The first 165 lines.
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ উসামা মুজাদ্দিদ
নমস্কার! কোথায় যাচ্ছেন, বিয়েতে বুঝি?
উনি সুবুর কাকা, বাড়ির বড় কর্তা।
সুবুকে যারা চেনে তারা সবাই কাকাকেও চেনে।
কী যেন আপনার নাম? ঠোটে এসে আটকে যাচ্ছে আমার।
আমার নাম দিয়ে কী হবে?
সুবুর কাকা হিসেবে চিনেন। ওতেই হবে।
আমার নামে কী আসে যায়। কে মাথা ঘামায় আমার নাম নিয়ে?
শহরের নতুন ব্রিজটা?
সুবু ভাইকে ধন্যবাদ দিতেই হয়…
সে না থাকলে,
৩০ মাইল ঘুরে যেতে হতো। সুবু ভাইয়ের প্রতিপত্তি দেখার মতোই।
তা তো বটেই! সুবুরায়ানের নাম তো শহরের সবার মুখে মুখে।
যদি প্রণাম করতে চাও, ভালোমতো করো।
কী মনে হয়, আমি পারি না?
বয়স আমার ৭৭।
সুবুর ৫৫।
কিন্তু দেখতে ৭৭ মনে হয় কাকে?
আমাকে না ওকে?
আমার শিরায় রক্ত চলে।
ওর শরীরে তো খালি চর্বি।
এত সম্পদ জমা করে কী হবে শুনি?
যবের জাউ ছাড়া তো কিছু খেতে পারে না, তাও আবার লবন ছাড়া।
ভগবান গণেশ!
গণেশের প্রতি আজ এত ভক্তি যে?
অনবরত প্রণামই বা কেন?
কেন? আমি করতে পারব না এমন কোন কথা আছে নাকি?
সুবুরায়ানেরও পেট খালি হয়ে যাবে তোমার এত প্রণামের ঠ্যালায়।
এই। খুঁচাবে না।
এটা কঠোর ব্রত।
অমন কিছুই না।
তোমার কিছুটা সময়ক্ষেপনের দরকার।
বিয়েটা এড়াতে চাও তুমি। এসবকিছুই তোমার বাহানা।
হ্যাঁ!
ওটা আমার পছন্দ না। চাই না ওই বিয়েতে যেতে।
হয়রান হয়ে সবাইকে জিজ্ঞেস করুক, "আমার কাকা কোথায়?"
কাশি যাত্রা সামনে পড়লেও তো জামাই পথ থেকে নড়বে না।
কেন?
কিভাবে নড়বে, আমার মেয়ের হাসির প্রেমে পড়ার পর?
- সুন্দর, একদম মায়ের মতো। - ওহ, না!
কাকাকে দেখেছো? কাকা!
"সুবুরায়ান" লেখাটা যেন সুন্দর আর সোজা হয়।
- দ্রুত করতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলো না। - আচ্ছা, স্যার।
সরস্বতী, মন্দিরে গান গায় কে?
- আমার মা। - অসাধারণ গায়।
সন্ধ্যার মধ্যে সব গোছগাছ হয়ে যাবে তো?
আরও চারজন লোক আনিয়ে নাও। টাকার চিন্তা করো না একদম।
সময়মতো কাজ শেষ হলেই হবে।
নটরাজ!
রেল স্টেশনে ঘোড়ার গাড়ি পাঠা জ্বলদি।
পাঠানো হয়ে গিয়েছে। সুবু ভাই বারবার জিজ্ঞেস করছে, "কাকা কোথায়?"
বাবা কোথায়?
- স্নানে গিয়েছে, চলে আসবে। - আজকের দিনেও নদীতে গিয়েছে?
উনার দিকে নজর রাখা দরকার না?
