Release info

থুপ্পারিভালান (২০১৭) বাংলা সাবটাইটেল (২:৩২:২৮)
A Commentary by Maheanctg

Tags

other
Published on: 2020-08-25
Downloads: 113
Hearing Impaired: No

Bengali subtitle preview

The first 200 lines.

∞ Thupparivaalan ∞ ডিটেকটিভ/গোয়েন্দা

Abir Yousuf Rudro

- আব্বু, শুভ জন্মদিন! - শুভ জন্মদিন!

- শুভ জন্মদিন, দিবা! - কী করছ এসব তোমরা?

ছোট্ট একটা সারপ্রাইজ!

আস্তে,সিধু!

ও যাচ্ছে কোথায়?

-কী এটা? -আব্বুর জন্য গিফট!

ওদের ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে৷

হেই..এটা আবার কী?

আম্মা,ছাড় আমাকে!

তুই আমার গায়ে হাত দিলি কেন?

পুরুষ বলে যা ইচ্ছে তাই করবি?

-আমি কখন গায়ে হাত দিলাম,তুমি মারছ কেন? -লুইচ্চা!

-এখন আবার মিথ্যা বলছিস, আমাকে বলদ পেয়েছিস? -নিজেকে খুব হট ভাব তাই না? মাফ চাও!

-নইলে কিন্তু ভাল হবে না! -একেই জিগেস করুন কী করেছে?

হেই, যান! নিজের কাজে যান!

-কী হয়েছে বাবা? -কিছু না মা৷

-কোমড়ে আবার কী হল? -কিছু না, পিপড়া-টিপড়া হবে হয়তো৷

আমি নাস্তা নিয়ে আসি তাহলে৷

এখন আর কিছুর দরকার নেই বাবা৷ দেরি হয়ে যাচ্ছে, মা আবার চিন্তা করবে৷

পল!

পল!

কী বিরক্তিকর জীবন!

রোমাঞ্চ বলতে কিছু নেই!

দাও!

এটা কোন কফি হইল!

ছেহ্!

একটা কেইস, কেবল একটা মনের মতো কেইস চাই৷

সমস্যা কি তোমার?

আমি কেবল একটা চ্যালেঞ্জিং কেইস চাই৷

তিন সপ্তাহ হয়ে গেল, কেউ মনমতো একটা কেইসও দিতে আসল না৷

এর থেকে মুদির দোকানের চাকরিও ভাল!

এমনে চললে আমি পাগল হয়ে যাব!

কেউ আমাকে একটা চ্যালেঞ্জিং কেইস দাও!

সরো সামনের থেকে৷

কানি,ওঠো!

ক্লায়েন্ট এসেছেন একজন৷

তিনদিন হল আমার স্বামী...

তিনদিন যাবৎ তাকে পাওয়া যাচ্ছে না,

আপনারা দোনজন একই চশমা ব্যবহার করেন৷

পাঁচ বছর যাবৎ এটা ব্যবহার করছেন৷

একটা রাবারের ব্যান্ড দিয়ে ভাঙ্গা ফ্রেমটা আটকে রেখেছেন৷

আপনার স্বামী কাজ-কর্ম কিছু করে না, ঘরে বেকার বসে থাকে আর রান্নাবান্না করে৷

আপনি পুলিশের কাছে যেতে পারছেন না, কারণ তারা জানতে পারলে পরিবারের অসম্মান হবে৷

গতকালকের পত্রিকায় এড দেখে আপনি আজকে আমার কাছে এসেছেন৷

আপনার স্বামী কালকের মধ্যেই চলে আসবেন, আজকেও চলে আসতে পারেন৷

কারণ আপনাকে ছাড়া তিনি অচল৷

এখন আপনি আসতে পারেন৷

-তোমার ফি কত? -কেস কি সেটা বলেন!

আমার মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না৷

-আপনার নাম? -মাধাভান৷

কয়দিন হল তাকে পাচ্ছেন না?

