The first 200 lines.
Translated By Mamun Abdullah
যে তীরে শূকরটি ঘায়েল হয়েছে
...তা নবাব ইচিমঞ্জির ছিল.
উনার নামে পান হোক!
দুষ্ট জানোয়ার
আমার চোখের সামনেই মরেছে.
তাক করার আগেই আমি ঘোড়া থেকে পিছলে পড়ে যাই.
বাবা,
শূকরটার কাবাব বানাব না?
জানোয়ারটা বুড়ো ছিল.
মোটা চামড়া থেকে গন্ধ বেরুচ্ছিল.
হজম করতে পারবি না.
আমারই মত, হিদেতরা.
আমাকেও খাবে নাকি?
আপনি গলায় আটকে যাবেন যে.
তাছাড়া আমি শিকারে আসছি
বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে.
আমিও!
আমি হব সম্পর্কের উছিলা
ইচিমঞ্জি আর আবেই বংশের.
আমার মেয়ের সঙ্গে
আপনার ছেলে সাবুরোর বিয়ে দেব.
থামুন!
নিজের ভাবনা বললাম আরকি!
নবাব ইচিমঞ্জি, আজ শুভদিন.
আপনার রায় জানান.
সাবুরোর সঙ্গে কার বিয়ে দেবেন
আমার মেয়ের নাকি লর্ড আয়াবের?
বলা মুশকিল.
দুটো মেয়ে
একটা ছেলের জন্য.
আফসোস জিরো, আমার মেজো ছেলে বিয়ে করে বসে আছে.
কোয়ামি!
আমাদের আনন্দ দে!
ঐ দূর পাহাড়ে
এই কাছের পাহাড়ে
টগবগিয়ে কে আসেরে?
ওর কান দুখানা দেখাও দেখি?
এমা খরগোশ!
একটা মাত্র, কিয়োমি?
দুটো হলে ক্ষতি কী.
একটা হল, আরেকটা বাদ রাখলি কেন?
সাবুরো, এটা বেয়াদবি!
জবান সাবধান!
বড় হুজুর ক্লান্ত হয়ে গেছেন.
ঘুম ভাঙ্গা পর্যন্ত আমরা উঠি.
বাবা এমন না. উনি ঘুমের ভান করছেন.
সাবুরো যে অপমানটা করল, মুখ দেখাবেন কিভাবে?
উনি তো শুধু শিকারই করেছেন.
এই শরীরে
সেনাদল তাড়িয়েছেন, অথচ ক্লান্ত হননি.
এটা আমাদের মেহমানদের অপমান.
কিয়োমি, ডাক উনাকে!
বাবা চিন্তিত,
আজ তো নাকও ডাকেনি.
বাবা, কী হয়েছে!
তুমি অসুস্থ?
একটা স্বপ্ন...
একটা স্বপ্ন দেখলাম.
ভীন দেশে চলে গিয়েছিলাম.
গহীন বনে.
আমি হাঁটতেই থাকলাম, কিন্তু কাউকে পেলাম না.
চিৎকার করে ডাকলাম
কিন্তু কেউ জবাব দিল না.
আমি একা ছিলাম.
এত বড় পৃথিবীতে একা.
আমি ভয় পেলাম...
কী বোকামি.
তারার ডাকে আমার ঘুম ভাঙে
এসে দেখি আমার ছেলেরা দাঁড়িয়ে.
তারো,
মো,
সাবুরো.
বাবা, আমি তোমাকে কখনও এমন দেখিনি.
ঠিক মনে হচ্ছে না.
থাম, সাবুরো!
এত দরদ দেখাচ্ছে খুশি থাক.
আমিও ব্যাপারটা বুঝলাম না.
নিজের কানকে বিশ্বসই হচ্ছে না.
সব সময় তো হুকুম তামিলের কথাই বলেন.
এত দরদের কারণ কী?
ঠিক আছে.
একটা ব্যাপার নিয়ে ভেবেছি আমি
আর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি.
সেটা তোদের বলব.
এখনি বলার শুভ সময়
যখন সঙ্গে আছে
নবাব ফুজিমাকি আর আয়াবে.
ডাক সবাইকে.
আমি হিদেতরা ইচিমাঞ্জি
পাহাড়ের ঐ ছোট্ট দূর্গে জন্মেছি
এতদিন ধরে, সমতলভূমিতে
যুদ্ধে বুঁদ হয়ে ছিলাম.
ক্ষমতার দ্বন্দ্বে অনেক নবাবের শত্রু হয়েছি.
সতের বছর বয়সে
দূর্গের চূড়ায় আমার নিশান উড়িয়েছি
পঞ্চাশটা বছর আমি যুদ্ধে মত্ত ছিলাম
অবশেষে সমতল ভূমি আমার হয়েছে.
বড় দূর্গে আমার নিশান উড়ছে.
আমি বহু বছর
এই দুই ভদ্রলোকের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি.
কিন্তু সময় এসেছে
যুদ্ধ ঘোড়াকে থামিয়ে
লাগাম ছেড়ে দেয়ার.
কিন্তু হিদেতরার
সত্তর বছর বয়স চলছে.
