The first 200 lines.
আমি?
সুন্দর গাউন, ডার্লিং।
ধন্যবাদ।
অসাধারণ।
কার ডিজাইন পরেছেন?
এলুইস টার্নার।
কার ডিজাইন পরেছেন?
এলুইস টি, অবশ্যই।
ই.টি.
এলি টার্নার।
সুখবর, তাই না?
এলুইস, চিঠি!
- এলি? - আসছি!
তো, কী লিখেছে?
আমি লন্ডনে যাচ্ছি।
জানতাম তুই পারবি।
আমি লন্ডনে যাচ্ছি!
আমি লন্ডনে যাচ্ছি।
আমি লন্ডনে যাচ্ছি। আমি লন্ডনে যাচ্ছি।
আমি লন্ডনে যাচ্ছি।
তুমি শিওর আমি সব নিয়ে নেবো?
আমিই তোকে এসবে বুঁদ করেছি।
এখন তোকে বঞ্চিত করতে পারি না।
সবকিছু আঁটবে তো?
হুম?
মুজা লাগবে না তোর?
মুজা।
ছবিটা তুলেছিলাম তোর মা আর আমি প্রথমবার যখন লন্ডনে গিয়েছিলাম।
খোদা, বাহারি দোকানগুলো।
সবগুলো পোশাক হাঁ করে দেখতাম।
লিবার্টি। সেলফ্রিজেস। (দোকান)
কার্নাবি স্ট্রীট।
দোকানের নাক উঁচু মেয়েগুলো জানতো আমরা কিছু কিনতে পারবো না,
কিন্তু জানতো না যে ডিজাইন কপি করতে পারবো।
এটা নিয়ে যা।
না, পারবো না, নানু।
আমি থিতু হবার পর নিয়ে এসো।
আমরা ক্রাইটেরিয়নে বসে ডিনার করবো, ছবিটার মতোন।
আমরা ওখানে খাইনি। খাবার মতো পয়সাই ছিল না।
ব্যস বাইরে দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুলেছিলাম আর উইম্পিতে গিয়েছিলাম।
যখন আমি বিরাট ফ্যাশন ডিজাইনার হবো, তখন যাবো।
ঠিক আছে?
মনে হয় না উইম্পি এখনো আছে।
তুমি জানো কী বুঝিয়েছি।
আমি জানি তুই মনপ্রাণে এটা চাস।
এটা ওরও স্বপ্ন ছিল,
- কিন্তু তুই যেমন ভাবিস লন্ডন তেমন নয়। - নানু।
তোর নিজের খেয়াল রাখতে হবে।
- জানি। - কিন্তু তবুও বলবো।
- ওখানে অনেক খারাপ লোক থাকে। - তোকে সাবধানে থাকতে হবে।
- ওখানে অনেক খারাপ লোক আছে। - আমি সাবধানে থাকবো।
তারা নষ্ট ফলের মতো।
আমি দৃঢ়। তাদের সামলাতে পারবো।
শুধু বলতে চাইছি, লন্ডন বেশ কঠিন জায়গা।
তোর মায়ের জন্যেও হয়তো কঠিন হয়ে গিয়েছিল,
আর ওর তোর মতো গুনও ছিল না।
আমার গুন?
ও তোর মতো করে সবকিছু ভাবতো না, দেখতো না।
দুঃশ্চিন্তা হচ্ছে তুই আবার খেই হারিয়ে ফেলবি।
নানু, এমন না যে কাজটা কেবল আমার জন্যে করছি।
আমি সত্যিই এটা করতে চাই, মা'র জন্যে।
আর তেমন খারাপ কিছু নাও হতে পারে।
হয়তো ওখানে গেলে, আমার তার কথা অতোটা মনে পড়বে না।
- আচ্ছা। - তাছাড়া...
মা'কে অনেক বছর ধরেই দেখি না।
বাই।
কল করবি তো?
জানোই তো করবো।
আর যদি চাপ বেশি হয়ে যায়,
আমাকে বলবি তো?
শহরে?