আজকেসহ এগার দিন৷

পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন?

ওদের উপর ভরসা নেই৷

হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা কখন টের পেলেন?

কলেজে গিয়েছিল, পরে আর ফিরেনি৷

ওর কি কোন বয়ফ্রেন্ড আছে...

আমি জানি না!

দশ লাখ রুপী,

আমার মেয়েকে খুঁজে বের করতে পারলে এটা তোমাদের৷

- আপনার মেয়ে কি গাড়ি চালাতে জানে? - কী?

না, জানে না৷

তাকে কলেজে নিয়ে যেত কে?

একটা ড্রাইভার ছিল৷

- "ছিল"? - বদমাশ ছিল একটা!

ভেগে গেছে৷

- মোট কয়জন ড্রাইভার আপনার? - তিনজন৷

তাদের সাথে না এনে আপনি গাড়ি চালিয়ে আসলেন কেন?

আমার এখানে আসার ব্যাপারে কাউকে জানাতে চাই না৷

- এ ঠিকানা কোথায় পেলেন? - আমার ম্যানেজারের কাছ থেকে৷

আমার হাতে তিনটা কেস রয়েছে, তাই আপনারটা নিতে পারছি না৷

পঁচিশ লাখ রূপী!

আপনি আসতে পারেন৷

কানি?

এই যে নাও ব্লাঙ্ক চেক!

ইচ্ছেমতো সংখ্যা বসিয়ে নাও, কিন্তু মেয়েকে ফেরত চাই আমার!

কোন কেস না পাওয়াতে তুমি অস্থির হয়ে ছিলে!

- অার এটা পেয়েও ছেড়ে দিলে! - এমন কেইসের দরকার নেই৷

- পঞ্চাশ লাখ টাকার কেইস ছিল! - তা ঠিক৷

কী "ঠিক"?

অধিকাংশ মানুষের কাজ হল বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর উপর চোখ রাখতে গোয়েন্দা ভাড়া করা৷

জানি তুমি অমন গোয়েন্দা নও, কিন্তু এটা সমাধান করতে তো দুদিনও লাগত না তোমার৷

লোকটা ব্লাঙ্ক চেক দিতে চাইল, আর তুমি কী না ফিরিয়ে দিলে!

- লোকটাকে পছন্দ হয়নি৷ - তাতে কী আসে?

কেইস হল মূল বিষয়৷

ওনার মেয়েটাকে খালি বের করলেই হতো, কানি!

- তাহলে মেয়েটা মারা যেত৷ - কী?

মেয়েকে খুঁজে আনলে উনি নিজ হাতে হত্যা করতেন৷

কী যা তা বলছ?

মেয়েটা ড্রাইভারের সাথে পালিয়েছে৷

লোকটা পা দিয়ে চাবিটাকে কী করল খেয়াল করনি?

মেয়েকে নিয়ে দুঃখের চেয়ে তার জিদ বেশি৷

মেয়েটাকে খুঁজে আনলে কিছুদিন পর হয়তো কোন নদীর কিনারায় বা ট্রাকের ভিতরে ওর লাশ খুঁজে পেতে৷

এমনকি ওর নিজের ঘরেও ঝুলন্ত পেতে পারতে৷

আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে কেইস বন্ধ করে দেয়া হত৷

এখন বল, এ কেইসটা কী জন্য নিব?

পেশার খাতিরে?

তাহলে পেশাকে অসম্মান করা হবে৷

কী শুরু করল সবাই?

হাসছো কেন?

ম্যাজিক দেখে!

কীসের "ম্যাজিক"?

পাঁচ সেকেন্ড আগে যেটা ঘটল৷

- পাঁচ সেকেন্ড আগে কী ঘটেছে? - পকেটমারের একটা নতুন আর্ট দেখলাম৷

- কার পকেট মারা হয়েছে? - তোমার৷

এই তো আমার মানিব্যাগ৷

আর টাকা?

