The first 200 lines.
"কিংডম অফ দি গডস্" বই অবলম্বনে নির্মিত।
অনুবাদে: ⊗ AsadujJaman ⊗
এই গাছ...
মৃত মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করবে?
ঠিকই শুনেছেন।
তারা ছুরিকাঘাতেও মৃত্যুবরণ করবে না।
তারা মানুষের রক্ত-মাংস পিয়াসী জানোয়ারে পরিণত হবে।
এ হতেই পারে না। মরা মানুষ কিভাবে...
এটা সত্যি।
যদি তাই হয়...
এই গাছ আমাকে দেখাচ্ছেন কেন আপনি?
আপনি কি আমাদের মৃত সৈনিকদের পুনরুজ্জীবিত করতে চান,
যাতে তারা জাপানি হানাদারদের সাথে লড়তে পারে?
না।
যেসব লাশ ইতোমধ্যে পঁচতে শুরু করেছে,
সেগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা যাবে না।
আর জানোয়ারে রুপান্তরের জন্য আমরা আমাদের সৈনিকদেরও মারতে পারি না।
এভাবে আমাদের সামরিক শক্তি বিনষ্ট করা যাবে না।
তাহলে আসলে ঠিক কী বলতে চাইছেন আপনি?
সুমাং গ্রামের অসুস্থ লোকগুলোকে...
ব্যবহার করবো আমরা।
তাদেরকে জানোয়ারে রুপান্তরিত করে...
জাপানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেবো,
এভাবেই টিকে যাবো আমরা।
তারা কোন খামারের পশুপাখি নয়...
আসলে কী কাজে আসছে তারা?
তারা এমনিতেও মরতে যাচ্ছে।
এই যুদ্ধে আমরা আমাদের রক্ত বাজি রেখেছি।
কারণ এদেশ ও তার জনগণকে রক্ষার প্রতিজ্ঞা করেছি আমরা।
অথচ আপনি,
সেই শপথ ভঙ্গ করে...
নিজ লোকদেরই হত্যা করতে চাইছেন?
আমি তা করতে পারি না।
মৃত মানুষ পুনরুজ্জীবিত হবে?
যত্তসব ফালতু কথা।
এমনকিছু হতেই পারে না।
একটা কথা বলুন।
আপনি কি ওই ছোটলোকগুলোর জন্য লড়ছেন?
আমি লড়ছি না।
আমি শপথ নিয়েছি...
যেকোনো মূল্যে রাজপরিবার ও এদেশের ঐতিহ্য রক্ষা করবার।
আর সেটি রক্ষায়...
আমি যেকোনো উপায় অবলম্বন করবো।
শীঘ্রই, অগণিত জাপানি সেনা আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।
আমাদের ৫০০ সেনা ধূলোয় মিশে যাবে।
এবার বলুন,
কতক্ষণ আপনার ওই ন্যায়পরায়ণতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে যাবেন?
প্রভু আন।
সাংজু'র...
অসংখ্য নিরপরাধ প্রজাদের কথা ভেবে দেখুন।
এই মৃত্যুপথযাত্রী লোকগুলো...
হবে খুব ছোট একটা বলিদান।
সব সুরাহা হয়ে যাবে...
যদি আমরা দু'জন...
শুধু এবারের জন্য নিজেদের চোখ বন্ধ রাখি।
শীঘ্রই, জাপানি সেনারা হামলা করবে।
সাংজু অভিমুখী প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেবে।
আর তার উল্টোদিকের প্রবেশদ্বার...
খোলা রেখে দেবে।
আমি তোমাদের এই আত্মদান কখনোই ভুলবো না।
একদিন, আমি তোমাদের এ ঋণ শোধ করবো।
যদি তোমরা এই জানোয়ারগুলোকে পুরোপুরি মারতে চাও,
তাদের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত হানবে।
এটা কিভাবে সম্ভব?
উনি তো...
প্রভু আন হিয়ন তো মারা গিয়েছিলেন।
নিশ্চিত ছিলাম তিনি মারা গেছেন।
গিয়েছিলেন।
তোমরা সবাই নিজচোখেই দেখেছিলে,
প্রভু আন মারা গিয়েছিলেন।
তবে, এই সেবিকা তাকে পুনরায় জীবিত করেছে।
চো হাক-জু যেভাবে...
আমার বাবাকে মৃত্যুর পর জীবিত করেছিল।
এবার তুমি...
