The first 200 lines.
My Mister
• অনুবাদ ও সম্পাদনায় • মোঃ সায়মুন ইসলাম শুভ
My Mister
আমি যতই গরিব হই না কেন...
আমি সবসময়ই ১০,০০০ ওনের বেশি দামের আন্ডারওয়্যার পরি।
যদি আজকে কোনো গাড়ি দূর্ঘটনায় বা ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মারা যাই,
যখন হাসপাতালে আমার কাপড় খুলবে,
তখন আমি আমার ইজ্জত হারাতে চাই না। এজন্য আমি দামী আন্ডারওয়্যার পরি।
তোমার আন্ডারওয়্যার কত দামী,
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মারা যাওয়ার পর তুমি নিজেকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে না।
আর মারা যাওয়ার পরে আন্ডারওয়্যার চেঞ্জও করতে পারবে না।
এটা নিয়ে এতো চিন্তা কেন তোর?
মানে, তোমার জীবনের শেষ সম্মান এই আন্ডারওয়্যারের উপর নির্ভর করছে
কিছু মানুষ হয়তো এক আন্ডারওয়্যার ই সবসময় পরে...
কিন্তু, যখন তোমার শেষ মূহুর্ত আসবে...
- বাহ! - হ্যাঁ!
তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হবে এই আন্ডারওয়্যার!
ওহহ!
- ওহ ইশ! - হ্যাঁ!
ভাই।
- ধুর। - আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।
তো, আমি যা বলছি...
এটা মনে হবে যে আমি টাকা নষ্ট করছি।
কিন্তু আমি প্রতিদিন দামী আন্ডারওয়্যার পরি,
যেন মৃত্যুর পরে আমাকে লজ্জার সম্মুখীন না হতে হয়।
আমার মৃত্যু হবে করুণ কিন্তু সম্মানের।
ঠিক আছে?
তাই, আমার জন্য লজ্জা পাবে না, বুঝলে?
যদি তুমি আমার জন্য লজ্জা পাও আমার অনেক মন খারাপ হবে।
কে বললো তোর জন্য আমার লজ্জা হয়?
তাহলে এখন আমি কী কাজ করি, সেটা ভাবি কেন জানে না?
আমি ফোন করলাম
আর সে জিজ্ঞাসা করলো যে, আমার মুভির শ্যুটিং কখন শুরু হবে।
ওকে বলার সময় পাইনি।
কেন পাও নাই?
তোমরা দুইজন স্বামী-স্ত্রী!
প্রতিদিন সকালে আর রাতে তোমাদের দেখা হয়!
ঠিক তো?
তুমি কি আমার ব্যাপারে কথা বলতে লজ্জাবোধ করো?
বড় ভাই আর আমি যে ক্লিনার, এটা বলতে তোমার লজ্জা হয়?
এখন থাম।
- আহ। - কোনো সমস্যা?
ভাই।
আমি...
একটা আবর্জনার ব্যাগে ঢুকে যেতে চাই।
সারাজীবন মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে থেকে
শুধু অপেক্ষায় করে গেলাম। সবসময় অপেক্ষা!
এতো বড় হওয়ার পরেও তোমার থেকে টাকা নিতে হয়।
নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হয় আমার।
মনে হয়, আমি দুনিয়ার সবচেয়ে বড় অকর্মক।
কীভাবে যেনো একটা গিফট সার্টিফিকেট জোগাড় করে আমাকে দিয়েছিলে, মনে আছে?
আমি জানতাম, ওইটা আমাকে দেওয়ার জন্যই কিনেছিলে।
কারণ সবসময় তোমার থেকে টাকা নিতে খারাপ অনুভব করবো আমি এজন্য।
এজন্য তুমি নিজে থেকে গিফট সার্টিফিকেট কিনে আমাকে বলেছো,
তুমি এটা এক জায়গা থেকে পেয়েছো।
আমি সত্যিই...
অসাধারণ একটা মুভি বানাতে চেয়েছিলাম...
এবং জীবনে একবার হলেও দাম্ভিকতার সাথে চলতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু এখন...
আমি টাকা উপার্জন করে
তোমাকে টুনা মাছ খাওয়াতে চাই, ভাই।
আহ। ধুর।
না, দেখো!
বুঝতে পেরেছো? আমি তোমাকে টুনা কিনে দিবো!
দেখো, ওর থেকে আবার বল নিয়ে গেলো!
