The first 200 lines.
"অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের পার্থক্য শুধুই এক অনন্ত বিভ্রম মাত্র!" --- অ্যালবার্ট আইনস্টাইন
আমরা বিশ্বাস করি, সময় সরলরৈখিক।
বিশ্বাস করি যে, চিরকাল এভাবেই বয়ে চলেছে সময়ের অভিন্ন স্রোত!
অসীমের পথে!
কিন্তু, অতীত, বর্তমান...
ও ভবিষ্যৎ সময়ের মধ্যকার পার্থক্য...
শুধু বিভ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়।
গতকাল, আজ আর আগামীকাল মোটেই ধারাবাহিক নয়।
বরং আবদ্ধ এক অন্তহীন বৃত্তে!
প্রতিটি বিন্দু একে অপরের সাথে যুক্ত।
জুন ২১, ২০১৯
৪ঠা নভেম্বর, রাত ১০টা ১৩-র আগে খুলবেন না।
Translated By KAMRUL HASAN SHIMUL | ROBIUL HOSSAIN SUJON SARAH IQBAL | HASIBUJJAMAN HASIB | RUBAYED HASAN FUAD ANAS AHMED
Edited By F U A D A N A S A H M E D
DARK 101 SECRETS
নভেম্বর ৪, ২০১৯
গেছে!
মা!
মা!
১৬ বছর বয়সে তো ওদের টোস্ট বানাতে শিখে যাবার কথা, তাই না?
মা!
আবার কারেন্ট গেছে।
মা!
ব্রেকফাস্টের জন্য ধন্যবাদ।
রাতে দেখা করতে আসছো তো?
জানি না।
-ক্যাথরিনা থাকবে ওখানে। -আমিও তো থাকবো।
হ্যাঁ, তুমিও থাকবে।
ঠিক তাই।
আলরিখ।
আই লাভ ইউ।
খুব সুন্দর তুমি!
নিখোঁজ
উইন্ডেন কেইভ ০.৬ মাইল
কেমন লাগলো?
গত দু'মাস এসবের মধ্য দিয়ে পার করলে কীভাবে?
বলতে না চাইলে, অবশ্য জোর করবো না।
তোমার থেরাপি সেশন থেকে পাওয়া নোটগুলো আমি পড়েছি।
খুব ভালো করেছো তুমি, বিশেষ করে গ্রুপ সেশনে।
এখনও আমি উনাকে দেখতে পাই।
স্বপ্নে?
কেন মনে হয় যে, উনাকে দেখছো?
আমার থেরাপিস্ট হিসেবে, উত্তরটা তো আপনারই দেয়া উচিত, তাই না?
ওষুধ ঠিকমত খাচ্ছো তো?
মনে হয়, আমাকে কিছু বলতে চায়।
অথবা আমিই হয়তো কিছু বলতে চাই।
এরকম মনে হচ্ছে কেন?
এছাড়া আর কীইবা ভাববো?
কেন?
কেন চলে গেল?
তাও এভাবে কেন?
গলায় দড়ি দিয়ে কেন মরলো?
কিচ্ছু বলে গেল না কেন?
এসবের কোনো ব্যাখ্যা কোথায় পাবো আমি?
নভেম্বর ৪, ১০টা ১৩ এর আগে খুলবেন না।
উইন্ডেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের রয়েছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস।
এই নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৫৩ সালে।
অ্যাটমিক এনার্জি আইন পাশ হবার পর ১৯৬০ সালে সর্বপ্রথম প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু অনুমতি পায়।
নিউক্লিয়ার এনার্জি নিয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ায়
২০২০ সালে উইন্ডেন পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে,
যার ফলে, এটিই হবে জার্মান ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সময় চালু থাকা সফল পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প!
মাইকেল, এভাবে স্কুলে যাওয়া যাবে না।
একজন ভাল ম্যাজিশিয়ানের তো একটা স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব থাকা উচিত।
কাপড় বদলাও। থ্যাংক ইউ।
এগুলো আমার কাজের পোশাক।
আর স্কুল খুবই বিরক্তিকর!
আমি শিওর, বিশ্বসেরা ম্যাজিশিয়ান হুডিনিও স্কুলে যেত।
-হুডিনি! ব্যাপারটা ওরকম নয়! -মার্থা, এসো, ব্রেকফাস্ট করবে।
-শুধু বিশ্বসেরা না, সর্বকালের সেরা জাদুকর। -তুমি শিওর, ও তোমার ছেলে?
-আর তার নাম হুডিনি! -প্রত্যেক সকালে একই কাহিনী!
মা, আমার কালো হুডিটা কোথায়?
জানি না, জ্যাকেটের সাথে আছে হয়তো।
ম্যাগনাস, এভাবে ছুটোছুটি বন্ধ করো!
-গুড মর্নিং, মিকেল। -গুড মর্নিং।
আলরিখ! এত দেরী হলো কেন?
