The first 155 lines.
মাত্র ৫০ বছর আগে...
...আমরা প্রথমবারের মতো চাঁদে পা রেখেছিলাম।
প্রথমবারের মতো, সেখান থেকে আমাদের পৃথিবীকে দেখেছিলাম।
বর্তমানে পৃথিবীর জনসংখ্যা, তখনকার দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
এই সিরিজে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যগুলোকে তুলে ধরা হবে...
...এবং জানাবে, মানুষ ও প্রকৃতির জন্য আমাদেরকে কী কী রক্ষা করতে হবে।
আমাদের পৃথিবী ::: বাংলা সাবটাইটেল ::: সাঈম শামস্
বন।
পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশি সবুজ গাছ...
...এখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
আমাদের অনেকের কাছে এগুলো রহস্যময় এবং অন্ধকার স্থান।
এগুলো আমাদের জলবায়ুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং অসংখ্য প্রজাতির আবাসস্থল।
অতীতে আমরা কোনো দ্বিধা ছাড়াই এগুলো ধ্বংস করেছি।
তবে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বনের অসাধারণ সক্ষমতা আছে।
::: পর্ব ৮ ::: বন
এটা উত্তুরে বনের দক্ষিণ কিনারা।
এই বন সুদূর দক্ষিণে থাকা অঞ্চলের ওপর প্রভাব রাখে।
এটা পূর্বদিকে রাশিয়ার ওপর দিয়ে কয়েক হাজার কি.মি ব্যাপী বিস্তৃত।
আর এখন, শীতকালের মাঝামাঝি সময়ে এর অধিকাংশ স্থানে সুনসান নিরবতা।
দেখে মনে হয়, এখানে কোনো প্রাণী নেই।
কিন্তু এমন এক প্রাণীর আবাস্থল যা এতটাই বিরল যে, প্রায় রূপকথার পর্যায়ে চলে গেছে।
সাইবেরিয়ান বাঘ।
তারা সংখ্যায় ৬০০ এর কম।
বন্য পরিবেশে এদের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছ থেকে তোলা ভিডিও এটি।
একটি পুরুষ সাইবেরিয়ান বাঘ প্রায় ২ হাজার বর্গ কি.মি এলাকা ঘুরে বেড়ায়।
পর্যাপ্ত শিকার পেতে তাকে এটা করতে হয়।
কারণ দীর্ঘ শীতকাল জুড়ে ওকে টিকে থাকতে হবে।
এটি একটি গরীব অঞ্চল এখানে যেকোনো খাবার দুষ্প্রাপ্য।
একটি পাইন শঙ্কু।
শীতকালে পাইন বাদাম জরুরি শক্তির যোগান দেয়।
বন্য শুকর এই বাদামের ওপর নির্ভরশীল।
ওদেরকে এটা মুখে নিয়েই সরে যেতে হয়।
কারণ ওরা নিজেরা বাঘের খাবার।
এরকম লুকোচুরি খেলা বনের বিশাল অঞ্চল জুড়ে চলে।
সবাই এই জীবন রক্ষাকারী পাইনের খোঁজ করে।
চোরাশিকারের কারণে সাইবেরিয়ান বাঘ প্রায় বিলুপ্তি দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল।
কিন্তু ১৯৮০ থেকে, তাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
এই বিরল দৃশ্যগুলো জানাচ্ছে যে...
...তাদের ভবিষ্যৎ এখনো শিকার করার মতো বিশাল বনের ওপর নির্ভর করছে।
বোরিয়াল বন রাশিয়া থেকে পূর্বে বিস্তৃত হয়েছে...
...ইউরোপ হয়ে উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত।
এখানে ৭৫০ বিলিয়ন গাছ আছে।
পৃথিবীর মোট কার্বনের ৪০% এই বন শুষে নেয়...
...যা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শীতকালে দিন এত ছোট আর তাপমাত্রা এত কম যে...
...বন বাড়ে না বললেই চলে।
সুদূর উত্তরে, বন অল্প কিছু প্রাণীকে সহায়তা করতে পারে...
...গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইন ফরেস্টের তুলনায়।
অনেকেই খাবারের জন্য এখানকার নদীর ওপর নির্ভরশীল।
পশ্চিম আলাস্কায়, বসন্ত এবং এখনকার শরতকালে...