চার হাজার টাকা ছিল, এখন আছে দু' হাজার!

কীভাবে সম্ভব এটা?

ফোনে কথা বলার ভাব ধরো!

হ্যালো ম্যাডাম, প্রিয়দর্শন বলছি৷

আমি ভাল আছি, আপনার কী খবর?

ব্যবসার কী অবস্থা?

আমি মাত্রই আপনাকে কল দিতে চেয়েছিলাম৷

জ্বী, কাপড়-চোপড়ের একটা চালান এসেছে৷

সন্ধ্যায় আমি লোক মারফত কিছু স্যাম্পল পাঠিয়ে দিব৷

দেখে ভাল লাগলে দয়া করে জানায়েন৷

আপা! চশমা পরা একটা টাকলা, গায়ে সবুজ শার্ট আর হাতে ব্রিফকেস আছে৷

ম্যাডাম, পুরোন একটা পাওনা কিন্তু এখনো বাকী৷

ওটা একটু পরিশোধ করে দিলে ভাল হবে৷

এই চালানের পাওনাও যদি একসাথে দিয়ে দেন তাহলে কৃতজ্ঞ থাকব৷

জ্বী, ম্যাডাম৷

ওটা নিয়ে একদম ভাববেন না, আমি সব সামলে নেব৷

ভদ্র ঘরের মেয়েদের সাজ নিয়ে পকেটমারা, ভালই!

-স্যার, কী বলছেন! আমি ভদ্র পরিবার থেকে... -চুপ!

ভদ্র পরিবার! চোরের মা'র আবার বড় গলা!

তোমাদের কাণ্ড-কারখানা দেখেছি এতক্ষণ৷

ঐ লোকটার থেকে কত নিয়েছ?

আপা, কে এরা? কী চায়?

আমরা মিষ্টি খেতে চাই! চল্ থানায়!

ভাইয়া, ভাইয়া, প্লিজ, আপনার টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছি৷

- দয়া করে কাউকে ডাক দিয়েন না! - আমি সবাইকে জড়ো করব এখনই৷

তোমাদের কাজের পদ্ধতি ভাল লেগেছে, আগামিকাল সকালে এই ঠিকানায় আসবে৷

আর এটা রেখে দাও৷

একটা পকেটমারকে আমাদের ঠিকানা দিলে

তুমি না থাকলে আমি ঠিকই ওদের পুলিশের হাতে তুলে দিতাম৷

কী সমস্যা খোকা? এখানে কী চাই?

গোয়েন্দা আংকেলের সাথে দেখা করতে চাই৷

- ঠিক আছে, বলো কী সমস্যা? - না, আমি গোয়েন্দা আংকেলকে বলব৷

আমাকে দেখে কি গোয়েন্দা মনে হয় না?

না, আপনি তো রাঁধুনী৷

পেঁয়াজের গন্ধ আসছে আপনার থেকে৷

চলো৷

বসো৷

বাবার আইপ্যাডে 'ডিটেকটিভ' লিখে সার্চ দেওয়ার পর তো...

...অনেক ঠিকানাই পেয়েছিলে, এখানে আসলে কেন?

অন্য গোয়েন্দাদের বিজ্ঞাপনগুলো সিনেমাটিক৷ মাথায় ক্যাপ, হাতে বন্দুক, চোখে সানগ্লাস..

কিন্তু আপনারটাতে কেবল লিখা- 'ডিটেকটিভ কানিয়ান পুনগুনদ্রান'৷

সেটা দেখেই আমি এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷

- স্কুল বাদ দিয়ে এসেছ এখানে? - জ্বী৷

নাম কী তোমার?

নাভিন৷

এবার বলো গতরাতে কী হয়েছিল?

