The first 200 lines.
আয়াত আয়াত চিন্তা ২ (ভালোবাসার কাব্য ২)
গাজা, ফিলিস্তিন।
ফাহরি, অ্যালিসিয়া, আমি কী করব...
আয়িশা, এখন তুমি কোথায়?
ফাহরি।
ফাহরি।
আয়াত আয়াত চিন্তা ২ (ভালোবাসার কাব্য ২)
হাবিবুর রহমান আল সিরাজীর সাড়া জাগানো উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত।
ও মাই গড! খারাপ খবর, মেগ।
প্রফেসর শার্লোট নির্ধারিত পাঠ্য বইটি পড়তে একদম ভুলেই গেছি।
কী করে ভুলে গেলাম? তোমার কী অবস্থা?
আমারও একই অবস্থা।
- তবে ভালো খবর হচ্ছে... - সেটা কী?
প্রফেসর শার্লোট আজ আসেননি।
- উনি আসছেন না? - না।
তার পরিবর্তে উনি এসেছেন।
উনি ওখানে কী করছেন?
এসব লোক দেখানো কাজ।
স্যুট পরা জঙ্গি।
উনি কতটা ধার্মিক সেটাই আমাদেরকে দেখাচ্ছেন।
কী?
ওনার বেশভূষা দেখে আবার বোকা বনে যেও না।
হয়তো খুব দ্রুতই উন্নয়নশীল কোনো দেশের প্রফেসরের কাছ থেকে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে।
আশ্চর্যজনকভাবে আজও এমন মূর্খ এবং বর্ণবাদী মনোভাব সম্পন্ন মানুষ আছে।
তা ঠিক, আমার কথাটা তো বুঝতে পেরেছ!
আমি তোমাকেই বলেছি, তুমি একটা মূর্খ।
ওহ, গড!
সবাইকে শুভ অপরাহ্ণ।
নামাজের সময়টুকুতে ধৈর্যধারণ করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
ক্লাসরুমে নামাজ পড়ার জন্য আমি আবারও ক্ষমাপ্রার্থী।
অন্য কোথাও পড়তে গেলে আরও বেশি সময় নষ্ট হত।
এখন...
যারা প্রফেসর ড. শার্লোট নির্ধারিত বইটি পড়নি তারা হাত তোলো।
মেগ, এখন কী করব?
সততার জন্য তোমাদের দুজনকে ধন্যবাদ।
প্রফেসর ড. শার্লোট আমাকে বলে দিয়েছেন...
যারা বইটি পড়ে আসেনি...
প্লিজ, তারা যেন ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়।
কারো ক্লাস থেকে বের হবার দরকার নেই।
কাউকে বের করে দেয়ার অধিকার ওনার নেই।
উনি কিছুই নন, কেবলই একজন বদলি লেকচারার।
হ্যাঁ, আমি একজন বদলি লেকচারার।
কিন্তু প্রফেসর শার্লোট এখানে থাকলে, তিনি কী করতেন?
তিনি অবশ্যই বেরিয়ে যেতে বলতেন।
প্লিজ।
অসাধারণ।
এভাবে সম্মান দেখানোর জন্য ধন্যবাদ।
রুম থেকে বের হয়ে, চাইলে আবার ফিরে আসতে পার।
যাও, ক্লাসরুম থেকে বের হয়ে আবার প্রবেশ করো।
নিজেদের সিটে বসো।
সেটাই করেছি, যেটা প্রফেসর ড. শার্লোট আমাকে করতে বলেছিলেন।
তবে দায়িত্বে থাকা শিক্ষক হিসেবে...
আমি মনে করি এই ক্লাস থেকে তোমাদেরও জ্ঞানার্জনের অধিকার আছে।
আচ্ছা...
উনি খুবই শান্ত।
খুব জানতে ইচ্ছে করছে,
উনি কি এখনো অবিবাহিত?
ওনার আঙুলে একটা আংটি আছে।
হ্যালো।
আসসালামু আলাইকুম, হুলুসি।
ওয়ালাইকুম সালাম, হোজ্জা।
দেখে মনে হচ্ছে আজ শিক্ষার্থীরা আপনার লেকচার উপভোগ করেছে।
এখান থেকে যেতে যেতে ওরা আপনার লেকচার নিয়েই কথা বলছিল।
তুমি সবসময় একটু বাড়িয়েই বলো, হুলুসি।
আমি সত্যিই বলেছি, হোজ্জা।
থামাও তো, হুলুসি।
ও আমাদের প্রতিবেশী কেইরা, তাই না?