...স্যালমন মাছ সাগর ছেড়ে...
...নদীতে আসে যা তাদের পৈর্তৃক জন্মস্থান।
তাদের এভাবে সাগরে থেকে বনে আসার বিষয়টি...
...খাবারের জন্য প্রাণীদের পৃথিবীর একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়ার একটি দারুণ উদাহরণ।
যে সব শিকারি প্রাণী এই বনে বাস করে...
...তাদের জন্য মাছ হলো ঋতুভিত্তিক জরুরি খাদ্য।
বালড ঈগলরা বছর জুড়ে এখানে থাকে এবং নদীর কাছে বাসা বানায়।
ছোট ঈগলদের মাথা এখনো সাদা হয়নি।
তারা জীবনে প্রথম বছরটি বনের ভেতরে খাবার খুঁজে বেড়ায়।
কিন্তু চার বছর বয়সী এই নারী ঈগলটির মতো...
...তারা এখন বড় হয়ে গেছে এবং নদীতে নিজেদের ভাগ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রথম দিকে, শুধুমাত্র অন্যদের ফেলে যাওয়া খাবার পায় সে।
তবে এগুলোর জন্যও ওকে লড়াই করতে হয়।
তাকে অন্য কোথাও খাবার খুঁজতে হবে।
উত্তরের বন বিশাল হলেও...
... যেখানে স্যালমন মাছ ডিম দেয় তা সব শিকারী প্রাণীর চেনা।
নদী যত বরফে ঢাকতে শুরু করে, প্রতিযোগিতা তত তীব্র হতে থাকে।
ছোট ঈগলটি সৌভাগ্যবান, কিন্তু বিষয়টা অন্যদের নজরে পড়েছে।
অবশ্য তার একটি সুবিধা আছে।
নারী ঈগল ছোট বয়সেও আকারে পুরুষ পাখিদের চেয়ে বড় হয়।
আর এখানে, সাইজের গুরুত্ব আছে।
শীত বাড়লে...
ছোট, বড় সবাইকে তীব্র শীত মোকাবিলা করতে জয়।
যদি টিকে থাকতে পারে তাহলে সে একটি স্থান পাবে...
...পৃথিবীর অন্যতম নিষ্ঠুর ও চমৎকার এই বনে।
আরেকটু দক্ষিণে...
...রয়েছে সর্বশেষ রেডউড বন।
বেশি দিন হয়নি, এই গাছগুলো উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গড়ে উঠেছে।
এখন তাদের মাত্র ৫% টিকে আছে।
এখানে পরিবেশ তুলনামূলক ভাল।
প্রশান্ত মহাসাগর থেকে উষ্ণ, আর্দ্রতা যুক্ত বাতাস আসে।
তাই গাছগুলো বছর জুড়ে বড় হতে পারে।
গাছপালার আড়ালে বনের ভেঁজা জমিনও...
...অনেক প্রাণীতে সমৃদ্ধ।
রুক্ষ চামড়ার একটি পুরুষ গোসাপ।
প্রতি বসন্তে, কোনো এক রহস্যময় তাড়নায় সে...
... যে জলাশয়ে জন্ম নিয়েছিল সেখানে ফিরে যায়।
আর তাকে ওখানে দ্রুত যেতে হবে।
কারণ তার মতো আরো অনেকেই...
... সেখানে যাচ্ছে।
তারা সবাই একটি নারী গোসাপকে খুঁজছে।
কিন্তু প্রাচীন বনের ভেতর দিয়ে কয়েক শ’ মিটার যাওয়া সহজ নয়।
কঠিন প্রতিযোগিতা।
বিষয়টি নিয়ে নারীটি উদ্বিগ্ন।
ধরার পর, সে লেগে থাকে...
...নারীটি তার সব ডিম ছাড়তে কয়েক ঘণ্টা সময় নিতে পারে।
বাকি পুরুষেরা তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
প্রতিযোগিতা এতটাই তীব্র যে...
...এই গণ্ডগোলের মাঝে থাকা নারী গোসাপটি...
