The first 200 lines.
রহিম সুলতানি।
সালাম
- অনুবাদ ও সম্পাদনায় - :.:.: F L A M Y T U H I N :.:.:
A HERO
A Film By Asghar Farhadi
রহিম!
তুমি এখানে কী করছ?
ডাক দিলে আমি নিচে আসতে পারতাম।
ভাবতে অবাক লাগে, ২৫০০ বছর আগে কীভাবে
ওরা এখানে উঠে মৃত্যুর দর্শন করত।
তোমার তুলনায় ওরা কম ধূমপান করত!
সালাম। সালাম। সালাম।
- দেখে ভালো লাগল তোমায়। - কেমন আছ?
- আমাদের জানাওনি কেন? - আসলে কোনো প্ল্যানিং ছিল না।
- সব ঠিকঠাক? - জি। চলো নিচে নামা যাক।
আবার নিচে নামবো?
আপনি আসলেই পারেন বটে।
এতো সিঁড়ি উঠানামার পরেও কীভাবে এখনো গোলুমোলু আছেন?
সব তোমার বোনের দোষ।
মালি কেমন আছে?
যথারীতি, ঘাড়ব্যথা, বাতের ব্যথা।
সালাম, মেহদী।
সালাম, রহিম। অভিনন্দন।
- তোমার সাজা শেষ? - না, জামিনে এসেছি।
ইঞ্জয়।
- কদিনের জন্য এসেছ? - দুইদিন।
ব্যস?
২ দিনের জন্য কত অনুনয় করতে হয়েছে। হ্যালো।
রহিম নাকি?
স্বাগতম বাছা
চিনি আছে?
এখানে আসার আগে চা খেয়েছি।
জেলখানার চায়ের সাথে জাক্সিক্স এর চা'র তুলনা কর কীভাবে?
ছুটি জমিয়ে রাখা উচিত ছিল যাতে কয়েকটা দিন বেশি থাকতে পারো।
যাতে জেলে যেতে না হয় তার জন্য একটা পন্থার সন্ধানে রয়েছি।
- কী পন্থা? - চলুন গিয়ে বাহরামের সাথে কথা বলি।
বাতচিতে সমাধান হলে বাহরাম তোমাকে জেলে পাঠাত না।
কী আইডিয়া মাইরি!
আমার কাছে ৭৫,০০০ টোমান আছে।
কোত্থেকে পেলে?
একজন দিয়েছে।
সুদ দিতে হবে?
না, লোন হিসেবে নয়।
টাকাটা যখনই হাতে পাবে, আমরা বাহরামের কাছে যাব
তখন তার খিচমিচ বন্ধ হবে। একবার ওয়াদা করলে আমরা পিছু...
টাকাটা আজ বিকেলের মধ্যে হাতে পাব।
- শিওর তো? - একদম।
তাহলে ওকে কল কর।
উনি আমার ফোন রিসিভ করছেন না।
টাকাটা হাতে এলে, বিকেলে রওয়ানা দিব।
আপনার গাড়িটা এখানে?
দেখো তো তার চাদরটা!
সালাম বাবু।
সালাম, জান।
আগে এখান থেকে বেরোও, জায়গাটা বেশি-ই গিজগিজে!
দাড়ির স্টাইলটা জোস!
- তোমার পছন্দ হয়েছে? - খুব! এভাবে রেখে দিয়ো।
বিগত ২ মাসের প্রতীক্ষার চেয়ে
গতকাল রাতের প্রতীক্ষাটা আরও বেশি কঠিন ছিল।
কখনো তোমায় চাদর পরিহিত অবস্থায় দেখিনি।
ব্যাগটা লুকানোর জন্য পরেছি।
দেখি তো।
ব্যাগে রেখে দাও।
ভাবিনি তোমার প্রতীক্ষায় এতটা ব্যাকুল থাকব।
আমিও খুব মিস করেছি তোমায়।
১৩ ১৪, ১৫, ১৬, ১৭
১৭ x ৪,৩০০
দাম কমে গেছে নাকি?
জিজ্ঞেস করেছিলেন কবে?
গত সপ্তাহে।
প্রতি ঘন্টায় সোনার দাম উঠানামা করতে থাকে।
কাল কি আবার বাড়তে পারে?
যেকোনো কিছুই হতে পারে।
ধ্যাত!
তো?
সোনাগুলো বিক্রি করবে?
কী হয়েছে?
কিছুনা।
তাহলে আফসোস করছ যে?
প্রথমে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে।
- কোন ব্যাপারে? - যে উনি সম্মতি দিবেন।
কেন সম্মতি দিবেন না?
হতে পারে আমার মুক্তির জন্য পুরো টাকাটা চাইবেন।
বাসায় নিয়ে যাব না, সোনাগুলো রেখে দাও।
আমার ব্যাগে রেখে দাও।
নিচে আমার লন্ড্রির কাপড়।
আমাকে দাও।
ব্যাগে রেখে দাও।
ধোয়ামোছার কারণে মাত্র দুদিনের ছুটির কিছু অমূল্য সময় বরবাদ কোরো না।
আমি পারব।
কে?
সালাম, মামা!
সালাম, আমার কিউটি পাই!
মা, দেখো মামার দাড়ি!
- বাসায় কে আছে? - মা।
- মা! মামা এসেছে! - আচমকা!
ভাইয়ের মতন তুমিও ভারি হয়ে গেছে।
মা! মামা এসেছে!
স্বাগতম ভাই।
- সালাম, মালি! - সালাম, ভাই।
- কেমন আছ? - ভালো লাগছে তুমি এসেছ।
- জানতাম ওটা তুমি। - কীভাবে বুঝলে?
