The first 200 lines.
রেডি?
না, হয়নি।
রেডি?
না, হয়নি।
রেডি?
না, হয়নি।
রেডি?
না, হয়নি।
রেডি?
না, হয়নি।
রেডি?
না, হয়নি।
রেডি?
না, হয়নি।
রেডি?
না, হয়নি।
রেডি, আসছি।
বেঁচে গেছি!
বেঁচে গেছি!
বেঁচে গেছি!
- বেঁচে গেছি! - বেঁচে গেছি!
রেডি...
রেডি...
এই আমি আসছি।
অনুবাদে: 〄 AsadujJaman 〄
এইমাত্র পাওয়া খবরে জানতে পেরেছি আমাদের চৌকস সেনাবাহিনী...
শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে।
সামরিক কর্মকর্তারা মনে করেন আমাদের বীর যোদ্ধাদের ক্লান্তিহীন...
প্রচেষ্টার ফলে উক্ত এলাকায় আমাদের সাফল্য অব্যাহত থাকবে।
দিনের পরবর্তী ভাগে পরিস্থিতির আরো আপডেট জানানো হবে।
জানি না কার অবস্থা বেশি করুণ।
গোলক ধাঁধায় আটকে পড়া ইঁদুরটা, এই মূর্খ ছাত্র-ছাত্রীগুলো...
নাকি আমি।
এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর, এই সামান্য খেলাটাই শেষ করতে পারছে না।
ওহ, মাফ করবেন, ডঃ রিফাত। ভীষণ দুঃখিত।
মার্ফির ১ নম্বর সূত্র।
"অঘটন যা ঘটার তা ঘটবেই।
কিন্তু জানেন-ই তো, এটা একটা ভালো ইঙ্গিত।
তো ভালো ইঙ্গিত মানে কি শুধুই কফির ছলকে পড়া?
নাকি ভালো ইঙ্গিতের ক্যাফেইনে অরুচি?
কফি নিজে নিজে পড়ে না,
আর ভালো হোক মন্দ হোক, ইঙ্গিতের ঘাড়ে সে দোষ চাপানো ঠিক না।
মানুষের সৌভাগ্যও থাকে, মন্দ ভাগ্যও থাকে।
মন্দ ভাগ্যের কথায় মনে পড়লো, অনেকেই আমাকে দুর্ভাগা বলে।
যেমন ধরুন, এলাচি দেখতে না পারার পরও সেটা শেষপর্যন্ত আমার মুখেই এসে জুটবে!
কারণটা সম্ভবত ডিনারে সবার শেষে এসেছিলাম...
এবং সবার শেষে খাবার নিয়েছিলাম বলে।
এটিই সবচেয়ে যৌক্তিক ব্যাখ্যা।
জিনিসটা নিশ্চিতভাবেই আমি অভিশপ্ত বা ভূতাবিষ্ট বা দুর্ভাগা বলে ঘটে না।
ওই মাথামোটাগুলো যেমন দাবি করে।
আমি একমাত্র সেই সূত্রগুলোই বিশ্বাস করি যেগুলো বৈজ্ঞানিক ভিত্তির বাহিরে গিয়ে...
বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার মার্ফি প্রণয়ন করেছেন।
যেমন ধরুন,
মানুষের সবসময় খারাপটিই আশা করা উচিত।
কারণ খারাপটিই ঘটবে।
সম্ভবত, আমার জীবনটাই এই সূত্রগুলোর জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ।
আর, পৌরাণিক প্রাণীদের কোনো অস্তিত্ব নেই।
কী দরকার কোনো অশরীরি পর্দাটা কাপাচ্ছে ভাবার...
যখন আমরা জানি যে ওটা কেবল-ই বাতাসের কারসাজি।
অথবা দরজার ওপাশে এক ভূত ঘাপটি মেরে আছে যখন জানিই যে ওটা কেবলই ঘুনে ধরা এক দরজার আর্তনাদ।
আর রাস্তার আলো গাছে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্ট আকৃতিগুলোর কথা তো বাদ-ই দিলাম।
আমাকে কি বিশ্বাস করতে হবে যে এই ছায়াগুলো...
কোন এক বাচ্চা মেয়ের ছায়ামূর্তি?
মিঃ মার্ফি'র মতো, আমিও, ডঃ রিফাত ইসমাইল, নিজের কিছু সূত্র বানিয়ে নিয়েছি।
প্রথম সূত্রটি হচ্ছে প্রকৃতি ১+১ = ২ এই নীতিতে চলে।
ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে।
এই সমীকরণের বাইরে যাওয়া সবকিছুই অস্বাভাবিক।
আর অলৌকিক বলে কোনোকিছুর অস্তিত্ব নেই।
বেশিরভাগ দিনে, আমি আমার ধূসর স্যুটটা পড়ি। কিন্তু যেহেতু আজ আমার ৪০তম জন্মদিন,
আর খুবই বাজে মুডে আছি, বিশেষ উপলক্ষের জন্য বাঁচিয়ে রাখা স্যুটটা পড়ছি।
গাঢ় নীল রঙেরটা যেটায় আমাকে বেশ সুদর্শন দেখায়।
হ্যালো, রাইফা।
আজ লাঞ্চের আয়োজন করেছি...
