The first 200 lines.
∞ Thupparivaalan ∞ ডিটেকটিভ/গোয়েন্দা
Abir Yousuf Rudro
- আব্বু, শুভ জন্মদিন! - শুভ জন্মদিন!
- শুভ জন্মদিন, দিবা! - কী করছ এসব তোমরা?
ছোট্ট একটা সারপ্রাইজ!
আস্তে,সিধু!
ও যাচ্ছে কোথায়?
-কী এটা? -আব্বুর জন্য গিফট!
ওদের ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে৷
হেই..এটা আবার কী?
আম্মা,ছাড় আমাকে!
তুই আমার গায়ে হাত দিলি কেন?
পুরুষ বলে যা ইচ্ছে তাই করবি?
-আমি কখন গায়ে হাত দিলাম,তুমি মারছ কেন? -লুইচ্চা!
-এখন আবার মিথ্যা বলছিস, আমাকে বলদ পেয়েছিস? -নিজেকে খুব হট ভাব তাই না? মাফ চাও!
-নইলে কিন্তু ভাল হবে না! -একেই জিগেস করুন কী করেছে?
হেই, যান! নিজের কাজে যান!
-কী হয়েছে বাবা? -কিছু না মা৷
-কোমড়ে আবার কী হল? -কিছু না, পিপড়া-টিপড়া হবে হয়তো৷
আমি নাস্তা নিয়ে আসি তাহলে৷
এখন আর কিছুর দরকার নেই বাবা৷ দেরি হয়ে যাচ্ছে, মা আবার চিন্তা করবে৷
পল!
পল!
কী বিরক্তিকর জীবন!
রোমাঞ্চ বলতে কিছু নেই!
দাও!
এটা কোন কফি হইল!
ছেহ্!
একটা কেইস, কেবল একটা মনের মতো কেইস চাই৷
সমস্যা কি তোমার?
আমি কেবল একটা চ্যালেঞ্জিং কেইস চাই৷
তিন সপ্তাহ হয়ে গেল, কেউ মনমতো একটা কেইসও দিতে আসল না৷
এর থেকে মুদির দোকানের চাকরিও ভাল!
এমনে চললে আমি পাগল হয়ে যাব!
কেউ আমাকে একটা চ্যালেঞ্জিং কেইস দাও!
সরো সামনের থেকে৷
কানি,ওঠো!
ক্লায়েন্ট এসেছেন একজন৷
তিনদিন হল আমার স্বামী...
তিনদিন যাবৎ তাকে পাওয়া যাচ্ছে না,
আপনারা দোনজন একই চশমা ব্যবহার করেন৷
পাঁচ বছর যাবৎ এটা ব্যবহার করছেন৷
একটা রাবারের ব্যান্ড দিয়ে ভাঙ্গা ফ্রেমটা আটকে রেখেছেন৷
আপনার স্বামী কাজ-কর্ম কিছু করে না, ঘরে বেকার বসে থাকে আর রান্নাবান্না করে৷
আপনি পুলিশের কাছে যেতে পারছেন না, কারণ তারা জানতে পারলে পরিবারের অসম্মান হবে৷
গতকালকের পত্রিকায় এড দেখে আপনি আজকে আমার কাছে এসেছেন৷
আপনার স্বামী কালকের মধ্যেই চলে আসবেন, আজকেও চলে আসতে পারেন৷
কারণ আপনাকে ছাড়া তিনি অচল৷
এখন আপনি আসতে পারেন৷
-তোমার ফি কত? -কেস কি সেটা বলেন!
আমার মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না৷
-আপনার নাম? -মাধাভান৷
কয়দিন হল তাকে পাচ্ছেন না?
আজকেসহ এগার দিন৷
পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন?
ওদের উপর ভরসা নেই৷
হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা কখন টের পেলেন?
কলেজে গিয়েছিল, পরে আর ফিরেনি৷
ওর কি কোন বয়ফ্রেন্ড আছে...
আমি জানি না!
দশ লাখ রুপী,
আমার মেয়েকে খুঁজে বের করতে পারলে এটা তোমাদের৷
- আপনার মেয়ে কি গাড়ি চালাতে জানে? - কী?
না, জানে না৷
তাকে কলেজে নিয়ে যেত কে?
একটা ড্রাইভার ছিল৷
- "ছিল"? - বদমাশ ছিল একটা!
ভেগে গেছে৷
- মোট কয়জন ড্রাইভার আপনার? - তিনজন৷
তাদের সাথে না এনে আপনি গাড়ি চালিয়ে আসলেন কেন?
আমার এখানে আসার ব্যাপারে কাউকে জানাতে চাই না৷
- এ ঠিকানা কোথায় পেলেন? - আমার ম্যানেজারের কাছ থেকে৷
আমার হাতে তিনটা কেস রয়েছে, তাই আপনারটা নিতে পারছি না৷
পঁচিশ লাখ রূপী!
আপনি আসতে পারেন৷
কানি?
এই যে নাও ব্লাঙ্ক চেক!
ইচ্ছেমতো সংখ্যা বসিয়ে নাও, কিন্তু মেয়েকে ফেরত চাই আমার!
