The first 200 lines.
একটি নিখোঁজ সংবাদ, সিন ইয়্যি-জিয়্যুন
মারশাল তিয়েন্তু এবং সকল দেবতাদের প্রতি,
তোমাদের একান্ত ভক্ত, মা ইয়্যি-নান ,
জানতে চায় যে তার নাতনি,
সিন ইয়্যি-জিয়্যুন, নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে কিনা।
অনুগ্রহ করে আমাকে আপনাদের পবিত্র দৈববাণী দিয়ে সাহায্য করুন।
দৈববাণী নং ৩৯
নানচিং মন্দির
এই ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে
" বঙ্গানুবাদে " সঞ্চারী ইসলাম
" কপিক্যাট কিলার "
টিএনবি নিউজ
এসো।
মিস. ইয়া-চিহ, এটা আজ রাতের শিডিউল।
মিস. ইয়া-চিহ।
আপনার কাছে একটা প্রশ্ন ছিল।
কি বলবে বলো?
আপনি কি সেদিন ভোরবেলা ইচ্ছা করেই আমাকে থামিয়েছিলেন ?
কারণ আপনি জানতেন যে যেভাবেই হোক না কেন
আমি স্যু ইয়্যু-এয়্যি এর সাথে যা যা হয়েছে তার ব্যাপারে রিপোর্ট করার উপায় খুঁজে বের করবোই।
তাহলে আপনি প্রসিকিউশনের সাথে সম্পর্কের কোন ক্ষতি না করেই
প্রসিকিউটর জেনারেলকে আমন্ত্রণ জানানোর একটা কারণ খুঁজে পাবেন।
তুমি দেখছি এতটাও বোকা নও।
আমরা এর আগেও কয়েকবার ওনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি,কিন্তু তিনি উত্তরও দেননি।
তাই একটু ছলাকলা করতেই হলো।
আপনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে আমি
অন্য কোন নিউজ স্টেশনে যাবো না।
আমি তোমাকে চিনি।
আমি জানতাম যে তুমি পত্রিকাগুলোর কাছে যাবে।
আর মিনলি মর্নিং নিউজ এ তোমার বন্ধুবান্ধব আছে।
তারমানে আপনি শুধু রাগের ভান করেছিলেন?
তাতে কি যায়-আসে?
শহরের নিখোঁজ নারীদের তালিকা
আমার এটা সংশোধিত হওয়া চাই।
সবাই জানে যে তুমি জিয়াং য়ু-পিং এর ঘটনাটা
নজরে আনতেই এই রিপোর্টটা সাবমিট করেছো।
কিন্তু আমি তোমাকে বলেছিলাম,
ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে লিখলেই জিনিসটা স্পেশাল হয়ে যায় না।
- দর্শকদের এসব ভালো লাগবে না। - না, এবার আমি রিপোর্টটা অন্য পরিপ্রেক্ষিতে লিখেছি।
পড়ে অন্যরকম লাগবে।
আমার সাথে তর্ক করে সময় নষ্ট না করে
যাও গিয়ে আরও নিখোঁজ মেয়েদের খবর নিয়ে আসো।
আর হ্যাঁ,
এখন থেকে লিপস্টিক দিয়ে আসবে।
ইয়্যু-পিং এবং সেই সব মেয়েদের প্রতি যারা উত্তরাঞ্চলে জীবিকার সন্ধানে গিয়েছিল।
শহরের নিখোঁজ নারীদের তালিকা
ওকে,বাই।
কি করছেন আপনি এখানে? কেন আমার পিছু নিয়েছেন?
আপনি তো মি. কু সাও-চি, তাই না?
আমি আপনার পিছু নেইনি।
ভাবছিলাম আপনার সাথে কথা বলবো কিন্তু তার আগেই আপনি আমাকে দেখে ফেললেন।
একটু কথা বলা যাবে?
ওপরে চকলেটের সিরাপ আমার ভালো লাগে না।
আপনিই ছিলেন তাহলে?
যে কিনা মিনলি মরনিং নিউজে আমার মি.স্যু ইয়্যু-এয়্যিকে গ্রেফতারের খবর ফাঁস করে দেয়।
- হ্যাঁ। - হুম-ম।
কারণ আইন নিয়ে বকবক করা অফিসারদের আসল চেহারাটা সবার সামনে আসা উচিত।
মনে হচ্ছে আমাদের ব্যাপারে আপনার কোন একটা ভুল ধারণা আছে।
আমার মতে
সম্ভবত আপনার বন্ধুর মামলার ঘটনাটা থেকেই এমনটা হয়েছে।
এজন্যই প্রসিকিউশনের ওপর আপনি নাখোশ।
আপনি ভাবছেন যে আমরা আমাদের কাজটা ঠিকমত করতে পারিনি।
হ্যাঁ।
আমার বন্ধু কোন পতিতা ছিল না।
আপনারা হঠাৎ করে মামলার তদন্ত বন্ধ করে দিলেন।
আমি জানি যে আমার
পুলিশ আর প্রসিকিশনের সাথে
ভদ্রভাবে কথা বলা উচিত।
কিন্তু দেখুন,
এরপর স্যু ইয়্যু-এয়্যি একটা জঘন্য অপরাধ করে বসলো।
আমাকে এক্সপোজ করতে চাইলে, আপনি আপনার বসকে বলতে পারেন।
কিংবা আমার বসকেও বলে দিতে পারেন।
আমি চাকরিটা ছেড়ে দিবো।
আরে।
মিস. লু ই-ঝেন, একটু দাঁড়ান।
আহ...