...পর্যাপ্ত শ্বাসের অভাবে ডুবতে বসে।
তবে প্রথম পুরুষটি এখনো লেগে রয়েছে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে, তাদের বাচ্চা হবে।
তারপর খুব জলদি এই বন নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হবে।
গ্রীষ্ম শেষ হতে হতে সূর্য বনটাকে এমনভাবে পুড়িয়ে দেয় যে...
...বন একদম খড়কুটোর মতো শুকিয়ে যায়।
প্রবল হাওয়া আগুন বাড়িয়ে দেয়।
তাপমাত্রা ৭০০ ডিগ্রিতে ওঠে।
যার পরিণাম অনেক ধ্বংসাত্মক।
বাতাস উন্মুক্ত হওয়া বনের জমিনকে ছুঁয়ে যায়।
ধূলো আর ছাঁই উড়িয়ে নেয়।
জায়গা দেখতে প্রাণ-শূন্য মনে হয়।
কিন্তু বন এত সহজে মারা যায় না।
মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে...
...মাটি থেকে ফুল এবং গাছের চারা গজাবে।
আগুনের ছোঁয়া ছাড়া এদের অনেকেরই হয়তো জন্মই হতো না।
নতুন চারার মাঝে সূর্যের আলো এসে পড়ে...
...যা ওদেরকে বড় হওয়ার শক্তি দেয়।
বুড়ো রেডউড গাছগুলো বেঁচে গেছে...
...নিজেদের মোটা আগুনরোধী বাকলের কারণে।
বনের ভাল স্বাস্থ্যের জন্য এই প্রাকৃতিক প্লবতা জরুরি।
অধিকাংশ বন অবশ্য নিজে থেকে গড়ে উঠতে পারে না।
প্রাণীরা তাদেরকে সহায়তা করে।
গাছ আর প্রাণীরা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল।
আর এই নির্ভরশীলতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়...
...ভারতের পশ্চিম ঘাটে।
এটা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল...
...ভারতের সব প্রাণীর ৩ ভাগের ১ ভাগ এখানে রয়েছে।
সিংহ-লেজী ম্যাকাকস।
তারা বিভিন্ন গাছের ফল খেয়ে বাঁচে।
আর সেটা করতে গিয়ে তারা বীজ বিতরণ করে।
তাদের বিষ্ঠা থেকে সেখান থেকে চারা গজায়।
কিন্তু খুব কম বানরই দূরে যায়।
যদি গাছের বীজ দূরে ছড়াতে হয়...
...তাহলে অন্য মাধ্যমের সাহায্য দরকার।
ডানা।
গ্রেট হর্নবিলদের ডানা প্রায় ২ মিটার চওড়া।
এই ডানা তাদেরকে বহু দূরে গিয়ে খাবার খুঁজতে সাহায্য করে।
হর্নবিলরা ৪০টিরও বেশি ধরনের গাছের ফল খায়...
...এবং বীজ বয়ে বেড়ায়...
...পুরো পশ্চিম ঘাট জুড়ে।
হর্নবিলকে আকৃষ্ট করলে গাছেরই লাভ।
ফলগুলো খেতে বেশ সুস্বাদু।
তবে বেশি পুষ্টিকর নয়।
তাই হর্নবিলরদের এগুলো বেশি করে খেতে হয়।
কাজটা বেশ পরিশ্রমের।
কিন্তু এটা সবার জন্য ফ্রি নয়।
একটি ফল গাছ অসংখ্য হর্নবিলকে আকৃষ্ট করে।
তাদের মাঝে তুমুল প্রতিযোগিতা হয়।
উড়ন্ত অবস্থায় পুরুষ পাখিদের লড়াই এর আগে কখনো ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।
লড়াইয়ের কারণও বোঝা যায়নি।
হয়তো পাখিরা স্রেফ খাবারের জন্য লড়াই করছে।
কিন্তু বিষয়টা তারচেয়েও বেশি কিছু।
বিজয়ী তার শক্তি ও দক্ষতা এখানে আসা নারী পাখিদের দেখাতে পারবে।
পুরুষরা নারীদেরকে তোষামোদ করতে মরিয়া।
হর্নবিলদের জন্য সেরা সঙ্গী পাওয়াটা জরুরি।
No comments yet. Be the first to leave one.