The first 174 lines.
অনেক, অনেক বছর আগে...
কোথা থেকে যেন, এক অদ্ভুত আলো পৃথিবীর উপর এসে পড়ল।
পুরো পৃথিবীর উপর।
আর সেই আলো সবাইকে পাথরে পরিণত করে দিল।
তারপর, পুরো পৃথিবী আস্তে আস্তে ধ্বংস হতে শুরু করল।
দালানকোঠাসহ বাকি সবকিছু, পুরো মানবসভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেল।
যেসব তৈরি করতে পুরো মানবজাতির লক্ষাধিক বছর সময় লেগেছিল।
কী দুর্ভাগ্যজনক!
কিন্তু একজন মানুষ হাল ছেড়ে দেয়নি।
পাথরে পরিণত হয়ে যাওয়ার পরও, সে তার চেতনা হারায়নি।
সে আসলে সময় গুণতে শুরু করে।
সে বুঝেছিল, তারিখ এবং সময়ের মতো মূল্যবান তথ্য ভুলে গেলে চলবে না।
সে একেবারে অন্যরকম।
আর সেই মানুষটি... হলো সেনকু-চান!
পুরো মানবজাতির পাথরে পরিণত হয়ে যাওয়ার কয়েক হাজার বছর পর,
এক গ্রীষ্মের দিনে সে জেগে উঠল।
এক শূণ্য, আদিম পৃথিবীতে নিজেকে সে খুঁজে পেল।
আমি হয়তো সেখানেই অসহায়ের মতো মারা যেতাম।
কিন্তু, সেনকু-চান বিজ্ঞান নিয়ে একপ্রকার পাগলাই।
সে নিজের জন্য খাবার, কাপড়, আশ্রয়ের ব্যবস্থা করল...
আর তারপর, সে সঞ্জীবনী তরলও তৈরি করল!
সেনকু কী দুর্দান্ত!
আমিও সেনকুর মতো হতে চাই!
বাচ্চারা সত্যিই ওকে পছন্দ করে।
আচ্ছা, তাহলে আমাদের সেই নেতার মুখ থেকেই কিছু কথা শোনা যাক।
সেনকু-চান!
হ্যাঁ, হ্যাঁ। দারুণ মজার একটা কাহিনী শোনালে।
তোমার সুপার স্টোর ওয়ার্ল্ডের উত্থানের গল্পটা অসাধারণ হয়েছে।
মন চাচ্ছে হাউমাউ করে কেঁদে দিই।
আর, গেন, বকবক করা বাদ দিয়ে কাজে মন দাও।
ধরে ফেললে। আমি কাজে ফাঁকি দিচ্ছিলাম।
তো, সে সঞ্জীবনী তরল ব্যবহার করে...
সুকাসা নামের এক শক্তিশালী ছেলেকে বাঁচায়।
এটা হলো স্টোন ওয়ার্ল্ড।
কলঙ্কহীন এক স্বর্গ।
আমরা শুধু বিশুদ্ধ-চিত্তের তরুণদেরই বাঁচিয়ে তুলব।
আর কোনো মানুষের দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত এক পৃথিবীতে বাস করব।
মানবজাতিকে বিশুদ্ধ করে তোলার এটাই সুযোগ।
তুমি কী বলো, সেনকু?
একেবারেই না।
এক মিলিমিটারও না।
আমি বিজ্ঞানের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রত্যকটা মানুষকে বাঁচিয়ে তুলব।
শেষ পর্যন্ত ওরা একমত হতে পারেনি।
তো, সুকাসা-চানের মনোভাব হলো অনেকটা...
"চলো এক নতুন পৃথিবী গড়ি!" ধরণের। ও লোকদের বাঁচিয়ে তুলছে নিজের দলে ভেড়ানোর জন্য।
অন্যদিকে, সেনকু-চান এই গ্রামের প্রধান হয়ে, তার বিরুদ্ধে লড়তে বিজ্ঞানের এক রাজ্য তৈরি করছে।
আমরা বিজ্ঞানের রাজ্যের অধিবাসী!
সুকাসা নিপাত যাক!
যদিও, সেনকু-চান...
