The first 200 lines.
এপিসোড ৭
ভাবানুবাদে নাফিস সাদিক তুর্য এবং মুশফিকা ইফ্ফাত দ্যুতি
তার পালস খুবই দুর্বল।
তার মাংসপেশি, হাড়-চামড়া মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে । এমনকি রক্তও জমাট বেঁধেছে।
যদি তার বুকে আঘাতটা লাগতো তাহলে-
সেরকম হলে, কি হত?
সে ধকলটা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে উঠতে পারত না।
আমার মনে হয় সে খাঁড়া বাধ থেকে পড়ার পর কিছুলোকের কাছে মার খেয়েছে।
তারমানে আমার বন্ধু গোপনে আমার প্রেমিকাকে লুকিয়ে রেখেছেন,
আর সেখান থেকে ফেরার সময়ই এই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন।
ধর্মাবতার, দেখুন আমার স্ত্রী গত পরশুদিন আপানার কার্যালয়ে গিয়ে যে ঝামেলা বাঁধিয়েছে সেজন্য...
তাকে ক্ষমা করে দিন।
আসলে সেই অশুভ শক্তি যে গ্রামে মৃত্যু ডেকে এনেছে, সে ধর্মাবতারের কার্যালয়ে ঢুকেছে মনে করে আমার স্ত্রী সঙ্কিত হয়েছিল।
ওই অশুভ শক্তি নিয়ে বেশি ভাবতে গিয়ে তার মাথাটাই বোধহয় খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
সেজন্য, আমি তাকে প্রচণ্ড বকুনি দিয়েছি।
তাই নাকি।
জী।
কিছুদিন আগে, যখন সমুদ্রের ধারে একজনের মৃতদেহ পাওয়া গেল,
তখন থেকেই গ্রামবাসীরা বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
আপনারও নিশ্চয়ই তাতে খুব কষ্ট হয়েছে। আমি খুবই দুঃখিত, ধর্মাবতার।
আপনিতো অনেক চমৎকার আর দামি দামি ফল খান ,দেখতে পাচ্ছি।
জী। এই ফলটির নাম হল ট্যাঞ্জেরিন।
যদিও আমি নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা, তবুও আমি খুবই ভোজনরসিক।
আমি তামরা দ্বীপ (বর্তমান জেজু দ্বীপ) থেকে আসা একটি জাহাজ থেকে অনেক কষ্ট করে এগুলো পেয়েছিলাম।
তাই নাকি?
এইগ্রামে শুধুমাত্র আপনার কুটিরেই এসব ফল পাওয়া যায়, তাইনা?
অবশ্যই। এই ফলের দাম অত্যাধিক জানেনই তো।
কিন্ত এই ট্যাঞ্জেরিন সমুদ্রের ধারে পরে থাকা মৃতদেহের পোস্টমর্টেমে পাওয়া গিয়েছিল।
ভাবানুবাদে নাফিস সাদিক তুর্য এবং মুশফিকা ইফ্ফাত দ্যুতি
যেদিন সে মারা গিয়েছিল, সেদিন সর্বশেষ আপনার সাথেই সে দেখা করেছিল।
সেদিন রাতে তার সাথে আপনার দেখা হয়েছিল আর আপনি তাকে এই ফলের সাথে মদ খেতে দিয়েছিলেন।
সে বিষ মেশানো অ্যালকোহল পান করার ফলে মারা গিয়েছিল আর আপনি তাকে সমুদ্রের ধারে ফেলে দিয়েছিলেন।
যাইহোক, প্রাথমিকভাবে পোস্টমর্টেমে বিষ শনাক্ত করা যায়নি।
প্রথমদিন যেদিন তুষার পড়ে পানি জমে গিয়েছিল, তেমনি লাশটিও বরফের মতো জমে গিয়েছিল, কিন্ত সেদিন
দ্বিতীয়বারের মতো পোস্টমর্টেম করা হলে তার ফলাফল ভিন্ন হয়েছিল।
হিমায়িত লাশটি সরিয়ে ফেলা হলে, মৃতের শরীরে পটকামাছের ডিমের নির্যাস থেকে তৈরি মারাত্মক বিষ পাওয়া যায়।
ধর্মাবতার, আমি এগুলোর কিছুই জানিনা আর আপনি এসব কি বলছেন তাও বুঝতে পারছি না।
- এদিকে আসুন! - জী, ধর্মাবতার!