যা জানো আমাদের খুলে বলো।
চিকিৎসক লি সিওং-হুই, যিনি আমার শিক্ষক ছিলেন,
সবকিছু তার রোগীর রোজনামচায় লিখে রেখেছিলেন।
এটা হচ্ছে পুনরুত্থান গাছ।
এটা দিয়েই মহারাজকে জীবিত করা হয়েছিল।
আর এটার জন্যই জিয়ংসাংয়ে এই মহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল।
এটা হচ্ছে আমার বাবার সেই রোগীর রোজনামচা,
যেটির কথা সে বলছিল।
তিনি সত্য বলার চেষ্টা করেছিলেন।
হেওয়ান চো পরিবার...
ও তাদের প্রধাণ, চো হাক-জু,
আমাকে রাজদ্রোহিতার দোষ দিচ্ছে।
তাদের দাবি আমি সিংহাসন দখল করতে চাই। সব মিথ্যে!
আমার শুধু একটিই আকাঙ্ক্ষা আছে।
এদেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবার জন্য হেওয়ান চো পরিবারকে শাস্তি পেতে দেখা।
হেওয়ান চো পরিবার অমার্জনীয় অপরাধ করেছে।
নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখবার জন্যে,
কোন দ্বিধা ছাড়াই তারা মহারাজের মৃতদেহের অবমাননা করেছে।
তারা যুদ্ধপীড়িত জনগণের ওপর অত্যাচার নিপীড়ন চালিয়েছে।
আর পরিকল্পিতভাবে তাদের অনাহারে রেখেছে,
তাদের মুখের খাবার কেড়ে নিয়ে।
হেওয়ান চো পরিবারের লোভই...
এই মহামারী এবং সবকিছুর পেছনে প্রধাণ কারণ।
নিজেদের চোখ-কান খুলে দেখো!
দেশের জনগণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এখনই সময় রুখে দাঁড়াবার।
সত্যটা অনুধাবন করো...
আর যেটি সঠিক সেটি করো।
আমার সাথে যোগ দেবে তোমরা?
সাংজু'র দুর্গে আঁটকে পড়া লোকজন...
খুব বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারবে না।
যতো দ্রুত সম্ভব সেখানে খাবার পৌঁছাতে হবে।
আমি একমত, কিন্তু আমাদের সেরা লোকদের পক্ষেও,
ওগুলোর সবকটা'কে পিছু হটানো সম্ভব না।
সংখ্যায় ওগুলো অনেক বেশি।
আমরা এই সুরঙ্গের ভেতর দিয়ে যাবো।
যদি খাবার ঠেলায় তুলে, এই পথ ধরে এগোই।
এতে কাজ হতেও পারে।
আমরা ওই জায়গা সবচেয়ে ভালো চিনি।
আমাদের-ই যাওয়া উচিত।
আমাদের পরিবার এখনো ওই দুর্গেই আছে।
দয়া করে আমাদের অনুমতি দিন।
ওগুলো চারিদিক থেকে আক্রমণ করবে।
এখনো পারবে ভাবছো?
যদি আমরা এই পথ ধরে সুরঙ্গের দিকে এগোই,
আর পুরো পথে তাদের সুরক্ষা দিতে পারি...
সুযোগ বেড়ে যেতে পারে।
নদী পার হবার পর তাদের দেখা যাবে,
কিন্তু পাহাড়ে ওঠার পর, তাদের আর দেখা যাবে না।
যদি তাদেরকে দেখতেই না পাই কিভাবে তাদের সুরক্ষা দেবো?
কামান দাগাও।
কামান দাগাও!
সুরঙ্গের দিকে দেখো!
তারা সুরঙ্গের কাছে কামান দাগাচ্ছে।
ভেতরে যাও, সবাই।
ভেতরে যাও। জলদি!
যাক পৌঁছে গেছি।
- ওরা এসে গেছে। - বেঁচে গেছি আমরা!
- ধন্যবাদ! - আমাদের বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ।
আরে, এ কী হলো? কিছুই তো বুঝলাম না।
এটা যুবরাজের কাজ। তিনি চো হাক-জু'কে পরাস্ত করেছেন,
আর মুংইয়ং প্রবেশদ্বারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।
ওহ, সত্যি?
বিষয়টি মিমাংসায় ওনাকে হায়াংয়ে যেতে হবে বলে...
