The first 200 lines.
পুরো পৃথিবীজুড়ে 55 কোটি আগ্নেয়াস্ত্র সচল রয়েছে.
প্রতি 12 জন মানুষের জন্য একটি করে অস্ত্র.
আমার প্রশ্নটা হলো...
বাকি এগারো জনের হাতে কীভাবে অস্ত্র দেওয়া যায়?
"লর্ড অফ ওয়ার"
অযথা দুশ্চিন্তা করবেন না.
আমি নিজেকে ফেরেশতা হিসাবে দেখানোর জন্য বানোয়াট গল্প শোনাব না.
শুধু আসল ঘটনাটা বলবো.
আমার নাম ইউরি ওরলোভ.
ছোটবেলায় আমি পরিবারের সাথে আমেরিকাতে আসি,
কিন্তু সেরকমভাবে নয়.
অন্যান্য ইউক্রেন অভিবাসীদের মতো, আমরাও ব্রাইটন বীচে জবুথবু হয়ে থাকতাম.
এখানের সমুদ্রটা আমাদেরকে ব্ল্যাক সী-এর কথা স্মরণ করাতো.
শীঘ্রই টের পেলাম আমরা এক নরক থেকে অন্য নরকে এসেছি.
নরকের উত্তাপেও... কখনো কখনো পরীদের শীতল ছায়া পাওয়া যেত.
সেই 10 বছর বয়স থেকে আমি অ্যাভা ফনটেইনকে পূজা করে আসছি.
তবে তার কাছে আমার কোনো অস্তিত্ব নেই.
আমিও তার সাথে দ্বিমত ছিলাম না.
জীবনের প্রথম বিশটা বছর,
আমার কাছে লিটল ওডেসা মহল্লাটা ছিল সাবওয়ে ট্রেনের মতো.
সর্বশেষ গন্তব্য.
ও, আমার নামটা মিথ্যা বলেছি.
আসলে ইউরি ওরলোভ নয়.
ইহুদি পরিচয়ের কারণে বিশ শতকের কিছু সময়ে সুফল ভোগ করা যেত.
1970 দশকে, সোভিয়েত ইউনিউনের কবজ থেকে পালাতে আমার পরিবার ইহুদি সেজেছিল.
সেই থেকে আমার বাকি জীবন হারামিপনায় ডুবে আছে.
- কী অবস্থা, ভাইয়া? - ভালো না.
এটা ভিটালি, আমার ছোট ভাই.
সে-ও আমার মতো ছন্নছাড়া. তবে সে ব্যাপারটা বুঝতো না.
ইউরি, তুমি দেরি করেছ.
আমার বাবা নিজের নকল পরিচয়কে আঁকড়ে ধরেছিল.
সে আসল ইহুদিদের চাইতেও খাঁটি ইহুদি ছিল, যেটা আমার ক্যাথলিক মা একদমই সহ্য করতো না.
কতবার বলবো? আমি শেলফিশ খেতে পারবো না.
- এটা হারাম. - তুমি ইহুদি নও.
তবুও আমার পছন্দ.
হ্যাটটা পরতে ভালো লাগে.
আমাদের মনে করিয়ে দেয় উপরে কিছু একটা আছে.
আমার পছন্দ.
- আমি সিনাগগে (ইহুদি উপাসনালয়) যাচ্ছি. - তুমি ওখানে যাবে না.
তুমি তো র্যাবাইদের (ইহুদি পণ্ডিত) চাইতেও বেশি সিনাগগে যাও.
ইউরি, সময় করে দ্য প্যালেসের স্পেশাল পদটা চেক করবে.
লিটল ওডেসায় বেড়ে ওঠার সময় রোজই খুনখারাবি হতে দেখেছি.
সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে রাশিয়ান মাফিয়ারাও প্রবাসে এসেছিল.
তারা আমেরিকাতে আসার সময়, তাদের অপকর্মও সঙ্গে নিয়ে এসেছে.
আমাদের পাড়ায় হরহামেশাই কোনো গ্যাংস্টারকে ফেলে দেওয়া হতো,
কিন্তু আমি স্বচক্ষে কখনো হতে দেখিনি.
আমি সবসময় ঘটনা ঘটার পাঁচ মিনিট পরে পৌঁছাব, নইলে পাঁচ মিনিট আগে.
তবে সেই দিন না.
আমি প্রভাবিত হলাম.
আমি নিজে গুলি খেলেও এতটা প্রভাবিত হতাম না.
