The first 200 lines.
- তুমি কোন শহরে থাকো, ব্রো? - শিকাগো।
মাইকেল জর্ডান।
ওর সাথে দেখা হয়েছে?
শিকাগো শহরটা অনেক বড়।
ও হ্যাঁ, শহরটা অনেক বড়।
- আমাকে বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ। - হেই।
ভাগ এখান থেকে।
কখনো সোনালী চুলো কোনো মেয়ের সাথে সেক্স করেছ?
- হ্যাঁ, অবশ্যই। - তুমিই তো আসল পুরুষ।
- পানির এই সমস্যা কয়দিন ধরে? - গত বছর দাঙ্গার পর থেকে।
সরকার আমাদেরকে দোষায়।
বলে, "সমস্যা তোমরাই বাধিয়েছ। কোনো পানি দেয়া যাবে না।"
ধন্যবাদ।
এখানে জেমস হুইসলার নামে একজন কয়েদি আছে।
- আমি ওর খোঁজ করছি। - ক্লাবে স্বাগতম।
- সবাই ওকে খুঁজাতে ব্যস্ত। - কেন?
সে বার ফাইটে পানামা সিটির মেয়রের ছেলেকে খুন করেছে।
মেয়র এতে অনেক ক্ষুব্ধ হয়ে আছে।
সে এখন কোথায়?
গা ঢাকা দিয়ে আছে। কেউ কেউ বলে, পালিয়ে গেছে।
হেই, হেই।
"আমার কাছে কোনো পয়সা নেই। আমার কাছে পয়সা নেই।"
সবসময় তো এসব বলে গলা ফাটাস।
কিন্তু এখন যে হাতে খাবার দেখা যাচ্ছে?
- দেখো ভাই....পেটে অনেক খিদে। - আমার খিদের যোগান দেবে কে?
সারাদিনই তো খাবার চিবাতে থাকো।
আমি নিজ চোখে দেখেছি।
- আরও পানি আসবে। - কখন?
বললাম তো, পানি আসবে।
পরে কথা হবে ব্রো।
যাও। যাও।
একটু দিবে?
- কিছু তথ্য লাগবে। - অবশ্যই।
গতকাল আমার পকেটে এটা গুঁজে দিয়েছিলে কেন?
তেষ্টার চোটে সব ভুলে গেছি।
আবার সব মনে পড়তে শুরু করেছে।
- আরেকটু পানি দাও। - ওই নোট।
ওই লোকটা আমায় মাংস দিয়ে বলেছে...
...যে দুইজন এখানে লড়ছে, তাদের পকেটে গুঁজে দিতে।
- কেন? - সে পাগল বলে।
যে নর্দমার মধ্যে থাকতে পারে, তার মাথার নাট-বল্টু তো ঢিলাই হবে।
নর্দমার মধ্যে কোথায়?
হুইসলার।
হুইসলার।
আমার নাম মাইকেল স্কোফিল্ড।
তোমাকে এখানে থেকে বের করার জন্য আমাকে পাঠানো হয়েছে।
ধরে নিচ্ছি, আমার আসার খবর তুমি জানো।
বা কেউ আসবে, এরকম খবর।
হুইসলার।
লাস্ট চাঞ্চ। আর কিন্তু আসব না এখানে।
- আমাকে ছোনা থেকে বের করার জন্য এসেছ? - চমকে গেলে নাকি?
আমাকে এই গর্ত থেকে বের করাটা কঠিন হবে।
এখান থেকে বের করে উপরে নিয়েই গেলেই...
...আমার খেল খতম।
ওই মেয়রের সাথে আমার খানিকটা গণ্ডগোল বেঁধে আছে...
তাতে আমার কিছু আসে যায় না।
সঠিক সময়ে তোমাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যাব।
- এতদিন এখানে থাকতে পারব না। - সেটা তোমার ব্যাপার।
এমনিতে আমি নিজেই অনেক সমস্যায় ফেঁসে রয়েছি।
যারা আমায় এখান থেকে বের করতে চায়, তুমি ওদের হয়ে কাজ করো?
একটু সবুর করো ভাই।
যতক্ষণ না কেউ তোমার অবস্থান জানতে পারছে, ততক্ষণ নিরাপদেই আছ।
আমাকে বের করতে হঠাৎ এতো তাড়া পড়েছে কেন? বলতে পারবে?
এভাবেই হাবাগোবা হবার ভান করো নাকি?
আমার ব্যাপারে ওরা তোমায় কিছু বললে...
এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে পারতে।
ওরা আমার থেকে কী চায়, শুধু সেটা জানতে চাই।
এখানেই থেকো।
শিরোনাম বাদ দিয়ে আসল খবর শুরু করতে চাচ্ছি।
আমাকে বলার জন্য অনেক কথা জমা করে রেখেছ নিশ্চয়।
সারা আর এলজের যদি কিছু হয়, তাহলে আমায় মাটিতে পুঁতে ফেলবে...
