The first 172 lines.
আওয়ার প্ল্যানেট সিজন ১ এপিসোড ৭ অনুবাদে -কুদরতে জাহান
মাত্র পঞ্চাশ বছর আগে,
আমরা চাঁদের বুকে পা রাখতে পেরেছিলাম।
প্রথমবারের মতো,
নিজেদের পৃথিবীর দিকে তাকাতে পেরেছিলাম।
তারপর পৃথিবীর জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
এই সিরিজে আমরা পৃথিবীর অবশিষ্ট প্রাকৃতিক বিস্ময়গুলো নিয়ে আলোচনা করবো,
সেই সাথে মানুষ আর প্রকৃতির বিকাশের জন্য কাদের সংরক্ষণ করা দরকার,
তা নিয়েও আলোচনা করবো।
বিশুদ্ধ পানি।
পৃথিবীতে বাস করা সকল ঊদ্ভিদ ও প্রাণী
এর ওপর নির্ভর করে।
অথচ এর মাত্র এক শতাংশ রয়েছে আমাদের নাগালে।
মধ্য অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি।
পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তপ্ত এবং শুষ জায়গার একটা।
বলতে গেলে কেউই এখানে বসবাস করতে পারে না।
তারপরেও, এক দশকে একবার এই মরুভূমিতে পরিবর্তন আসে।
সেটা ঘটানোর জন্য ২০০০ কিমি উত্তরে
একটা চেইন রিয়্যাকশন ঘটানো লাগে।
সেখানে প্রতিবছর জলীয়বাষ্পমণ্ডিত মৌসুমী বায়ুগুলো
জমতে শুরু করে।
আস্তে আস্তে সেগুলো ফেটে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বছরের পর বছর শুকনো থাকা নদী ভিজে ওঠে
ঢেউগুলো একত্রে জড়ো হয়ে মহাদেশের নিম্নাঞ্চল
প্লাবিত করে।
মরুভূমির ওপর দিয়ে চলা পানিপ্রবাহ সৃষ্টি করে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় হ্রদ,
কাটি ঠাণ্ডা, লেক আয়ার।
বহু মাছ এই পানির প্রবাহে সাঁতরে সাঁতরে
হ্রদের মধ্যে চলে আসে।
শত কিমি দূরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার উপকূল থেকে আসে পেলিকানেরা।
এদের অনেকেই পুরো জীবনে মাত্র একবার এই হ্রদটাকে লানিতে ভরতে দেখে।
তাই তারা হ্রদটা সৃষ্টির খবর জানে, কোথাও যেতে হবে সেটা ওরা কীভাবে জানে,
তা একটা রহস্য।
এই পানিগুলোতে এত খাবার থাকে যে পাখিদের প্রজনন শুরু হয়ে যায়।
কিন্তু সময় তো ফুরিয়ে আসছে।
পেলিকানেরা..
খাওয়াতেই থাকে...
খাওয়াতেই থাকে।
ছানাদেরকে বড় করতে হবে।
এক সপ্তাহের মাঝেই যেন তারা যাবার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
কিন্তু মা-বাবার হাতে সময় খুবই কম,
কেবল পানি থাকার সময়টাতেই
তারা খাবার পাবে।
বাচ্চা পেলিকানেরা জীবনের প্রথম দীর্ঘ অভিযানে বের হয়।
উপকূলের দিকে যাওয়াটা বিশাল ব্যাপার।
সবচেয়ে কাছেরটাও ৫০০ কিমি দূরে।
হ্রদ দ্রুতই শুকিয়ে আসবে।,
আরো এক দশক হয়তো এখানে পানি আসবে না।
এই অসাধারণ প্রবৃদ্ধির ঘটনাটা একটা ভিন্নধর্মী ঘটনা।
কিন্তু সবখানে বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা
দিনে দিনে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
পৃথিবীর বেশিরভাগ বিশুদ্ধ পানিই নাগালের বাইরে।
এর দুই-তৃতীয়াংশ দুই মেরুতে জমে আছে।
বরফটা কয়েক কিমি পুরু।
হয়তো সেখানে লাখ লাখ বছর ধরে পড়ে আছে।
প্রতি গ্রীষ্মে এর কিছুটা গলে
হিমবাহের কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে।
এই বিশাল গুহাগুলো সুন্দর আর রোমান্টিক,
সেসাথে বিপজ্জনকও বটে, কারণ হিমবাহগুলো অনবরত নড়তে থাকে।
এমনকি পোলের বহুদূরে থাকা বিশুদ্ধ পানিও
প্রতি শীতে জমে বরফে পরিণত হয়।
কিন্তু বসবত আসলে এই বিশাল বরফের স্তূপ গলে যায়
আর নতুন অভিযান শুরু হয়।
খাঁড়া পর্বতের ঢাল বেয়ে নেমে
বরফ শীতল পানিগুলো জীবনের জন্য অপরিহার্য এক জিনিস আহরণ করে ...