আমারও সেটাই মনে হচ্ছে।
- চলো ওকে আমরা গাড়িতে উঠতে বলি। - এটা করা উচিত হবে না।
শুভ সন্ধ্যা, কেইরা।
আমি ফাহরি, তোমার প্রতিবেশী।
সম্ভবত বাসার দিকেই যাচ্ছ, আমরাও সেদিকেই যাচ্ছি।
হ্যাঁ, তো?
তুমি চাইলে গাড়িতে আমাদের সাথে যেতে পার।
ও হয়তো আমাদের সাথে যেতে চাচ্ছে না, চলে আসুন...
কেইরা, তুমি কি যাবে না? এতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।
- আমি নিজেই নিজের দেখভালো করতে পারব! - সে নিজেই নিজের দেখভালো করতে পারবে!
- চলুন বাসায় যাওয়া যাক... - তোমাকে গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দেব।
যদি তুমি চাও।
ভালোয় ভালোয় এখান থেকে যান নয়তো পুলিশ ডাকব।
আরে, কেইরা! ফাহরি যেচে তোমার উপকার করতে চাইছেন, তুমি এমন করছ কেন...
কে জানে, হয়তো তোমাদের খারাপ কোনো উদ্দেশ্য আছে?
কেইরা, ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলছি, আমাদের কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই।
তোমাদের স্বভাবটাই এমন।
সব কাজেই ঈশ্বরকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার কর।
এমনকি যখন জঙ্গিবাদ, বোমাবর্ষণ এবং গণহত্যা কর তখনও।
- মুখ সামলে কথা বলো, কেইরা! - শান্ত হও, হুলুসি।
আমি শুধু তোমাকে গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দিতে চেয়েছি।
তুমি না চাইলে, ঠিক আছে।
তোমার দিনটি শুভ হোক।
হাই সেক্সি, আমাদের সাথে পাবে যাবে?
দাঁড়াও!
শুধু এই একবার।
তুমি কি এখনও বেহালা বাজাও, কেইরা?
আমার স্ত্রী বেহালা বাজানো পছন্দ করত।
কেইরা, যদি তোমার একটু দয়া হয়...
হেই, জেসন!
তুমি ওদের সাথে কেন?
চুপ কর!
ধন্যবাদ।
তোমাকে স্বাগতম, কেইরা!
চলো, হুলুসি।
হোজ্জা, এই বাচ্চা দুটোকে একদমই পছন্দ করি না। ওদের মুখের ভাষা...
দাঁড়ান, হোজ্জা।
শালার উদ্বাস্তু! এটাকে কি রিফিউজি ক্যাম্প ভেবেছে?
এই, এখানে ঘুমানো যাবে না!
ওঠ, এটা কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নয়, বের হ।
আশ্রয়কেন্দ্র? তুমি কি ভেবেছ আমাকে?
এভাবে কাউকে অপবাদ দেয়া ঠিক না, আমি উদ্বাস্তু নই।
মাশাআল্লাহ্, মিসবাহ?
ফাহরি!
- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম সালাম।
আসার আগে আমাকে একবার জানালি না কেন?
তোদেরকে ঝামেলায় ফেলতে চাইনি।
সেই কবে আল আজহারে দেখা হয়েছিল, না?
চল, ভেতরে গিয়ে কথা বলি।
হুলুসি, মিসবাহর জন্য গেস্টরুমটা রেডি কর।
ওহ, দুঃখিত, তোকে বলাই হয়নি... ও আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট।
ও তুরস্কের। ওর নাম হুলুসি...
- হুলুসি, কাজের লোক? - এই, মুখ সামলে কথা বলবেন।
এই বাড়িতে এমন লোকেরা থাকে যারা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
উদাহরণস্বরূপ, আমি ফাহরিকে "হোজ্জা" বলি, কারণ আমি তাকে আমার শিক্ষক হিসেবে বিবেচনা করি।
আচ্ছা, হুলুসি। এখন আমার ব্যাগটি ভেতরে নিয়ে এসো।
সুবহানাল্লাহ, ফাহরি।
আয়িশা কোথায়?
আয়িশা ভালোই আছে, নাকি?
তোকে অনেক ক্লান্ত মনে হচ্ছে। আচ্ছা, তোর সাথে কাল কথা হবে?