মানুষ রেস্তোরাঁর ব্যবসায় নামে, কারণ খাওয়া একটি অপরিহার্য কাজ.
সেইদিন বুঝলাম, আমার ভাগ্যেও মানুষের অন্য একটি অপরিহার্য মেটানোর কথা লেখা.
পরের রবিবার আমি বাবার সাথে সিনাগগে গেলাম.
তবে ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেতে যাইনি.
সিনাগগের সূত্র ধরে আমি আমার প্রথম ইজরায়েলে-তৈরি উজি মেশিনগান হাতে পেলাম.
প্রথমবার বন্দুক বিক্রির অভিজ্ঞতাটা প্রথমবার সেক্স করার মতোই.
ব্যাপারটা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, কিন্তু কাজটা উত্তেজনাপূর্ণ.
আর কোনো একভাবে সবকিছু খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে.
জেন্টলম্যান, নতুন উজি মেশিন পিস্তল,
ছোট মালে কড়া ঝাঁজ.
এটাতে 9mm হলোপয়েন্ট গুলি লাগে, 20-25 রাউন্ডের বাড়তি ম্যাগাজিন,
অ্যাডজাস্টেবল সাইট রয়েছে.
সাইলেন্সার সঙ্গেই পাবেন. এটার রিকয়েল খুব কম.
মাজলের কাঁপাকাঁপি 40% কম হবে, আগেরটার চেয়ে আওয়াজ কম 60%.
আমাকে গুলি করে ঝাঁজরা করে দিলেও...
...পাশের ঘরের আন্টির ধ্যান ভাংবে না
সেক্ষেত্রে আমাদের ভবিষ্যতের বেচাকেনা বন্ধ হয়ে যাবে.
বেআইনি দেন-দরবার আমার ন্যাচারাল স্বভাবে ছিল.
সৌভাগ্যবশত, তখনকার সময়ে ক্যামেরার সাইজ ছিল মিসাইল আকারের.
আমি সারাজীবন সহিংসতা এড়িয়ে চলেছি,
অথচ উচিত ছিল এটাকে আঁকড়ে ধরা.
হিংস্রতা মানুষের স্বভাবজাত.
আদিম মানুষের কঙ্কালের পাঁজরের হাড্ডিতে বল্লমের আঘাতের চিহ্ন ছিল.
তুমি কোথায় ছিলে? যদি কাস্টমারের ভিড় হতো?
ঈশ্বর আমেরিকাকে দীর্ঘজীবি করুক.
"কুকুর হইতে সাবধান"?
আমাদের তো কুকুর নেই. মানুষকে ভয় দেখাচ্ছিস?
না, এটা আমার জন্য.
আমার ভেতরের কুকুরটার থেকে সাবধানে থাকার জন্য.
ঐ কুকুরটা সবকিছু নষ্ট করে দিতে চায়, সে দুর্বল কুকুরগুলোকে মেরে ফেলতে চায়.
এটা পড়লে নিজেকে মানুষ মনে হবে.
কিন্তু কুকুরের সত্তাতা কি মানুষের প্রাকৃতিক সত্তা নয়?
হতে পারে কুকুরের সত্তাটাই তোর আসল সত্তা?
হতে পারে তুই আসলে দু'পায়া কুকুর.
তুই ডাক্তারের কাছে যা.
খুব বাজে গন্ধ আসছে.
আমি সবসময় জীবনে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখেছি.
কিন্তু স্বপ্নটা কী নিয়ে, সেটা জানিনি.
যাকগে... ভাবলাম যদি বন্দুকের ধান্দায় নামতে হয়, তাহলে সেরকম লক্ষ্য থাকবে আমার.
ভিটালি, মদ খাওয়া বন্ধ কর. তোর সাথে কথা আছে.
তুই পত্রিকা পড়ে দেখিস?
পত্রিকা? সবসময় ঐ একই খবর.
ঠিক বলেছিস. প্রতিদিনই কেউ কাউকে গুলি করছে.
খবরগুলো পড়ে আমি কী ভাবি জানিস?
আমি তাদের বন্দুকের লেবেল দেখি, আর ভাবি, "ওটা আমার বন্দুক নয় কেন?"
তুই বন্দুকের দোকান খুলছিস?
আমেরিকাতে ম্যাকডোনাল্ডসের চাইতে বন্দুকের দোকান বেশি.