এখানে।
প্লিজ নিজের সাথে ওমন করবি না।
আমার সাথেও করবি না, ওকে?
তোমায় ভালোবাসি।
ওহ, এলি।
চাই আমাদের দুজনের ছবিই ওখানে থাকুক।
আমি তোমাদের হতাশ করবো না।
সেটা সম্ভবও না।
- শার্লট স্ট্রীট, প্লিজ। - অবশ্যই, ডার্লিং।
প্রথমবার?
মা'র সাথে একবার এসেছিলাম, তবে অনেক ছোটবেলায়।
- এখন একদম অন্যরকম লাগছে। - দুনিয়া খুব দ্রুত বদলায়।
তবে চিন্তা কোরো না, খুকী।
ভেতরে ভেতরে সেই চিরচেনা লন্ডন-ই আছে।
ভালো।
তা এখানে কেন এসেছো?
পড়তে।
লন্ডন কলেজ অফ ফ্যাশনে।
তো, তুমি মডেল?
না।
আমি পোশাক ডিজাইন করি।
আসলে, চাই আর কি। মানে...
আমি ডিজাইনার হতে চাই।
হ্যাঁ, তবে মডেলও হতে পারো, তাই না?
পা খানা তো সুন্দর আছে।
তো, শার্লট স্ট্রীটে কী আছে?
আঃ, ছাত্রাবাস।
বিল্ডিংটায় কি সব মেয়েরা থাকে?
যদি সব সুপারমডেল শার্লট স্ট্রীটে ভীড় জমায়,
তবে আমাকে প্রায়শই দেখতে পাবে, ভয় নেই।
তোমার প্রথম স্টকারকে বোধহয় পেয়েই গেলে।
আমি এখানেই নামবো।
ওহ, না, ওটা আরো কয়েক রাস্তা পরে, খুকী।
না, আমার কাছে অতো পয়সা নেই।
ওহ, সেটা কোন একভাবে মিটিয়ে নেওয়া যাবে, সোনামনি।
তাছাড়া, মেয়েদের রাতের বেলা এখানে একা নামাটা নিরাপদ না।
তবুও আমি দোকানটায় যেতে চাই।
তোমার যা খুশি।
এক্সকিউজ মি।
কোনো সাহায্য করতে পারি?
আঃ, সরি।
হেই, তোমার সাহায্য লাগবে?
আমি ঠিক আছি।
দেখে তো ঠিক লাগছে না।
জি আছি।
- তুমি এলুইস? - হ্যাঁ।
হ্যাঁ, দেখতে এলুইস টাইপের-ই।
আসলে, এলি।
আমি জোকাস্তা।
তোমার নামের বানানটা কি ভুল করেছিল?
ওহ না, ব্যস কেটে দিয়েছি কারণ মনে হলো...
কেবল নিজের খ্রিস্টান নামে এককভাবে অনেক বেশি পরিচিতি পাওয়া যায়।
মানে যেমন, এতোটাই বিখ্যাত যে স্রেফ কাইলি বললেই সবাই তোমাকে চিনবে।
- মিনোগ? - জেনার। (কাইলি জেনার)
আচ্ছা, বাজে উদাহরণ, কিন্তু... কতোজন জোকাস্তা'কে চেনো তুমি?
একজনকেও না।
ঠিক তাই, সোনা।
জানালার কাছের বিছানাটা নিয়েছি বলে মাইন্ড করোনি তো?
- না। - যদি আমাদের চুলোচুলি না লাগে,
পরের টার্মে অদবদল করা নিয়ে কথা বলা যাবে।
হ্যাঁ।
- তো, তুমি কোথাকার? - রেডরুথ।
ওটা কর্নওয়ালে।
দুঃখিত।
মানে, কর্নওয়াল, গ্রামের দিকে।
না, না, বুঝেছি, সোনা।
আমি আসলে, দুঃখিত আর কি।
আঃ...
আর তুমি?
মূলত ম্যানচেস্টারের, তবে আমি...