আমাদের বাসা নিলানকারায়, সমুদ্র তীরবর্তী একটা বাংলো৷

- বীচ থেকে সর্বোচ্চ কতদূর হতে পারে? - ৩৪৩ ফিট৷

কিছুদিন আগে আমি আর আমার ছোট বোন এটা মেপে বের করেছিলাম৷

বলে যাও৷

আমাদের কুকুরছানার নাম হল 'নেমো'৷

প্রতিদিন রাত ৯:৩০ এ ওকে গেট খুলে বের হতে দেই৷

গায়ে একটু হাওয়া লাগিয়ে ও আবার ৯:৪০ এ ফিরে আসে৷

কিন্তু গতরাতে আর ফিরে আসেনি৷

ও হারানো কুকুরের খোঁজে এসেছ তাহলে?

না, একটা মৃত কুকুরের ব্যাপারে৷

অনেক রাত হলেও নেমো আর ফিরে আসল না৷

আমি মাকে জানালাম বিষয়টা৷

উনি বললেন সে রাতের গভীরে ফিরবে আর আমার উচিৎ ঘুমিয়ে পড়া৷

আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে নেমোর ফেরার অপেক্ষা করছিলাম৷

একটার দিকে আমি আর ছোট বোন আর ধৈর্য ধরতে না পেরে বাবা-মাকে জাগিয়ে তুললাম৷

বাবা গেট খুলে নেমোর খোঁজে বের হলেন৷

আমাদের গেট থেকে প্রায় বাইশ ফিট দূরে নেমোর মৃতদেহ পাওয়া গেল৷

টর্চ মারার পর দেখা গেল নেমোর পুরো শরীর রক্তে ভেসে আছে৷

- নেমো কোন জাতের? - পমেরিয়ান৷

আমরা খুব কাঁদছিলাম৷

আমি বাবা-মাকে বললাম, পুলিশে খবর দিতে৷

পৌনে দুইটার দিকে একজন কনেস্টবল আসলেন৷

সে বলল তার বহু ব্যস্ততা রয়েছে, এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই৷

তাই তো?

উনি এটাও বলেছেন যে, আমরা চাইলে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট আমাদের জন্য আরেকটা কুকুর কিনে দিবে৷

তোমার বাবা-মা কুকুরটাকে বাগানে কবর দিয়ে দিল৷

আব্বু-আম্মু সকালে একটা বিয়েতেও যায়৷

আমার বোন ঘুম থেকে উঠে বলে, সে নেমোকে দেখতে চায়৷

আমি একটা কোদাল নিয়ে নেমোর কবর খুঁড়তে শুরু করলাম৷

বাবা নেমোকে একটা সাদা কাপড়ে জড়িয়ে কবর দিয়েছিলেন৷

কবরের ভিতর আমাদের নেমো শুয়ে ছিল...

আমরা ওকে দেখছিলাম, এর মধ্যেই আব্বু-আম্মু ফিরে এলেন৷

আব্বু খুব বকলেন আমাদের!

আমি নেমোকে আবার গর্তে শুইয়ে দিলাম, বাবা মাটি দিয়ে গর্ত পুরে দিলেন৷

- আচ্ছা..শান্ত হও! - বলতে দাও!

নেমোকে যখন আবার কবরে শোয়াচ্ছি তখন ওর শরীরে...

এটা পাই...

কানি, এটা তো বুলেট!

শার্লক হোমস টিভি সিরিজ দেখেছি আমি৷

কিন্তু বাস্তবে এমন কেউ নেই৷

নেমোর খুনীকে বের করতে চাই আমি৷

কিন্তু কীভাবে বের করব আমি জানি না, প্লিজ আপনি কি আমার জন্য এতটুকু করবেন, আংকেল?

এগুলো আমার হাত খরচের জমানো টাকা৷

আটশ সাতত্রিশ রূপী৷

এগুলো ফি হিসেবে রেখে আমার নেমো'র খুনীকে বের করে দিবেন, আংকেল?

Comments

No comments yet. Be the first to leave one.

Keep it about this subtitle — sync, quality, typos.500 characters left