The first 166 lines.
অনুবাদ আয়োজনে: "TEAM WBMF"
অনুবাদ এবং সম্পাদনায়: "শহিদুল ইসলাম নীরব"
হুজুর, সমরকন্দ ব্যাপারে যতটুকু শুনেছিলাম তার থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
কোনো দেওয়ালই উদ্দেশ্যের রাস্তাকে থামাতে পারে না।
গুলিবর্ষণ চলতেই থাকবে।
-কিন্ত, বাদশা- -আমি এখানে সমরকন্দ জয় করার জন্য এসেছি।
আর জয় করেই যাবো।
আমার নানি জান বলেন, সমরকন্দের উপর কেবলমাত্র আমাদের হক রয়েছে।
আর আমার নানি জান কখনো ভুল বলে না।
আপনার এক ইশারায় ভেতরে থাকা, সকল সিপাহী একবার না বারবার জীবন দিতে পারে।
কিন্তু তারা তাদের বাদশাহের আদেশ মানছে হয়তো
নিজের নয়।
এখানে কেউই আমাদের সিদ্ধান্তের সাথে সহমত নয়।
আপনার নেতৃত্বে এই বাহিনী ভীড়া জয় করেছে ও বাজৌর জয় করেছে।
তাহলে সহমত কেনো হবে না?
কারণ ছোটবেলায় সমরকন্দ তে হামলা করাটা আমাদের পাগলামি ছিল।
কিন্তু আজ এখানে আমাদের হিন্দুস্তানের উপর আক্রমণ করা আমাদের বোকামি আর কিছু না।
আজ আমরা ইব্রাহিম লোদীর ক্ষমতা অবমূল্যায়ন করছি,
যেভাবে ছোটবেলায় শেবানি খানের ক্ষমতাকে করেছিলাম।
উমর শেখ ও আমার সাথে দেখা না করেই চলে গেল।
আর এখন ... বাবরও।
আমি এতো দূর থেকে এখানে দেখা করতে আসলাম।
আতিথেয়তায় কাঁচা ফার্গানার মানুষ।
যাইহোক, এখন আমি এসে গেছি।
নিয়ম ও খিদমত শিখিয়ে দেব সবাইকে।
আমার ছেলেকে ছেড়ে দিন!
আমি তো শুধু একজন রক্ষিতা মাত্র বাদশাহের।
আর এ আমার জিব্রান,
অসম্পূর্ণ রাজকীয় রক্তের।
মানে আমার রক্তের।
আর সে নাজায়েজ।
আমাদেরকে ছেড়ে দিন।
আর এর বদলে, আপনাকে সাহায্য করতে পারি।
কাম্বর আলী, আপনার পরামর্শ নিয়ে আমি ফারগানা এসেছি।
তো, আমার উপদেষ্টা হিসেবে আপনি বলুন,
এই রক্ষিতা কি আমাদের সাহায্য করতে পারবে?
জি।
সেই আমাদেরকে খবর দিয়েছিল যে বাবরের রাজ্যাভিষেক হবে।
বছরের পর বছর, তোমাদের আনুগত্য কেবলমাত্র অভিনয় ছিল!
তোমরা ফারগানার সিংহাসনকে, নিজের বাদশাহকে ধোকা দিয়েছো।
তুমি....আমাদেরকে ধোকা দিয়েছো!
আর তুমি....
একটা রক্ষিতার থেকে এছাড়া আর কি ই বা আশা করা যায়!
ব্যাস, একটু সম্মান দিন এই রক্ষিতাকে ।
-সম্মানের যোগ্য যদি তুমি হতে-- -অনেক বলেছেন!
নিজের জামাতার ক্ষমতায় অনেক উড়েছেন।
জামাতা মারা গিয়েছে আর তার সাথে এই দরবারে তোমার সম্মান ও--
বয়স্ক ও নারীদের সাথে অসদাচরণ আমার পছন্দ না।
মাঝখানে কথা বলা লোকও আমার পছন্দ না।
কি বলতেছিলেন যেন আপনি?
আমার যা বলার ছিল তা বলে দিয়েছি।
তো এখন আমি বলি?
যদি নীতি তৈরী না হতো, তাহলে রক্তপাতও কম হতো।
কিন্তু নিয়ম তো নিয়মই।
"বাদশাহর পর তাঁরই রাজকীয় রক্ত সিংহাসনে বসবে"
তো এখন আমি কী করি?
যতক্ষণ রাজকীয় রক্তের প্রতিটি ফোটা না ঝড়বে,
আমি কিভাবে সিংহাসন পাই?
আরেকটি উপায় আছে!
আপনি তাকে হত্যা না করেই এই সিংহাসনে আরোহণ করতে পারেন।
রাজকীয় রীতি অনুযায়ী,
যদি কারো মধ্যে সামান্য কোনো কমতিও থাকে তবে সে বাদশা হতে পারবে না।
সামান্যতম কমতি।
শুকরিয়া।
পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারো যে শেবানি খান সমরকন্দ থেকে চলে গেছে?
জি।
কোথায়?
এটা আমি জানি না, কিন্তু বিশ্বাস করুন তিনি গিয়েছেন।
সমরকন্দের উজির আবু বকশ কে বাদশা ঘোষণা করে।
আর ঐ গাদ্দার আমাদের সকল আনুগত্যকারীদেরকে বন্দি করেছে।
বাদশা বাবর আপনার বাবার কাছে সাহায্যের জন্য বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
যার জবাব আজ পর্যন্তও আসে নি।
তাহলে, আপনি আবার এখানে কিভাবে?
কারণ এই সিদ্ধান্ত আমার ছিল, আমার আব্বা-হুজুরের না।
তা মামুজান কি এই সিদ্ধান্তের সাথে সহমত আছেন?