আমরা এতো কষ্ট করে সেলফোন তৈরি করলাম, যাতে করে...
সুকাসা-চান কোনো কিছু করার আগেই আমরা তার উপর আঘাত হানতে পারি।
আমাদের কি কাজে লেগে পড়া উচিত না? বসন্ত পড়লেই, ওরা আমাদের উপর হামলা করে বসবে।
এরপর আমারা কী বানাচ্ছি?
হ্যাঁ।
তাই আমরা এই সুপার বিজ্ঞান-প্রজেক্ট আইটেম বানানো শেষ করতে চলেছি।
সুপার আইটেম?
আমরা সুকাসার রাজত্বকে ক্ষিপ্রতা আর দ্রুততা দিয়ে হারাতে চলেছি।
আমরা বানাতে যাচ্ছি, মানবজাতির বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক বৈজ্ঞানিক সামগ্রী- স্পেস ফুড!
স্পে...
...এস?
ফুড?
আবার শুরু হলো!
আরেকটা জিনিস যা সম্ভবত এই পাথুরে বিশ্বে কখনোই থাকতে পারে না!
"স্পেস" কী?
আকাশের অনেক, অনেক উপরে এক জায়গা।
আমি প্রচুর রোমাঞ্চিত!
আমার আর তর সইছে না!
কিন্তু এটা তো শুধুই খাবার, তাই না?
হ্যাঁ।
আমরা আমাদের প্রিয় ফক্সটেইল মিলেট রামেনকে যুদ্ধে ব্যবহারের উপযোগী করে তুলব।
আমি! আমি! আমি সাহায্য করব!
আমি অনেক রামেন খেতে চাই!
সত্যিই! অনেক অনেক!
গিনরো, তুই কী বলতে চাচ্ছিস?
কিন্তু যুদ্ধের জন্য কেন আমারদের এই স্পেস... রামেন লাগবে?
আহ! আমরা ফুটন্ত গরম রামেন শত্রুদের উপর ছুঁড়ব, তাই তো?
আমার তা মনে হয়না, বাবা।
স্পেসে কোনো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নেই।
ওখানে আরাম করে ঘরে বসে খাবার খাওয়ার কথা ভাবাও যায় না।
এই জিনিসটা বানানো সহজ আর পুষ্টিকর।
তারসাথে এটা কম জায়গা নেয় আর হালকাও।
এটাই হলো সুকল্পিতভাবে বানানো চমৎকার এক খাবার- স্পেস ফুড।
আচ্ছা।
সুকাসা-চান শীতের মধ্যে হামলা করতে চায়না...
তার একটা কারণ সে তার দলে আরো লোক চায়, কিন্তু...
ব্যাপারটা খুবই সহজ।
এই পাথুরে পৃথিবীতে, তীব্র শীতের যুদ্ধক্ষেত্র মানে সাক্ষাৎ জাহান্নাম।
কিন্তু বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমরা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব।
এক নিমিষে তৈরি করা যায়, এমন একটা গরম, ভালো খাবার...
আমাদেরকে দশ বিলিয়ন পার্সেন্ট সুবিধা এনে দেবে।
শীতের যুদ্ধে এটাই হলো আমাদের মুখ্য অস্ত্র।
বিজ্ঞানের দেওয়া এই গরম খাবার আমাদের শরীর আর মন দুটোকেই শক্তি যোগাবে!
স্পেস ফুডের কথা শুনতেই দারুণ লাগছে!
সুকাসার রাজত্বে আক্রমণ করার জন্য আমাদের এই শেষ সুপার আইটেমের কাজ...
ফক্সটেইল মিলেট
ডিম
মাছ
মাংস
সবজি
রামেন
দড়ি
গাছ
বহনযোগ্য পাত্র
লোহা
লেভেল ২ ব্লোয়িং মেশি।
গিয়ার
পাম্প
ওয়াটার হুইল
ভ্যাকুয়াম যন্ত্র
বরফ
স্পেস ফুড
শুরু করা যাক!
রামেন বানানোর কাজ আমাদের উপর ছেড়ে দাও।
যেহেতু গ্রামের সবাই এখন এক হয়ে গেছে...