কোন কেস না পাওয়াতে তুমি অস্থির হয়ে ছিলে!
- অার এটা পেয়েও ছেড়ে দিলে! - এমন কেইসের দরকার নেই৷
- পঞ্চাশ লাখ টাকার কেইস ছিল! - তা ঠিক৷
কী "ঠিক"?
অধিকাংশ মানুষের কাজ হল বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর উপর চোখ রাখতে গোয়েন্দা ভাড়া করা৷
জানি তুমি অমন গোয়েন্দা নও, কিন্তু এটা সমাধান করতে তো দুদিনও লাগত না তোমার৷
লোকটা ব্লাঙ্ক চেক দিতে চাইল, আর তুমি কী না ফিরিয়ে দিলে!
- লোকটাকে পছন্দ হয়নি৷ - তাতে কী আসে?
কেইস হল মূল বিষয়৷
ওনার মেয়েটাকে খালি বের করলেই হতো, কানি!
- তাহলে মেয়েটা মারা যেত৷ - কী?
মেয়েকে খুঁজে আনলে উনি নিজ হাতে হত্যা করতেন৷
কী যা তা বলছ?
মেয়েটা ড্রাইভারের সাথে পালিয়েছে৷
লোকটা পা দিয়ে চাবিটাকে কী করল খেয়াল করনি?
মেয়েকে নিয়ে দুঃখের চেয়ে তার জিদ বেশি৷
মেয়েটাকে খুঁজে আনলে কিছুদিন পর হয়তো কোন নদীর কিনারায় বা ট্রাকের ভিতরে ওর লাশ খুঁজে পেতে৷
এমনকি ওর নিজের ঘরেও ঝুলন্ত পেতে পারতে৷
আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে কেইস বন্ধ করে দেয়া হত৷
এখন বল, এ কেইসটা কী জন্য নিব?
পেশার খাতিরে?
তাহলে পেশাকে অসম্মান করা হবে৷
কী শুরু করল সবাই?
হাসছো কেন?
ম্যাজিক দেখে!
কীসের "ম্যাজিক"?
পাঁচ সেকেন্ড আগে যেটা ঘটল৷
- পাঁচ সেকেন্ড আগে কী ঘটেছে? - পকেটমারের একটা নতুন আর্ট দেখলাম৷
- কার পকেট মারা হয়েছে? - তোমার৷
এই তো আমার মানিব্যাগ৷
আর টাকা?
চার হাজার টাকা ছিল, এখন আছে দু' হাজার!
কীভাবে সম্ভব এটা?
ফোনে কথা বলার ভাব ধরো!
হ্যালো ম্যাডাম, প্রিয়দর্শন বলছি৷
আমি ভাল আছি, আপনার কী খবর?
ব্যবসার কী অবস্থা?
আমি মাত্রই আপনাকে কল দিতে চেয়েছিলাম৷
জ্বী, কাপড়-চোপড়ের একটা চালান এসেছে৷
সন্ধ্যায় আমি লোক মারফত কিছু স্যাম্পল পাঠিয়ে দিব৷
দেখে ভাল লাগলে দয়া করে জানায়েন৷
আপা! চশমা পরা একটা টাকলা, গায়ে সবুজ শার্ট আর হাতে ব্রিফকেস আছে৷
ম্যাডাম, পুরোন একটা পাওনা কিন্তু এখনো বাকী৷
ওটা একটু পরিশোধ করে দিলে ভাল হবে৷
এই চালানের পাওনাও যদি একসাথে দিয়ে দেন তাহলে কৃতজ্ঞ থাকব৷
জ্বী, ম্যাডাম৷
ওটা নিয়ে একদম ভাববেন না, আমি সব সামলে নেব৷
ভদ্র ঘরের মেয়েদের সাজ নিয়ে পকেটমারা, ভালই!
-স্যার, কী বলছেন! আমি ভদ্র পরিবার থেকে... -চুপ!
ভদ্র পরিবার! চোরের মা'র আবার বড় গলা!
তোমাদের কাণ্ড-কারখানা দেখেছি এতক্ষণ৷
ঐ লোকটার থেকে কত নিয়েছ?
আপা, কে এরা? কী চায়?
আমরা মিষ্টি খেতে চাই! চল্ থানায়!
ভাইয়া, ভাইয়া, প্লিজ, আপনার টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছি৷
- দয়া করে কাউকে ডাক দিয়েন না! - আমি সবাইকে জড়ো করব এখনই৷
তোমাদের কাজের পদ্ধতি ভাল লেগেছে, আগামিকাল সকালে এই ঠিকানায় আসবে৷
আর এটা রেখে দাও৷
একটা পকেটমারকে আমাদের ঠিকানা দিলে
তুমি না থাকলে আমি ঠিকই ওদের পুলিশের হাতে তুলে দিতাম৷
কী সমস্যা খোকা? এখানে কী চাই?
গোয়েন্দা আংকেলের সাথে দেখা করতে চাই৷
- ঠিক আছে, বলো কী সমস্যা? - না, আমি গোয়েন্দা আংকেলকে বলব৷
আমাকে দেখে কি গোয়েন্দা মনে হয় না?