ওহ, ওকে দিয়ে কোনো আশা নেই!
গাধা, তোর ৯০০০০ ওন দিয়ে আমাকে দামী কিছু কিনে দিবি।
এইতো চলো! এইতো চলো!
- আহ, এটা আমাকে পাগল করে দিচ্ছে! - ভুলে যা এটা!
প্রত্যেকে ২০,০০০ ওন করে দেও।
- ২০,০০০ ওন। - এইযে নাও।
খাবারের জন্য ধন্যবাদ, ভাই!
ঠিক আছে, ২০,০০০ ওন।
এখানে, এখানে, এখানে।
- হ্যাঁ। - চলো, আজকের মতো এখানেই শেষ।
- অনেক হয়েছে। - এই!
এটা দারুণ ছিলো!
২০,০০০ ওন। ২০,০০০ ওন। ২০,০০০ ওন।
হ্যাঁ, এইতো।
২০,০০০ ওন।
আগামীকাল দেখা হবে, ভাই!
- ভালো থাকবে! - শুভ রাত্রী!
২০,০০০ ওন।
সবকিছু গুছিয়ে নিস।
আচ্ছা।
ওহ, অনেক ড্রিংক করে ফেলেছি।
অবস্থা খারাপ আমার!
ইশ।
আহ!
আমি টাকা রেখে দিচ্ছি, ঠিক আছে?
সবকিছু ভালো ভাবে গুনে নিস।
ঘুমানোর আগে সবকিছু ভালো করে বন্ধ করে নিস।
নইলে কিন্তু কেউ চুরি করে সবকিছু নিয়ে যাবে।
বুঝলে?
আমি যাচ্ছি!
ঠিক আছে, ছেলেরা।
যাওয়ার আগে আরেক রাউন্ড ড্রিংক করা যাক।
আগামীকাল সকালে আমাকে জাহাজ থেকে মাছ আনতে হবে।
হ্যাঁ, আমরাও বেশিক্ষণ থাকবো না।
আগামীকাল আমাদেরও কাজে যেতে হবে।
শুধু কিছুক্ষণের জন্য থাক, এরপর না হয় চলে যাস।
- ধন্যবাদ। - এই, এই।
এই, কোথায় তুই-- জেই ছোল!
ওরা সবাই বললো ওরা চলে যাবে!
যদি এর বেশি পান করিস, তাহলে আগামীকাল পরিষ্কার করার পরিবর্তে বমি করতে থাকবি।
- সাবধানে বাড়িতে যেয়ো! - হ্যাঁ, বিদায়!
- বিদায়! - বিদায়!
- চলো যাই। - যা, ফাজিল!
- ওহ, আসলেই। - ভেতরে আসো।
ভেতরে এসে আরেক রাউন্ড ড্রিংক করে যাও।
আমাদের যেতে হবে।
কেন! আমি আরেক রাউন্ড খেতে চাচ্ছি। আসো খাও!
আমি এখন যাচ্ছি!
আমি যখন ছিলাম না, তখন অন্য কোনো বারে যেতি?
যেতি, ডং হুন?
ভেতরে যা। আমি গেলাম।
গেলাম, আপু!
আমিও বাড়ি যেতে চাই।
আমার উপর রাগ করবি না, শোন...
একটা বিষয়ে অনেক জানতে ইচ্ছা হচ্ছে, তাই জিজ্ঞাসা করছি।
কী?
সেই মেয়ের কী খবর?
ওই যে, তোর অফিসের ওই মেয়ে।
আহ, ওর কথা ভুলে যাও।
আমি ওকে ভুলতে পারবো না!
আমার ছোট ভাইয়ের এইরকম অবস্থা জানার পরও যে মেয়ে আমার ভাইকে পছন্দ করে, আমি কীভাবে ওকে ভুলতে পারি?
তোমাকে কতবার বলতে হবে, আমাদের মধ্যে এমন কিছু নেই?
সে কী সুন্দরী?
সুন্দরী, তাই না?
- শুধু বলে দাও, সে সুন্দরী। - সে অনেক সুন্দরী?
শুধু বলে দাও, তুমি ওকে ডেট করছো!
বড় ভাই সবসময় এসব ব্যাপারে কথা বলতে বেশ আগ্রহী।
নিজেদের মধ্যে এসব ব্যাপারে কথা বলার সময় দ্বিধাবোধ করার কোন দরকার নেই আমাদের।
তরুণ বয়সে আমরা ঠিকমতো আনন্দ করতে পারিনি।
এজন্য এই বয়সে আমাদের এই হাল হয়েছে।
হ্যাঁ।
স্নেহময়ী ভালোবাসার একটা আলাদা দিক আছে।
কিন্তু সেই দিকটার দেখা কখনো পাওয়া হয়নি আমার!