আমরা এখন আগের চেয়েও ভালোভাবে কাজ করতে পারব।
আমাদের উদ্ভাবক দলকেও পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হবে।
রামেনকে স্পেস রামেনে পরিণত করতে আমরা একটা যন্ত্র বানাতে চলেছি!
কিন্তু এটা কীভাবে কাজ করে?
আমরা রামেনকে ভ্যাকুয়াম করব।
সব বাতাস বের করে ফেলব।
ঠিক আগে যেমনটা করেছিলাম।
আহ, যখন আমরা সেলফোন বানিয়েছিলাম।
ঐ ভ্যাকুয়াম টিউবগুলো আচ্ছা যন্ত্রণা দিয়েছিল।
থামো, রামেনকে ভ্যাকুয়াম করব?
এর মানে কী?
রামেন
চুরি...
আচ্ছা, রামেন তৈরি।
এখন শুধু এর মধ্যে স্যুপ ঢেলে গরম করতে হবে।
সেটা করার দরকার নেই।
আমরা এটাকে জমিয়ে বরফ বানাব।
আমরা এতো মজাদার রামেনকে জমিয়ে বরফ বানাচ্ছি কেন?!
নিয়ম নিয়মই।
কথা বলা বন্ধ করে কাজ কর, গিনরো!
এটাই স্পেস রামেন?
না, এটা শুধুই ফ্রোজেন ফুড।
আমরা এর ওজন অনেক কমিয়ে ফেলব। ফলে আমাদের চলাচল করতে আরো সুবিধা হবে।
রামেনকে হালকা করবে?
বোলো না যে...
ঠিক ধরেছ।
আমরা কাপ নুডুলস বানাচ্ছি।
এটাই ফ্রিজ-ড্রায়েড খাবারের সূচনালগ্ন।
ফ্রিজ-ড্রায়েড, হাহ?
আমি এই ব্যাপারে শুনেছি, কিন্তু আমরা আসলে কী করছি?
আমরা মূলত একে বরফ বানিয়ে শুকনো করব।
এতোটুকুই।
খাবারকে জমিয়ে দিলে, এর মধ্যের আর্দ্রতা বরফে পরিণত হয়।
কঠিন বস্তু
হ্যাঁ, অবশ্যই।
আমি সেটুকু বুঝেছি।
সেটাকে ভ্যাকুয়ামে রাখলে, চারপাশের কম বায়ুচাপের কারণে পানি...
বুম! বাষ্পে পরিণত হয়।
ফলে খাবারটা শুকনো হয়ে যায়, আর তার আকার এবং ওজন অনেক কমে যায়।
এসবের কিছুই আমার মাথায় ঢুকছেনা।
তো, আমরা সেই "বুম!" অংশটা কীভাবে করব?
সেটা করাই তো উদ্ভাবক দলের কাজ।
হয়ে গেছে!
এই যে দেখো।
যে পানিকলটা এতো খাটাখাটুনি করে বানিয়েছিলাম, সেটা ব্যবহার করে...
আমরা ফ্রিজ ড্রায়িং মেশিন তৈরি করেছি!
সব্বাশ, ক্রোম, কাসেকি!
আমরা সেনকুর সাথে মিলে যা বানিয়েছিলাম, এখানের সবকিছু তা-ই ব্যবহার করে বানানো।
হ্যাঁ।
যত্ন নিয়ে, একাগ্রভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পরিশ্রম করে যাওয়া। মানবজাতি গত ২০ লাখ বছর এটিই করে এসেছে।
এর নামই তো বিজ্ঞান।
আমরা পেয়ে গেছি ফ্রিজ-ড্রায়েড রামেন!
m 0 0 l 0 -30 l 118 -30 l 118 30 l -118 30 l -118 -30 l 0 -30
স্পেস ফুড অর্জিত!!
হুররে!
কিন্তু, এটা কী?
দেখতে আকারে ছোট আর হালকাই লাগছে, কিন্তু...
এহ, একদম ফালতু লাগছে।
স্পঞ্জের মতো শুকনো আর খসখসে।
শুধু দেখে যাও।
No comments yet. Be the first to leave one.