ভুঁড়ি ভুঁড়ি গ্যাংস্টার থাকার পরেও, লেনদেন খুব বেশি নয়.
- তুই লেনদেনের হিসাব বের করেছিস? - হ্যা.
গ্যাং যুদ্ধের কথা ভুলে যা.
আসল পয়সা হলো আসল যুদ্ধে.
ইউরি, বন্দুকের কোন বালটা তুই জানিস?
বন্দুকের কোন দিকে থাকতে হবে সেটা জানি.
একটা সেল করে ফেলেছি. আমরা এখন ধান্দায়.
দাঁড়া. আমরা?
একজন পার্টনার লাগবে.
আমি জানি না. আমি জানি না, ইউরি. জানি না.
ভিটালি, আমি তোর বোর্শ খেয়েছি. তুই শেফ নস.
আমি বাপের হোটেলেও ফ্রীতে খাই না.
জাহান্নামে যা.
আমরা জীবনটা অনর্থক নষ্ট করছি.
মানে... এইসব কী? হ্যা!
ঠিক বলেছিস.
কিন্তু এই কাজ করার চাইতে কিছু না করাটাও উত্তম.
আমার তোকে প্রয়োজন.
স্যার, স্যার,
আপনি কি আমাদের SA-7 মডেলের কাঁধে বহনযোগ্য মিসাইলটা দেখবেন?
এটা পুরনো চাইনিজ মডেল.
সামরিক বিমানের বিপরীতে কার্যকরী না হলেও,
বেসামরিক বাণিজ্যিক বিমানকে নিমিষেই ধ্বংস করতে পারবে.
আমি $850-তে ছেড়ে দিব.
সময়টা 1980 সাল, রাশিয়া ও আমেরিকার স্নায়ুযুদ্ধ অটল ছিল.
প্রায় সবগুলো চুক্তিই ছিল এক সরকার থেকে অন্য সরকারের কাছে.
আর সবাই একটা প্রাইভেট ক্লাবের সদস্য.
- ঐযে উনি. - কে, বড় বস?
সেমিওন ওয়াইজ.
অ্যাঙ্গোলা, মোজাম্বিক, ফকল্যান্ডের ঐ ফ্রেঞ্চ মিসাইলগুলো.
উনি বারুদ আবিষ্কারের আগ থেকে বন্দুক বিক্রি করতেন.
আমি আসছি.
মিস্টার ওয়াইজ. মিস্টার ওয়াইজ.
ভয় পেও না. শুধু কথা বলবে.
- কিছু করতে পারি? - হ্যা.
আমাদের মিউচুয়াল বন্ধু ইলাই কার্ট্জম্যান, ব্রাইটন বীচে আমদানি-রপ্তানি করে,
সে আপনার কথা বলেছে.
আমি একটা ব্যবসার প্রস্তাব এনেছি, আপনি চাইলে আলাপ করবো.
তুমি আর আমি এক ব্যবসা করি না, বাবা.
তোমার ধারণা আমি শুধু বন্দুক বিক্রি করি?
ভুল. আমি একটা পক্ষে থাকি.
কিন্তু ইরান-ইরাক যুদ্ধে আপনি দুই দেশের কাছেই বন্দুক বিক্রি করেছেন.
হয়তোবা আমি চেয়েছিলাম দুই দেশই হেরে যাক?
ভোটের চাইতে গুলি নিশ্চিতভাবে সরকার বদলে দিতে পারে.
তুমি ভুল জায়গায় এসেছ, নওজোয়ান. এটা আনাড়িদের জায়গা নয়.
অদ্ভুত যে মানুষ রাগে পড়লে তার মাতৃভাষায় ফিরে যায়,
আর ড্রাগ খায়.
ওহ্, তুমি ভারি সুন্দর.
তোমরা নামটা কী যেন?
আমাদের হাতে তখন একমাত্র অপশন ছিল অবৈধপথে বন্দুক চালান দেওয়া.
আত্মঘাতী বোমা হামলার পর আমি লেবাননে কাজের সন্ধান পেলাম.
কিন্তু ওখানে শুধু আমি একাই পৌঁছাইনি.
যুদ্ধক্ষেত্র প্রস্থান করার সময় USA অস্ত্রশস্ত্র ফেরত নিয়ে যায় না.
ওসব ফিরিয়ে আনার চাইতে নতুন অস্ত্র কেনা সস্তা.
আমরা কেজি দরে বিক্রি করছি.