কী দেখছো তুমি? আমার এখনকার অবস্থা দেখে মাপতে যেয়ো না আমাকে।
পুরনো, সোনালি সময়টাতে লোকে আমাকে "রন্ধনরাজ" বলে ডাকতো।
মানারগুদি, মায়ায়ারাম, কুম্বাকোনামের দিকে
বড়লোকদের বাড়িতে প্রধান বাবুর্চি থাকতাম আমি।
এতই কদর ছিল আমার রান্নার। ওই যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, লোকটাকে চিনো?
নিজেকে "প্রধান" বলে এখন।
- আমার বেগার খাটতো তখন। - তারপর কী হলো?
ভাঁড়ারঘর, বাজার সদাই, চালের বস্তা… এগুলো নিয়ে কথা বলি একটু?
ঠিক আছে? বয়স হয়েছে আপনার, আচার ব্যবহার একটু তো শিখেন।
- কফি এনে দে উনাকে! - সকালেই খেয়েছি আমি।
আপনার জন্য না! গিয়ে নটরাজকে দিন! যান যান!
- বাজে বকছিল সে। নিজের কাজ করো! - ডাল সেদ্ধ হয়েছে?
- হ্যাঁ। - নারকেল কোড়ানো হয়েছে?
- রাজি, এসো এসো! - আমি! আমি!
- চন্দনচূর্ণ, চকলেট… - জাফরান, গোলাপজল…
সব প্রস্তুত রাখবে। অতিথিরা আসলে হাসি মুখে বরণ করে নেবে।
আচ্ছা। গোলাপজলটা তৈরী রাখো তো।
গোলাপজল ছেটানোর পর,
তোমরা নমস্কার জানিয়ে বলবে, "স্বাগতম!"
- ঠিক আছে? -"স্বাগতম!"
- "স্বাগতম!" - "স্বাগতম!"
- "স্বাগতম!" - "স্বাগতম!"
- চন্দনের কথা ভুলে যেয়ো না যেন। - আমি! আমি! আমি!
মারামারি করো না। এক এক করে নাও।
ও সবুজ শাড়ি পরবে,
বরপক্ষের হয়ে প্রশ্ন করবে,
সব উপহারের দেখাশোনা করবে, বিশেষ করে রূপার বাসনগুলোর।
বিশালাতচি চাচির কাছে আছে চাবি।
- কী? কফি? - কিজানি।
আমি বানাই নি। আপনি এক চুমুক দিয়ে বলেন শুনি।
ওখানে গিয়ে একবার দেখে নিস কনে প্রস্তুত নাকি, আমি তো যেতে পারব না।
- আমি কিভাবে করব এটা? - উঁকি দে আরকি।
আচ্ছা।
সুবুর বাড়িতে বিয়ে...বড় ব্যাপার।
কোন ভগবানের বিয়ে নাকি?
যা।
চালিয়ে যা।
নিষেধ করেছে কে?
- ভাঁড়ারঘরের চাবি? - হ্যাঁ, মামা।
নটরাজ দিয়েছে তোমাকে?
ওর কী হও তুমি?
আমি ওর ছোটবোন।
আমার বিয়েতেও ক্ষীর বানিয়েছিলেন আপনি।
হ্যাঁ, মনে পড়েছে।
পাশের বাড়িটাতেই হয়েছিল, তাই না?
কী ছিল যেন লোকটা?
তাঞ্জোর কোর্টে উকিলের ক্লার্ক।
৯২ দিন মোটে…কলেরায় মারা গেল।
ভগবান আমাদের এক একজনের কপালে এক এক জিনিস লিখে রেখেছেন।
ও-ই আমার ভাগ্য। কী করতে পারি আর।
এখানে থেকো না, খুব ধোয়া।
মৈথিলি চাচি তোর গোপনে মন্দিরে যাওয়ার কথাটা বলে দিয়েছে আমাদের।
আমি তো শুধু দেবীর পূজো দিতে যেতাম।
- নাকি স্বামী চাইতে যেতি? - কোন আলোই ছিল না।
অন্ধকারে তার ছায়াটাই দেখতে পাচ্ছিলাম।
তারপর…ছায়াটাই পছন্দ হয়ে গেল।
তুই পছন্দ করেছিলি, তাই না?
