The first 200 lines.
সুপ্রিয় দর্শক, আজ আমাদের স্টুডিওতে উপস্থিত হয়েছেন কোরিয়ার সর্বাধিক মৌলিক গল্পের লেখিকা ব্যেক হি-সু,
হ্যালো,
স্বাগতম আপনাকে,
এটা আপনার টানা চতুর্থ বেস্ট-সেলিং বই,
ব্যক্তিগতভাবে, প্রত্যেকবার এভাবে আপনাকে নতুন গল্পের বই লিখতে দেখে আমার ঈর্ষা হয়,
কীভাবে আপনি একটা বই লেখা শুরু করেন সেব্যাপারে আমাদের একটু হিন্ট দেয়া যাবে?
প্রথমে আমি সবসময় নোট টুকে রাখি,
ব্যক্তি আর জায়গার নাম লিখে রাখি আর তারপর তাদের ব্যাপারে চিন্তা করি।
এভাবেই চরিত্রগুলোকে গড়ে তুলি।
যদি একটা গল্প লেখার আইডিয়া মাথায় আসে, তারজন্যে সঠিক চরিত্রের সাথে সংযুক্ত হতে হয়।
তাহলে সেই চরিত্রগুলো তাদের ব্যবহার আর চিন্তাধারার মাধ্যমে একদম জীবন্ত হয়ে উঠে।
আমি শুধুমাত্র গল্পটা লিখি।
অনেক ব্যস্ত থাকার কারণে মনেহয় বিশ্রাম নেয়ার সময়টুকুও পান না।
গল্পের নোটে আমার মেয়ে আর স্বামীও থাকে।
সবাই আমার গল্পের উপাদান।
আজ যাদের সাথে সাক্ষাত হলো, কোনোদিন ওরাও আমার গল্পের একটা অংশ হয়ে যেতে পারে।
এই নতুন বইটা পরপর ৩ সপ্তাহ বেস্ট-সেলারের খেতাব ধরে রেখেছে।
পূর্ববর্তী কাজ ব্যতীত আপনি কীভাবে লেখেন?
কাট!
কী হয়েছে?
কী সমস্যা?
আপনি কীভাবে এটা করতে পারেন?
সত্যিই আপনি আমাকে বিশ্বাস করেন না?
ইতিমধ্যে অনেকবার আপনাকে বলেছি। প্লিজ, বিশ্বাস করুন আমায়।
আবার ওই পুরোনো কাসন্দি ঘাঁটতে যেওনা।
আপনি আমার কথা শোনার চেষ্টা করছেন না!
আমি ওই বইটা কখনো পড়িইনি! ঈশ্বরের দিব্যি!
আর কতদিন লুকিয়ে রাখবে কথাটা?
হয়তো একটা ভুল করে ফেলেছ,
ভুল?
আমি কোনো ভুল করিনি।
তুমি চাও কথাটা আবার বলি?
এটা তোমাকে একবার আদালতে রুজু করিয়েছিল।
তুমি বইটা পড়েছ!
আপনি বলতে চাচ্ছেন আমি সবকিছু চুরি করেছি?
চুপ! একদম চুপ!
এবার থামো,
ওদের সবাইকে এটা থেকে দূরে রাখতে বলছি আপনাকে।
- প্লিজ, এইসব বন্ধ কর। - বুঝতে পেরেছেন কি বললাম?
তুমি বিষয়টার প্রতি একদম আবিষ্ট হয়ে পড়েছ,
শুধু এটা বলে দাও যে, তুমি জানতেনা বা বিষয়টা একদম অনিচ্ছাকৃত ছিল!
BESTSELLER (2010) ......Translated & Edited By...... FLAMY TUHIN
বিগত ২০ বছর যাবত ব্যেক সু-হি অনেক বেস্ট-সেলিং গল্পের বই লিখেছেন,
কিন্তু সম্প্রতি তার প্রকাশিত বইটা যে অন্যের গল্প হতে চুরি করা, সেটা নিশ্চিত হয়েছে,
বইটা তিনি বিচারক থাকাকালীন সময়ে পড়েছিলেন।
২ বছর পর
একবার আমরা ওখানে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
ছবিটা দেখেছ তুমি?
এই সিদ্ধান্তটা মা'র জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আমার একটা কোলাহলশূন্য জায়গা দরকার যেখানে কোনো লোক থাকবে না।
বুঝতে পেরেছ, হাহ?
তুমি বাবাকে ডিভোর্স দিতে চলেছ?
আমার জন্যে?
না।
ছেলেবেলা থেকেই, তুমি দেখেছ....
উনি আমাদের সাথে থাকতে চাইতেন না।
তাহলে কি এই বিচ্ছেদের কারণ তুমি?
কী করছেন আপনি?