অক্সিজেন।
দক্ষিণ আমেরিকার অ্যান্দিজ পর্বত থেকে নেমে আসা নদীর
শক্তিশালী ঢেউয়ের সাথে তাল মেলাতে পারলে
জীবনধারণ করা যায় এখানে
টরেন্ট হাঁসগুলো একাজটাই করে।
এই হিমশীতল পানিগুলো অক্সিজেন দিয়ে পূর্ণ হলেও
অন্যান্য পুষ্টি উপাদান কমই থাকে এতে।
টরেন্ট হাঁসগুলো মাটির নিচ থেকে
যতোটা পারে, খাবার সংগ্রহ করে।
স্টোনফ্লাই আর মেফ্লাই এর পাখনা আছে।
তার মাধ্যমে এরা পানি থেকে অক্সিজেন শোষণ করে।
তাদের চ্যাপ্টা হয়ে থাকা দেহ পানির প্রবল টান সহ্য করে।
ব্ল্যাক ফ্লাই লার্ভা।
হাঁসদের প্রিয় খাবারের একটা।
ছুটে চলার সময়ে নিজেদের মুখ দিয়ে
খাবারের ছোট্ট অংশ ফিল্টার করতে এরা পটু।
পেছনের দিকের হুকগুলো এদের পাথরের সাথে আটকে রাখে,
কিন্তু ঢেউয়ের তোড় অনেক।
তবে তাদের বিশেষ সেফটি লাইন আছে, যা দিয়ে তারা নিজেদের ধরে রাখতে পারে।
প্রতি বছর এই অক্সিজেনপূষ্ট গতিবাহী পানিতে ছুটে আসে বহু অতিথি।
স্যামন।
জীবনের বেশিরভাগ সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরে কাটিয়েছে তারা।
পূর্ণবয়স্ক হবার পরে ডিম পারার উদ্দেশ্যে তারা এখন
উত্তর আমেরিকার বিশেষ এক নদীর উদ্দেশ্যে ছুটে চলেছে।
জলপ্রপাতে চড়তে পারা হলো স্যামনদের অসাধারণ এক ক্ষমতা,
কিন্তু তারাও আমাদের বানানো বাঁধ পার হতে পারে না।
বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্যামনদের সংখ্যা আগের চেয়ে এক শতাংশ কম,
এর ফলে অন্য প্রাণীদেরও সমস্যা হচ্ছে।
আলাস্কান বাদামি ভালুকেরা তাদের জন্য জলপ্রপাতের কাছে বসে অপেক্ষা করে।
এসব মাছ ছাড়া,
দীর্ঘ শীতে শীতনিদ্রা দেবার সময়ে যে পরিমাণ খাবার প্রয়োজন,
সেটা জমাতে পারে না এই ভালুকেরা।
সেরা মাছ ধরার জায়গা নিয়ে মহা কাড়াকাড়ি চলে।
শক্ত পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলার সময়ে পানি কিছু পুষ্টি সংগ্রহ করে,
ফলে কিছু উদ্ভিদ জন্মায় এতে।
দক্ষিণ আমেরিকায় অবশ্য
ম্যাকারেনিয়া উদ্ভিদটা প্রচুর পরিমাণে জন্মে।
প্রতি বছর কয়েক মাস ধরে,
পানির লেভেল কিছুটা নিচে থাকে, ফলে সূর্যের আলো তলদেশে পৌঁছাতে পারে,
আর তখনই জন্মায় ম্যাকারেনিয়া।
এ হলো ক্যানু ক্রিস্টালস, কলম্বিয়ার রঙধনু নদী।
মাঝে মাঝে মাটির নিচে অদৃশ্য হয়ে যায় পানি,
সেখানে কোনো আলো পৌঁছাতে পারে না,
সেখানে কোনো উদ্ভিদ বাঁচতে পারে না।
পৃথিবীর ত্রিশ শতাংশ বিশুদ্ধ পানি মাটির নিচে অবস্থিত,
হয় পাথরের রন্ধ্রের মধ্যে,
নইলে ভূগর্ভস্থ পানি আর হ্রদের মধ্যে।
বৃষ্টির ফলে সামান্য এসিডমিশ্রিত,
সেগুলো আস্তে আস্তে লাইমস্টোনে পরিণত হয়ে গুহার সৃষ্টি করে।
ফ্লোরিডা রাজ্যের নিচে অলিগলি দিয়ে ভরা বিশাল এক গোলকধাঁধা।
বেশিরভাগ সময়ে সেগুলো প্রাণহীন থাকে।
কিন্তু পানি যখন ভূমিতে ফিরে আসে, সেগুলো বয়ে নিয়ে আসে প্রাণপ্রাচুর্য।
প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যায়।
সেই সাথে আসে মাছ খাদকেরা।
অটার।
পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন ঝরণা থেকে
বিশুদ্ধ পানি ছড়িয়ে পড়ে গোটা রাজ্যে।
পানি পৌঁছায় নদ-নদীতে, জন্ম নেয় বহু প্রাণী,
যার মধ্যে রয়েছে ফ্লোরিডার বিশেষ প্রাণী...
