারপর সেগুলো মাঠে ব্যবহার করে।
আমটা দেখ।
গাছটা তো আমাদের গণিত শিক্ষকের।
হয়তো ভেতরে বসে আছে।
চেক করে দেখ তো।
ভেতরে কেউ নেই।
কেবল এক বৃদ্ধ মহিলা পাপড় শুকাচ্ছে।
হাতের নিশানা দেখ।
বৃদ্ধার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিস!
- মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। - জান নিয়ে পালা!
কোন বদমায়েশের কাজ? ওরে শোন কেউ!
কেউ আমাকে মারার চেষ্টা করছে!
জলদি আয়।
কী করছিস ওখানে?
ওরে মা!
হাঁদারাম!
বদমায়েশের দল মায়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।
জীবিত আছে না-কি মরে গেছে?
নিষ্কর্মার দল কোথাকার!
বদলগুলো!
কৃষ্ণা স্যার আমাকে ক্লাস ৯ রিপিট করিয়েছিলেন।
কে জানত পাথর নিক্ষেপের সময় কড়া রোদের মধ্যে বৃদ্ধ মহিলা এসে
পাপড়ি শুকানোর জন্য বসে থাকবে?
ভাগ্য বলতে সেটাই বুঝিয়েছি।
সেই ভাগ্য থেকে পরের বছরেও রক্ষা হয়নি।
ব্রো..
কিরে, মুরুগেসান।
- নতুন জুতা? - হয়, ভাই।
এখানে আয়।
মনে হচ্ছে তোর বাপের টাকার অভাব নেই।
পায়ে মানিয়েছে বেশ। দেখা তো।
খুলে আমাকে ভালো করে দেখা।
সুন্দর, ঠিক?
- ওকে দিস না! - আমাকে দে!
- ক্লাসে যাও সবাই। - জোরে কিক মার।
- আমার কাছে দে। - ও নেওয়ার চেষ্টা করছে।
- আমি দেখছি। - এখানে কিক মার।
- এই পাশে মার। - আমাকে দে।
- ও নিতে আসছে। - পাছ কর।
- এদিক দে। - সর।
হেই।
সারছে!
ধর শালাকে! নিতে দিস না।
- মেরে ফেলেছে রে। - ধর।
কোথায় গেলি সবাই?
বাচ্চাদের কেবল পড়ালেখা করলে হবে না।
খেলাধুলাও করতে হবে।
আমি তো কেবল মজা নিচ্ছিলাম।
অত বড়ো সাজা আমার প্রাপ্য ছিল?
পরের বছর আমার শাস্তি এরচে'ও ভয়ানক ছিল।
সানমুগাম সাহেব আমাদের নতুন শিক্ষক হিসেবে জয়েন করেছিলেন।
তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সম্পন্ন চেহারা আর মাংসল শরীরের জন্য বিখ্যাত।
ওনার কুস্তিগীর কোচ হওয়া উচিত ছিল। তার বদলে আমাদের পড়াতে এসেছিলেন।
আমরা ওনাকে একটা নাম দিয়েছিলাম।
নামটা আন্দাজ করেন।
ষাঁড় সানমুগাম।
ওনার ক্লাসের সময়,
একদম পিনপতন নীরবতা থাকত।
বস অবশেষে এসেছেন।
স্বাগত, স্যার! আসুন, প্লিজ। আসুন!
প্লিজ ভেতরে আসুন, স্যার।
- দুঃখিত, স্যার - না, না।
আমাকে সম্মান দেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
আমার পরিবার আমাকে বড়োদের সম্মান দেওয়ার শিক্ষা দিয়েছে,
সেজন্য আমি আপনাকে প্রণাম করেছি।
ক্লাসরুমে এসে বসুন, স্যার।
আমার বাবা-মা বড়োদের উঁচু দৃষ্টিতে দেখতে শিখিয়েছিল।
স্যার, দয়া করে যদি টেবিলের উপর দাঁড়াতেন।
- না, স্যার। - প্লিজ, স্যার।
- স্যার, না… - দাঁড়া, শালা শুয়োরের বাচ্চা।
দাঁড়া! মনে যখন চায় আসবি, তোর মামার বাড়ি পেয়েছিস?
শ্রোডিঙ্গারের বিড়ালের এক্সপেরিমেন্ট।
ক্লাসের সবাইকে ব্যাখ্যা কর। তুই।
স্যার... এক্সপেরিমেন্টটা..
বেঞ্চের উপর দাঁড়া।
আমাদের ক্লাসে এমন অনেক ছাত্র ছিল উত্তর যাদের ঠোঁটের আগায় থাকত।
ওদের কাউকে কখনো প্রশ্ন করত না।
নিশানা কেবল আমার দিকে ছিল।
আরেকটা বিষয় হলো, ওনাকে কেউ কখনো হাসতে দেখেননি।
কিন্তু আমি দেখেছিলাম।
রাধামণি ম্যামের সাথে ফ্লার্ট করছিলেন।
এটাই কাহিনি।
স্যার, মনে হচ্ছে হালকা মেজাজে আছেন।
সানমুগাম স্যার জোকস বলছিল।
বইগুলো টেবিলের উপর রাখো।
সানমুগাম স্যার আর কমেডি?
- ট্র্যাজেডি! - স্যার!
স্যার, টাইমপাস করছিলাম। সিরিয়াসলি নিয়েন না তো।
এবার হবে প্রতিশোধ।
'প্রেমের রাযা ষাঁড় সানমুগাম।'
+ 'রানি রাধামনি।'
'ষাঁড়মনি।'
'প্রেমের রাযা' আবার কী জিনিস?
মনে হচ্ছে বানান ভুলের রাজা।
জানি না কোন পাগল-ছাগল এসব লিখেছে।
পানি দিয়ে ধোয়া সম্ভব না।
শুভ সকাল, স্যার।
No comments yet. Be the first to leave one.