কিছুনা।
আপনার মেয়েটা খুব সুন্দর।
যদি আমার ভুল না হয়, আপনি সিউল হতে আগত লেখিকা, না?
কিন্তু আমি ভেবেছিলাম আপনি কাল আসবেন।
এটা নিয়ে চিন্তা করবেন না।
বাবা....
শুয়োরের বাচ্চা, প্রার্থনা অলরেডি শেষ হয়ে গেছে।
লেখিকা চলে এসেছেন!
জলদি!
লেখিকা! উনি এখানে!
কেমন আছেন, ম্যাডাম?
কখন এসেছেন আপনি?
ইনিই সেই লেখিকা যিনি সিউল থেকে এখানে এসেছেন।
সে খুব সুন্দর!
প্লিজ এসে কিছু আহার গ্রহণ করুন।
পকপক না করে উনার বসার ব্যবস্থা কর।
তাড়াতাড়ি গিয়ে খাবারের বন্দোবস্ত কর।
আমাদের কাছে মাংস শেষ হয়ে গেছে।
মাংস শেষ হয়ে গেছে মানে কী?
গাধার বাচ্চাগুলোকে বলেছিলাম পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রাখতে।
বালের প্যাঁচাল বন্ধ করে উনাকে নিয়ে যাও।
স্মরণসভার জন্য আমরা হালকা খাবারের আয়োজন করেছিলাম।
ওইদিকে দেখুন, একবার!
তোমাকে বলেছিলাম গতকাল ব্যানারটা টাঙিয়ে দিতে।
স্বাগতম, লেখিকা পার্ক হি-সু
এখানে বাতাস খুব বেশি।
আপনি আসার আগেই আমরা সব তৈরী করে রাখতে চেয়েছিলাম।
এখন লাগিয়ে আর ফায়দা কী?
যতটুকু সম্ভব বাড়িটা গুছিয়ে রেখেছি।
বাড়িটা দেখতে পুরোনো
বাড়িটার বয়স ষাটের উর্ধ্বে।
কোরিয়ার স্বাধীনতার পর,
'বেটস' নামের একটা আমেরিকান মিশনারি
যুদ্ধচলাকালীন অনাথ বাচ্চাদের এখানে রাখত।
পুরো কোরিয়াতে এরকম একটা ভিলা খুঁজে পাবেন না।
সিউল থেকে অনেক লেখক/লেখিকা এখানে আসে।
বাড়িটার মেরামতের কাজ প্রায় শেষ।
ব্যস, শুধু ছাদের একটু কাজ বাকি।
বৃষ্টি হলে, ছাদ চুয়ে পানি পড়ে।
ওই প্লাস্টিকটা টেম্পোরারি।
আমাদের ছেলেরা কয়েকদিনের মধ্যে ছাদটা ঠিক করে দেবে।
যতদিন আমি এখানে আছি, প্লিজ কাউকে আসতে দেবেন না।
কিন্ত,আমরা জানিনা বৃষ্টি কখন হবে। ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর কারো হাত নেই।
হুম, ঈশ্বরের ইচ্ছার উপর কারো হাত নেই।
পাগলী বুড়ি কোথাকার!
বলেছিলাম না এখানে আসবি না!
উনি আবার এখানে এসেছেন কেন?
আপনি ওকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না।
যখন এখানে কেউ থাকেনা, তখন সে এখানে এসে ঘুমায়।
বসতি গড়ার জন্য এটা একটা সুন্দর শহর।
এই শহরটা অপরাধহীন হওয়ার কারণে অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে, জানেন।
আপনি আমার মেয়েকে দেখেছেন?
ইয়্যেন-হি
ইয়্যেন-হি!
ইয়্যেন-হি!
ইয়্যেন-হি!
ইয়্যেন-হি!
ইয়্যেন-হি!
ইয়্যেন-হি!
হঠাৎ এখানে চলে এলে কেন?
বিপদ হতে পারে।
ইয়্যেন-হি
এই জায়গাটা খুব পুরোনো।
হয়তো প্রথম কয়েকদিন থাকতে একটু অস্বস্তি লাগতে পারে।
না, জায়গাটা আমার পছন্দ হয়েছে।
ওকে
আর কদিন তুমি লুকিয়ে থাকবে?
দুইবছর হতে চললো!
তোমাকে আমি যথেষ্ট সময় দিয়েছি।
যারা দাবী করেছে গল্পটা চুরি করা তাদের ব্যাপারে চিন্তা কোরো না।
কে বলেছে গল্পটা চুরি করা?
ওইরকম পাবলিকের কথায় কেউ কান দেবে না
তুমি সেটা নিজেও জানো তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
সবাই তোমার পাশে আছে। ওরা তোমার নেক্সট বইয়ের অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ।
আসলে, ঠিক তা নয়।
সমস্যাটা হলাম আমি।
আমি কিছুই চিন্তা করতে পারছি না।
মনিটরের সামনে বসলে মাথা আউলে যায়?