প্লিজ বসুন।
আসলে,আমি ব্যপারটা মানছি।
যেহেতু আমি এই কাজটার সাথে জড়িত আছি,
আমি জানি যে কিছু জিনিসের পরিবর্তন দরকার।
কিন্তু জিনিসটা এতটা সহজ না।
রাতারাতি এভাবে কোনকিছু বদলানো সম্ভব না।
আর আমি এটাও মানছি যে।
আপনার বন্ধুর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা
সাধারণ কোন ঘটনা না।
আর সেজন্যই আমি আপনার সাথে দেখা করতে এসেছি।
আমাকে এই কেসের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হবে।
আপনি পারবেন আপনার বন্ধু জিয়াং য়ু-পিং এর ব্যাপারে, আমাকে সব খুলে বলতে?
আমি ওর সম্পর্কে সবকিছু জানতে চাই।
ইয়ু-পিং আর আমি দুজনেই কাজের খোঁজে
দক্ষিণাঞ্চল থেকে এখানে এসেছিলাম।
কিন্তু আমাদের পরিবার ঠিক আমাদের এই সিদ্ধান্তে রাজি ছিল না।
আর সেজন্য তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক তেমন ভালো ছিল না।
-খুব কমই আমাদের মধ্যে যোগাযোগ হতো। -আমি চলে এসেছি।
বৃষ্টিতে ভিজেছিস নাকি?
একদম ভিজে গিয়েছি।
তুই আমাকে বলিসনি কেন যে তুই ছাতা নিয়ে যাসনি।
কিচ্ছু হবে না।
বেশিরভাগ সময়ই আমরা দু'জন একসাথে থাকতাম।
তোর জন্য স্যুপ বানিয়েছি।
আমাদের কাজ যতই কঠিন হোক না কেন,
আমরা একে-অপরকে সাহস যোগাতাম।
আমার কাছে...
...ওই ছিল আমার একমাত্র পরিবার।
ইয়্যু-পিং মারা যাবার পর,
নিউজে ওকে উসৃঙ্খল হিসেবে তুলে ধরা হয়।
আর সেজন্যই আমি ওর জন্য কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম।
এরপর আমি অনুসন্ধান শুরু করি।
ভেবেছিলাম যাতে নিজে কোন নিউজ করতে পারি।
সেই সাথে সংগ্যান সিটির অন্যান্য নিখোঁজ মহিলাদের ব্যাপারেও কাজ করছিলাম।
এতগুলো তথ্য আপনি নিজে সংগ্রহ করেছিলেন ?
হ্যাঁ।
আমি জানতাম যে শুধুমাত্র কাগজপত্রের তথ্য থেকে,ইয়্যু-পিং এর খুনীকে
খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন একটা কাজ হবে।
কিন্তু আমি সত্যিই ওকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চেয়েছিলাম।
তাছাড়া, এসকল নিখোঁজ মহিলাদের গল্পগুলো জানার পর থেকে ,
আমার মনে হচ্ছিলো এবার নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে কিছু একটা করা উচিত।
আপনার কাছে কি এখনো য়ু-পিং এর জিনিসপত্রগুলো আছে?
ওর পরিবার এসে বেশিরভাগ জিনিসগুলো নিয়ে গেছে।
আমি তাদেরকে ওর স্মৃতি হিসেবে কিছু জিনিস আমার কাছে রেখে যাবার জন্য অনুরোধ করি।
- এসব ছবিগুলো ওর আঁকা? -হ্যাঁ।
অনেক বড় শিল্পী হবার স্বপ্ন দেখতো।
বাড়িতে বসে আঁকাআঁকি করেই সময় কাটতো ওর।
তো ছবি আঁকা ছাড়া, আর কি কি করতো ও?