বেল দেয়ার ধরণ দেখে।
সব ঠিকঠাক তো? তুমি কী করছ?
এদিকে এসো।
তোমার মা একটা টমেটো সসের দোকান খুলেছে।
এদিকে এসো।
অপ্রত্যাশিত অতিথি।
ভালো লাগছে তোমায় দেখে।
অনেক শুকিয়ে গেছ।
প্রতিবার এই লাইনটা বল।
- সিয়াভাস কেমন আছে? - সে স্কুলে গেছে।
গোসল করার জন্য একটা তোয়ালে পাবো?
আজ মাকে ওর স্কুলে তলব করেছে।
কেন?
কিছুনা।
- রেজার লাগবে? - না। এবার সে কী করল?
কাল মারামারি করেছিল।
অলরেডি বলে দিয়েছ, না?
কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার মাকে ডাকল না কেন?
মাকে-ই ডাকত, কিন্তু সে বলেছে যেন তোমায় তলব করে।
সময় হলে, কাল সিয়াভাসের স্কুলে যেয়ো।
কী হয়েছে? ছেলে তো ধীরেধীরে ভালো হচ্ছিল।
মামা...
মামা...
হুম?
তার মা আবার বিয়ে করছে।
কে বলেছে?
সিয়াভাস।
সিয়াভাস বললো কেউ উনাকে প্রপোজ করেছে।
তোয়ালে দরজার পিছনে রাখলাম।
ঘাড় পরিষ্কার করতে চাইলে আমায় ডাক দিয়ো।
- সালাম। - সালাম।
সালাম।
তোমার বাবা আসেনি?
এসেছিলেন। একটু বাইরে গেছেন।
এই নিন।
ধন্যবাদ। কত টাকা?
৫২ টোমানস।
আমাকে বলেছিলেন দোকানে থাকবেন।
উনি নেই।
- নিন। - ধন্যবাদ।
খোদা হাফেজ।
প্লিজ উনাকে একটা কল করবেন?
হ্যালো? সালাম, বাবা।
কোথায় তুমি?
হুসেইন সাহেব দেখা করতে এসেছেন।
রহিমের দুলাভাই।
ঠিক আছে, তাহলে।
আমি কথা বলতে পারি?
একমিনিট।
সালাম, বাহরাম সাহেব। কেমন আছেন?
আশা করি, ভালোই আছেন।
৩ বছর পর অবশেষে ব্যাপারটা
মিটমাট করতে আপনার সাথে দেখা করতে চাই।
রহিম তার ঋণের কিছু টাকা জোগাড় করেছে।
প্রায় ৭০,০০০ টোমানস।
অসংখ্য সাক্ষাত হয়েছে আমাদের। শুনেছি বহুত ফাঁকা ওয়াদার বুলি।
জোচ্চোরটা মিথ্যে বলছে।
৭০,০০০ টোমানসের ওয়াদাটা আমি করছি।
সে তার বন্ধুকে পেয়েছে।
তার বন্ধু এবং পরিবার
চেক দ্বারা ঋণ পরিশোধ করলে আমি কেস তুলে নেব।
রহিম ছাড়া পেলে, কঠোর পরিশ্রম করে অবশিষ্ট ঋণ চুকিয়ে দিবে।
রহিমের দুলাভাই হয়ে তার জন্য আপনি চেক দিচ্ছেন না।
তাহলে আমাকে কীভাবে বিশ্বাস করতে বলছেন?
টেনেটুনে নিজের ভাড়াটা দিই।
নইলে, তাকে একরাত জেলে থাকতে দিতাম না।
আপনি বলছেন যদি ছাড়া পায়, রহিম কাজ করবে।
একটা বন্ড চেক দিন আমায়...
এই উপকারটা করে তাকে উদ্ধার করুন।
রহিম তার ফ্যামিলিকে আশাহত করেছে। উপকার পাবার যোগ্য সে নয়।
ভুলে যান রহিম কীসের যোগ্য।
টাকা চান না আপনি? অর্ধেক টাকা রেডি, নগদ।
আমি ওকে বিশ্বাস করি না।
ব্যাপার টা বিশ্বাসের নয়।
তার কৃপন হালত দেখে
একবার বোকা বনেছি, সেটাই যথেষ্ট।
শুনুন, বাহরাম সাহেব
দেখা করে একবার কথা বলা যাক।
একমিনিট, আমি উনার সাথে কথা বলি। একমিনিট।
এক্সকিউজ মি।
- রহিম... - এভাবে অপদস্থ করার জন্য পারলে
উনাকে দাঁতভাঙা জবাব দিতাম।
অবশিষ্ট টাকাগুলোর জন্য যদি উনাকে বন্ড চেক দিই,
প্রতিমাসে ৭,৫০০ টোমানস দিতে পারবে তো?
ছাড়া পেলেই, আমি কাজ করব।
- কী কাজ? - যেকোনো কাজ।
তোমার মুখের কথায় বিশ্বাস করে কথা দিব।
আবার জেলে যেতে চাইনা আমি।
ঠাণ্ডা হবার আগে এসে খেয়ে নাও। এসো, সিয়াভাস।
নিগার, ট্যাবটা অফ কর।
অসংখ্য ধন্যবাদ। দুলাভাই কোথায়?
বাথরুমে।
তাড়াতাড়ি আমরা খেতে বসি, তাকে বেরোতে হবে।
এসো, বাচ্চারা।
সিয়াভাস, ট্যাবটা অফ কর।
এসো, নিগার।
গ্লাসটা দাও।
ওঠো, বাবা।
No comments yet. Be the first to leave one.