তার কারণ হলো, সবসময় তুমি ব্রয়লার মুরগীর মত বাড়িতে নিজেকে বেঁধে রাখো।
লেখকের প্রতিবন্ধকতা? সেটাকে তোমায় দূর করতে হবে।
বাড়িতে বসে লেখাটা দুরূহ, তাইতো?
গতসপ্তাহে কমিটির মিটিংয়ে একটা দারুণ জায়গার ব্যাপারে জানতে পেরেছি।
রাইটার বলছিল জায়গাটা নাকি লেখালেখির জন্য একদম পারফেক্ট।
এখনো তোমার আগামী সাহিত্য পুরস্কার জেতার সম্ভাবনা আছে।
অলরেডি আমি কমিটির সাথে কথা বলে রেখেছি।
তোমাকে আশ্বস্ত করছি, এইবার ওই গল্পচুরির খোঁচামারা কথা শুনবে না।
কোথায় রাখলাম ছবিটা? এইযে..
এই নাও।
লোকেরা তোমায় কটুকথা বলা সত্ত্বেও,
জানাতে চাই যে, আমি এখনো তোমাকে বিশ্বাস করি।
সম্পাদক সাহেবও তোমার জন্য আমার মত চিন্তা করেন না।
জন বেটস মিশনারি
তুমি এখানেই থাকো?
কী হয়েছে তোমার হাতে? ব্যথা পেয়েছ?
ওটা কী গান?
সে আমার ব্যাপারে সবসময় নাক গলাতে যায় কেন?
আমার ছবি তুলছেন কেন?
ওহ, এটাতো সিউল থেকে আগত সেই লেখিকা।
ভিলাটা ঠিক আছে তো?
সাবধান। ওখানে একটা ভূত আছে।
ইয়্যেন-হি
ভেতরে যাও...জলদি।
আমার মা খুব ব্যস্ত।
সত্যি? উনি গল্পটা পছন্দ করবেন?
একটা ড্রাগন? কী একটা ড্রাগন?
ওটা এখনও বেঁচে আছে?
কিন্তু সে কি কষ্ট পাবে যদি তুমি মারা যাও?
হেসো না।
একটা পথভ্রষ্ট পাখির বাচ্চা
কাঁদছে কারণ সে তার মাকে খুব মিস করে।
তুমি এখানে কী করছো?
আমি আমার বন্ধুর সাথে খেলছি।
বন্ধু?
কোথায় তোমার বন্ধু?
চলে গেছে।
কোথায় চলে গেছে?
আরেকটা অনুমান হলো যে, এটা একটা অবচেতন মনের সম্মোহিত অবস্থায় দৃশ্যমান চেহারা।
বইয়ে পড়া গল্প বা কোনো পরিস্থিতি যা আগে দেখেছি
সেসব আমাদের অবচেতন মনে রেকর্ড হয়ে যায়।
আমরা সেগুলো নিজেদের ভাবনা/কল্পনার সাথে গুলিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি।
অবচেতন মনে রচনাচুরি করাটা একদম সাধারণ ব্যাপার।
পৃথিবীতে এমন অনেক কেস আছে যেগুলোতে ব্যক্তি স্বয়ং তার রচনাচুরির সম্মন্ধে জানেই না।
তাহলে তো ব্যেক হি-সু'র ঘটনাটা একদম সত্যি।
- চুপ কর। - কেন?
মাদারচোদ!
তোমার লেকচারের টপিক চেঞ্জ কর।
কেন এসেছ এখানে?
এখানে আসার জন্যে কি সবসময় কারণ থাকা দরকার?
কেন বাজে কাজে সময় নষ্ট করছো?
তুমি শুনেছ?
হি-সু'র প্রত্যাবর্তন করাটা খুব জরুরি। ওকে আমরা এভাবে পঁচতে দিতে পারি না।
টাকার জন্য ওকে আবার এসবের মধ্য টেনে এনো না।
হেই, বলেছিলাম না এটা আমি টাকার জন্য করছি না!
একজন লেখিকার বিরুদ্ধে যদি আবার গল্পচুরির অভিযোগ উঠে তাহলে সে একদম শেষ হয়ে যাবে।
কে বলেছে?
মোজার্ট চুরি করেছিল আর এমনকি আইনস্টাইনও।
অনুমান-অনুসারে হেন্ডেল ছিল গল্পচুরি করার ওস্তাদ।
কে ছিল একদম ধোয়া তুলসীপাতা?
হি-সু'র জন্য লেখা হলো ওষুধের মত।
আফসোস মানুষকে বরবাদ করে দেয়।
২ বছর পেরিয়ে গেছে। এবার ওকে ক্ষমা করে দাও।
আমি আগ্রহী না।
No comments yet. Be the first to leave one.