তুই এখন বিশ্রাম নে। হুলুসি তোকে রুমটা দেখিয়ে দেবে।
- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম সালাম।
আস্তাগফিরুল্লাহ।
আমার সাথে চল। আপনাকে পরে দেখে নেব।
কেইরা!
আমার কথা শোনো, এসব বন্ধ করতে হবে।
তুমি কী চাও, মা?
আমি চাই তুমি এসব বন্ধ কর।
তোমাকে কতবার বলেছি?
আমার খুব বিরক্ত লাগছে, মা!
তোমার ঢং দেখে আমারও বিরক্তি এসে গেছে।
যাকগে...
তোমার বেহালা বাজানো শেষ কর।
হুলুসি।
কিছু কথা জিজ্ঞেস করব?
ফাহরির কী হয়েছে?
আয়িশার কথা জিজ্ঞেস করতেই, ও এমন অপ্রস্তুত হয়ে গেল কেন?
যাকগে ওসব, আয়িশা কোথায়?
আপনি তাঁর বন্ধু, আপনার জানা উচিত।
আমাদের মধ্যে অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না।
শেষবার যখন ওর সাথে কথা হয়েছিল, তখন এখানে বেড়াতে আসার ব্যাপারে কথা হয়েছিল।
তার মানে আপনি শুধু আপনার প্রয়োজনেই হোজ্জার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন?
এভাবে রেগে গেল কেন?
এই চা-টা বেশ ভালোই হয়েছে।
এত সুন্দর এক কাপ চা ঠান্ডা হয়ে যাবে কেন? খেয়েই ফেলি।
আস্তাগফিরুল্লাহিল আ'জিম।
কী হচ্ছে এসব...
ওরা এবার সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
- আস্তাগফিরুল্লাহ। - তুমি পরে প্রফেসর হোকারের অফিসে গিয়ে...
এখানে কেন এসেছ সেটা বলবে।
তোমার থিসিস শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব খরচ আমরাই বহন করছি।
- ধন্যবাদ, ফাহরি। - স্বাগতম।
আলহামদুলিল্লাহ.
কী হয়েছে?
কিছুই হয়নি, সব ঠিক আছে।
ইন্নালিল্লাহ।
- হুলুসি, গাড়িতে এসব কী করেছ? - আমি? নাহ এসব আমি করিনি।
তোমার কাজটা কী?
অনেক হয়েছে।
হুলুসি, গাড়িটাকে গ্যারেজে নিয়ে যাও।
আমি বাসেই যেতে পারব।
- হোজ্জা, এভাবে যাবেন না। - আমি যেতে পারব।
মিসবাহ, তুমি হুলুসির সাথে চলে এসো...
আর জায়গাটা ভালো করে চিনে নাও।
ঠিক আছে।
- আসসালামু আলাইকুম। - ওয়ালাইকুম সালাম।
নবম এবং দশম শতাব্দীর শুরুতে,
আরবি প্রধান লেখ্য ভাষা হিসাবে পরিচিতি পায়।
বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে।
ব্যাখ্যাসহ।
খুবই হাস্যকর।
দুঃখিত?
তোমার কি কিছু বলার আছে?
আমি কিছু বলতে পারি?
আপনি বলেছেন,
ইসলাম...
আরবিতে লিখিত ভাষা ও বিজ্ঞানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
তবে, যখন নারীদের কথা আসে,
তারা ইসলামে নিকৃষ্ট লিঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হয়।
এটি একটি বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য।
দুর্ভাগ্যবশত...
আজকের টপিকের সাথে এর কোনো যোগসূত্র নেই।
তোমার মতামত দাও।
আমি নিশ্চিত ওরা আপত্তি করবে না।
হ্যাঁ, আমিও জানতে চাই। এটা কি সত্য যে ইসলাম...
নারীদেরকে পুরুষের চেয়ে নিকৃষ্ট বলে মনে করে?
ও যেভাবে বলল, প্রফেসর?
না।
উল্টোভাবে বললে, ইসলামে নারীদেরকে অনেক উঁচু মর্যাদা দেয়া হয়েছে।
ইসলামে একটা কথা প্রচলিত আছে, 'মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।'
তাছাড়াও ইসলামের ইতিহাসে অনেক মহিয়সী নারীর নাম লেখা রয়েছে।
তেমনি একজন হচ্ছেন খাদিজা, যিনি নবীজির স্ত্রী ছিলেন।
তিনি কেবল ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তিই ছিলেন না।
No comments yet. Be the first to leave one.