এগুলো সেকেন্ডহ্যান্ড বন্দুক, কিন্তু একদম ঠিক আছে.
- আপনার কত কেজি লাগবে? - 5 হাজার.
আমার ভাষা জ্ঞান ভালো ছিল.
কিন্তু দ্রুত বুঝে গেলাম, সবচাইতে কার্যকর ভাষা হচ্ছে ডলার.
দিনার, ড্রাকমা, রুবল, রুপি, আর ব্রিটিশ পাউন্ড.
বলা বাহুল্য, মার্কিন সেনা কর্তারা এর অংশীদার ছিল.
এখনের মতো সেই সময়েও আর্মিদের বেতন কম ছিল.
আর কিছু বেহায়া লোক, যেমন লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাউদার্ন,
নিজের ব্যাক্তিগত যুদ্ধের জন্য পয়সা জোগাড় করতেন.
পরিচিত হয়ে খুশি হলাম.
এইসব বেহুদা, ভি. এগুলো হচ্ছে আবর্জনা.
এখন কী করবি, বৈধভাবে অস্ত্র বেচবি?
না, আরো অবৈধভাবে.
এই মুহূর্তে এক প্লেট বাঁধাকপি আর আলুর জন্য জান দিয়ে দিব.
এটা আমাদের লড়াই নয়.
ভি, চল.
আয়. চল.
বন্দুক বিক্রি করাটা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বিক্রির মতো.
ফোন করতে হয়, তেল মারতে হয়, তারপর অর্ডার পাওয়া যায়.
আমি মৃত্যুর বণিকে রূপান্তর হয়েছিলাম.
স্যালভেশন আর্মি বাদে সব ধরণের আর্মির কাছে অস্ত্র বেচতাম.
ইজরায়েলে-তৈরি বন্দুক মুসলিমদের কাছে বেচেছি.
কমিউনিস্টদের তৈরি করা গুলি বেচেছি ফ্যাসিস্টদের কাছে.
এমনকি আমার দেশবাসী সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে লড়াই করা আফগানদের কাছেও অস্ত্র বেচেছি.
ওসামা বিন লাদেনকে কখনো অস্ত্র দেইনি.
নৈতিক কারণে না. সেই সময়ে তার চেকগুলো বাউন্স করতো.
আশি দশকের মাঝামঝিতে...
...পৃথিবীর দশটি যুদ্ধক্ষেত্রের মধ্যে, আটটিতেই আমার অস্ত্রের সাপ্লাই থাকতো.
দুটো জীবন পরিচালনা করা কোনো ব্যাপার না.
ঝামেলা বাঁধে যখন তিনটা বা চারটা জীবন একসঙ্গে চলতে হয়.
তখন আমার কাছে ফ্রেঞ্চ, ব্রিটিশ, ইজরায়েলি আর ইউক্রেনের পাসপোর্ট থাকতো.
সাথে আমেরিকার স্টুডেন্ট ভিসা. তবে সেটা ভিন্ন গল্প.
আমার ছয়টি ভিন্ন ব্রিফকেস থাকতো, নির্ভর করবে আমি কোন রূপ নিচ্ছি...
...আর পৃথিবীর কোন অঞ্চলে যাচ্ছি.
আমার মতো লোকের সাহায্য ছাড়া,
কিছু কিছু দেশের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াটা অসম্ভব হয়ে যেত.
অস্ত্র-বিক্রি-নিষিদ্ধ দেশগুলোতে আমি অস্ত্র সাপ্লাই দিতে পারতাম.
অস্ত্র চালান হয় তিনটা বেসিক ধরণের.
সাদা হলো বৈধ, কালো হলো অবৈধ,
আর আমার পছন্দের রঙ হচ্ছে ছাই রঙ.
মাঝে মধ্যে অস্ত্রের চুক্তি এমন জটিল করতাম, আমার জন্যই ব্যাপারটা বোঝা কষ্টকর ছিল.
আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে ধোঁকা দিতে, আমি কোড ব্যবহার করতাম.
রকেট লঞ্চার ছিল "মা," আর রকেট হলো "বাচ্চা."
AK-47 রাইফেল ছিল "দেবদূত."
ইউরি বলছি.
হ্যা, হ্যা, রাউল...
রাউল, দেবদূত আগামীকালের মধ্যেই পৌঁছে যাবে.
তোমাকেও শুভেচ্ছা.
No comments yet. Be the first to leave one.