ম্যানাটি।
বেশিরভাগই গ্রীষ্মটা কাটায় সাগরে,
কিন্তু শীত আসলে তারা সাঁতরে নদীতে চলে যায়,
সেগুলো যে তুলনামূলক উষ্ণ, তাই।
সেখানে তারা মিষ্টিপানির প্রচুর উদ্ভিদ পায়।
কিন্তু ইদানিং মানুষেরা এই ঝর্ণাগুলো থেকে প্রচুর পানি নিয়ে যাচ্ছে,
আর বাকিগুলোকেও দূষিত করে ফেলছে,
তাই ম্যানাটিরা তাদের শীতকালীন আশ্রয় হারাচ্ছে।
নদীগুলো অগভীর হওয়ায় দ্রুত উষ্ণ হয়ে পড়ে
বসন্তকালে ইউরোপজুড়ে হঠাৎ করে
উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়।
হাঙ্গেরির তিশজা নদীতে আসে বিশাল মে ফ্লাইয়ের দল।
তিন বছর ধরে তারা পানির নিচে লার্ভা হিসেবে ছিল।
এখন মাত্র তিন ঘন্টায়,
লাখে লাখে প্রাপ্তবয়স্ক মে ফ্লাই একসাথে নাচতে নাচতে যৌনক্রিয়ায় অংশ নেয়। তারপর তারা মারা যায়।
এই অসাধারলণ ঘটনাটি একসময়ে পূর্ব ইউরোপে প্রায়ই ঘটতে দেখা যেত।
কিন্তু বেশিরভাগ নদীর তীর স্থিতিশীল হয়ে গেছে এখন,
সেগুলোতেও দূষণও অনেক বেড়ে গেছে,
তাই মেফ্লাইয়েরা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
নদীর পানির বিশুদ্ধতা বাড়লেই মে ফ্লাইয়েরা আবার ফিরে আসবে।
মাছরাঙারা তুখোড় ডাইভার,
অস্প্রেরা তুখোড় শিকারি।
ইগুয়াজুর অবস্থান ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার মাঝামাঝি।
এগুলো পৃথিবীর বৃহত্তম জলপ্রপাত।
এগুলো দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে গাজার হাজার টন বিশুদ্ধ পানি বইছে।
ইগুয়াজুর বেশিরভাগ পানি আসে হাজারো কিলোমিটার দূরে থাকা
আমাজন রেইনফরেস্ট থেকে।
বনভূমি থেকে বাষ্প ওপরের দিকে ওঠে।
একেকটা গাছ দিনে হাজার লিটার জলীয় বাষ্প দিতে পারে।
বাষ্পগুলো আকাশে উঠে মেঘে রূপান্তরিত হয়।
প্রতিদিন বন থেকে আসে বিশ বিলিয়ন পানি।
সেগুলো আসে সরাসরি আমাজন নদী থেকে।
এই রেইনফরেস্ট ধ্বংস হয়ে গেলে,
এই জীবনচক্র ভেঙে পড়বে।
মেঘগুলো মহাদেশের ওপর দিয়ে যেতে যেতে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে।
ফলে বনাঞ্চল আর কৃষিক্ষেত্রে সেচের কাজটা হয়ে যায়।
আর ব্রাজিলের মূল ভূমিতে
এরা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জলাভূমির সৃষ্টি করে,
দ্য পান্টানাল।
প্রতি বছর ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে নদীর গতি পরিবর্তন হয় অবশ্য।
তখন প্যান্টানালা খালে পরিণত হয়।
এতে সুবিধা হয় বনের সবচেয়ে বড় শিকারিটির।
তার নাম জাগুয়ার।
মোটামুটি সাঁতার কাটতে পারলেও
পানিতে নিজের ভয়াবহতা অতোটা দেখাতে পারে না এরা।
শুকনো মৌসুমে,
নদীতীরে প্রচুর প্রাণির দেখা মেলে।
কিন্তু জাগুয়ার তার শিকারের দেখা পায় নদীর প্রান্তে।
No comments yet. Be the first to leave one.