পরচুলাগুলো কই? ভাবী?
পরচুলাগুলো তো অনেক ছোট। খেয়াল করিস নি?
এত চিন্তা কী আছে? সে তো তোকে বিয়ে করছে।
- বেণীর জন্যে ঝামেলা করবে না। - তুমি বুঝতে পারছো না।
আমাকে প্রথমবার দেখে তারা ভেবেছিল আমার চুল লম্বা।
এখন ছোট বেণী করে গেলে ধরা পড়ে যাব।
ওরা বেণী টেনে দেখে নি?
কিভাবে টানবে? তুই তো "মহান সুবুরায়ানের মেয়ে।"
- পরচুলা লাগবে তো। - ওগুলো খুঁজছে উনারা।
- এখনি লাগবে! - ধৈর্য ধর।
সুবু! নামটা এত যন্ত্রণা দিচ্ছে কেন তোমাকে?
শত হলেও সে তোমার বড় ভাইয়ের ছেলে।
অভিশাপ দিয়েই যাচ্ছো…
বেচারা।
৩০ বছর হয়েছে আমাদের বিয়ের।
খাবার বা গহনা, বলার মতো কিছুই নেই।
এই মুক্তোর মালাটা ছাড়া দেখানোর মত কিছুই নেই আমার।
কিচ্ছু না…
সুবুরায়ানকে মাসে অন্তত দশ টাকা পাঠানোর সামর্থ ছিল তোমার?
একটা ভালো ছাত্রকে তার শেষ বছরে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছো।
বেচারা।
কিন্তু সে ফিরে এসেছে, কঠোর পরিশ্রম করেছে, ঘাম আর রক্ত ঝড়িয়েছে সাফল্য অর্জনে।
সে যাই ছুঁয়েছে, সোনায় পরিণত হয়েছে।
এখন সে আমাদের ছেলেকেও সম্মানজনক চাকরী দিয়েছে।
সে নিজে অর্জন করেছে তার সম্পত্তি।
এতকিছু পরেও সে তোমাকে ভাগ দিয়েছে।
ফালতু! যেই জমি ও দিয়েছে, সেটা তো শহরের বাইরের।
কোন দামই নেই ওর।
কেন? উত্তরাধিকারে কী এমন পেয়েছো?
এসবকিছু সে কষ্ট করে অর্জন করেছে।
তোমাকে দিয়েছে, ওর কাকাকে, মায়া-মমতা আছে বলেই দিয়েছে।
অকৃতজ্ঞতা দেখাচ্ছো এখন।
আমাদের সন্তান নটরাজ আর ভাগ্যম বিয়েটা একাই সামলাচ্ছে,
এতে তোমার কিছু আসে যায়?
এখানে থেকে কী কামাচ্ছো তুমি?
ওখানে না থাকলে তোমার নিজের সন্তানেরাই বা কী সম্মান দেবে তোমাকে?
সম্মান। বিশাল সম্মান।
কিচ্ছু আসে যায় না আমার।
এখন? এখানে বসে বিড়বিড় করবে?
আনন্দ উৎফুল্ল নিয়ে ওই বিয়েতে থাকতে পারব না আমি।
ভালাম্বাল।
তোমার নীতি নৈতিকতা খুব উঁচু মানের।
যখন তুমি বেঁচে ছিলে,
একমাত্র তুমিই সব গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিলে।
আমাকে ছেড়ে চলে গেলে, প্রিয়তমা।
যাই হোক…
ঠিক আছে।
যাচ্ছি বিয়েতে।
এই, ভাগি!
বাবা আসে নি এখনো? বরের পরিবার তো চলে এসেছে।
পরিবারের প্রধান হিসেবে, উনাকেই তো স্বাগত জানাতে হবে তাদের।
সুবু ভাইকে কী বলব কে জানে।
সে নদীতে গিয়েছে। দ্রুত চলে আসবে। আর কী বলব আমি?
কেন? তোরও কি বাবা না?
No comments yet. Be the first to leave one.