তারপর আমার বুক থেকে হৃৎপিণ্ড খুবলে নিয়ে....ব্লা, ব্লা, ব্লা।
তোমার কেমন লাগছে, তা আমি জানি। অনুধাবন করতে পারছি।
ঠিক আছে? সে কথা বাদ। এবার কাজের কথায় আসা যাক।
তোমার ভাই মেসেজ পেয়েছে?
ভালো। তুমি-আমি প্রতিদিন এখানেই সাক্ষাৎ করব।
আগের দিনে যা যা হয়েছে, তার রিপোর্ট পরের দিন চাই।
যখন মোবাইলে ফোন দিবো, ধরতে হবে।
গাধার মতো প্রশ্ন করা যাবে না। আমার সময় নষ্ট করা যাবে না।
একসাথে প্ল্যান বানিয়ে, সেটা সফল করতে হবে।
এলজে আর সারাকে হুইসলারের সাথে বিনিময় করা হবে। বুঝাতে পেরেছি?
আমার ছেলে আর সারা যে জীবিত আছে, তা নিশ্চিত হবার জন্য একটা ছবি চাই।
- আচ্ছা দেয়া হবে। এরপর? - আমরাই কেন?
এই প্রশ্নের উত্তরটা দিবো, যাতে আমরা সকল পাঠ চুকাতে পারি, আর তুমি কাজে মনোযোগ দিতে পার।
এই ধরণের খুনের ফলে হুইসলারের উপর একটা পলিটিকাল স্পট-লাইট পড়ে গেছে।
লুণ্ঠন, ঘুষ এসব কিছু নয়।
এসব আবার অন্য লাইনের কাহিনী।
এক হপ্তায় কাজটা সম্ভব নয়।
এক হপ্তার বেশি দেয়া যাবে না। বুঝাতে পেরেছি?
তোমার নাম কী?
সুজান বি এন্থনি।
গর্ভাবস্থায় বোধহয় তোমার আয়োডিনের অভাব ছিল।
ঠিক বলেছ, লিংকন।
পারিবারিক সূত্রতায় মা, বাবা, ভাই, বোন যে-ই থাকুক না কেন,
আমার ছেলে বা সারার যদি কিচ্ছু হয়...
..আমি কিন্তু তোমার পিছু নেবো না, সুজান।
কাজে নেমে পড়ো।
লেচেরো চামচাটা পানির ড্রাম ফেলে দিলো...
...আর সে কীভাবে নবাবের মতো হেঁটে চলে গেলো দেখলে?
আমাদের নিয়ে ওর কোনো মাথাব্যথাই নেই। আমাদেরকে সে গুণেই না।
ওইখানে গিয়ে নবাবজাদার মতো বসে থাকে।
বেরিয়ে এসো। ভয় পাচ্ছ নাকি আমাদের?
বেরিয়ে এসো, লেচেরো। বেরিয়ে এসো।
একটু সাহায্য করো।
একটু সাহায্য করো।
নর্দমার ওই লোকটাকে নিয়ে তোমার এতো আগ্রহ কেন?
কোনো কারণ নেই।
তাহলে ওইখানে ফিসফিস করছিলে কেন?
- কথা আস্তে বলা যায় না? - এতে আমার লাভ কী?
এখানে তোমার একমাত্র বন্ধু হলাম আমি।
বন্ধু তো বন্ধুকে এভাবে অর্ধ-নগ্ন, তৃষ্ণার্ত আর ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফেলে রাখে না।
- বলেছি তো, সব ব্যবস্থা করে দিব। - কখন?
যখন আমি পারব।
সে এভাবে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে কেন?
কার কাছ থেকে লুকিয়ে আছে?
মেয়র লেচেরোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে।
সে বলেছে, হুইসলার যদি সোনাতে মারা পড়ে...
...যে-ই সেই খুনি হোক না কেন, তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
বিচারকের মুখোমুখি হতে হবে। বিচারক আবার মেয়রের বন্ধু।
ওকে মেরে ফেললেই কি...
এখান থেকে বের হবার টিকিট মিলবে?
এরকমই বলেছে লেচেরো।
কথাটা তোমার-আমার মধ্যেই গোপন থাকবে।
কিন্তু সে আপনার বন্ধু হলে, আপনাকে তা বলেনি কেন?
কারণ... তুমি-আমি এখন থেকে বন্ধু।
যদি আমার শত্রু না হতে চাও আরকি।
- বন্ধু। - বেশ। আমিও।
সুক্রে।
সুক্রে, আমায় বের করে নিয়ে যাও।
- মারিক্রুজ কোথায়? - ওহ, হ্যাঁ।
মারিক্রুজ! সে ভালোই আছে। আমি মুখ খুলব না যতক্ষণ না তুমি...