যুবরাজ নিজে আসতে পারেননি।
তবে, আমি একটা খবর নিয়ে এসেছি।
জানোয়ারগুলো সংখ্যায় বেশি হওয়ায়...
এই মুহূর্তে সবাইকে দুর্গ থেকে নিরাপদে বের করা সম্ভব না।
তাই, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা আপনাদের খাবার পৌঁছাতে থাকবো।
তাই দয়া করে যতদিন সম্ভব এখানেই অবস্থান করুন।
এসো, হাত লাগাও সবাই।
কী অবস্থা ওনার?
তার শরীরের তাপমাত্রা কমেই যাচ্ছে।
কিন্তু...
তুমি কি নিশ্চিত যে চাচাজান ওই জানোয়ারগুলোর মতো হয়ে যাবে না?
আমি মোটামুটি নিশ্চিত তিনি জানোয়ারে পরিণত হবেন না।
তাছাড়া, সবাই জানোয়ারে পরিণত হয় না।
হায়াংয়ে যখন...
দানি মহারাজের কামড় খেয়েছিল,
সে জানোয়ারে পরিণত হয়নি।
তবে, শেষপর্যন্ত অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়েই মারা গিয়েছিল।
রোগের ধরণ পরিবর্তন হয়েছে।
ডংনাই, হাসপাতালে ঘটনা ভিন্নভাবে ঘটেছিল।
যারা দানি'র মাংস খেয়েছিল, তারাই পরবর্তীতে জানোয়ার হয়ে...
রোগ ছড়াতে শুরু করেছিল।
তাহলে...
এ রোগ আমার চাচাজানকে কী করবে?
হয়তো তিনি জানোয়ারে পরিণত হবেন না।
তবে চিকিৎসার যদি কোন উপায় বের করতে না পারি,
হয়তো দানি'র মতোই শেষপর্যন্ত মারা যাবেন।
সো-বিয়া, দয়া করে তাকে বাঁচাও।
জানি তিনি মহারাজের সাথে যা করেছেন তা অমার্জনীয়,
কিন্তু তাকে আমরা এমন করুণভাবে মরতে দিতে পারি না।
দানি'কে...
বাঁচাতে কিছুই করতে পারিনি আমি।
এবার, সেটা পাল্টাতেই হবে।
যদি তাকে সুস্থ করে উপসর্গগুলোর কারণ বের করতে পারি,
হয়তো আজীবনের মতো এই মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় বের করে ফেলতে পারবো।
আচ্ছা।
যা করার করো, তবু দয়া করে চাচার জীবন বাঁচাও।
তার শরীরের তাপমাত্রা আবারো কমে গেছে।
তার শরীর উষ্ণ করতে হবে। আমি গিয়ে দেখি কোন ঔষধ পাই কিনা।
আচ্ছা। আচ্ছা।
সো-বিয়া। সো-বিয়া।
এটাতে কি কাজ হবে?
মহারাণী এই দুর্লভ ঔষধি বাকলটা নিয়ে আসতে বলেছিলেন।
সাপ্পান গাছের বাকল?
এটা স্ত্রীরোগ জনিত সমস্যা নিরাময়ে ব্যবহার করা হতো।
দুঃখজনকভাবে, এটা প্রভু চো'র কোন কাজে আসবে না।
দাঁড়ান।
কী বললেন...
রাণীমা আপনাকে এই বাকল আনতে বলেছিল?
এটা নিশ্চয়ই রাণীমা'র জন্যে নয়, তাই না?
অবশ্যই এটা মহারাণীর জন্যে। নইলে এতো কষ্ট করে বয়ে এনেছি কেন?
মানে রাণীমা নিজে এটা ব্যবহার করেছিলেন?
সেটা কী করে সম্ভব।
রাণীমা কি সম্প্রতি এটা ব্যবহার করেছিলেন?
সেটা জানা কি এই মুহূর্তে খুব গুরুত্বপূর্ণ?
আমার চাচা এখানে কবরে এক পা দিয়ে বসে আছেন।
দয়া করে, উত্তর দিন।
গতমাস আর তার আগের মাসেও এটা জোগাড় করতে হয়েছিল।
কোন সমস্যা?
যুবরাজ।
একটা সমস্যা হয়ে গেছে।
কী হয়েছিল?
এখানে পাহারায় থাকা প্রহরীরা কোথায়?
No comments yet. Be the first to leave one.