স্কুলের প্রথম দিন। বেকারির সামনে লম্বা লাইন।
আমাদের কপালটাই খারাপ। মার্থা, খেতে এসো।
জ্যাকেটের সাথে নেই তো।
-তাহলে তোমার জিমব্যাগে আছে। -কি হচ্ছে এসব? ম্যাগনাস?
-ব্রেকফাস্ট। -মা, আমি অনশনে আছি।
যেখানে প্রতি দশ সেকেন্ডে একজন শিশু অনাহারে মারা যাচ্ছে, আমি কীভাবে খাই বলো তো?
তাহলে আমিই খাবো।
হুডিটা ব্যাগেও নেই।
-তুই চুরি করেছিস? -না, আমি ধরিনি!
-তোমরা ঝগড়া থামাবে? -মা, সত্যিই আমি ধরিনি।
-তাহলে গেল কোথায়? -আমার কথাটা ফিরিয়ে নেয়া যাবে?
ম্যাগনাস, হয়তো লন্ড্রিতেই রয়ে গিয়েছে।
মার্থা, তোমার অনশনে কারো কোনো উপকার হবে না।
মিকেল, এখনই কাপড় বদলাও! লাস্ট ওয়ার্নিং।
-নইলে দেরি হয়ে যাবে। -বাচ্চা নেয়ার বুদ্ধিটা কার ছিল?
-একটু খুলে দেবে? -দিচ্ছি!
কী বলেছি তোমাকে?
আচ্ছা, হুডিনি।
আরেকটা জাদু দেখিয়ে, সোজা স্কুলে যাবে।
আচ্ছা, করো তোমাদের যা ইচ্ছে।
পেয়েছি!
আচ্ছা।
এই যে...
আর ওই যে।
অসাধারণ! কীভাবে করলে?
দেখো বাবা, প্রশ্নটা 'কীভাবে'র নয়,
প্রশ্নটা হচ্ছে 'কোথায়'।
হেই!
পাগলাগারদে স্বাগতম।
তোকে ছাড়া এতদিন একটুও ভালো লাগেনি।
-এই, কী দেখিস অমন করে? -পাগল যত্যোসব!
বলদ কোথাকার!
কাউকে কিছু বলেছিস?
বলেছি দু'মাসের শিক্ষা সফর করতে ফ্রান্সে গেছিস।
হাইড-দ্যা-ব্যাগুয়েট খেলছিস ওখানে।
আরে, আয় তো।
সব ঠিক হয়ে যাবে। চল।
আয়।
-এদিকের খবর কী? -খুব বেশি কিছু মিস করিস নি।
এরিকের ব্যাপারটা ছাড়া।
আপনাদের তো কোনো মাথাব্যথা নেই!
সবাই এভাবে হাত গুটিয়ে বসে আছে কেন? আমার ছেলে কোথায়? এরিক কোথায়?
মি. ওবেনডোর্ফ।
আপনার ছেলেও আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত ১৭২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি আমরা।
প্রতিবেশী আর বন্ধুদেরকেও জিজ্ঞেস করেছি, পুরো জঙ্গল তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি,
আশপাশের বাড়ি আর বেজমেন্টেও তল্লাশি চালিয়েছি।
২৩ জন অফিসার আর ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী
আপনার ছেলেকে এতো গুলো দিন ধরে খুঁজছে।
সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা। আপনাদের কাছ থেকেও একটু সহযোগিতা আশা করছি।
-বসে বসে ঘাস কাটছেন আপনারা! -আরে!
শান্ত হোন! থামুন, শান্ত হোন।
হেই! মাথা ঠাণ্ডা করুন।
শুনুন।
অপরাধের কোনো সম্ভাবনাকেই আমরা ছোট করে দেখছি না।
-তারমানে কী? -হতে পারে এরিক স্বেচ্ছায় পালিয়েছে।
আগেও তো ও পালিয়েছিল।
কিন্তু যতবারই গিয়েছে, দু'দিন পরেই তো আবার ফিরে এসেছে।
-বড়জোর বেজমেন্টে লুকিয়ে থাকতো। -আজ ১৩টা দিন হয়ে গেলো।
১৩ দিনেও ছেলেটা ফিরে আসলো না।
কথা দিচ্ছি আপনার ছেলেকে আমরা খুঁজে বের করবোই।
এখন বাড়ি যান, ওকে?
বাড়ি যান।
ফ্রান্সিসকা।
ম্যাগনাস।
তোমার এখন আঁতেল বন্ধুদের সাথে থাকার কথা না?
আর প্রিন্সিপালের ছেলের বুঝি স্কুল মাঠের সাইডে গাঁজা টানার কথা?
তাও এমন বাজে পাতার?
অ্যাসেম্বলি তো হয় সব ইডিয়টদের জন্য। বন্ধ করা দরকার এসব।
এসব তো বলাই হয়নি তোকে।
হেই।
হেই।
ফ্রান্স কেমন লাগলো?
ফ্রান্স তো ফ্রান্সের মতোই ছিল। আর কেমন?
সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ক্লাসের আগে সবাইকে এখানে ডেকেছি, কারণ...
গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা জানানোর আছে সবাইকে।
এরিক ওবেনডোর্ফের ব্যাপারে।
তোমরা জানো, প্রায় দু'সপ্তাহ হলো, এরিক নিখোঁজ।
তোমাদেরকে জানাতে চাই যে, কাউকে যদি কিছু বলতে চাও,
অথবা তোমাদের নিজেদের যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, কিংবা এরিকের নিখোঁজের ব্যাপারে যদি তথ্য থাকে,
যেকোনো সময় আমাদেরকে সেটা জানাতে পারো।
যেকোনো সময়, যে কেউ, জানাতে পারো।
কোনো কিছুতেই যেন গোপনীয়তা না থাকে।
ওকে?
প্র্যাকটিসের পর আর কেউ দেখেনি ওকে। কোনো নামগন্ধ নেই।
-যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে। -হয়তো ও চায় না, আমরা ওকে খুঁজে বের করি।
আর ওর বিছানার নিচের টাকা? ওর ফোন? পালিয়ে গেলে তো, সাথে এসব নিয়ে যাবার কথা।
মাঝেমধ্যে, লোকজন সবকিছু ফেলেই পালিয়ে যায়।
স্কুল আর আবাসিক এলাকার মাঝখানের রাস্তায় ৪৯ টা টায়ারের দাগ পাওয়া গেছে।
তার মধ্যে দুইটা ট্রাকের চাকার।
শুধু উইন্ডেন জেলাতেই ২১,৩১২ টা যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন করা আছে।
-আমাদের হাতে এতটুকুই আছে। -তারমানে, আমাদের হাতে কিছুই নেই।
এরিকের বাবা ভ্যান চালায়।
এখন নিশ্চয়ই বলবে না যে, উনিও এতে জড়িত।
তুমি এতো নিশ্চিত কীভাবে যে, এরিক পালিয়েই গেছে?
কারণ, এটা উইন্ডেন।
-এখানে কখনোই কিছু ঘটে না। -কিন্তু পরিস্থিতি সবসময় একরকম থাকে না।
এই ঘটনার সাথে আমার ভাইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
একটুও না।
ওহ, তোমার মা সকালে আবারও ইমার্জেন্সি নাম্বারে কল দিয়েছিলেন।
পারলে একবার দেখা করে এসো।
কখনো ভেবে দেখেছো, জীবনে ঠিক কখন ভুল পথে মোড় নিয়েছিলে?
কেমন জীবন চেয়েছিলে তুমি? আর নিজের অজান্তেই কখন চলা শুরু করেছো তার উল্টোপথে?
ফরেস্ট হোটেল, উইন্ডেন
হোটেল উইন্ডেন। রেজিনা টাইডামেন বলছি। বলুন কী সাহায্য করতে পারি?
আচ্ছা, এ ব্যাপারে কিছুটা সাহায্য তো আপনারাই করতে পারেন।
যেমন, লোনের টাকা পরিশোধ করার সময়সীমা আরেকটু বাড়াতে পারেন।
যতক্ষণ না পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হয় আরকি, আর কয়টা দিন সময় পেলে উপকার হয় আমাদের।
না, আমার কোনো ভুল হচ্ছে না। আপনি কি আমার কথা বুঝতে পারছেন না?
যে শহরে একটা বাচ্চা নিখোঁজ হয়েছে, সেখানে কে ছুটি কাটাতে আসতে চাইবে বলুন?
আপনি নিজে হলে আসতেন?
আমার এখানে একটা ফ্যামিলি স্যুট ফাঁকা পড়ে আছে।
বাচ্চাদের নিয়ে একদিন কাটিয়ে যান? ওদের তো ভালোই লাগবে, তাই না?
আপনারা ব্যাংকাররা টাকার পাহাড়ে বসে ভাবেন, লোকের সাথে যেভাবে ইচ্ছা মজা করা যাবে।
এ ব্যবসাটা আমি নিজে দাঁড় করিয়েছি। সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়। কারো সাহায্য ছাড়াই।
২০ বছর ধরে, আমি ও আমার স্বামী আপনাদের ব্যাংকের কাস্টোমার।
আর আপনারা এখন এই প্রতিদান দিচ্ছেন? ছোটলোক কোথাকার!
আপনার সুপারভাইজারকে লাইনে দিন।
হ্যালো?
হ্যালো?
সুপারনোভার বিস্ফোরণের পর
যখন তারকার কেন্দ্রে সংকোচন ঘটে তখনই সৃষ্টি হয় কৃষ্ণ গহ্বর।
এমনকি নতুন নিউট্রন ম্যাটারও এ সংকোচন রোধ করতে পারে না।
আজকাল কী ভাবছি জানিস?
সবচেয়ে কালো গহ্বরটা ফ্রান্সিসকা ডপলারের পেছনেই আছে মনে হয়।
No comments yet. Be the first to leave one.