আর তুই হোয়াইদা'কে নিয়ে আসছিস।
আর ভুলেও আংটিটা পরে আসতে ভুলবি না। ওটা কি পড়ে আছিস?
মেয়েটাকে পছন্দ আমার, চাই না ওর মন খারাপ হোক।
যদি তাকে সত্যিই পছন্দ করতে, তাকে এক্ষুণি পালাতে বলতে।
আর তার পোড়া কপালকে এড়াতে বলতে।
আজ জন্মদিনের উদযাপনটা বাদ দাও, রাইফা।
জানোই তো এসব অপছন্দ করি।
আর চাই না কেউ বিরাট কিছু করুক।
কেকটা ফেরত দাও।
কিসের জন্মদিন? ওটা তো আমার মাথাতেই আসেনি।
কোনো কেকও কিনিনি। শুধুই লাঞ্চের আয়োজন করেছি।
এলহাম স্যুপ খাবার বায়না করেছিল,
তাই ভাবলাম তোর পছন্দের মাংসের চপ দিয়ে একটুখানি বানিয়ে ফেলি।
শুনে জিভে পানি আসছে না?
কেবল একটু খাওয়া-দাওয়া করবি। বড়ো কিছু না...
কী চাস আমার কাছে?
যা, যেতে চাইলে চলে যা।
এমনিতেও কখনো বেড়াল পুষতে চাইনি।
জোর করে তোকে গছিয়ে দিয়েছে।
কিছু মানুষ ক্ষণিকের জন্য তোমার হৃদস্পন্দন থামিয়ে দিতে পারে,
এমনকি ১৫ বছর পর দেখা হলেও।
ম্যাগি।
ম্যাগি এখন মিশরে।
কী অবাক কান্ড।
এবার বুঝলাম কেন আজ গাঢ় নীল স্যুটটা পড়েছি।
দেশের এমন এক পরিস্থিতিতে তুমি দেশে ফিরেছো ভাবতেই অবাক লাগছে।
আমি রৌদ্রজ্জল কায়রো দেখার আশায় ছিলাম।
কিন্তু এখন এডিনবার্গের চাইতেও মেঘাচ্ছন্ন মনে হচ্ছে জায়গাটাকে।
অনেক চুল পড়ে গেছে দেখছি।
তোমার সোজাসাপ্টা কথা বলার অভ্যেস একদমই বদলায়নি, ম্যাগি।
তো...
এখানে এলে কী মনে করে?
প্রতিবার মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওয়া বৃত্তি প্রত্যাখ্যান করতাম।
এ বছর, আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ডিভোর্সের পর,
মনে হলো এমন একটা ভ্রমণের খুব প্রয়োজন।
আমার দূরে কোথাও যাবার প্রয়োজন ছিল। হয়তো নতুন শুরুর জন্য।
ডিভোর্স?
আমি জানতাম না। দুঃখিত।
আসলেই?
আমি দুঃখিত না।
কোথায় উঠেছো তুমি? তোমাকে পৌঁছে দিতে পারি।
তুমি কোথায় যাচ্ছো?
আমার বোনের ওখানে।
লাঞ্চের দাওয়াতে।
মিশরীয় খাবার থাকবে?
ভুলেও দাওয়াত দিস না। ভুলেও না! রাইফা তোকে জ্যান্ত চিবিয়ে খাবে।
তুমি যেতে চাও?
তুমি নিশ্চিত?
যথারীতি একদমই লজ্জা করবে না।
যদি আমাকে নিয়ে যাওয়া ঠিক না হয়, বলে ফেলো।
না, ওরা বেজায় খুশি হবে।
এবার দোলমা আর মুরগির রোস্টটা হয়ে গেছে।
আচ্ছা।
এবার ঘ্রাণের জন্য কয়েকটা এলাচি দিয়ে দেবো।
শোন, রিফাতের সামনে একদম ইতঃস্তত করবি না।
আমি আমার ভাইকে ভালো করে চিনি। একগুয়ে প্রকৃতির।
ওকে একটু সহজ করে নিতে হবে।
আমি মোটেও ইতঃস্তত বোধ করি না, আপা।
শুধু ভাইয়ার সামনে পড়লে কী করবো বুঝতে পারি না।
"ভাইয়া"?