- এর কারণ আমি কখনোই মুক্ত হতে পারিনি। - বন্ধ করো এসব, এখনই।
এজন্য আমি কথার দ্বারা নিজেকে মুক্ত করতে চেষ্টা করি।
এই বয়সে আর কীভাবে তা করবো আমি?
আমি এমনকি সেটাও করতে পারবো না!
তোমাকে থামতে বললাম কিন্তু ভাই।
যদি আমার পুনর্জন্ম হয়, আমি জন্ম নিবো এমন মানুষ হয়ে যার লজ্জা নেই!
আমার মর্জি মতো চলবো।
অনেক মেয়দের সাথে থাকবো! অন্তত ২০--
- কোথায় ছিলে তুমি? - আমি পুরো--
আমার পার্ট টাইম জবে।
বাহ, তোমার এতো গুলা জব আছে। এমনকি তুমি পার্ট-টাইম জব ও করো!
আসছি, তাহলে।
তোমরা আসবে না?
ওই, ওই, ওই, ওই।
সেই মেয়েটা না? শেষ বারের সেই মেয়েটা।
বাহ, তার ভেতর দারুণ একটা ভাব আছে।
এর বেশি কিছু বলো না।
শেষবার সানগ্লাস চোখে সতেজ লেগেছিল তাকে খুব।
কিন্তু এখন তা না পরায় কেমন নিরুদ্যম লাগছে তাকে।
ঠিক?
ঘুম থেকে উঠে যা!
উঠে যা!
আও! আও!
পর্বতে আরাধনা করলে কি মনে শান্তি পাওয়া যায়?
আমার শরীর হাজার জিউন ভার মনে হয়...
তারপর অফিস এ যেতে মনে না চায়লেও যাবো।
তোর শরীরের ওজন খুব বেশি হলে ১২০ জিউন হবে।
এর ভার খুব অল্পই মনে হবে তোর।
একজন মালিক তার দাস কে যেভাবে লাথি দিয়ে উঠায় সেভাবে উঠালে আমাকে না?
দারুণ।
অফিসে যাওয়ার পরে দেখা হবে, স্যার।
চীনের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
ভালো করেছো।
চীনের সাথে চুক্তি ডিরেক্টর পার্ক এর জন্য যা হাত ছাড়া হয়ে যাচ্ছিলো
আমি দায়িত্ব নেওয়ায় সব ঠিক এখন।
আমরা এখন ওদের উপরে আছি।
এখন দুইজনের বিরুদ্ধে পাঁচ জন।
- আহ! - ওহ!
আমি ফিরে এসেছি, স্যার!
- তুমি এসে পরছো? - জি।
ডিরেক্টর পার্ক এর পদে আমাদের অন্য কাউকে নিয়োগ দিতে হবে।
এবং আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন সিইউ দো জুন ইয়ং পুনর্নির্বাচিত হয়।
কিন্তু সম্ভাব্য ডিরেক্টর সবাই আমাদের লোক।
তাহলে...
ভোট এখন ছয় জনের বিপরীতে চারজন...
এখানে কাকে বসাতে পারি আমরা?
ডিরেক্টর ইউন এর সাথে
একমাত্র ম্যানেজার পার্ক ডং হুন নেই।
কিন্তু, এতে কাজ হবে?
ডিরেক্টর হওয়ার জন্য
মনোনয়ন তার সরাসরি ঊর্ধ্বতন এর কাছে থেকে পেতে হয়
কিন্তু তার সরাসরি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হলো ডিরেক্টর ইউন।
সে তাকে কখনো মনোনীত করবে না।
ইশ।
এই দো জুন ইয়ং অনেক বিচক্ষণ।
ম্যানেজার পার্ক ডং হুন কে পরিকল্পনা টিম থেকে
নিরাপত্তা পরিদর্শন টিমে স্থানান্তর করেছে।
এভাবে তাকে ডিরেক্টর ইউনের অধীনে রেখেছে।
মূলত, সে যেনো আর প্রোমোশন না পেতে পারে সেটা তার উদ্দেশ্য।
হ্যাঁ?
হ্যাঁ।
No comments yet. Be the first to leave one.