পড়াশোনার গ্যাপে এখানে চলে এসেছিলাম।
সেভিল রৌ'রের একটা কর্মশালায় ইন্টার্নশিপ করেছি।
ওহ, ওয়াও। আমি তো কেবল রেডরুথে বসে নিজের কাপড় সেলাই করেছি।
টের পেয়েছিলাম ড্রেসটা তুমিই বানিয়েছো।
হ্যাঁ, এটা বুশরা জারার।
সব ডিজাইন বিক্রি করে ল্যানভিনে চলে যাবার আগের অবশ্যই।
- সিগারেট খাও? - না।
এখানে এটার অনুমতি আছে?
ওহ, একটু আগে অ্যালার্মের ব্যাটারিগুলো বের করে নিয়েছি।
যদি তোমার সমস্যা হয় তো আমি বাইরে যেতে পারি।
না।
- না, সমস্যা নেই। - ইলেকট্রিক সিগারেট চেষ্টা করেছিলাম।
আমার ব্যস মনে হয় এতে নিজেকে আরো বেশি বজ্জাতের মতো লাগে।
হ্যাঁ, একদম।
তো, তোমার বাবা কী করেন?
আমি ওনাকে চিনি না।
ওহ, বুঝে গেছি।
- আর তোমার মা? - আমার মা মারা গেছেন।
জানতাম আগে পরে আমাদের মধ্যে একটা মিল অবশ্যই বেরোবে।
হ্যাঁ, আমার বয়স তখন মাত্র ১৫ ছিল।
আর তোমার?
সাত।
ওহ, ওয়াও, অনেক কম বয়সে।
যদিও ওই বয়সে ব্যাপারটা মনে হয় সহজ-ই ছিল।
যদিও এটা কম্পিটিশনের ব্যাপার না, তাই না?
উহ, নতুন মেয়ে!
ওহ, মাই গড, ওয়াও, ওটা কি আসলেই বুশরা জারার?
ওহ, প্রখর দৃষ্টি।
হ্যাঁ, সে সব ডিজাইন বিক্রি করে ল্যানভিনে চলে যাবার আগের অবশ্যই।
- হ্যাঁ। - অবশ্যই।
ওহ।
ওহ, ও আমার রুমমেট, এলুইস।
হাই।
হ্যাঁ, ওর পোশাকটা সত্যিই ওর নিজের বানানো।
অসাধারণ না। আমরা সবাই নিজেদের সবচেয়ে সুন্দর পোশকটা পরে এসেছি,
আর ও নিজের ডিজাইন করা পোশাকেই ফাটিয়ে দিচ্ছে।
ভাবছি ওকে অদম্য সাহসী এলি বলে ডাকবো।
আর তোমাকে কী নামে ডাকবো?
ওহ, কাল সকালের মধ্যেই,
তোমরা আমাকে কেবল হারিকেন জোকাস্তা নামে চিনবে।
উহ। তো তোমরা আগে থেকেই পরিচিত?
ওহ, হ্যাঁ, বহুদিনের পরিচত।
কতো যেন, ১৫ মিনিট না?
হ্যাঁ, সেরকমই।
আমরা দুজন-ই মা মরা মেয়ে।
- ওহ। - লিউকেমিয়ার আব্বুকে আম্মু, তাই না?
- কী দুঃখজনক। - হ্যাঁ।
ফালতু রোগ। মিথ্যে বলবো না।
কিন্তু, কেন যেন মনে হয় এটাই আমাকে কাজের শক্তি জোগায়।
- তো... - হুম।
তোমার মায়ের কী হয়েছিল?
আঃ, সে সুস্থ ছিল না... মানসিকভাবে।
সে... সে আত্মহত্যা করেছিল।
সরি।
জিজ্ঞেস করা উচিত হয়নি।
এটা অনেক আগের ঘটনা।
- তুমি, অনেক সাহসী মেয়ে। - অন্নেক সাহসী।
হ্যাঁ, আমার এক বড়ো চাচা আত্মহত্যা করেছিল... গলায় দড়ি দিয়েছিল।
ওহ, খোদা।
No comments yet. Be the first to leave one.