নিজের হবু জামাইকে ভাইয়া বলে ডাকছিস? পোড়া কপাল!
জ্ঞান হবার পর থেকে তো ওই নামেই ডেকে এসেছি।
তখন তুই ওর খুড়তুতো বোন ছিলি। এখন ওর বাগদত্তা হয়ে গেছিস।
বুঝেছিস?
আর শীঘ্রই ওর বউ হবি, তাই প্রশ্রয় দিবি।
ওনার জন্য একটা টাই কিনেছি। আজ ওনাকে দেবো ওটা।
দেখেছেন?
ভালো। সবসময় ওর পরে থাকা জঞ্জালগুলোর চাইতে সুন্দর হয়েছে।
মা, মা। একটা কথা বলতে পারি?
কী হয়েছে, তাহা?
- কালকে, আমি... - শোন, ও খেয়েছে কি-না জিজ্ঞেস করবি।
পাতে খাবার তুলে দিবি, না করলে, আরো বেশি ঢেলে দিবি।
আচ্ছা।
খোদার কসম আমি এটা ধরিনি।
খোদার কসম, একদিন পিটিয়ে তোর পিঠের ছাল ছাড়াবো আমি!
শুনেছিস, তাহা?
এলাচি কি দিয়েছিলাম?
এলাচি সবসময় খাবারে সুন্দর একটা সুগন্ধ আনে।
তাহা!
তাহা!
গেল কোথায় ছেলেটা?
কেউ ওকে দেখেছো?
আসসালামুয়ালাইকুম।
- ওয়ালাইকুমুস সালাম। - আসুন, রিদা। স্বাগতম।
- কেমন আছো, তালাত? - আসুন। আসুন।
- স্বাগতম। - রিফাত এখনো আসেনি?
ও রাস্তাতেই আছে। বসে পড়ুন।
সেই মনসুরা থেকে এলাম। এরপরও আগে এসে পড়েছি!
- এসেছেন বলে খুশি হয়েছি। - কী রে, রাইফা?
কেমন আছেন?
- দৌড়াস না। - আমি ভালোই আছি।
ব্যস, ব্যস।
আমি এলাচি দিয়ে স্যুপ বানিয়েছি।
- একটা কেকও বানিয়েছি। - কেক?
ও বানাতে নিষেধ করেছিল, কিন্তু ওর জন্মদিনে কেক বানাবো কি বানাবো না...
- সেটা তো ওর মর্জি না। - রাইফা, সত্যিই তুই লা জবাব।
তাহা!
মারহাবা, মারহাবা, আমাদের সুন্দরী হবু বধূ যে।
দেখা হয়ে ভালো লাগলো, কেমন আছেন?
- কেমন আছো, বাছা? - ভালোই আছি।
মেধাত আর এলহাম কোথায়?
হ্যালো ভাইসব!
ওই যে এসে পড়েছে।
- হাই, রিদা? দেখা হয়ে ভালো লাগলো। - হ্যালো। হ্যালো।
যাইহোক, রিফাত ওর গাড়ি পার্ক করছে। মাত্র দেখে এলাম।
আগে যাও।
ওপরের তলায়।
কিছু হয়েছে?
কিছু না।
মেয়েটা কে?
দুঃখিত, দেরি হয়ে গেল।
রিফাত আর আমি স্কটল্যান্ডে একসাথে পড়তাম।
মেয়েটা কে রে, রিফাত?
এই মুহূর্তটার ভয়েই ছিলাম। রাইফা ওর ছোরায় শান দিচ্ছে।
দুঃখিত, আমি রিফাতের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী।
- ভালোই তো আরবী জানো দেখছি। - জি, ধন্যবাদ।
বাহ! মেয়েটা পারফেক্ট! খোদার কুদরত!
পরিচিত হয়ে খুব ভালো লাগলো। ডক্টর সাহেবের বন্ধু আমারও বন্ধু।
ও হচ্ছে রাইফা, আমার বোন। উনি তার স্বামী তালাত।
উনি হচ্ছেন রিদা, আমার বড়ো ভাই।
ও হচ্ছে মেধাত, তালাতের ভাই। আর ও তার স্ত্রী, এলহাম।
আমরা সবাই ছেলেবেলার বন্ধু।
আমার কাজিন আর বাগদত্তা।
রিফাত কাজে এতো ব্যস্ত থাকে যে মাঝেমাঝে ওর আংটিটাও পরতে ভুলে যায়।
এবং তার শাণ দেওয়া ছোরা দিয়ে আঘাত হানা শুরু হয়ে গেল।
ভেবেছিলাম ওটা পরেই বেরিয়েছি। দুঃখিত ভুলে গেছি।
No comments yet. Be the first to leave one.