আমরা ইয়াং সেয়ুং জিলের কক্ষে পটকামাছের ডিমের বিষ খুঁজে পেয়েছি।
ধর্মাবতার, এটা ঠিক হচ্ছে না।
আপনার লোকেরা কিছুই জানেনা। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।
ধর্মাবতার!
ছেড়ে দাও! ছেড়ে দাও আমাকে!
আসুন!
আপানারা জানেন আপনারা কি করছেন?!
দেখুন, আমাদেরকে আমাদের কাজ করতে দিন।
যদি সেং ওয়া জিন্দা থাকে তবেই আমি আপনাকে ছেড়ে দেব।
সেং ওয়া কে? আমি তাকে চিনি না।
না চিনলে, এক্ষুনি মারা পরবেন।
আমি যদি সেং ওয়াকে খুঁজে না পাই,
আপনাকে এখানেই পুঁতে রাখবো।
দেখুন সবাই! গ্রামপ্রধান ওই ছলনাময়ীর মায়ায় আকৃষ্ট হয়ে পুরো গ্রামকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।
সে মারমেইডটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে যার কারণে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে আর মানুষজন মারা গিয়েছে!
এক পা বাইরে ফেলে দেখুন।
আপনি কি ভাবছেন গ্রামবাসীরা চোখ বন্ধ করে সবকিছু মেনে নেবে?
না, আপনি এমন করতে পারেন না!
আমার মণিমুক্তা!
স্যরি, বড্ড দেরি করে এলাম।
সেং ওয়া, তুমি তো আমার ইচ্ছেগুলো শুনতে খুব ভালবাসতে, তাইনা?
শুনতে পাচ্ছ তুমি?
আমার ইচ্ছে কি জানো, আমাদের আবার জন্ম হবে।
আমাদের আবার দেখা হবে, আমরা আবার এক হব।
তুমি দূর সমুদ্র থেকে আমার সাথে দেখা করতে আসবে।
আর আমি তোমাকে তখন চিনতে না পারলেও,
তুমিই আমার হৃদয়ে থাকবে।
সেং ওয়া।
তুমি আমার স্বপ্নের বাকিটা শুনতে চাও না?
নীল সাগরের কিংবদন্তী
আমি একটা জিনিস নিশ্চিত হতে চাইছি...
হুম।
তুমি কি...এই কথাগুলো বলতে পারবে?
কি কথা?
আমি তোমাকে ভালবাসি।
তাহলে তুমি আমার?
তুমি বশ্যতাস্বীকার করছ? তুমি হেরে গেলে?
কি?
তুষার পড়ার প্রথম দিনে আমি প্রথমে বশ্যতাস্বীকার করতে চেয়েছিলাম।
আমি সত্যিই জানতাম না তুমি আগে স্বীকার করবে। তুমি এখন আমার?
আমি যাই বলি না কেন, তুমি আমায় বিশ্বাস করবে?
কি বলছ এগুলো?
তুমি বললে তুমি আমায় ভালোবাসো। সেটাই তো এর মানে, তাই না?
ধরো তুমি কাউকে ভালবাসলে।
- তাঁর মানে তুমি বশ্যতা স্বীকার করেছ। - বশ্যতা কি?
হেরে যাওয়া।মানে তুমি যদি কাওকে ভালোবাসো,
তাহলে সে তোমাকে যা বলবে তাই বিশ্বাস করতে হবে।
- তারমানে তুমি বড় ঝামেলায় পড়েছ। - কেন?
তুমি তখন তার হয়ে যাবে। উঠতে বললে, উঠতে হবে।
বসতে বললে, বসতে হবে। মিথ্যে কথা বিশ্বাস করতে বললে, তোমাকে মিথ্যে কথাই বিশ্বাস করতে হবে। এটাই ভালবাসা।
তাহলে তুমি কাউকে এরকম কিছু বলবে নাকি বলবে না?
বলবো।
বলো না! আমি তোমাকে বললাম তো!