আসলে...
আসলে , আবু বকশ'র মেয়ে, নিস্কা.....
-আমরা দুজন একে অপরকে-- -আপনাকে ওয়াদা করছি..
আবু বকশকে রাস্তা থেকে হটানোর পরই
আপনার এবং নিস্কার বিয়ে হবে।
কিন্তু সে কি তার আব্বার হার দেখে....?
আপনি চিন্তা করবেন না।
সে আমাদেরকে পুরো সাহায্য করবে।
নিজের বাবার বিরুদ্ধে?
কেন?
সমরকন্দের সিংহাসনের জন্য।
ঐ সিংহাসন যা বিয়ের পর আপনার হবে?
না ভ্রাতৃত্বের জন্য , না ভালোবাসার জন্য..
আপনি আমাদের সাহায্য করছেন শুধু মাত্র সিংহাসনের জন্য।
আমরা...রাজি।
হুজুর, সমরকন্দের উপর শুধু আপনার অধিকার আছে।
তো সেটা দেওয়ার অধিকার ও শুধু আমার ই থাকে, উজির খান।
আর আপনি?
আমার আব্বা হুজুর আমাকে, ফারগানা তে হিন্দুস্তানের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।
আর যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার এই স্বপ্ন পূরণ না করছি ,
আমি ফারগানাতেই থাকবো।
আমি মাহমুদকে সামারকন্দের সিংহাসনে বসিয়ে, ফিরে যাব..
আর সে আমার নেতৃত্বে রাজত্ব করবে।
জিজ্ঞেস করুন তাকে, সে কি রাজি আছে?
আমি রাজি।
থামো!
হুজুর, সে চোর।
কি চুরি করেছে সে?
আমরা তাকে গোলাবারুদ এর তাবু থেকে ধরেছি।
তো মনে হচ্ছে ওগুলোই।
কি চুরি করেছো তুমি?
নাম কি তোমার?
কাসেম সাইদুদ্দিন।
আপনার এই অবরোধের কারণে
আমার মতো সাধারণ মানুষ ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে।
আবু বকশ শুধু রাজকীয় গুদাম ভরায় ব্যস্ত থাকেন।
খাদ্যশস্যের দাবি করলে, আমাদের জিহ্বা কেটে ফেলা হয়।
গুদামের দিকে তাকালেই ,
চোখ উপরে ফেলে তার সিপাহীরা।
শহরে লোকের থেকে লাশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
তারপরও আবু বক্শ'র কোন করুণা হয় না।
রাজকীয় গুদামে ঢুকার চেষ্টা করেছিলাম আমি কিন্তু পারি নি।
তুমি এখানে পৌছালে কীভাবে?
আমরা তো শুনেছিলাম সমরকন্দ হতে বের হবার সকল রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে।
মিথ্যে বলছে, হুজুর।
পাহাড়ের একটা অসহায় বাসিন্দা সে।
অসহায় তো তুই!
একচক্ষু সৈনিক!
ব্যাস!
যা জিজ্ঞেস করেছি তার জবাব দাও।
পূর্বদিকে প্রাচীরের ফটকে,
মাটি থেকে অনেক উপরে একটা ছিদ্র আছে।
ওখান থেকে আমি এসেছি।
আমাদের সৈন্যরা কি তোমার সাথে যেতে পারে?
সময় অনেক কম হবে।
দ্বিতীয় প্রহরী আসার আগে আমাদের কে ভিতরে প্রবেশ করতে হবে।
তাছাড়া, ফাটল এত মানুষের ওজন সহ্য করতে পারবে না।
আমি তার সাথে যাব, উজির।
না, হুজুর,আমরা আপনাকে এই ঝুঁকি নিতে দিতে পারি না।
আমি একা যাব না, মাহমুদও যাবে আমাদের সাথে।
এই সাহায্যের বিনিময়ে আমি কি পাব?
আপাতত, এটা রেখে দাও।
আর যখন আমরা জিতে যাব, তখন যা ইচ্ছে চাইতে পারো।
দাড়াও!
দূর্গের এই পাশে আসা নিষেধ,
জানো না?
আমরা... আমরা এখানে এমনি...
সে বাজি ধরেছিল এখানে আসার জন্য।
চলো আমার সাথে।
দেখো, আমাদেরকে মাফ করে দাও। আর কোনোদিন এরকম হবে না।
আমার আম্মু জানতে পারলে, আমাকে মেরেই ফেলবে।
এই, না!
অযথা কেন মেরে ফেললে!
তাকে মারার জন্য কোনো কারণ লাগে না।
আবু বকশের প্রতি প্রত্যেক সৈনিকের এরকম পরিণতি হওয়া উচিত।
চলো।
নিশকার ঘর প্রাসাদের সামনের দিকে।
ওখানে নিয়ে চলো।
-ওখানেই সামনে? -হ্যা।
এর থেকে ভাল হবে ছাদের রাস্তা দিয়ে গেলে।
এখন আমাদের যুদ্ধ শুরু।
শুকরিয়া।
আমরা তোমার কাছে ঋণী।
চলো...চলো।
-মাহমুদ! -ভয় পেয়ো না।
সে আমাদের শত্রু নয়। আমার ফুফাতো ভাই।
জহির উদ্দিন বাবর।
কিন্তু বাবর এখন আমাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত।
নিশকা, আমি মাহমুদের কাছ থেকে নয়, আপনার কাছ থেকে শুনতে চাই...
মাহমুদ..
আপনি কি সিংহাসনের জন্য আপনার বাবার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন?
No comments yet. Be the first to leave one.