গান শুনতে পছন্দ করতো।
পেইন্টিং আর আর্ট এক্সিবিশনগুলোতেও যাওয়া হত ওর।
ওহ।
মাঝেমাঝে প্রায়ই,ও এই নাইটক্লাবটাতে যেত।
বলেছিলো ওখানকার মিউজিক নাকি অসাধারণ।
জবানবন্দি: ১৪ই মার্চ,১৯৯৫ পূর্বাঞ্চলের জেলায়
আমি তিয়ান সান-ই এর জবানবন্দি পড়েছি দেখেছি।
১৯৯৫ এর ১৪ মার্চই তো ও প্রথম নিখোঁজ হয়, তাইনা?
হ্যাঁ।
সেদিন রাতের পর ও আর বাড়ি ফেরেনি।
মার্চ ১৪, হোয়াইট ডে
সাদা পোশাক বা গয়না পরিহিত মেয়েরা ওয়েলকাম ড্রিংক পান করতে পারবে
আগে ওর হ্যান্ডকাফটা খুলে দেন।
আরে বাহ।
এখানে বসে যে খাওয়ার অনুমতি আছে তা জানতাম না।
সাধারণত, এখানে খাওয়ার নিয়ম নেই।
কিন্তু যেহেতু এটা অফিসিয়াল ইনভেস্টিগেশন রুম না,
তাই কোন অসুবিধা হবে না।
হুমম।
আপনি একজন প্রসিকিউটর মানুষ।
আপনি যা ইচ্ছা তাই খেতে পারেন।
আমি একটা খুনের আসামী।
তাই আমি যদি আপনাকে সহযোগীতা না করি
আপনি চাইলেই আমার সাথে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন।
এটাই বোঝাতে চাচ্ছেন তো?
এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে ইয়ু-পিং কে তুমিই খুন করেছো।
আগে আমাকে তোমার জবানবন্দিটা ভালোভাবে পড়ে দেখতে হবে।
"আমি জিয়াং য়ু-পিং কে প্রথম পূর্বের এলাকায় দেখি
আর ওর রেট নিয়ে কথা হয়।
ও আমাকে হুমকি দেয় যে যদি আমি টাকা না দেই
তাহলে পুলিশকে ফোন করে যৌন নির্যাতনের দায়ে অভিযুক্ত করবে।
তাই আমি ওকে আমার বাড়িতে এক সপ্তাহ আটকে রেখে সামান্য খেলাধুলা করি।
পোলারয়েড ক্যামেরা দিয়ে ওর প্রচুর ছবি তুলি।
যখন ওর ওপর বিরক্তি এসে যায় তখন
শ্বাসরোধে হত্যা করি আর ওকে আমার..."
আর ওকে আমার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে কবর দেই।
আমি পালানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি।
এসব কিছুর পর, আমি পুলিশ স্টেশনে যাই আর নিজে থেকে আত্মসমর্পণ করি।
আমি যা যা বলেছি সব আমার মনে আছে, বুঝেছেন?
খুব ভালোভাবে মনে আছে দেখছি।
নাও,
হ্যান্ডকাফটা নিয়ে আমার হাতে পরিয়ে দাও।
চেষ্টা করে দেখো।
এখানে কিছু ছবি আছে।
একবার দেখে নাও।
জলদি দেখো।
এগুলো জিয়াং য়ু-পিং এর ছবি।
ওহ, হ্যাঁ। আরও আছে।
আহ, আর এই দুটো...
কাটা হাতের ঘটনার যেটার আমি এখন তদন্ত করছি।
এগুলোও একটু দেখে নাও।
কি ভাবছো?
আপনি খুবই বাজে ফটোগ্রাফার।
ছবি কিভাবে তুলতে হয় সেটাও জানেন না?
ঠিক বলেছো।
আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে তুমি একজন ফটোগ্রাফার।
এটা দেখো তো?
বাকি ছবিগুলোর কথা ছাড়ো...
শুধু এই দুটো ভালো করে দেখো।
পার্কে পাওয়া কাটা হাতের মামলা
একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে তোমার কি মনে হয়,
এই ছবি দুটোর মধ্যে ঠিক কি মিল আছে?
জানিনা।
আপনার কোন কথাই বুঝতে পারছি না।
আপনি কি চাইছেন তাও জানিনা।
দেখতেই পাচ্ছো, দুটোই এভাবে বাঁধা ছিল।
আর দুটোতেই স্থানচ্যুত বুড়ো আঙ্গুল দেখা যাচ্ছে।
সত্যি বলতে, তোমার স্বীকারোক্তিতে অনেক জায়গায় সমস্যা আছে।
যদি এমন কিছু থেকে থাকে
যা তুমি আগে বলোনি
কিন্তু এখন বলতে চাও,
তাহলে সেব্যাপারে ভেবে আমাকে জানাতে পারো।
এটা আমার কার্ড।
আমার না কুও সাও-চি।
তুমি কিছু বলতে চাইলে, আমি খুশিমনে তা শুনবো।
এখন যেতে পারো।
No comments yet. Be the first to leave one.