যদি তুমি আমাকে আই লাভ ইউ বলো, তারমানে হল এখন থেকে তুমি আমার।
আর সেটা বললে আমি নির্ঘাত তোমাকে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করবো আর পাগলের মতো মিথ্যে বলবো।
তোমার ওপর আমার সম্পূর্ণ অধিকার থাকবে।
এটাই তো ভালবাসা। তাই না?
কি! এসব ফালতু কথা তোমায় কে বলেছে?!
কেউ একজন বলেছে। আমার প্রিয় একজন মানুষ।
কে সে? কোনো ছেলে?
হুম, একটা ছেলে বলেছে।
তারমানে, একটা ছেলে বলেছে। ছেলেটা একটা রামছাগল!
রামছাগল কি জিনিস?
সে একটা আস্ত বদমাইশ ছেলে।
এরকম কথা তোমাকে বলা দেখেই বোঝা যাচ্ছে , ছেলেটা কত বড় হারামি আর লম্পট!
তুমি এতক্ষণ যা বললে সবগুলোই গালি ছিল, তাইনা?
হ্যাঁ, তাই। ওই রকম বদ ছেলের সাথে তোমার ঘোরাঘুরি করা মোটেই উচিত না।
সে কি তোমার সাথে সত্যিই খুব ভালো ব্যবহার করেছিল নাকি?
যখন বৃষ্টি হচ্ছিল, সে আমার মাথার উপর ছাতা এগিয়ে দিয়েছিল, আর যখন আমি একা ছিলাম, সে আমার হাত ধরেছিল।
কি বললে, হাত ধরেছিল...
আমি নিশ্চিত... সে একটা মেয়েকে পটানোর জন্য যেকোনো কিছুই করতে পারে।
সে আমার জন্য রামেওন রান্না করেছিল।
রা...রামেওন! বাহ, রামেওন!
সে কি তোমাকে বলেছিল যে সে তোমার বাড়িতে গিয়ে একদিন রামেওন খেয়ে আসবে?
কত বড় বদমাইশ!
সে মোটেও বদমাইশ না।
সে খুব ভালো মানুষ।
সে যদি এতই ভালো হয়ে থাকে, তার সাথেই গিয়ে থাকো, আমার সাথে থাকতে হবে না।
এবং আরেকটা বিষয় পরিষ্কার করে বলছি কেননা তুমি ভুলভাল বুঝেছ... একটু আগে যেটা বললাম....
"আই লাভ ইউ" , সেটা কিন্তু তোমাকে ভালবাসতাম বলে বলিনি,
তোমাকে সেটা বলতে বলেছিলাম কারণ আমি একটা জিনিস নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম-
আই লাভ ইউ।
- আবার বলবো? - নাহ, আর দরকার নেই।
আবার বলতে আমার কোন সমস্যা নেই তো।
তার কোন দরকার নেই। বাদ দাও।
খবরদার আর বলবে না।
- তোমরা দুজন কোথায় গেছিলে? - একটা স্কি রিসোর্টে।
ডেটে গেছিলে?
ডেট, না তোমার মুণ্ডু!
সে তুষার দেখবে বলে বায়না ধরেছিল, তাই একটু নিয়ে গিয়েছিলাম।
এটাই তো ডেট। তাইনা, ত্যে হো?
এই ছেলেটা আজকাল সবসময় চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে থাকে।
- খাবে নাকি? - না, ধন্যবাদ। তুমিই পেট ভরে কমলা খাও।
তুমি খাবে?
তার সাথে ঝগড়া করেছ নাকি?
না, করিনি।
তাহলে ওর মুড অফ কেন?
ওই, উপর তলা!
এই!
কি হয়েছে?
কি সব আজেবাজে চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, সেজন্য মোটেও ঘুম আসছে না। তোমার সাথে কি ছেলেটার এখনো দেখা হয়?
- কোন ছেলে? - কে আবার?! কিছুক্ষণ আগে যার কথা বলছিলে...
রামেওন! তার সাথে কি এখনো দেখা হয় তোমার?
হ্যাঁ, হয়।
দেখা হয়?