আমি আমার পূর্ণ ক্ষমতা সমর্পণ করছি
আমার পূর্ণ কর্তৃত্ব
আমার বড় ছেলে তারোকে.
আব্বা হুজুর, হটাৎ করে...
একদম না.
আমি বহুদিন ভাবনা চিন্তা করেছি.
আজ সময় এসেছে
সরে গিয়ে,
লাগাম নতুন কাউকে দেয়ার.
তোদের বলব: এটাই সেই সময়!
এটাই আমার ইচ্ছা.
তারো এখন ইচিমঞ্জিদের সর্দার
এই এলাকার জমিদার.
আমি দূর্গ ছেড়ে দিয়ে
বাহিরের দালানে গিয়ে উঠব.
সঙ্গে ৩০ জন সেনা নিয়ে যাব
এবং বড় হুজুরের খেতাব দিয়ে দেব.
আসল নেতৃত্ব
সম্পূর্ণ তারোর হাতে থাকবে.
আমি চাই তোরা সবাই মেনে নিবি!
আমি মেনে নিচ্ছি.
আমার আর সাবুরোর কী হবে?
আমাদের জন্য কী ভেবে রেখেছন?
জিরো আর সাবুরোকে দেব
দ্বিতীয় আর তৃতীয় দূর্গ
মাঝখানের জায়গা জমিও.
তোরা তারোকে সমর্থন দিবি
বড় দূর্গে.
আমি থাকব তোদের অতিথি হয়ে
পালা করে সবার দূর্গে গিয়ে
জীবনের বাকী দিনগুলো কাটাব.
বুড়ো মানুষের জন্য কষ্টই হয়ে যাবে!
আমি কিছু বলব.
আমি আপনার ইচ্ছার কদর করি
আর ভরসার তারিফ করি
কিন্তু আরেকবার ভেবে দেখুন
কেন?
যদিও আমি আপনার বড় ছেলে
আপনার স্থান আমি কখনো নিতে পারব না.
এ অনেক বড় দ্বায়িত্ব.
যুদ্ধ দেবের কাছে আমি প্রার্থনা করেছি
"আপনাকে যেন ১০০ বছর আয়ু দেয়,
"তাতে আমার আয়ু কমলেও কোন আপত্তি নেই."
কী কথা!
এত মিষ্টি কথা কিন্তু আমি বলব না.
বলতে গিয়ে কাহিল হয়ে যাব.
হিংসা করিস না.
তারো আমাকে তেল মারল তাই তো?
গুরুত্ব দিস না সাবুরো.
আমিও তারোর মত ভাবি.
তোমার ঢাল ছাড়া আমরা অসহায়.
কিন্তু এখন তোমাকে রক্ষা করার সময়
জীবনের তিক্ত তীর থেকে.
ভাল বলেছিস, জিরো.
আমার তীরগুলো আন!
দুই ভাগ কর.
ভাঙ দেখি?
এবার এক সাথে
চেষ্টা কর দেখ.
একটা তীর সহজেই ভেঙ্গে যায়.
তিনটেকে ভাঙ্গা সহজ না.
তারো যখনই বিপদে পড়বে
তোরা নিজেদের এক সঙ্গে থাকলে
ইচিমঞ্জি বংশ নিরাপদে থাকবে.
এক গোছা তীরও ভাঙ্গা সম্ভব.
দুষ্টামি করলে সম্ভব.
বোকামি করিস না.
তুমি বোকামি করছ, এ পরিকল্পনা হাস্যকর.
হয় ভীম রতিতে ধরেছে নয়ত পাগল হয়ে গেছ.
খামোশ!
বাবাকে অপমান করবে না!
কী পাগলামি করেছি আমি?
কোন ভীমরতিতে ধরল আমায়?
বলছি শোন.
আমরা কোন জগতে বাস করি বলত?
শ্রদ্ধা আর স্নেহের জগতে.
- আমি জানি. - জানবেই তো!
তুমি বেহিসেবী রক্ত ঝড়িয়েছ.
তুমি কোন দয়া আর করুণা দেখাওনি.
আমরাও মায়ের দুধ ছাড়ার পর থেকে যুদ্ধের নির্মমতা আর নৈরাজ্য দেখে বড় হয়েছি.
আমরা তোমার ছেলে, তুমি শ্রদ্ধা চাইতেই পার.
তাতে আমার চোখে তুমি নির্বোধ.
এক নির্বোধ বুড়ো.
ব্যস!
তোরা তো দেখি একদিন আমাকে বাপ বলেই মানতে চাইবি না.
আমার পিঠে ছুরি বসাবি.
আরও বোকার মত কথা.
নিজের পিঠে নিজে ছুড়ি মারা যায়?
তুমি আমাদের ভাই বলে মানছ?
তারোর সাফল্যে ওর জ্বলছে.
এজন্যই তুমি আমার নিন্দা করছ?
ভাই হও আর যাই হও, মুখ সামলে!
তোমার শিক্ষায় শুধু তিনটে তীরই নষ্ট হয়েছে.
তিন পূত্রের ঐক্য ভেঙ্গে গেছে.
No comments yet. Be the first to leave one.