বলো সে কোথায় আছে।
আমায় গুলি করলে, তুমিও গ্যাঁড়াকলে ফেঁসে যাবে।
আবারও বলছি, তাতে আমার কিছু আসে যায় না।
আমি জানি, সে মারা গেছে। তাই আমিও তাঁর সাথে মারা যাচ্ছি।
মারিক্রুজ আমার কাছে কখনো ছিলই না।
মেক্সিকোর ওই বাড়িতে, তোমার খালা আর মারিক্রুজকে পেয়েছিলাম।
বলেছিলাম, এখান থেকে তাড়াতাড়ি না ভাগলে, বন্দী বানিয়ে রেখে দেবো।
খোদার কসম কেটে বলছি।
- আর ওই ক্রুসিফিক্স? - মারিক্রুজের কাছ থেকে রেখে দিয়েছিলাম।
ওই বাড়িতে কোনো ফোন সংযোগ ছিল না...
তাই বুঝতে পেরেছিলাম, রাস্তা থেকে ফোন করে তুমি...
আমার কথার সত্যতা যাচাই করতে পারবে না।
- তোমায় ধোঁকা দিয়েছি। - তাহলে...
মারিক্রুজ তাহলে...
হয়ত বাগানে আঙুর তুলছে। ঠিক জানি না।
একটু শান্ত হও। বন্দুকটা নামিয়ে রাখো।
আমি তো তোমার একটা উপকার করলাম বন্ধু।
এখন এর প্রতিদান দাও।
আমার মা এডনা বেলিক জোলিয়েটে থাকে। ওকে একটা ফোন দিও।
ফোন দিলেই পাবে। সুক্রে।
মারিক্রুজের উপর ফুলের টোকা পর্যন্ত দিইনি। এরকম কোনো ইচ্ছাই ছিল না।
সুক্রে, আমায় সাহায্য করো প্লীজ।
সুক্রে, আমায় সাহায্য করো প্লীজ।
- হেই। - হেই।
- হুইসলারকে খুঁজে পেয়েছিস? - হ্যাঁ।
কাহিনী কী ওর?
জানি না। তবে চমৎকার কিছু হবে নিশ্চিত।
আমার কাজ শুধু তাঁকে এখান থেকে বের করা, তাই না?
আমাদেরকে কাজে নেমে পড়তে হবে।
কাজের গতি বাড়াতে হবে। নেক্সট প্ল্যান কী?
গতকাল লাশের শরীর থেকে হুইসলারের একটা নোট বের করা হয়েছে।
এর মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছি না।
যা ক্লু পাই, তা সব কাজে লাগাতে হবে।
আর কিছু টাকা লাগবে।
পিছিয়ে যান, পিছিয়ে যান।
এক হপ্তায় পালানোর ছক কষে এখান থেকে কেউ পালিয়েছে, এমন নজির নেই।
তাই ওই লোকগুলোকে বোলো...
মানে যারা আমার ভাতিজা আর সারাকে জিম্মি করে রেখেছে...
তাদেরকে বলে দিও, আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমি করব।
হয়ত লোকটাকে এখান থেকে বের করব, নয়ত নিজে মারা যাব।
এরপর তো ওদের...
মনের খায়েশ পূরণ হবে, তাই না?
বিনিময় করার মতো একটা জিনিস পাবে। ওদেরকে বলে দিও।
- ঠিক আছে। - বলে দিও।
পারলে এখনই তোর সাথে জায়গা অদলবদল করে নিতাম।
আমি জানি।
হুইসলার।
তুমি এখানে নিরাপদ নও।
তোমায় এর চেয়ে ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পারব।
সাহায্যের উদ্দেশ্যে আসলে আমায় একা ছেড়ে দাও।
প্লীজ।
সুক্রে।
লিংকন, এখানে কী করছ?
- তুমি এখানে কী করছ? - মাইকেল জেলে বন্দী।
- কী জন্য? - জানি না। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
অকূলপাথারে সাঁতরাচ্ছি। তোমায় একটু সাহায্য করতে হবে।
বুঝতে পারছি। কিন্তু আমি আরও বড় সমস্যায় ফেঁসে আছি।
মারিক্রুজের সাথে দেখা করতে যাচ্ছি। মাত্রই আমার কাজিন পেটেই'র সাথে কথা বললাম।
সে বলল, মারিক্রুজ শিকাগোতে ফিরে এসেছে।
কিন্তু শিকাগোতে তো এখনো তোমার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি রয়েছে।
একটা উপায় বের করে ফেলব।
যদি কখনো মত পরিবর্তন হয়, আমাকে প্লাজা দে সলে খুঁজলেই পাবে।
এখান থেকে চলে যাচ্ছি ব্রো। প্রিয়তমার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।
তোমার পরিচিত নির্দোষ লোকগুলোকে, নির্দোষই থাকতে দিও।
যদি এর জন্য দূরেও চলে যেতে হয়, তবে তাতেই সই।
শুভ কামনা, লিংক।
গাধাটা কী কাজে এসেছে শুনি? পুরোপুরি গর্দভ একটা।
ওকে সহ্য হচ্ছে না? তাহলে নিজেই আমটা কাটো না।
দিন দিন খালি বড় বড় সমস্যা বাঁধাচ্ছ।
No comments yet. Be the first to leave one.