ও আচ্ছা। তার সাথে তাহলে তোমার দেখা হয়।
আচ্ছা, সে দেখতে কেমন?
কিউট।
চোখদুটো জ্বলজ্বলে।
তার চেহারা নিশ্চয়ই মেয়েলি টাইপের।
এরকম চেহারার ছেলেদের সাথে তোমার খুব সাবধানে থাকা উচিত! কিউট বলে কি সাত খুন মাফ?
ওইরকম ছেলেদের বাইরে ফিটফাট, ভেতরে সদরঘাট!
তুমি ... কি তাকেও ওটা বলেছিলে?
কোনটা?
আরে... তখন স্কি রিসোর্টে আমাকে যেটা বললে।
আই লাভ ইউ?
হুম। ওই শয়তানটাকেও বলেছিলে?
আই লাভ ইউ।
হ্যাঁ, বলেছিলাম।
কেন?
তোমার কাছে, এই শব্দগুলো বলাটা নিশ্চয়ই খুব সহজ।
- যাকে তাকে এই শব্দগুলো বলেছ। - আমি মোটেও যাকে তাকে বলিনি এই কথাগুলো।
কি এমন ভালো কাজ করেছ তুমি যে আওয়াজ উঁচু করে কথা বলছ?
তুমি উপরে যাও! কে তোমাকে নিচে নামতে বলেছে, হাহ?
যাও, উপরে যাও।
যাক, একদিক থেকে ভালই হল অবশ্য।
সত্যি বলতে, আমার নিজেকে একটু অপরাধীই মনে হচ্ছিল, এটা ভেবে যে আমার প্রতি তোমার বিশেষ ফিলিংস আছে।
ছেলেটার মুখে ফুল চন্দন পড়ুক।
একশবার বলবো। তার সাথে আমার একটা কাজ ছিল।
ভালো তো, যাও!
খুব ভালো! এখন ভাগো তো, যাও, উপরে যাও!
ছেলেটার সাথে তার একটা কাজ ছিল? তাহলে সে এখানে কি করছে?
হি হি, কি হাস্যকর মেয়েরে বাবা?! আহ, বিরক্তিকর।
খুবই বিরক্তিকর।
সেং ওয়া!
সেং ওয়া! সেং ওয়া!
কি হল?
এটা কোন ধরনের স্বপ্ন?
আঙ্কেল...আমাদের ছোট্ট জুন জ্যার বন্ধু।
ডিপার্টমেন্ট হেড আঙ্কেল, নাম
010-0960-1303
নাম্বারটি ব্যস্ত আছে। আপনি চাইলে ভয়েস মেইল পাঠাতে পারেন।
হ্যালো?
কি হয়েছে?
ডিপার্টমেন্ট হেড নাম? এখনও অফিসে আসেননি।
কি? কীভাবে?
সে কি ওই টাইপের মানুষ নাকি? তাহলে সে এখন কোথায়?
ঠিকাছে, এখন রাখছি।
কি হয়েছে, বাবা?
গতরাতে ডিপার্টমেন্ট হেড নাম মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালাতে গিয়ে অ্যাক্সিডেন্ট করেছেন।
আঙ্কেল তো ড্রিংক করতেন না।
তুমি কীভাবে জানলে? কারো চেহারা দেখেই কিছু বলে দেয়া যায় নাকি?
কতটুকু আহত হয়েছে সে?
আমরা কি তাকে হাসপাতালে দেখতে যাবো?
তার এখনও জ্ঞান ফেরেনি। মনে হয় মারাত্মক আঘাত পেয়েছে।
তাই?
আমরা এখন কি করবো?
তুমি হাসপাতালে যাওয়ার সময়, আমাকেও তোমার সাথে নিয়ে যেও।
ঠিকাছে।
২) ৮/ ১২/২০১৬ ইনচেওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সে গাড়ি পার্কিং কর্মচারী হিসেবে ছদ্মবেশ ধারণ করে, একটি দামি গাড়ি চুরি করে পালিয়ে গিয়েছিল।
প্রায় তিন মাস হয়ে গেল। আর এই তিন মাসে, মা দে ইয়ং...
কোনরকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়ার কারণে, এখনো তার কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
No comments yet. Be the first to leave one.