না, আপনি তো রাঁধুনী৷
পেঁয়াজের গন্ধ আসছে আপনার থেকে৷
চলো৷
বসো৷
বাবার আইপ্যাডে 'ডিটেকটিভ' লিখে সার্চ দেওয়ার পর তো...
...অনেক ঠিকানাই পেয়েছিলে, এখানে আসলে কেন?
অন্য গোয়েন্দাদের বিজ্ঞাপনগুলো সিনেমাটিক৷ মাথায় ক্যাপ, হাতে বন্দুক, চোখে সানগ্লাস..
কিন্তু আপনারটাতে কেবল লিখা- 'ডিটেকটিভ কানিয়ান পুনগুনদ্রান'৷
সেটা দেখেই আমি এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷
- স্কুল বাদ দিয়ে এসেছ এখানে? - জ্বী৷
নাম কী তোমার?
নাভিন৷
এবার বলো গতরাতে কী হয়েছিল?
আমাদের বাসা নিলানকারায়, সমুদ্র তীরবর্তী একটা বাংলো৷
- বীচ থেকে সর্বোচ্চ কতদূর হতে পারে? - ৩৪৩ ফিট৷
কিছুদিন আগে আমি আর আমার ছোট বোন এটা মেপে বের করেছিলাম৷
বলে যাও৷
আমাদের কুকুরছানার নাম হল 'নেমো'৷
প্রতিদিন রাত ৯:৩০ এ ওকে গেট খুলে বের হতে দেই৷
গায়ে একটু হাওয়া লাগিয়ে ও আবার ৯:৪০ এ ফিরে আসে৷
কিন্তু গতরাতে আর ফিরে আসেনি৷
ও হারানো কুকুরের খোঁজে এসেছ তাহলে?
না, একটা মৃত কুকুরের ব্যাপারে৷
অনেক রাত হলেও নেমো আর ফিরে আসল না৷
আমি মাকে জানালাম বিষয়টা৷
উনি বললেন সে রাতের গভীরে ফিরবে আর আমার উচিৎ ঘুমিয়ে পড়া৷
আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে নেমোর ফেরার অপেক্ষা করছিলাম৷
একটার দিকে আমি আর ছোট বোন আর ধৈর্য ধরতে না পেরে বাবা-মাকে জাগিয়ে তুললাম৷
বাবা গেট খুলে নেমোর খোঁজে বের হলেন৷
আমাদের গেট থেকে প্রায় বাইশ ফিট দূরে নেমোর মৃতদেহ পাওয়া গেল৷
টর্চ মারার পর দেখা গেল নেমোর পুরো শরীর রক্তে ভেসে আছে৷
- নেমো কোন জাতের? - পমেরিয়ান৷
আমরা খুব কাঁদছিলাম৷
আমি বাবা-মাকে বললাম, পুলিশে খবর দিতে৷
পৌনে দুইটার দিকে একজন কনেস্টবল আসলেন৷
সে বলল তার বহু ব্যস্ততা রয়েছে, এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই৷
তাই তো?
উনি এটাও বলেছেন যে, আমরা চাইলে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট আমাদের জন্য আরেকটা কুকুর কিনে দিবে৷
তোমার বাবা-মা কুকুরটাকে বাগানে কবর দিয়ে দিল৷
আব্বু-আম্মু সকালে একটা বিয়েতেও যায়৷
আমার বোন ঘুম থেকে উঠে বলে, সে নেমোকে দেখতে চায়৷
আমি একটা কোদাল নিয়ে নেমোর কবর খুঁড়তে শুরু করলাম৷
বাবা নেমোকে একটা সাদা কাপড়ে জড়িয়ে কবর দিয়েছিলেন৷
কবরের ভিতর আমাদের নেমো শুয়ে ছিল...
আমরা ওকে দেখছিলাম, এর মধ্যেই আব্বু-আম্মু ফিরে এলেন৷
আব্বু খুব বকলেন আমাদের!
আমি নেমোকে আবার গর্তে শুইয়ে দিলাম, বাবা মাটি দিয়ে গর্ত পুরে দিলেন৷
- আচ্ছা..শান্ত হও! - বলতে দাও!
নেমোকে যখন আবার কবরে শোয়াচ্ছি তখন ওর শরীরে...
এটা পাই...
কানি, এটা তো বুলেট!
শার্লক হোমস টিভি সিরিজ দেখেছি আমি৷
কিন্তু বাস্তবে এমন কেউ নেই৷
নেমোর খুনীকে বের করতে চাই আমি৷
কিন্তু কীভাবে বের করব আমি জানি না, প্লিজ আপনি কি আমার জন্য এতটুকু করবেন, আংকেল?
এগুলো আমার হাত খরচের জমানো টাকা৷
আটশ সাতত্রিশ রূপী৷
এগুলো ফি হিসেবে রেখে আমার নেমো'র খুনীকে বের করে দিবেন, আংকেল?
No comments yet. Be the first to leave one.